document_id
stringlengths
36
36
text
stringlengths
253
70.2k
fc425229-a157-40e6-b01d-cf2afdd73e44
আজ রবিবার শুরু হতে যাচ্ছে দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশন। বিশেষ ও জরুরি প্রয়োজন বিষয়টি বাদ দিলে এটিই হতে পারে বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল ৫টায় এই অধিবেশন বসবে। এই অধিবেশনে সড়ক পরিবহন, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন বিলসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের সম্ভাবনা রয়েছে। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সংসদ ভবন ও তার আশপাশে মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওই এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে বিকেল ৪টায় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। কমিটির সদস্য সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে সংসদ অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচি চূড়ান্ত করা হবে। এটাই হতে পারে চলতি সংসদের শেষ অধিবেশন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটাই এই সংসদের শেষ অধিবেশন, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। নির্বাচনকালীন সরকারের আমলে দুই মাসের মধ্যে সংসদ অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও সংসদ কার্যকর থাকছে। প্রয়োজনে যেকোনো সময় রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন ডাকতে পারেন।’ সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদে উত্থাপনের জন্য এ পর্যন্ত ১০টি নতুন বিল জমা পড়েছে। আর ১২টি বিল পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে মধ্যে বহুল আলোচিত প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনও রয়েছে। এই অধিবেশনে পাস হতে পারে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণের বিধান করে আরপিও সংশোধনী বিল। আর সড়ক পরিবহন আইনটি পাসের কথা আগেই সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিল সংসদে জমা হয়েছে। সংসদে পাসের অপেক্ষায় থাকা অন্য বিলগুলো হচ্ছে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, শিশু (সংশোধন), বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জাতীয় পরিকল্পনা উন্নয়ন একাডেমি, বস্ত্র, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (সংশোধন), যৌতুক নিরোধ, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও সার (ব্যবস্থাপনা) সংশোধন বিল। সংসদে উত্থাপনের জন্য জমা হওয়া অন্য বিলগুলো হলো ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড, প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট, মানসিক স্বাস্থ্য, পণ্য উৎপাদনশীল রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান শ্রমিক (চাকরি শর্তবলি), কৃষি বিপণন, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন, হাউজিং অ্যান্ড রিচার্স ইনস্টিটিউট ও শ্রম আইন (সংশোধন)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই অধিবেশন আগামী সংসদ নির্বাচনসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে। তবে চলতি সংসদের দুজন সদস্য মারা যাওয়ায় অধিবেশনের প্রথম দিনে শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে অধিবেশন মুলতবি করা হবে। গত ২৬ জুলাই আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা ও ১৩ আগস্ট বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী মারা যান। উল্লেখ্য, দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। এ হিসেবে আগামী বছর ২৮ জানুয়ারি সংসদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগের তিন মাসের মধ্যে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
83181b93-ff9d-4488-91f7-8ec8ab10d514
রাজধানীর বাড্ডার সাঁতারকূল এলাকা থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকালে ওই এলাকার ইউনাইটেড বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের ফাঁকা জায়গা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবকের নাম মনিরুজ্জামান মনির (৩৫)। তিনি পেশায় রংমিস্ত্রি ছিলেন। পুলিশ বলছে, মনিরের গলায় ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এদিকে রাজধানীতে গত শুক্রবার রাতে ও গতকাল আলাদা ঘটনায় চারজনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন আলী মিয়া (৭১), বাবলু মিয়া (৩০), উলেমা খাতুন (২০) ও হানিফ (৫০)। বাড্ডা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী আবুল কালাম বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, দুষ্কৃতকারীরা মনিরকে হত্যা করে লাশ গুমের জন্য ওইখানে ফেলে গেছে। তদন্ত চলছে।’ তিনি আরো বলেন, মনিরের স্বজনরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে লাশ শনাক্ত করে। তিনি ফেনীর খয়রা এলাকায় কাজ করতেন। বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল আলম জানান, মনির দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানা এলাকার মনিরাপুরের ওয়ারেছ সরদারের ছেলে। মনিরের ভাই আজমল হক মিন্টু বলেন, মনির হত্যার পেছনে রংমিস্ত্রিরা জড়িত থাকতে পারে। তাঁর ঢাকায় এসে কাজ করার কথা ছিল। এ ছাড়া মনিরের কাছে ২০-২৫ হাজার টাকা ছিল। এ জন্য ছিনতাইকারীর কবলে পড়েও এ ঘটনা ঘটতে পারে। চারজনের লাশ উদ্ধার : উত্তরা থানার এসআই মুশফিকুর রহমান জানান, উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ৮ নম্বর রোডের ২/ই নম্বর বাসায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন আলী মিয়া। শুক্রবার রাতে কাজ করা নিয়ে অন্য নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে তাঁর ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়। হাতাহাতির একপর্যায়ে সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে আহত হন আলী। তাঁকে স্থানীয় আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে আলী মিয়ার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। খিলগাঁও থানার এসআই এমদাদুল হক জানান, জমি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ভাইদের সঙ্গে মনোমালিন্যের জের ধরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বাবলু মিয়া। খিলগাঁও উত্তর গোড়ান আইসক্রিম গলির একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। মুগদা থানার এসআই শামীম আকতার জানান, গতকাল ভোরে মুগদার জাতীয় নার্সিং উচ্চশিক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের দোতলা থেকে উলেমা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন। শারীরিক প্রতিবন্ধী এই নারী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। হতাশা থেকে শুক্রবার রাতে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে লালবাগ শহীদনগর ৪ নম্বর গলির একটি বাসায় পারিবারিক বিষয় নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে বিষপান করেন হানিফ। পরে স্বজনরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায় তাঁকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। লালবাগ থানার এসআই মোতালেব হোসেন বলেন, তিন বছর ধরে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন হানিফ। এক সময় তাঁর স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এই হতাশা থেকেই তিনি বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
96beb545-800a-41d7-93e3-a241c7f6c1f6
রাজধানীতে ফাহিম রাফি (২০) নামে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার রাতে তিনি মারা যান। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে, ফাহিম খিলগাঁওয়ের খিদমাহ হাসপাতাল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়ে মারা গেছেন। তবে খিদমাহ হাসপাতাল থেকে অপরিচিত ব্যক্তি জানিয়েছে, তিনি হাতিরঝিলে চক্রাকার বাস থেকে পড়ে নিহত হয়েছেন। খিলগাঁও থানার ওসি অপারেশন সজিব দে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে খিদমাহ হাসপাতালসংলগ্ন সড়কে চলন্ত বাস থেকে পড়ে গিয়ে থুতনিতে আঘাত পান ওই ছাত্র। এরপর পথচারীরা দ্রুত তাঁকে প্রথমে খিদমাহ হাসপাতালে নেয়। সেখান থেকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেয়। সেখানেও তাঁর অবস্থা খারাপ হওয়ায় পরে রাতেই তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের লোকজন কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না যে চলন্ত বাস থেকে পড়ে গিয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাদের সন্দেহ, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। রাফির বাবা মনিরুজ্জামান বলেন, রাফি বাস দুর্ঘটনায় মারা গেছেন না অন্য কারণে মারা গেছেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবারের লোকজন জানায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাফি দক্ষিণ বাসাবোর বাসা থেকে হাতিরঝিলে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। পরে রাত ৮টার দিকে খিলগাঁওয়ের খিদমাহ হাসপাতালে গিয়ে স্বজনরা তাঁকে পায়। কিন্তু কারা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায় তা জানা যায়নি। রাতে হাসপাতাল থেকে একজন পরিবারের লোকজনকে ফোন দিয়ে জানায়, রাফি হাতিরঝিলে চক্রাকার চলন্ত বাস থেকে নামার সময় পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে খিদমাহ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাতিরঝিল থানার ওসি ফজলুর রহমান গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, হাতিরঝিলে বাসচাপায় এক ছাত্রের মৃত্যুর খবর পেয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, শুক্রবার রাতে হাতিরঝিলে বাস দুর্ঘটনায় কেউ মারা যায়নি। এমনকি ওই সময়ে কোনো দুর্ঘটনার খবরও কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। গতকাল সরেজমিনে হাতিঝিলের নিরাপত্তাকর্মী ও বাসচালকদের সঙ্গে কথা বলেও এই নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তারা সবাই বলছে, শুক্রবার হাতিরঝিলে বাস দুর্ঘটনায় কারো মৃত্যু হয়নি। হাতিরঝিলের আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেও এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের ধারণা, হাতিরঝিল নয়, অন্য কোথাও মৃত্যু হয়েছে রাফির। সেটা হতে পারে বাস দুর্ঘটনায়, আবার কেউ তাঁকে হত্যাও করতে পারতে। তবে কেন তাঁকে হত্যা করা হবে, এই নিয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। পরিবারের লোকজন বলছে, রাফির কোনো শত্রু ছিল বলে তাদের জানা নেই। আবার রাফি যাদের সঙ্গে মিশত তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। কোনো মেয়ে বন্ধুর সঙ্গেও তাঁর কোনো বিরোধ ছিল না। পারিবারিক সূত্র জানায়, নিহত ফাহিম রাফি (২০) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর বাবার নাম মনিরুজ্জামান। তাঁদের বাসা সবুজবাগের ১৪ নম্বর দক্ষিণ বাসাবো এলাকায়। তিন ভাই-বোনের মধ্যে রাফি ছিলেন মেজো। স্বজনরা জানায়, শুক্রবার রাফি সারা দিন বাসায়ই ছিলেন। এরপর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়ার সময় হাতিরঝিলে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বাসা থেকে বের হয়ে রাফি হাতিরঝিলে গিয়েছিলেন কি না তা নিশ্চিত নয় তারা। কারণ রাফিকে যখন তারা মুগদা হাসপাতালে পেয়েছিল, তখন তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। পথচারীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তারা বলেছিল, হাতিরঝিল থেকেই রাফিকে উদ্ধার করে তারা হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে খিলগাঁও থানা পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, মুগদা এলাকায় বাস থেকে নামার সময় রাস্তায় পড়ে গিয়ে আঘাতের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা পুলিশকে জানিয়েছে, থুতনি ও মাথায় আঘাত পান রাফি। মূলত মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়। গতকাল দুপুরে মুগদা কবরস্থানে রাফির লাশ দাফন করা হয়। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
e59e6b54-f481-4d21-be85-8cd0e0ed5919
