content
stringlengths 0
129k
|
---|
অধিনায়কের বিদায়ের পর তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই স্ট্রেইট ড্রাইভে চার মেরেছেন সাকিব আল হাসান
|
বাংলাদেশের ইনিংসেও এটিই প্রথম রান
|
পরের ওভারে লেগসাইডে বিশাল ওয়াইডে বোনাস বাউন্ডারি দেন টেন্ডাই চাতারা
|
তামিম-লিটন সুবিধা করতে না পারলেও, শুরু থেকেই উইকেটে ব্যস্ত সময় পার করতে থাকেন তিনি
|
বিশেষ করে চাতারার ওভারে কাভার ড্রাইভে হাঁকান দর্শনীয় এক চার
|
কিন্তু বেশিক্ষণ এটি চালিয়ে নিতে পারেননি সাকিব
|
ইনিংসের নবম ওভারের দ্বিতীয় বলে মুজুরাবানির দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ৩ চারের মারে ২৫ বলে ১৯ রান করেন সাকিব
|
তামিমের মতোই সাকিবের আউটের ডেলিভারিতেও ছিল এক্সট্রা বাউন্স
|
তবে ঠিকঠাক ব্যাটে নিতে পেরেছিলেন সাকিব
|
কিন্তু তার ব্যাটে ডাবল টাচ লেগে বল চলে যায় শর্ট এক্সট্রা কাভারে দাঁড়ানো রায়ান বার্লের হাতে
|
সাকিব ফিরে যাওয়ার পর মিঠুনের শুরুটাও ছিল আশা জাগানিয়া
|
কিন্তু বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন অফ ড্রাইভের পর জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলা শটে কট বিহাইন্ড হন তিনি (১৯ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ১৯)
|
যেখানে ছিল না কোনো ফুট মুভমেন্ট
|
মিঠুনের মতো প্রায় একইভাবে সাজঘরে ফিরেছেন মোসাদ্দেক
|
বাঁহাতি পেসার রিচার্ড এনগারাভার বল ফুট মুভমেন্ট ছাড়াই অফসাইডে খেলার চেষ্টা করেন
|
কিন্তু ধরা পড়েন উইকেটরক্ষক রেগিস চাকাভার গ্লাভসে
|
১৫ বল খেলে করেন মাত্র ৫ রান
|
৭৪ রানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ
|
সেখান থেকে লিটন দাস আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের প্রতিরোধ
|
দারুণ খেলে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি তুলে নেন লিটন
|
মাহমুদউল্লাহ তার প্রথম ১৮ রান তুলেন কোনো বাউন্ডারি ছাড়াই
|
ছক্কা মেরে পৌঁছান বিশের ঘরে
|
থিতু হওয়ার পর তারা দুজনই হাত খুলেছেন
|
টানা পাঁচ ওভার আটের ওপর করে রান নিয়েছেন
|
জুটিটি সেঞ্চুরির কাছেই পৌঁছে গিয়েছিল
|
শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহকে স্লো বাউন্সারে বিভ্রান্ত করে উইকেট তুলে নেন লুক জঙ্গি
|
লিটনের সঙ্গে ৯৩ রানের জুটিতে মাহমুদউল্লাহর অবদান ছিল ৩৩ রান
|
৫২ বলে ১ ছক্কায় এই রান করেন টাইগার দলের অভিজ্ঞ সেনানী
|
তবে সঙ্গী হারিয়েও লিটন তার মনোসংযোগ হারাননি
|
দেখেশুনে খেলে ছুঁয়েছেন তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার এবং বরাবরের মতো স্ট্রাইকরেটের কথা মাথায় রেখে
|
জিম্বাবুয়ে বোধ হয় তার পছন্দের প্রতিপক্ষ