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে বহু সংসদ সদস্যসহ অসংখ্য মানুষকে নির্যাতন চালানো হয়েছে, প্রায় দেড় শতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। সম্প্রতি প্রয়াত সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজাকে ড্রিল দিয়ে হাত-পা ফুটো করাসহ অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তার পর থেকেই তিনি অসুস্থতা নিয়ে বেঁচে ছিলেন। অবশেষে তাঁকে মৃত্যুবরণ করতে হলো। এই সংসদের অনেক সদস্যই বিএনপির দ্বারা নির্যাতিত। গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরুর দিনে সরকারি দলের সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা এবং বিরোধী দলের চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই আলোচনায় আরো অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশদ এরশাদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসনে আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সরকারি দলের সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মীর শওকাত আলী বাদশা, আবদুস সালাম মুর্শেদী ও মো. মনিরুল ইসলাম এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, কাজী ফিরোজ রশীদ, নুরুল ইসলাম ওমর ও মো. ফখরুল ইমাম। আলোচনা শেষে স্পিকার শোক প্রস্তাবটি ভোটে দিলে সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। এরপর দুজনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নিরবতা পালন শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর বর্তমান সংসদের দুজন সংসদ সদস্যের মৃত্যুর কারণে সংসদ অধিবেশনের দিনের অন্যান্য কার্যক্রম স্থগিত রেখে সংসদ মুলতবি করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দুজন সংসদ সদস্যকে হারিয়েছি। তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। মোস্তফা রশিদী সুজা খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি একজন ক্রীড়া অনুরাগী এবং প্রাণবন্ত সুদক্ষ নেতা ছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী ওপর যে অত্যাচার করা হয়, সেই অত্যাচারে শিকার হয়েছিলেন মোস্তফা রশিদী সুজাও। তাঁর পায়ে ড্রিল দিয়ে ফুটো করে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর হাত-পায়ে অমানুষিকভাবে অত্যাচার করা হয়েছিল। এমনকি তাঁর ভাই ও শিশুসন্তানকে পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছিল অপারেশন ক্লিন হার্টের সময়।’ তিনি বলেন, ওই সময় খুলনার যুবলীগ নেতা মাসুদকে তো মেরেই ফেলা হয়েছিল। এ রকম অসংখ্য নেতাকর্মীকে নির্যাতন করা হয়। ওই সময় প্রায় ১৫০ জনের মতো নেতাকর্মী মারা যায়। এই সংসদের অনেক সংসদ সদস্যই আছেন, যাঁরা বিএনপির দ্বারা নির্যাতিত। এই নির্যাতনের ফলেই মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে খুলনা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক যে ক্ষতি হলো, তা পূরণ হওয়ার নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরেকজন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী ২০১৪ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাঁর বিরাট ভূমিকা ছিল। আমরা দুজন দক্ষ সংসদ সদস্যকে হারিয়েছি। এই সংসদের প্রায় ১৫ জন সংসদ সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন।’ প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত সব নেতার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ বলেন, প্রয়াত এই দুই নেতাই অসম্ভব ভালো ও ত্যাগী রাজনীতিবিদ ছিলেন। ভালো মানুষগুলো একে একে চলে যাচ্ছেন। দশম জাতীয় নির্বাচনের সময় অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন তাজুল ইসলাম চৌধুরী। কে কখন আমাদের ছেলে চলে যাবেন, তা কেউ জানে না। আমৃত্যু তাঁরা নিজেদের এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। তাঁদের মৃত্যুতে রাজনীতিতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনো দিনই পূরণ হওয়ার নয়। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
77533e65-1cbb-4e57-9605-acb0926e03f6
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ সোমবার বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হচ্ছেন। জানা গেছে, ভারত থেকে বাংলাদেশে আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে তা উদ্বোধন করবেন। নতুন করে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর গ্রিড থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার আন্তবিদ্যুৎ সংযোগ গ্রিডে যুক্ত হবে। এই ৫০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট আসবে ভারতের সরকারি খাত ‘ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট’ (এনটিপিসি) থেকে। অপর ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে ভারতের বেসরকারি খাত ‘পাওয়ার ট্রেডিং করপোরেশন’ (পিটিসি) থেকে। এদিকে আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন প্রকল্পও আজ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি এ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। তাঁরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া জংশনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে যুক্ত হবেন। শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি গত ৩০ আগস্ট নেপালের কাঠমাণ্ডুতে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের পরিমাণ ৬৬০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ৫০০ মেগাওয়াট পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় যুক্ত হয়েছে। এর বাইরে আরো ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে কুমিল্লায় বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ২০১৩ সালে ভারত থেকে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা দিয়ে। পরের বছর দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি ভেড়ামারা আন্তসংযোগ গ্রিডের সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগ নেয়। এরপর নতুন করে আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য নতুন সাবস্টেশন নির্মাণ ও এর সঙ্গে ভেড়ামারা-ঈশ্বরদী ২৩০ কিলোভোল্ট (কেভি) ‘ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন’ নির্মাণ করা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ২০১৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে এবং ২০১৬ সালে ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়েছে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
d87e69fb-d3bd-4812-bd70-2ae5f1193451
প্রায় চার বছর পর নতুন নামে, নতুন রূপে চালু হচ্ছে হোটেল রূপসী বাংলা। নতুন নাম ইন্টারকন্টিনেন্টাল। ছবি : কালের কণ্ঠ পাঁচতারা রূপসী বাংলা হোটেল নতুন রূপে ফিরে আসছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল নামে। টানা চার বছর সংস্কারকাজ শেষে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে হোটেলটির উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর। সংস্কারকাজের জন্য হোটেলটি বন্ধ থাকলেও বিগত চার বছর প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ব্যয় অব্যাহত ছিল। ফলে এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি লোকসান দিয়েছে ১৩২ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাঁচতারা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সংস্কারকাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। বর্তমানে সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। ভবনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ফিটনেস যাচাইয়ের পর চলতি বছরেই এটি চালু হতে যাচ্ছে নতুন আঙ্গিকে। তবে চালুর দিনক্ষণ নির্ভর করছে হোটেল পরিচালনায় চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল গ্রুপস কর্তৃপক্ষের ওপর। ইন্টারকন্টিনেন্টালের মালিক কম্পানি বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেডের (বিডি সার্ভিস) দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ জানায়, সংস্কারকাজের আগে কম্পানিটি মুনাফায় ছিল। সংস্কারকাজের স্বার্থে হোটেলের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক ব্যয় অপরিবর্তিত থেকেছে। আর লোকবলের বেতন-ভাতা দিতে গিয়ে কম্পানিটি চার বছরে ১৩৩ কোটি টাকা লোকসানে পড়েছে। অবশ্য চালু হয়ে গেলে লোকসান কমে দ্রুতই কম্পানি মুনাফার ধারায় ফিরবে বলে আশা করছে তারা। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা জানায়, ১৯৮৪ সালে পাবলিক লিমিটেড কম্পানি হিসেবে পুঁজিবাজারের ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে তালিকাভুক্ত হয় বিডি সার্ভিস। ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৮৮ হাজার শেয়ারের মধ্যে ৯৯.৬৮ শতাংশ মালিকানা সরকারের। ০.১৯ শতাংশ শেয়ার বিদেশি আর ০.১৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে। কম্পানি সূত্র জানায়, ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (বিআইসিসি) ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জ পরিচালনা করছে বিডি সার্ভিস লিমিটেড। পাঁচতারা হোটেলটি ২০১৪ সালে উৎপাদনে থাকায় মুনাফায় ছিল কম্পানিটি। ওই সময় শেয়ার গ্রাহকদের ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয় কম্পানিটি। সংস্কার করতে গিয়ে লোকসানে পড়ায় এরপর থেকে আর কোনো লভ্যাংশ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আর লভ্যাংশ না দেওয়ায় আইন অনুযায়ী ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে কম্পানিটি। শেয়ার কেনাবেচাও হয় না। বর্তমানে কম্পানিটির শেয়ার মূল্য পাঁচ টাকা ২০ পয়সা। চালু হওয়ার পর মুনাফায় ফিরে লভ্যাংশ দিলে এই ক্যাটাগরি থেকে কম্পানির উত্তরণ ঘটবে। সূত্র জানায়, ষাটের দশকের মাঝামাঝিতে দেশে প্রথম পাঁচতারা মর্যাদায় যাত্রা শুরু করে হোটেলটি। ২০১১ সাল পর্যন্ত হোটেলটি পরিচালনা করে স্টারউডের চেইন কম্পানি শেরাটন। শেরাটনের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে ২০১১ সালের মে থেকে ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত হোটেলটি পরিচালিত হয় ‘রূপসী বাংলা’ নামে। জানা যায়, ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হোটেলটির মালিক কম্পানি বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেড ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেডের (আইএইজি) সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বন্ধের পর ২০১৫ সালের মার্চে সংস্কারকাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৭ সালে। কিন্তু যথাসময়ে সংস্কার শেষ না হওয়ায় কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়, সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে ব্যয়ও। পুঁজিবাজার সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে তিন কোটি ২১ লাখ টাকা মুনাফা করে বিডি সার্ভিস। তবে সংস্কারকাজ করতে গিয়ে পরের বছরই অর্থাৎ ২০১৫ সালে কম্পানিটির লোকসান হয় ৩০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে লোকসান হয় ১৯ কোটি চার লাখ টাকা। ২০১৭ সালে লোকসান বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের প্রথম ৯ মাসে কম্পানিটির লোকসান ৩৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে চার বছরে লোকসান দাঁড়ায় ১৩২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষ হলেও এখনো বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি কম্পানি। বছর শেষে এই লোকসান আরো বাড়বে বলে জানায় কম্পানি সংশ্লিষ্টরা। কম্পানির হিসাব ও অর্থ বিভাগের প্রধান নিসার আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বিডি সার্ভিস বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জ পরিচালনা করছে। লোকসানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হোটেলটি বন্ধ থাকলেও লোকবল আগের মতোই রয়েছে। আর এই ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠান লোকসানে পড়েছে। কম্পানির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর হোটেলটি উদ্বোধনের পর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল গ্রুপস কম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হবে। হোটেল ভবন ও অন্যান্য বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই চালুর সময় নির্ধারণ করা হবে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই এটি চালু হতে পারে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
34fa61b3-a442-4b77-bdef-1ab3907b0f11
চলতি সংসদের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা ও জাতীয় পার্টির মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ শেষে জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশন মুলতবি করা হয়েছে। কার্য-উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমান সংসদের এই অধিবেশন আগামী ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। অধিবেশনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের কথা রয়েছে। আর অক্টোবরে আরো একটি অধিবেশন বসবে। গতকাল রবিবার বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। সবাইকে শরতের শুভেচ্ছা জানিয়ে অধিবেশনের শুরু করেন স্পিকার। এরপর তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী নির্বাচিত করেন। তাঁরা হলেন ইমরান আহমেদ, এ বি তাজুল ইসলাম, মাহবুবউল আলম হানিফ, মো. ফখরুল ইমাম ও বেগম নুর জাহান বেগম। পরে বর্তমান সংসদের সদস্য ও সাবেক হুইপ এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা, জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ি, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান, সাবেক মন্ত্রী কল্পরঞ্জন চাকমা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোজাফ্ফর হোসেন এবং সাবেক সংসদ সদস্য শরীফ খসরুজ্জামান, আব্দুর রউফ মিয়া, মো. ফজলে এলাহী, আলফাজ উদ্দিন, অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান মণ্ডল ও আনোয়ারা হাবীবসহ অন্যদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। অধিবেশন শুরুর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশন ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে অধিবেশন বসবে। অধিবেশনে অক্টোবরে আরো একটি অধিবেশন আহ্বানের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, মঈন উদ্দীন খান বাদল ও চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জানানো হয়, এই অধিবেশনে নতুন ১১টি সরকারি বিলসহ ২৩টি সরকারি বিল পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮৪টি ও এক হাজার ৫০৪টি সাধারণ প্রশ্ন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ১০৩টি সিদ্ধান্ত প্রস্তাবসম্পর্কিত নোটিশ পাওয়া গেছে। এদিকে সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে সংসদ ভবন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। সকাল থেকেই চারপাশে অবস্থান নেন বিপুলসংখ্যক র্যাব ও পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। উল্লেখ্য, দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। এ হিসাবে আগামী বছর ২৮ জানুয়ারি সংসদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগের তিন মাসের মধ্যে পরবর্তী সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর নির্বাচনকালীন সরকারের আমলে সংসদ অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা নেই। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
e83070a6-2b21-432b-a5ee-9192069ac118
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া ও আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক ‘ডাকাত’ নিহত হয়েছে। এ ছাড়া বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের পর গুলিবিদ্ধ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার ভোরে আড়াইহাজার উপজেলার মরদাসাদি এলাকা থেকে বন্দুকযুদ্ধে নিহত জাকির হোসেনের (৩৫) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, ডাকাতির মালামাল ভাগাভাগি নিয়ে দুই দল ডাকাতের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে তিনি মারা যান। তিনি আন্তজেলা ডাকাতদলের সদস্য। নিহত জাকির হোসেন রাজধানী ঢাকার দক্ষিণখান থানার গোয়ালটেক এলাকার নুরু মিয়ার ছেলে। পুলিশের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানা, ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানা, টাঙ্গাইল সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় ১০ থেকে ১২টি মামলা রয়েছে। আড়াইহাজার থানার ওসি এম এ হক জানান, রবিবার ভোরে ডাকাতি শেষে মরদাসাদি এলাকার একটি ক্ষেতে বসে মালামাল ভাগাভাগি করছিল ডাকাত সদস্যরা। ওই সময় ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গোলাগুলি ও ডাকাতদের চিৎকার শুনে টহল পুলিশ সেখানে গেলে অন্যরা পালিয়ে যায়। তবে জাকির হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে সেখানকার ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশি পিস্তল, একটি গুলি ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। ওসি আরো জানান, নিহতের শরীরে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন আছে। তবে এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কিভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধের পর গ্রেপ্তার করা হয় গুলিবিদ্ধ দুই মাদক কারবারিকে। তারা হলো উপজেলা সদরের ডিমশহর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মাহবুবুর রহমান মাহবুব (৩৬) ও একই এলাকার নয়াপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে জাকারিয়া (২৮)। থানা সূত্র জানায়, গোপন সূত্রে পুলিশ জানতে পারে—উপজেলা সদরের পশ্চিম আলোহালী এলাকায় রইচ উদ্দিনের আমবাগানে কয়েকজন মাদক কারবারি নিজেদের মধ্যে ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান ভাগবাটোয়ারা করছে। এ সংবাদ পেয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (আদমদিঘী সার্কেল) আলমগীর রহমান, দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই বাগানে অভিযান চালান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা পুলিশের ওপর ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় ও গুলি ছুড়তে শুরু করে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে মাদক কারবারিরা পালিয়ে গেলে পুলিশ মাহবুব ও জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করে। মাহবুবুর রহমানের দেহ তল্লাশি করে তার হেফাজতে থাকা ৩৫০ পিস ইয়াবা ও জাকারিয়ার হেফাজতে থাকা ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল ও দুটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় মাহবুবুর রহমানের বাম হাঁটুতে গুলি লাগে ও জাকারিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থান জখম হয়। গুলিবিদ্ধ মাদক কারবারি মাহবুবুর রহমানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় পুলিশ রাতেই তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ব্যাপারে দুপচাঁচিয়া থানায় পুলিশ বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
4b1628b9-a01c-4118-932a-871887f72da4
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের’ যে প্রক্রিয়া চলছে তাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। গতকাল রবিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জোটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানানো হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের সমন্বয়কারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, সভায় খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়াদি ছাড়াও ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’, নির্বাচন ও আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নজরুল বলেন, ‘আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগেও বলে গেছেন, গণতন্ত্র পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের সব গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তির একটা বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আমরা সেই ঐক্য গড়ে তোলার কাজ করছি। আজ জোটের এই সভায় এটাই দৃঢ়তর করা হলো এই বলে— ২০ দল এই উদ্যোগকে শুধু সমর্থন করে না, তারা (২০ দল) এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টে রয়েছে মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, আ স ম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি); এই জোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে রাজি হয়েছে কামাল হোসেনের গণফোরাম। কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সময় জোট নিয়ে আলোচনার খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে। ২০ দলীয় জোট ওই সব জোট ও দলের সঙ্গে ঐক্য গড়ার আলোচনায় রয়েছে বলেও জানা গেছে। এ ছাড়া বাম দলগুলো গড়ে তুলেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট; যার নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। আনুষ্ঠানিক আলোচনা না হলেও এই জোটের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে বিএনপি। যদিও একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গড়তে কোন কোন দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তা প্রকাশ করেননি বিএনপি নেতারা। নজরুল ইসলাম খান বলেন, বৈঠকে কারাবন্দি জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে খালেদা জিয়া মূল মামলায় জামিন পাওয়ার পরও নানা কৌশলে আটকে রাখা, কারাগারের অভ্যন্তরে আদালত স্থাপনের নিন্দা জানিয়ে ২০ দল বলেছে, জোট এটাকে সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক তৎপরতার প্রকাশ বলে মনে করে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জোটের সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম খান, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, ইসলামী ঐক্যজোটের এম এ রকীব, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনডিপির খোন্দকার গোলাম মুর্তজা, লেবার পার্টির দুই অংশের মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও এমদাদুল হক চৌধুরী, জাগপার তাসমিয়া প্রধান, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, মুসলিম লীগের এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ডিএলের সাইফুদ্দিন মনি, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, ইসলামিক পার্টির আবুল কাশেম চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর দুই অংশের মাওলানা নুর হোসেন কাশেমী ও মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম উপস্থিত ছিলেন। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
70b0e94b-e8c8-42c2-92de-244b280852be