|
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চার সেঞ্চুরি হলো আজ, এর মধ্যে তিনটিই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে
|
তবে হারারেতে আজ লিটন যে পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি করেছেন, আলাদা প্রশংসা পেতেই পারেন
|
শেষ পর্যন্ত তার চোখ ধাঁধানো ইনিংসটির সমাপ্তি ঘটিয়েছেন রিচার্ড এনগারাভা
|
জিম্বাবুইয়ান এই পেসারের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে টপ এজ হয়েছেন লিটন
|
ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে দাঁড়িয়ে ক্যাচটি তালুবন্দী করতে ভুল করেননি বদলি ফিল্ডার ওয়েলিংটন মাসাকাদজা
|
১১৪ বলে লিটনের ১০২ রানের ইনিংসটি ছিল ৮ বাউন্ডারিতে সাজানো
|
এরপর আফিফ হোসেন ধ্রুব আর মেহেদি হাসান মিরাজ মিলে গড়েন ৫৮ রানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি
|
৪৮ ওভার পর্যন্ত তারা দেখেশুনে খেলেছেন
|
কিন্তু লুক জঙউইর করা ৪৯তম ওভারে টানা তিন বলে তিন উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ
|
ওভারের তৃতীয় বলে ডিপ কভারে ক্যাচ হন মিরাজ (২৫ বলে ২৬)
|
পরের বলে স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড আফিফও
|
হাফসেঞ্চুরির দোরগোড়ায় দাঁড়ানো এই বাঁহাতি ৩৫ বল খেলে ১ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় করেন ৪৫ রান
|
জঙউইর পরের ডেলিভারিতেও উইকেট
|
এবার দুই নিতে গিয়ে হন রানআউট তাসকিন আহমেদ (১)
|
তবে বাংলাদেশকে অলআউট করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে
|
৬ বলে এক বাউন্ডারিতে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন
|
জিম্বাবুইয়ান বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল লুক জঙউই
|
৫১ রানে ৩টি উইকেট শিকার করেন তিনি
|
২টি করে উইকেট ব্লেসিং মুজারাবানি আর রিচার্ড এনগারাভার
|
বছর চল্লিশের পুলিশ অফিসার দিবাকর শীল শেষ কিছুদিন ধরে বেশ অস্বস্তিতে রয়েছেন
|
মানবিক ও দায়িত্ববান পুলিশ হিসেবে দিবাকর বাবু ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশ ডিপার্টমেন্টে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন! মানুষ হিসেবেও সবসময় খুব হেল্পফুল- অন্যকে সাহায্য করতে সর্বদা হাসিমুখে এগিয়ে আসেন
|
কিন্তু এখন যেন তিনি কেমন একটু মনমরা আলাদা! স্ত্রী অনিমা তো বটেই, অফিসের কলিগরাও বুঝতে পারছেন
|
আসলে শেষ কেসটা এখনও কেমন একটা ঝুলে আছে, খানিকটা হন্ট করছে যেন ওনাকে, ভিতরে ভিতরে
|
একমাস আগে যখন ১১ বছরের এক বাচ্চার রেপ কেসের তদন্তের প্রাথমিক ভার পুলিশ বিভাগ ওনার হাতে তুলে দেন তখন নিজের কাছে বেশ চ্যালেঞ্জিংই লেগেছিল তার! কারণ এর আগেও এরকম কেসে দোষীদের দের আইনের হাতে তুলে দিতে পেরেছিলেন তিনি