যশোরে সাথী খাতুন (২৫) নামের এক গৃহবধূ হত্যার শিকার হয়েছেন ভেবে তাঁর লাশ দাফনের ১১ দিন তাঁকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে তাঁকে যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের জলকার গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে যাঁকে দাফন করা হয়েছে, তিনি অন্য কেউ। সাথী ধূর্ত প্রকৃতির। জীবিত উদ্ধার হওয়া সাথী খাতুন যশোরের চৌগাছা উপজেলার নাইড়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের মেয়ে। তিনি একই উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার স্ত্রী। পুলিশের কাছে সাথী দাবি করেছেন, তিনি স্বামীর ওপর রাগ করে জলকার গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে পুলিশ বলছে, সাথী প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান। তিনি ধূর্ত প্রকৃতির। গতকাল রবিবার তাঁকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করেছেন যশোরের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত। জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট যশোর সিটি কলেজের ডোবা থেকে পুলিশ এক নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে। তাঁর খোঁজ না পাওয়ায় পরের দিন পচাগলা লাশটি অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে দাফন করে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম। কিন্তু খবর পেয়ে ওই দিনই রাতেই এক ব্যক্তি থানায় গিয়ে ছবি দেখে দাবি করেন, লাশটি তাঁর মেয়ে সাথী খাতুনের। তাঁর মেয়ে গত ১৪ জুলাই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। এ তথ্য জানার পর পুলিশ সাথী খাতুন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নামে। একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, সাথী ধূর্ততার আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি মারা যাননি। দাফন করা মৃতদেহটি অন্য কোনো নারীর। যশোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ অপূর্ব হাসান কালের কণ্ঠকে জানান, ‘সাথী খাতুনকে পুলিশ যশোর সদরের ইছালী ইউনিয়নের জলকার গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়। ডোবা থেকে আমরা যখন লাশ পাই তখন তাঁর পরিচয় পাওয়া যায়নি। ফলে আঞ্জুমান মুফিদুল অজ্ঞাতপরিচয় লাশটি দাফন করে। পরে ছবি ও পরিধেয় জিনিস দেখে চৌগাছার নাইড়া গ্রামের আমজাদ হোসেন দাবি করেন লাশটি তাঁর মেয়ে সাথীর।’ সূত্র জানায়, ২৯ আগস্ট দিবাগত রাত ২টায় যশোর সরকারি সিটি কলেজ মসজিদের পাশের একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে যশোর পুলিশ। দুই দিনেও পচাগলা ওই লাশের পরিচয় না মেলায় ৩০ আগস্ট আজুমান মুফিদুল দাফন সম্পন্ন করে। আর দাফনের পর ছবি ও পরিধেয় কাপড় দেখে ওই দিন রাতে চৌগাছার নাইড়া গ্রামের আমজাদ হোসেন দাবি করেন লাশটি তাঁর মেয়ে সাথীর। এ ছাড়া চাঁদপাড়ার মোস্তফা সরদারও শনাক্ত করেন লাশটি তাঁর স্ত্রী সাথীর। শ্বশুর ও জামাইয়ের শনাক্ত মিলে যাওয়ায় ওই রাতেই পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে সাথী হত্যা ও গুমের মামলা দায়ের করে। পুলিশ তদন্তও শুরু করে। এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা সেকেন্ড অফিসার আমিরুজ্জামান জানান, সাথী খুব ধূর্ত। তাঁর বাবা ও স্বামী দুজনই দরিদ্র। এনজিওতে আসা-যাওয়া করার একপর্যায়ে তিনি রঙিন স্বপ্ন দেখতে থাকেন। প্রেমিক পাল্টাতে থাকেন। একটি পাসপোর্টের সূত্র ধরে তিনি জীবিত সাথী পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হন। তিনি জানান, সাথী হত্যাকাণ্ড তদন্ত করতে গিয়ে স্বামীর বাড়িতে সাথীর পাসপোর্ট পান। বাড়ির লোকজন জানায়, সাথী গত ১৫ মার্চ ভারতে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য এবং এক মাস ১৩ দিন পর দেশে ফিরেছিলেন। এরপর ১৪ জুলাই নিখোঁজ হন। পাসপোর্টের সূত্র ধরেই অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে আনা হয় ওই নারীকে। উদ্ধার হওয়া সাথী দাবি করেন, তাঁর স্বামী তাঁকে মারপিট করত। তাই রাগ করে বাড়ি ছেড়েছিলেন। তাঁর পরিচিত মান্নু নামে এক ব্যক্তির বাড়ি জলকার গ্রামে তিনি আশ্রয় নেন। তিনি গতকাল ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতেও একই কথা জানিয়েছেন। অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকরাম হোসেন তাঁকে পরিবারের জিম্মায় প্রদান করেছেন। সাথীর বাবা আমজাদ হোসেন বলেন, আমি ছবি দেখে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেছিলাম। ছবিটি মেয়ের মতো লাগছিল। তাই পুলিশকে বলেছি দাফন করা লাশটি আমার মেয়ে সাথী খাতুনের। শনাক্ত করা আমার ভুল ছিল। অন্যদিকে, যে নারীর লাশ উদ্ধার করে আঞ্জুমান মুফিদুল দাফন করে সে বিষয়ে পুলিশ অধিকতর তদন্ত করতে শুরু করেছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
e6222594-8eb9-4a61-9995-25e1927b16f6
বাগেরহাটের কচুয়া ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১২ রাজাকারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল রাষ্ট্রপক্ষে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত ও মামলার ১ নম্বর সাক্ষী খান নজরুল ইসলাম তাঁর জবানবন্দি দেন। আগামী ৮ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। গত ১ আগস্ট এই ১২ রাজাকারকে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাগেরহাটের কচুয়া ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় হত্যা, ধর্ষণ, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের সাত অভিযোগে অভিযুক্ত করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযুক্ত ১২ জনের মধ্যে পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি রয়েছেন। তাঁরা হলেন মোরেলগঞ্জ উপজেলার তেলিগাতি গ্রামের খান আকরাম হোসেন, কচুয়া উপজেলার যশোরদি গ্রামের ইদ্রিস আলী মোল্লা, একই উপজেলার উদনখালী গ্রামের মো. মকবুল মোল্লা, চাপড়ি গ্রামের শেখ মোহম্মদ উকিল উদ্দিন ও মো. হাশেম আলী শেখ। গতকাল পাঁচজনকেই ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পলাতক অন্য সাত রাজাকার হলেন খান আশরাফ আলী, সুলতান আলী খান, রুস্তম আলী মোল্লা, শেখ ইদ্রিস আলী, শেখ রফিকুল ইসলাম ওরফে বাবুল, মো. মনিরুজ্জামান হাওলাদার ও মো. আজাহার আলী শিকদার। এই রাজাকারদের বিরুদ্ধে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্ত শুরু হয় ২০১৫ সালের ৪ জুন। গত বছরের ২২ জানুয়ারি তদন্ত শেষ হয়। ওই দিনই তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত প্রতিবেদনে সাতটি অভিযোগ আনা হয়। পরে গত বছরের ৩১ মে এই অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে বাগেরহাটের খান আকরাম হোসেন, ইদ্রিস আলী মোল্লা, মো. মকবুল মোল্লা, শেখ মোহম্মদ উকিল উদ্দিন ও মো. হাশেম আলী শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
e637940f-c105-4143-a435-e8b5c1f1aa1d
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে নিশ্চিহ্ন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন তৎকালীন চারদলীয় জোটের শাসন ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতেই রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ, বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। গতকাল সোমবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা থেকে উদ্ভূত হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুটি মামলায় আইনি বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এ কথা বলেন। রাজধানীর নাজিমুদ্দীন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার শুনানি চলছে। বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন দুটি মামলার বিচারকাজ একসঙ্গে চালাচ্ছেন। মোশাররফ হোসেন কাজল তাঁর যুক্তিতর্কে বলেন, যারা দেশ আবার পাকিস্তান তথা ১৯৪৭-এ ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিল তারাই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। হত্যাকারীরা ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট শিশু শেখ রাসেলকেও হত্যা থেকে বাদ দেয়নি। একইভাবে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর রক্ত শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্য করা হয়। তৎকালীন সরকারের ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা হাওয়া ভবনে বসে এ মামলার চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করেন। হাওয়া ভবন কার্যালয়ের কর্ণধার তারেক রহমান এতে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাঁর আশ্বাসে ও সহযোগিতায় ভয়াবহ ওই হামলা ঘটানো হয়। কাজল বলেন, হাওয়া ভবনসহ ১০টি স্থানে ২১ আগস্ট হামলার ষড়যন্ত্রমূলক সভা ও পরিকল্পনা করা হয়। যাতে সরকারের মন্ত্রীসহ তাঁদের অনুগত প্রশাসনের কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন। ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলাকারীরা হামলা ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। কারা কারা ষড়যন্ত্র করেছে, অর্থ ও গ্রেনেড দিয়েছে, ঘটনা ঘটিয়েছে সেসব বিষয়ে আমরা সাক্ষ্যপ্রমাণ দিয়েছি। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ঘটনাটি যারা ঘটিয়েছে তাদের অনেকেই আফগানিস্তান ফেরত জঙ্গি। ২১ আগস্ট হামলা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়েই এ ঘটনার ছক করা হয়। কাজল তাঁর যুক্তির পক্ষে বিভিন্ন মামলার নজির তুলে ধরে বলেন, প্রকৃত ঘটনা ও অপরাধীদের আড়াল করতে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করা হয়েছে। নিরীহ জজ মিয়াকে সম্পৃক্ত করে নাটক তৈরি করে মামলাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবারও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ ধার্য রয়েছে। কাজল আজ তাঁর অসমাপ্ত বক্তব্য প্রদান করবেন। গত বছরের ২৩ অক্টোবর এই মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি আগেই শেষ হয়েছে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
187f8be7-c54c-4c47-abde-c29ef8b365f8
অর্থপাচারের এক মামলায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান শেহরিন টেক্সটাইল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী, চেয়ারম্যান নওরিন হাসিবসহ ৯ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক মো. আতাবুল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন। অন্য আসামিরা হলেন শেহরিন টেক্সটাইল লিমিটেডের পরিচালক শফিকুল আনোয়ার চৌধুরী, বিসমিল্লাহ টাওয়ালস গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক আকবর আজিজ মুত্তাকি, মহাব্যবস্থাপক আবুল হোসেন চৌধুরী, রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, নেটওয়ার্ক ফ্রেইট সিস্টেম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন, মোস্তাক আহমেদ খান ও এস এম সোয়েব উল কবীর। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের পাচার করা ১৫ কোটি ৩৩ লাখ ৬১ হাজার ৬৮৬ টাকার দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ জরিমানাও করেছেন আদালত। ওই অর্থ ৬০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে তাঁদের। আসামিরা সবাই পলাতক। তাঁরা গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের পর এ রায় কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। একাধিক ব্যাংক থেকে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতি, অর্থপাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর বিসমিল্লাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান নওরিন হাসিব, ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা সোলায়মান চৌধুরীসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রথম কোনো মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। দুদক পরিচালক ইকবাল হোসেন রাজধানীর রমনা, মতিঝিল ও নিউ মার্কেট থানায় এসব মামলা করেন। তদন্ত্ত শেষে ২০১৫ সালের বিভিন্ন সময় আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর নিউ মার্কেট থানায় দায়ের করা এ মামলায় ১৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে। আদালত ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
b766bfab-14d7-41a8-a38f-6b4da5eba8a2
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গতকাল গণভবনে সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। ছবি : বাসস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে এ দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের পূর্বনির্ধারিত সৌজন্য সাক্ষাতে নির্বাচন প্রসঙ্গ ছাড়াও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে রোহিঙ্গা সংকট। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়েছে যে আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা ইস্যুতে জোরালো ভূমিকা রাখবে। যুক্তরাষ্ট্র চলতি সেপ্টেম্বর মাসে নিরাপত্তা পরিষদে সভাপতির দায়িত্বে আছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদেও জোরালো ভূমিকা রাখছে। গণভবনে গতকাল বার্নিকাটের সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আসন্ন সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে দেশটির রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির জোরালো প্রশংসা করেছেন। তিনি বাংলাদেশে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিও এবং এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বেসরকারি খাতে যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় সে জন্য তাঁর সরকার জ্বালানিসহ সব খাত উন্মুক্ত করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের উদ্যোগ তুলে ধরার পাশাপাশি অনেক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের পরাজিত হওয়ার কথাও বার্নিকাটকে জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমনকি আমরা মাত্র দুই হাজার ভোটে হেরেছি। কিন্তু কোনো কারচুপি করিনি।’ তিনি বলেন, তাঁর দল কিছু মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আগামী নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানাবে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
eba0e565-c3b2-4699-9e2c-052abd95667a
কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা নারীদের জরুরি সুরক্ষায় অন্তত ৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৬০৩ কোটি টাকা) প্রয়োজন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা অক্সফাম। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটি এ কথা জানায়। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় নারী ও কন্যাশিশুদের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়াসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে রাওয়া কমপ্লেক্সে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সীমান্ত খুলে দেওয়ার দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মিয়ানমার থেকে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, আক্ষরিক অর্থেই জাতিগত নির্মূলের কারণেই রোহিঙ্গাদের গণবাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। মিয়ানমারবিষয়ক আন্তর্জাতিক স্বাধীন সত্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর ভয়ংকর কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ ও ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের প্রচারাভিযান জোরদার করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের প্রতি বৈষম্য নিরসনে জোরালো রাজনৈতিক আগ্রহ ও দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখাতে হবে। এদিকে অক্সফাম তার প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে, বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা নারীদের স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে এবং তারা সহযোগিতাবঞ্চিত হচ্ছে। রোহিঙ্গা শিবিরের অনেক স্থানেই তারা অস্বাস্থ্যকর ও অনুপযুক্ত পরিবেশে নিপীড়নের ঝুঁকিতে আছে। বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার (প্রায় ৪,১৮৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা) মঞ্জুরি সহায়তা দেওয়ার যে অঙ্গীকার করেছে তা থেকে ৬০৩ কোটি টাকা রোহিঙ্গা নারীদের জরুরি সুরক্ষায় ব্যয় করাসহ রোহিঙ্গা নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য মানবিক কর্মসূচি প্রণয়নে অন্তত ১৫ শতাংশ অর্থ ব্যয়ের আহ্বান জানিয়েছে অক্সফাম। সংস্থাটি আরো বলেছে, বর্তমানে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলা উদ্যোগে নারীদের জন্য আলাদা বাজেট নেই। অক্সফাম ও অন্য সহযোগী সংস্থাগুলো তাদের সমীক্ষায় দেখতে পেয়েছে, কক্সবাজারে আশ্রিত এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি রোহিঙ্গা নারী পানি সংগ্রহ করতে যেতে বা টয়লেট ও গোসলখানা ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। অনেক টয়লেট ও গোসলখানার ওপর ছাদ নেই। রোহিঙ্গা নারীদের অর্ধেক ও কিশোরীদের এক-তৃতীয়াংশ জানিয়েছে, স্যানিটারি সামগ্রী ধোয়ার জন্য নারীদের আলাদা কোনো স্থান নেই। মাসিকের সময় প্রয়োজনীয় সামগ্রীও তারা পায় না। অক্সফাম বলেছে, টয়লেটে যাওয়া এড়াতে রোহিঙ্গা নারীরা খাবার কম খায়। অস্বাস্থ্যকর স্যানিটারি সামগ্রী ব্যবহারের কারণে তাদের নানা রোগ সংক্রমণ হচ্ছে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
59147062-0f63-41d6-ad74-19fbd9bc9379
নামঞ্জুর করা হয়েছে আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমের জামিন আবেদন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এই নামঞ্জুর আদেশ দেন। গত সোমবার হাইকোর্ট এক আদেশ দিয়ে মহানগর দায়রা আদালতে করা জামিনের আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত ৬ আগস্ট ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ড. শহিদুলের জামিনের আবেদন নাকচ হয়। এরপর গত ১৪ আগস্ট মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করা হলে আদালত গতকাল জামিন আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ ধার্য করেন। এর মধ্যে গত ২৬ আগস্ট তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করা হয়। মহানগর দায়রা আদালত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হলে তা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন। গতকাল শহিদুলের পক্ষে ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী ও ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া শুনানি করেন। জ্যোতির্ময় বড়ুয়া শুনানিতে বলেন, কী মিথ্যা তথ্য দিয়ে ছাত্র আন্দোলনকে উসকে দিয়েছেন শহিদুল, তা এজাহারে নেই। তাঁর কোন বক্তব্যে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে তাও এজাহারে উল্লেখ নেই। সরকারের সমালোচনা করলেই রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় না। সরকার আর রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এক কথা নয়। সরকারের সমালোচনা করা সাংবিধানিক অধিকার। ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭(১) ধারা ব্যাখ্যা করেন। যেসব উপাদানে এই আইনে মামলা হওয়ার কথা, সে ধরনের কোনো অভিযোগ এজাহারে নেই বলে তিনি দাবি করেন। জ্যোতির্ময় আরো বলেন, ড. শহিদুল একজন মানবাধিকারকর্মী। তিনি রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এমন কোনো কাজ করেননি। বরং তাঁকে গ্রেপ্তার করায় রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। শেষে ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, আসামি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি ছাড়া পেলে পালাবেন না। তিনি দেশ ছেড়ে যাবেন না। তিনি বলেন, দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান ব্যক্তিরা শহিদুলের মুক্তি চেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিকও মুক্তি চেয়েছেন। এ ছাড়া এই মামলার এজাহার ও জব্দ তালিকার মধ্যে ভিন্নতা দেখা যায়। আইনগতভাবেও তিনি জামিন পেতে পারেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর দায়রা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল্লাহ আবু জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ছাত্র আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে শহিদুলের বিরুদ্ধে। তিনি বিদেশি একটি টেলিভিশনে বলেছেন, এই সরকার অনির্বাচিত সরকার। তিনি সরকার উত্খাতের একটি ষড়যন্ত্র করে নিজে ফেসবুক লাইভে এসে বক্তব্য দিয়েছেন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে গত ৫ আগস্ট রাতে ধানমণ্ডির বাসা থেকে শহিদুল আলমকে আটক করা হয়। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
cfc4e4be-a5dc-453a-b72f-6612deb250d2
বিশ্বে ক্ষুধাপীড়িত মানুষের সংখ্যা তিন বছর ধরে বাড়ছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে বিশ্বে ক্ষুধাপীড়িত মানুষের সংখ্যা ছিল ৮২ কোটি ১০ লাখ, যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ। আর ক্ষুধাপীড়িত মানুষ বাড়ার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবগুলোকে। ‘বিশ্বের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনটি তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চারটি সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়। এগুলো হলো অপুষ্টি, ‘চাইল্ড ওয়েস্টিং’ (উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশু), ‘চাইল্ড স্টান্টিং’ (বয়সের তুলনায় কম উচ্চতার অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশু) ও শিশু মৃত্যুর হার (অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর)। এই চারটির মধ্যে ‘অপুষ্টি’ সূচকে গত ৯ বছরে বাংলাদেশের সামান্য অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশে ১৯৯২ সালে অপুষ্টির হার ছিল ৩৬.১ শতাংশ। ২০০০ সালে এসে দাঁড়ায় ২০.৮ শতাংশে। এরপর ২০০৮ সালে আরো খানিকটা কমে পৌঁছে ১৬.৪ শতাংশে। আর এবার (২০১৭) অপুষ্টির হার ১৫.১ শতাংশ। ১৯৯২, ২০০০, ২০০৮ ও ২০১৭ সালে বাংলাদেশে ‘চাইল্ড ওয়েস্টিং’-এর হার ছিল যথাক্রমে ১৬.১, ১৩.৮, ১৭.৫ ও ১৪.৩ শতাংশ। ‘চাইল্ড স্টান্টিং’ সূচকে এই হার যথাক্রমে ৭১.৫, ৫৪, ৪৩.৩ ও ১৬.১ শতাংশ। আর শিশু মৃত্যুর হার যথাক্রমে ১৩.২, ৮.৮, ৫.৬ ও ৩.৮ শতাংশ। অর্থাৎ চারটি সূচকেই বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে অগ্রগতি হয়েছে এবং ক্ষুধাপীড়িত মানুষের সংখ্যা কমছে। সব মিলিয়ে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের স্কোর ২৬.৫ (যত কম তত ভালো)। এর আগের বার (২০০৮) স্কোর ছিল ৩২.২। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতিকে তীব্রতার দিক থেকে ‘পরিমিত’ (মডারেট) বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ১৫ কোটি ১০ লাখ (প্রায় ২২ শতাংশ) পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। স্কুলে পড়া শীর্ণকায় শিশুর হার সবচেয়ে বেশি ভারতে। দেশটির প্রায় ২৫ শতাংশ শিশুর ওজনই প্রয়োজনের তুলনায় কম। তবে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ভুটান, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাতেও এই হার অনেক বেশি (প্রায় ১৫ শতাংশ)। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, অঞ্চলভেদে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষুধাপীড়িত মানুষের বাস দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার দক্ষিণ সাহারা এলাকায়। এ দুটি অঞ্চলে ক্ষুধাপীড়িত মানুষের হার যথাক্রমে ৩০.৯ ও ২৯.৪ শতাংশ। প্রতিবেদনের লেখকরা বলছেন, কয়েক বছর কমার পরও গত তিন বছর ধরে ক্ষুধাপীড়িত মানুষ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। তাঁরা বলছেন, জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে এই সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। লেখকরা জানান, গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকের তুলনায় বন্যা, দাবদাহ, ঝড় ও খরা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। তাঁরা বলেন, ‘প্রতিবেদনটি একটা পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে। সেটা হলো, ক্ষুধা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে যতটুকু সাফল্য এসেছিল, তা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নস্যাৎ হয়ে যেতে পারে।’ সূত্র : এএফপি, বিবিসি। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
d64a81ea-9eb0-41ab-a818-49b386eb68a2