|
কিন্ত এবারের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ওনার কিছুতেই স্বস্তিকর হচ্ছে না
|
হয়ত তিনি সে কাজে সফলও হবেন আর কিছুদিনের মধ্যে দোষীদের ধরেও ফেলবেন হয়তো!কিন্তু নিজেকে কেন জানি অনেক বিধ্বস্ত লাগছে তার! এক মাসে যখন নাফিসার বাবা-মা ওনাকে নিয়ে গিয়েছিল সেই ১১ বছরের ধর্ষিতা মেয়ের কাছে- ওর চোখ মুখ দেখে রীতিমত চমকে উঠেছিলেন বছর চল্লিশের দিবাকর
|
সেই অসহায় বিহ্বল চোখের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি তদন্ত ভুলে গিয়েছিলেন
|
প্রথম দিন ওর সাথে কথাই বলতেই পারেন নি
|
নাসিফার চোখে মুখে ছিল এক অজানা অসহায় বেদনার ছাপ! এই বিশ্বসংসার যে কতটা কঠোর নোংরা আর নিষ্ঠুর হতে পারে তা বুঝতে একটু সময় লাগে মানুষের, নাসিফা সেই সময়টুকুও পায় নি! অসময়ের এক বিধ্বংসী ঝড় বয়ে গেছে ওদের পুরো বাড়ির উপর দিয়ে
|
প্রথম দিন কোনও কথা না বলেই ফিরে এসছেন তিনি
|
যাওয়ার আগে ওর বাবা ঝরঝর করে কাঁদতে কাঁদতে বলল- "মেয়ে বেঁচে আছে এই অনেক! আমরা ওকে আর বাড়ির বাইরে ছাড়ব না
|
আমরা আর কিছু চাই না স্যার
|
" দিবাকর সেদিন কিছু বলতে পারে নি
|
ফিরে এসছিল এই সমাজের এক রাশ ক্লেদ, দুঃখ যন্ত্রণা ক্ষোভ বয়ে নিয়ে
|
দ্বিতীয় দিন নিজের চোয়াল শক্ত করে, কপালের ঘাম মুছতে মুছতে ওকে জিজ্ঞেস করছিল
|
উত্তরের আশা করে নি
|
একজন ১১ বছরের ধর্ষিত বাচ্চা মেয়েকে নিজের উপর ঘটে যাওয়া পাশবিক যৌন নির্যাতনের তদন্ত নিয়ে জিজ্ঞেস করা তো সহজ কথা নয়! নাসিফার যেন কোনও হুঁশ নেই! তবু হাল ছাড়েন না দিবাকর! ধীরে ধীরে কাজ শুরু করেন
|
বাড়ির লোকের কাজ থেকে ওর দৈনন্দিন কাজের তালিকা, কখন স্কুল থেকে ফিরত, খেলতে যেত এই সব জানতে শুরু করেন
|
ওই দিনকার ঘটনা সম্পর্কে ওর বন্ধুদের বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন
|
নাসিফাও অল্প অল্প করে কথা বলতে শুরু করে
|
একসপ্তাহ পরে একটা ভিডিও টেপের সন্ধান পাওয়া যায়! যেখানে অপরাধীদের দেখা যাচ্ছে
|
ভিডিও টি দেখতে দেখতে বমি করে ফেলেন দিবাকর
|
তিনি তো এতটা দুর্বল নন
|
চাকরির সুত্রে তাকে দেখতেই হয় পুরোটা, অপরাধীদের মুখ, দেখে একটা বয়সের আন্দাজ পাওয়া যায়! এবার শুধু খুঁজে বের করতে হবে
|
ঘটনার পুঙ্খ্যনুপুঙ্খিক বর্ণনা ওকে জানতে হবে নাসিফার থেকে
|
সঠিক বয়ান নিতে হবে ওর থেকে না হলে কেস দাড় করানো যায় না, অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যান অনেক সময়েই
|
শুরু হয় রোজ ওদের বাড়িতে যাওয়া, প্রতিটি ঘটনার বিশদ বিবরণ নেওয়া! সেই ঘটনা মিলিয়ে মিলিয়ে এর ওর থেকে শোনা টাইম জায়গা সব মিলিয়ে পোক্ত অ্যালিবাই বানাতে হবে