মেহেরপুর শহরের তাহের ক্লিনিকের মালিক ডা. আবু তাহেরের ভুল চিকিৎসায় অপারেশনের টেবিলেই আব্দুল খালেক (৫০) নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল খালেক সদর উপজেলার গোভিপুর গ্রামের মৃত হারান হালসোনার ছেলে। অভিযুক্ত চিকিৎসক আবু তাহের বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মেহেরপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। অ্যানেসথেটিস্ট হিসেবে প্রশিক্ষণ বা সনদ না থাকলেও তিনি সার্জারি ও অ্যানেসথেটিস্ট হিসেবে কাজ করেন। নিহত আব্দুল খালেকের ভাতিজা জাহিদ হোসেন জানান, আব্দুল খালেক দুপুরে দা দিয়ে বাঁশ কাটছিলেন। এ সময় দায়ের কোপ লেগে পা কেটে যায়। পরিবারের লোকজন তাঁকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে এক দালাল ফুসলিয়ে তাদের তাহের ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এ সময় ডা. আবু তাহের দ্রুত তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে নিজেই অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে অপারেশন করেন। কিন্তু অপারেশন শেষে রোগীর আর জ্ঞান ফেরেনি। পরে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার পরপরই রোগীর স্বজনরা এ জন্য ডা. আবু তাহেরকে দায়ী করে তাঁর বিচার দাবি করে। এ সময় অসংখ্য মানুষ ক্লিনিক চত্বরে এসে জমা হয়। এদিকে খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানার পুলিশ ক্লিনিকে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। সদর থানার এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসক আবু তাহের নিজেই সার্জারি ও অ্যানেসথেটিস্টের কাজ করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপারেশন থিয়েটারে দায়িত্বরত সেবিকা রিপনা খাতুন জানান, ডা. আবু তাহের চিকিৎসক হিসেবে একাই ছিলেন। সঙ্গে তিনিসহ দুজন সেবিকা, দুজন আয়া ও মুস্তাক নামের একজন স্টাফ ছিলেন। ডা. আবু তাহের নিজেই সার্জারি ও অ্যানেসথেটিস্টের কাজ করেছেন। ক্লিনিক মালিক ডা. আবু তাহেরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. জি কে এম সামসুজ্জামান বলেন, ‘তাহের ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
20cb628d-d102-49d8-9760-28f93a154070
২৪ ঘণ্টাও পেরোয়নি। এরই মধ্যে কক্সবাজারের চকরিয়ার মহাসড়ক ফের রক্তাক্ত হলো। এবার নিভল চার প্রাণ। এর আগে গত মঙ্গলবার চকরিয়ার মহাসড়কে নিহত হয়েছিল সাতজন। এদিকে একই মহাসড়কের লোহাগাড়ার চুনতিতে আরেক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কালের কণ্ঠ’র চট্টগ্রাম ব্যুরোর নিজস্ব প্রতিবেদক আসিফ সিদ্দিকীসহ তিনজন। এ ছাড়া চট্টগ্রামের মিরসরাই, ফেনীর দাগনভূঞা ও মুন্সীগঞ্জর গজারিয়ায় আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন চারজন। এ ব্যাপারে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর : চকরিয়া (কক্সবাজার) : এক দিনের ব্যবধানে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় গতকাল বুধবার সকালে ফের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। আহত হয়েছে শিশুসহ আরো চারজন। ভারী বর্ষণের মধ্যে হারবাং ইনানী রিসোর্টের সামনে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ইজি বাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। আহতদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পর সড়কের দুই প্রান্তে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। নিহতরা হলেন চট্টগ্রামের বাঁশখালীর প্রেমবাজার এলাকার সেলিম উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আক্তার (২৫), কক্সবাজারের পেকুয়ার রাজাখালী ইউনিয়নের দশের ঘোনার আবদুল খালেকের ছেলে ইউনুস মিয়া (৩৫), চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের মুসলিমপাড়ার আবদুস সাত্তারের ছেলে তাজ উদ্দিন (২৫) এবং একই ইউনিয়নের জমিদারপাড়ার ছৈয়দ আহমদের ছেলে ইজি বাইকের চালক আবু তাহের (৩৮)। মহাসড়কের চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ নূর এ আলম পলাশ বলেন, ‘এই দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের লাশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি হাইওয়ে পুলিশ জব্দ করেছে।’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সকাল পৌনে ১১টার দিকে বরইতলী নতুন রাস্তার মাথা থেকে সাতজন যাত্রী নিয়ে মহাসড়কে নিষিদ্ধ ইজি বাইক হারবাংয়ের দিকে রওনা দেয়। এ সময় ইজি বাইকটি হারবাং ইনানী রিসোর্টের সামনে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যানের (ঢাকা মেট্রো ম-১১-৪৪১৪) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে চারজন নিহত হন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শোভন দত্ত জানান, আহত চারজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। এর মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে চকরিয়ার বরইতলীর নতুন রাস্তার মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিল সাতজন। এদিকে চট্টগ্রাম থেকে প্রাইভেট কারযোগে কক্সবাজারের চকরিয়ায় আসার পথে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কালের কণ্ঠ চট্টগ্রাম ব্যুরোর নিজস্ব প্রতিবেদক আসিফ সিদ্দিকী (৪০), তাঁর মা জওশন আরা বেগম (৬০) এবং চালক মো. ইকবাল (৩২)। তাঁদের চকরিয়া শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আসিফ সিদ্দিকী জানান, গতকাল সকালে তাঁদের বহনকারী প্রাইভেট কারটি মহাসড়কের লোহাগাড়ার চুনতি মিডওয়ে-ইন রেস্টুরেন্টের কাছে পৌঁছলে সামনে থাকা স্টার লাইন পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস ওই রেস্টুরেন্টে যাত্রাবিরতির জন্য সিগন্যাল না দিয়ে সড়কের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে পড়ে। এই অবস্থায় তাঁদের বহনকারী কারটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের ধানক্ষেতে গিয়ে পড়ে। এতে তাঁরা আহত হন। মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের মাস্তাননগর হাসপাতাল এলাকার ইউ টার্নে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানকে পেছন দিক থেকে আরেকটি কাভার্ড ভ্যান ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চালক আহম্মদ কবির (৩৮)। হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে মারা যান তাঁর সহকারী রুম্মান হোসেন রুবেল (২২)। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার মাস্তাননগর বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কবির কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে এবং রুবেল লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের চরলরেন্স গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। এ দুর্ঘটনায় গৌতম নামের আরেক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। মুন্সীগঞ্জ : গজারিয়ায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মো. গোলাম মোস্তফা (৫৫) নামের এক পথচারী নিহত হয়েছেন। গতকাল সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গোলাম মোস্তফা উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নে আনারপুরা গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালেব প্রধানের ছেলে। ফেনী : দাগনভূঞায় বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপের চালক নজরুল ইসলাম (৩২) নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে ফেনী-মাইজদী সড়কের দাগনভূঞা থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নজরুল ইসলাম চট্টগ্রামের বাঁশখালীর তাহের ঘোনা গ্রামের মন্তু মিয়ার ছেলে। ঘাতক বাসটি জব্দ করা গেলেও চালক পালিয়েছে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
fc90cae8-be5a-4869-9abf-ac0becf365d5
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ষড়যন্ত্র, অপরাধ সংঘটন, অপরাধের আলামত ধ্বংস ও অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে। গতকাল বুধবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা থেকে উদ্ভূত হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের দুটি মামলায় আইনি বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাজী আকরাম উদ্দিন শ্যামল এ কথা বলেন। মামলার অধিকতর তদন্ত বিষয়ে আকরাম উদ্দিন শ্যামল বলেন, প্রসিকিউশন আবেদন করলে আদালত অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারেন। এ ছাড়া আদালত চাইলেও ন্যায়বিচারের স্বার্থে অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারেন। এ মামলায় অধিকতর তদন্তে আইন ও পদ্ধতিগত কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনে অধিকতর তদন্ত ও সম্পূরক অভিযোগপত্র বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। এ মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নানের দ্বিতীয় দফায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি যথাযথ আইন ও পদ্ধতি অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর নাজিমুদ্দীন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার শুনানি চলছে। বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন দুটি মামলার বিচারকাজ একসঙ্গে চালাচ্ছেন। গতকাল কাজী আকরাম উদ্দিন শ্যামল ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া আইনি বিষয়ে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান শুনানি শুরু করেন। আইনজীবী শ্যামল বলেন, এ মামলার অন্যতম আসামি পাকিস্তানি জঙ্গি মাজেদ ভাটের স্ত্রী নাহিদ লায়লা কাকন রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিপক্ষ এই সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তারা উচ্চ আদালতে গিয়েছে। উচ্চ আদালত বিষয়টি বিচারিক আদালতের হাতেই ন্যস্ত করেছেন। হেয়ারস এভিডেন্স (শোনা সাক্ষ্য) বিষয়ে শ্যামল ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী হত্যা মামলার অনুরূপ এক সাক্ষ্যের উদাহরণ আদালতে তুলে ধরেন। বিশেষ পিপি মো. আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া তাঁর যুক্তিতর্কে বলেন, ২১ আগস্ট হামলার উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত ও চিরদিনের জন্য স্থায়ী করা। তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রশাসনিক সহায়তা, অপরাধ সংঘটনসহ সব অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষ্য, তথ্য-প্রমাণ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ পেশ করেছে। তিনি আইনি পয়েন্টে বিভিন্ন রেফারেন্স আদালতে পেশ করেন। বলেন, একটি ডিজাইন বা ছক করে সূদুরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নৃশংস এ হামলা। তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে তাঁর যুক্তিতর্ক পেশ সমাপ্ত করেন। প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান আইনি বিষয়ে যুক্তিতর্ক শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ মামলা আমরা পরিচালনা করছি। এ সময় আদালত অনেক ধৈর্যের প্রমাণ রেখেছেন, যা ইতিহাসে অনন্য। মামলার বিচার একেবারেই শেষ পর্যায়ে। একই সঙ্গে দুটি মামলা এগিয়ে নেওয়া কষ্টসাধ্য। আসামিপক্ষ এ মামলায় আইনের দৃষ্টিতে সব সুবিধা গ্রহণ করেছে।’ তিনি বলেন, মামলাটিতে ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-জেরার পর অধিকতর তদন্ত ও সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এতে আইনগত ও পদ্ধতিগত কোনো ব্যত্যয় হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর যুক্তিতর্ক অসমাপ্ত রয়েছে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
d39b414c-a46c-4193-abe9-b6bd54b3e3fa
ময়মনসিংহের ভালুকায় চার মাস বয়সী কন্যাশিশুসহ এক মায়ের মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। গত বুধবার রাতে তাদের মৃত্যু হয়। উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া নয়ানীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক। মৃত নারীর নাম নাজমা আক্তার ময়না (২৪)। তিনি হবিরবাড়ী এলাকার নুহু মিয়ার মেয়ে। ভালুকা মডেল থানা পুলিশ বলছে, এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। পুলিশ ও ময়নার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নয়ানীপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে প্রায় ছয় বছর আগে নাজমা আক্তার ময়নার বিয়ে হয়। সাইফুল পেশায় গাড়িচালক। এরই মধ্যে দুটি ফুটফুটে কন্যাসন্তান জন্ম নেয় ওই দম্পতির ঘরে। তাদের একজনের নাম সায়মা ও অন্যজনের নাম সাদিয়া। সায়মার বয়স চার বছর এবং সাদিয়ার চার মাস। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করে আসছিল সাইফুল এবং যৌতুকের জন্য মাঝেমধ্যে ময়নার ওপর নির্যাতনও চালানো হতো। সর্বশেষ শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা এনে ১৭ লাখ টাকা দিয়ে একটি গাড়ি কিনে দেওয়ার জন্য স্ত্রীর ওপর চাপ দেয় সাইফুল ইসলাম। এ অবস্থায় বুধবার রাত ২টার দিকে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে কল দিয়ে ময়নার বাবাকে বলা হয় যে তাঁর মেয়ে বিষ খেয়েছে। নুহু মিয়া খবর পেয়ে রাতেই মেয়ের বাড়িতে যান। কিন্তু কাউকেই ওই বাড়িতে পাননি তিনি। পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে মেয়ে ময়না ও নাতনি সাদিয়ার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই নাজমা আক্তারের স্বামীসহ ওই বাড়ির লোকজন আত্মগোপনে চলে গেছে বলে জানা গেছে। জসিম উদ্দিন নামের স্থানীয় এক ভাড়াটিয়া জানান, ঘটনার রাত সাড়ে ১২টার দিকে শিশু সাদিয়ার কান্না শুনে ওই বাড়িতে গিয়ে তিনি শিশুটিকে কাতরাতে দেখেন। ওই সময় শিশুটির মুখ দিয়ে সাদা ফেনার মতো বেরোচ্ছিল। তখন শিশুটির মা পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরে শিশুটিকে স্থানীয় এক ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে তিনি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এ সময় খবর আসে শিশুটির মা বিষাক্রান্ত হয়েছেন। পরে মা-মেয়েকে ভালুকা ৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। ময়নার বাবা নুহু মিয়ার দাবি, স্বামী-শাশুড়িসহ ওই পরিবারের লোকজন মিলে তাঁর মেয়ে ও নাতনিকে বিষ দিয়ে হত্যা করেছে। তিনি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভালুকা মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ময়নাতদন্তের পর মা-মেয়ের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’ মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
7e7a0557-4119-4005-a4dc-dcaef1573069
চতুর্থ টিকফা বৈঠকে বাংলাদেশে শ্রম সংস্কার ইস্যুতে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াশিংটনে ওই বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) দপ্তর এ কথা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ফোরাম চুক্তির (টিকফা) আওতায় ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি (অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএসটিআর) মার্ক লিন্সকট। বৈঠকের আগেই ঢাকার কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৩ সালে স্থগিত হওয়া বাংলাদেশি পণ্যের ‘অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা’ (জিএসপি) বাংলাদেশ আর ফেরত চাইবে না। বাংলাদেশ মনে করে, ফিরে পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যেসব শর্ত দিয়েছিল সেগুলো ইতিমধ্যে পূরণ হয়েছে। এর পরও বাংলাদেশকে জিএসপি ফেরত না দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতের বৈঠকে বাংলাদেশ টিকফা চুক্তির বাস্তবায়ন দাবি করে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য সম্প্রসারণেরও অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে বালিতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ। টিকফা বৈঠকে বাংলাদেশের নার্স ও ধাত্রীদের অন্যান্য সেবামূলক খাতে অংশ নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার আবেদন জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারের নেওয়া বেশ কিছু উদ্যোগও বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। টিকফা বৈঠক শেষে ইউএসটিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বাংলাদেশের জিএসপি স্থগিত থাকার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়, শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে। ২০১৭ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৭২০ কোটি মার্কিন ডলার। ইউএসটিআর বলছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পণ্য ও সেবা খাতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে টিকফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশ টিকফার আওতায় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলার প্রবেশাধিকার সুবিধা, ডিজিটাল অর্থনীতিতে রূপান্তর, সরকারি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং শ্রম সংস্কারের মতো বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের সরকারই বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং এর পরিধি বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের শ্রম সংস্কার ইস্যুতে উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপত্তায় বেসরকারি খাতের সঙ্গে চলমান সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
c3468262-196e-48d0-9330-607606cae1ca
তৈরি পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণের সরকারি ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্ট ও গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্টের কর্মসূচি থেকে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা ঘোষণার দাবি জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস, অর্থ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, দপ্তর সম্পাদক হাসনাত কবির প্রমুখ। এদিকে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কর্মসূচি থেকে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। সমাবেশে নেতারা বলেন, সরকার নির্ধারিত পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য। বর্তমান বাজারে আট হাজার টাকা দিয়ে কারো পক্ষে জীবন ধারণ করা এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। দেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় করা শ্রমিকরা এই বৈষম্য কোনোভাবেই মেনে নেবে না। অন্যদিকে গার্মেন্ট শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (জি-স্কপ) বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রমিক সংগঠনগুলোর যুক্তি বিবেচনায় না নিয়ে যে প্রক্রিয়ায় এই মজুরি ঘোষণা করা হলো, তা শুধু একতরফা নয় বরং আইনের পরিপন্থী। ন্যূনতম মজুরি বোর্ডে প্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনা না করা, পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ না দেওয়া, আপিল করার জন্য সময় না দিয়ে মজুরি ঘোষণার মাধ্যমে বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন জি-স্কপের আহ্বায়ক শুক্কুর মাহমুদ, সদস্যসচিব নাইমুল আহসান জুয়েল, সদস্য কামরুল আহসান, আব্দুল ওয়াহেদ, আহসান হাবিব বুলবুল, মোহাম্মদ রফিক, শামিম খান, আব্দুল জলিল, হাজী শহিদুল ইসলাম, সরদার খোরশেদ প্রমুখ। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জার করা হবে। নতুন মজুরি কাঠামে আগামী ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। গত ১৪ জানুয়ারি পোশাক শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশে পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ছিল ৫৪২ টাকা। এরপর কয়েক দফা বাড়ানোর পর ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর তা পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা করা হয়। এই মজুরি কার্যকর হয় ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
2288039f-ceb3-4b2e-912c-d9952b7fceb3
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বেশির ভাগ সড়কই বেহাল। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচঢালাই উঠে গিয়ে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কোথায়ও আবার বড় বড় গর্ত হয়েছে। এসব গর্তে আটকে যাচ্ছে গাড়ির চাকা। বৃষ্টি হলেই সড়কে হাঁটুপানি জমে। সড়কপথের কোথাও এক পাশ ঢালু হয়ে যাওয়ায় গাড়ি কাত হয়ে চলে; আবার কোথাও উঁচু-নিচু হওয়ায় তীব্র ঝাঁকুনিতে চরম ঝুঁকি ও ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা। ত্রিশালে চলাচলের অযোগ্য সড়কের কারণে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ত্রিশালে অভ্যন্তরীণ চলাচলের জন্য ৯০৭ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ২১৭ কিলোমিটার পাকা। আর পাকা রাস্তার মধ্যে প্রায় ৫০ কিলোমিটার সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ত্রিশাল থেকে ফুলবাড়িয়া, বড়মা থেকে কানিহারি, পোড়াবাড়ী থেকে মুক্ষপুর, ত্রিশাল থেকে পোড়াবাড়ী ও ত্রিশাল থেকে বালিপাড়ার সড়কগুলো খানাখন্দে ভরা। এসব সড়কে চলতে গিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়ছে। খানাখন্দের কারণে বাইসাইকেল উল্টে গিয়ে হাত-পা ভেঙেছে অনেকের। ত্রিশাল সদর-বালিপাড়া সড়কটি প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এ সড়কে একসময় যাত্রীবাহী বাস চলাচল করত। সংস্কারের অভাবে দুই বছর ধরে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সাধারণ যাত্রীরা এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সিএনজি ও অটোরিকশায় করে যাতায়াত করছে। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় ছোট যানবাহনগুলোকে উল্টে থাকতে দেখা যায় হরহামেশা। এ রাস্তা দিয়ে চরাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ চলাফেরা করে। বৈলর মোড় থেকে ফুলবাড়িয়া সড়কটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। বৈলর মোড় থেকে ফুলবাড়িয়ায় আসতে ছয় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। এ ছয় কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই ভাঙাচোরা। পোড়াবাড়ী থেকে মুক্ষপুর সড়কটিও বেহাল। এই সড়কপথে মাছবাহী ট্রাক যাতায়াত করায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ভ্যান অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলছে। সড়কটির এমন দুর্দশা দেখেও সংস্কারে কর্তৃপক্ষ উদাসীন। স্থানীয় লোকজন জানায়, এ এলাকার মত্স্য খামারগুলো অপরিকল্পিতভাবে করা। পুকুরের পাড়কেও সড়ক হিসেবে ব্যবহার করায় তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোথায়ও আবার সড়কের কিছু অংশ পুকুরে ভেঙে পড়ায় সড়কপথ সরু হয়ে গেছে। পোড়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র পারভেজ, রাজীব ও আমিনুল জানায়, অনেক দিন ধরে রাস্তার অবস্থা খারাপ। সিএনজি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাইসাইকেলে আসা-যাওয়া করার সময় গর্তে পড়ে অনেকেই আহত হচ্ছে। ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী শাহেদ হোসেন বলেন, ‘সড়কগুলো দিয়ে ছয় টনের বেশি ভারী যান চলা নিষেধ। কিন্তু চালকরা তা মানছে না। বিশেষ করে ট্রাকগুলোর বেশির ভাগই ২৫-৩০ টন পর্যন্ত মালপত্র বহন করে। ফলে সড়ক দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে।’ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ পারভেজ জানান, ত্রিশাল-বালিপাড়া-নান্দাইল সড়কটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। শিগগিরই সংস্কারকাজ শুরু হবে। তা ছাড়া অন্য সড়কগুলোও ধাপে ধাপে সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি ভারী যান চলাচলের ব্যাপারে নজরদারি আরো বাড়ানো হবে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
5e17ba56-2dba-4dcc-acb6-ae88cfff7932