|
এই মর্মান্তিক ঘটনার খুঁটিনাটি তথ্য, তার ধারা বিবরণী ও কেস ফাইল দিন রাত জেগে দিবাকর তৈরি করে ফেলে
|
দিবাকরের গাঁয়ে কাটা দিয়ে ওঠে! এক সাংঘাতিক গভীর মানসিক আঘাত ওকে যেন রোজ প্রশ্ন করে, তাড়া করে বেড়ায়! বাড়িতে নিজের ছোট মেয়ের দিকে তাকিয়ে ভয়ে বুক শিউরে ওঠে ওর! বুঝতে পারে ওর সমস্যা বাড়ছে
|
এই কেসে পর ছুটি নেবেই
|
শেষদিন নাসিফার চোখের জল দেখে দিবাকরও কেঁদে ফেলেছিল
|
আর ধরে রাখার চেষ্টাও করে নি! ওর বাবাকে বলে এসছিল- অপরাধীরা শাস্তি পাবে
|
নাসিফা আর একটু সুস্থ হলে, ওকে যেন কোনও বড় শহরের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে দেখিয়ে নেয়
|
দিবাকর রাতে ঘুমাতে পারেন না
|
ঘুম ভেঙ্গে যায়, প্রচণ্ড দুঃস্বপ্ন দেখেন, ঘামতে ঘামতে বিছানা ছেড়ে উথে দাঁড়ান
|
স্ত্রী অনিমা বুঝতে পারে নিশ্চয়ই কোনও মানসিক আঘাত পেয়েছে ও
|
স্বান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করে
|
দিনের বেলা অদ্ভুত এক ফ্ল্যাশব্যাক আসতে থাকে দিবাকরের চোখের সামনে নাসিফার সেই মর্মান্তিক চিৎকারের ভিডিও যা শেষ একমাস ওকে বার বার দেখতে হয়েছে, শুনতে হয়েছে
|
তার প্রতিটি সেকেন্ড ওর চোখের সামনে ভাসছে! একদম কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না ও
|
পরবর্তী অফিসারকে কেসের দায়িত্বভার দিয়ে ছুটি নিয়ে নিয়েছেন
|
শেষের দিকে নাসিফার বাড়ির দিকের রাস্তা টা ধরে আর বাড়ি ফিরতে পারতেন না! যে ইট ভাঁটার পেছনে এই ঘটনা টি ঘটেছিল সেদিকেও নয় অনেক টা ঘুরে বাড়ি ফিরত ও
|
মাঝেই রেগে যাচ্ছেন, মাঝে মাঝে না চাইলেও বার বার সেই ঘটনার খুঁটিনাটি বিবরণ ওর মাথায় চলে আসছে! প্রচন্ড ভয়ে দিশেহারা লাগছে মাঝে মাঝে কাঁদছেন
|
এইবার স্ত্রী অনিমা সক্রিয় হয়ে ওঠেন
|
অনেক জোর করে চেপে ধরায় দিবাকর কেসের কথাটা বলে
|
আর দেরি না করে কলকাতায় বোনকে ফোন করে বলে বেশ কিছুদিন থাকবে জানিয়ে রাখে দিবাকরকে ডাক্তার দেখাতে হবে
|
দিবাকরকে বলে দেন অফিসে ছুটি বাড়িয়ে নিতে
|
অনিমা ওকে নিয়ে আসে কলকাতায়;বোনের বাড়িতে
|
প্রায় একমাসেরও বেশি পুলিশ অফিসার দিবাকর শীল যে মানসিক সমস্যার সম্মুখীন তাকে বলে ( ) অর্থাৎ গভীর কোন মানসিক আঘাত (ট্রমা) এর পরে উথাল পাথাল মানসিক অবস্থা! এই বুঝতে গেলে আমাদের সবার আগে ট্রমা বুঝতে হবে
|
স্ট্রেস আর ট্রমা কিন্তু এক নয়! সহজ ভাষায় ট্রমাকে বলা যেতে পারে আকস্মিক গভীর এক তীব্র স্ট্রেস! ট্রমা এক ভীতপ্রদ মানসিক এক আঘাত যা সেই ব্যাক্তির কাছে আলাদা রকম তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে
|
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.