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের কৃষক ইসমাইল হোসেন বাবুল (৪৮) সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাননি। তাঁকে খুন করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবেই। অথচ হতদরিদ্র ওই কৃষকের লাশ উদ্ধারের পর থেকেই প্রচারণা চালানো হয়—সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। শুধু তাই নয়, লাশ উদ্ধারের পর প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখ করে সুরতহাল প্রতিবেদনও দেয় পুলিশ। নিহতের পরিবারের সদস্যরা হত্যা মামলা করতে গেলে মামলা না নিয়ে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে থানায় একটি সড়ক দুর্ঘটনার মামলা এফআইআর করে। এই খুনের ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনও (ফাইনাল রিপোর্ট) দেওয়া হয়। সেখানেও বলা হয়, কৃষক বাবুলের মৃত্যু হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় কোনো গাড়ির ধাক্কায়। পরে ওই কৃষকের স্ত্রী পুলিশের দেওয়া সেই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি নারাজি আবেদন করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কুমিল্লাকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। তাদের তদন্তে বেরিয়ে আসে খুন আর খুনের নেপথ্যের কাহিনি। গত ৫ অক্টোবর কালের কণ্ঠ’র শেষ পৃষ্ঠায় “পরিকল্পিত খুন’কে পুলিশ বানাল সড়ক দুর্ঘটনা!’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পর ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। খোদ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদারের তদারকিতে সংস্থাটির কুমিল্লা টিম এই ঘটনার রহস্য বের করতে মাঠে নামে। এরপর মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই কুমিল্লা জেলা পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওসমান গনির নেতৃত্বে সংস্থাটির কুমিল্লা ইউনিটের সদস্যরা ওই কৃষকের মৃত্যুর রহস্য বের করতে সক্ষম হন। পিবিআইয়ের তদন্তে বের হয়ে আসে সড়ক দুর্ঘটনায় নয়, পরিকল্পিতভাবেই খুন করা হয় কৃষক ইসমাইল হোসেন বাবুলকে। এর পর কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে এই খুনের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। জানা গেছে, গত বছরের ২৫ আগস্ট রাত ২টার দিকে উপজেলার মনোহরগঞ্জ-হাসনাবাদ সড়কের দাদঘর গ্রামের রশিদ মিয়ার বাড়ির সামনে থেকে একই উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের অলি আহাম্মদের ছেলে ইসমাইল হোসেন বাবুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আট সন্তানের জনক এই ব্যক্তি তাঁর পরিবার নিয়ে প্রায় ১১ বছর ধরে দুর্গাপুর গ্রাম থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে বাইশগাঁও ইউনিয়নের লাকতমা এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। বাবুলের লাশ উদ্ধারের পর তাঁর বাঁ গালে আঘাতের চিহ্ন ছিল। শরীরের আর কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। সে সময় স্থানীয় লোকজন ধারণা করে, বাবুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বাবুলের ভাই ইউনুছ মিয়ার অভিযোগ, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাকে দুর্ঘটনা বানিয়ে প্রথমে একটি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরদিন তাঁরা থানায় হত্যা মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। উল্টো হুমকি দিয়ে তাঁদের থানা থেকে বের করে দেয়। পরে এক এএসআইকে বাদী করে একটি সড়ক দুর্ঘটনার মামলা করে পুলিশ। ঘটনার পাঁচ দিন পর ওই বছরের ৩০ আগস্ট তাঁর ভাবি মরিয়ম বেগম আদালতে ৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ওই মামলা নিয়েও পুলিশ গা করেনি। যেভাবে মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের ধরল পিবিআই : চলতি বছরের ৩ এপ্রিল বাবুলের মৃত্যু হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় কোনো গাড়ির ধাক্কায় এমন কথা উল্লেখ করে মনোহরগঞ্জ থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম আদালতে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত ৭ আগস্ট পুলিশের দেওয়া সেই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করলে কয়েক দফা শুনানি শেষে আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। গত ২ অক্টোবর মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান পিবিআই কুমিল্লার উপপরিদর্শক (এসআই) মো.শাহজাহান। এরপর ৫ অক্টোবর কালের কণ্ঠে ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে সবার। পিবিআই প্রধান পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল, কুমিল্লা জেলা পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওসমান গনিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মামলাটি তদারকি শুরু করেন। সংস্থাটির কুমিল্লা টিমের সদস্যরাও এ ঘটনার রহস্য বের করতে মাঠে নামেন। তাঁরা বিভিন্ন মাধ্যমে অনুসন্ধান ও তদন্তের মাধ্যমে জানতে পারেন সেদিন রাতে (২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট) একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে লাশটি ফেলা হয়েছিল। ওই দিন রাতে স্থানীয় একজন ব্যক্তি অটোরিকশাটির চালককে চিনতে পেরেছিলেন। পরে পিবিআই সদস্যরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, গত কয়েক মাস ধরে ওই অটোরিকশাচালক এলাকা থেকে লাপাত্তা। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে পিবিআই সদস্যরা জানতে পারেন ওই অটোরিকশাচালক বর্তমানে চট্টগ্রামে পরিচয় গোপন করে রিকশা চালাচ্ছে। এরপর গোপন সূত্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা জানতে পারেন চট্টগ্রামের বন্দর থানাধীন ফকিরহাট এলাকার রোহিঙ্গাপাড়া এলাকায় ওই অটোচালক রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শাহজাহান পিবিআই জেলা প্রধানের সঙ্গে পরামর্শ করে ওই অটোচালকে গত ১৩ অক্টোবর রাতে সেখান থেকে আটক করেন। ওই অটোচালকের নাম মো. নাসির। তাকে কুমিল্লায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওই অটোচালক হত্যার ঘটনার বর্ণনা এবং হত্যাকারীদের নাম প্রকাশ করে। এরপর ১৫ অক্টোবর সোমবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে আদালত ওই অটোচালককে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। সব শেষ ওই অটোচালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই কুমিল্লা জেলা টিমের সদস্যরা সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এই পরিকল্পিত খুনের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেন। গতকাল বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো—উপজেলা সদরের দিশাবন্দ গ্রামের আবুল কালাম ওরফে কালু মেম্বার, দুর্গাপুর গ্রামের বর্তমান মেম্বার আবদুল হক, একই গ্রামের ইসমাইল হোসেন ও মো. সুমন। এদের মধ্যে মেম্বার আবদুল হক ও ইসমাইল আদালতে বাবুলের স্ত্রীর দায়ের করা মামলার আসামি। পিবিআই কর্মকর্তাদের বক্তব্য : মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই কুমিল্লার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে আসামিদের কাছ থেকে জানা গেছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃতদের আরো বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
e9bf9c33-23e1-46a1-b2b9-c8e373262642
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি ও খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আজ রবিবার। প্রতিটি ইউনিয়নের ৯টি করে তিন ইউনিয়নে মোট ২৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। ইউনিয়ন তিনটির সীমানা জটিলতা ছিল উপজেলার অভ্যন্তরে বিলুপ্ত চার ছিটমহল ঘিরে। ছিটমহল বিলুপ্তির পর ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও উচ্চ আদালতে রিট আবেদনের কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়। বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা বলেছেন, দীর্ঘদিন পরে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। ইউনিয়ন পরিষদ তিনটিতে চেয়ারম্যান পদে ১২ জন, ২৭টি সাধারণ সদস্য পদে ৯০ জন এবং ৯টি সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৩১ জন প্রতিদ্বন্দ্বী করছেন। এর মধ্যে খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সাতজন, সাধারণ সদস্য পদে ৩৪ জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১১ জন রয়েছেন। সেখানে ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার ৬৬৯। গয়াবাড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে তিনজন, সাধারণ সদস্য পদে ২৮ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৪ জন। ইউনিয়নের ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার ৬৯০। টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ভোটার স্যংখ্যা ১২ হাজার ৬৮১। সেখানে চেয়ারম্যান পদে দুজন, সাধারণ সদস্য পদে ২৮ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ছয়জন প্রার্থী রয়েছেন। বিলুপ্ত ছিটমহল নগর জিগাবাড়ি গ্রামের ফরিদুল ইসলাম (৫৫) কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ‘আমাদের নাগরিকত্বের সাধ মিটলেও মামলার জটিলতায় অপূর্ণ ছিল ভোটাধিকার প্রয়োগের সাধ। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর আজ সে সাধ পূরণ করতে যাচ্ছি।’ গত ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ তিনটিতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী তিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ২৭ সেপ্টেম্বর। ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, ৪ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ৫ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। নীলফামারী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, ডিমলার অভ্যন্তরে ভারতের চারটি ছিটমহল ছিল। সেগুলো বিলুপ্ত হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী ২০১৬ সালে তফসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সীমানা জটিলতার বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট হওয়ায় তখন নির্বাচন স্থগিত করা হয়। ওই জটিলতার নিষ্পত্তি হওয়ায় নতুন করে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। বিলুপ্ত ছিটমহলের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। তারা সবাই এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে। নীলফামারীর জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তিন ইউনিয়নে ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিযুক্ত করা হয়েছে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
6cc6e602-7274-4f11-bd49-5180a2d1ee26
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি ও খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আজ রবিবার। প্রতিটি ইউনিয়নের ৯টি করে তিন ইউনিয়নে মোট ২৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। ইউনিয়ন তিনটির সীমানা জটিলতা ছিল উপজেলার অভ্যন্তরে বিলুপ্ত চার ছিটমহল ঘিরে। ছিটমহল বিলুপ্তির পর ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও উচ্চ আদালতে রিট আবেদনের কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়। বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা বলেছেন, দীর্ঘদিন পরে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। ইউনিয়ন পরিষদ তিনটিতে চেয়ারম্যান পদে ১২ জন, ২৭টি সাধারণ সদস্য পদে ৯০ জন এবং ৯টি সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৩১ জন প্রতিদ্বন্দ্বী করছেন। এর মধ্যে খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সাতজন, সাধারণ সদস্য পদে ৩৪ জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১১ জন রয়েছেন। সেখানে ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার ৬৬৯। গয়াবাড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে তিনজন, সাধারণ সদস্য পদে ২৮ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৪ জন। ইউনিয়নের ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার ৬৯০। টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ভোটার স্যংখ্যা ১২ হাজার ৬৮১। সেখানে চেয়ারম্যান পদে দুজন, সাধারণ সদস্য পদে ২৮ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ছয়জন প্রার্থী রয়েছেন। বিলুপ্ত ছিটমহল নগর জিগাবাড়ি গ্রামের ফরিদুল ইসলাম (৫৫) কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ‘আমাদের নাগরিকত্বের সাধ মিটলেও মামলার জটিলতায় অপূর্ণ ছিল ভোটাধিকার প্রয়োগের সাধ। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর আজ সে সাধ পূরণ করতে যাচ্ছি।’ গত ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ তিনটিতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী তিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ২৭ সেপ্টেম্বর। ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, ৪ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ৫ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। নীলফামারী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, ডিমলার অভ্যন্তরে ভারতের চারটি ছিটমহল ছিল। সেগুলো বিলুপ্ত হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী ২০১৬ সালে তফসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সীমানা জটিলতার বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট হওয়ায় তখন নির্বাচন স্থগিত করা হয়। ওই জটিলতার নিষ্পত্তি হওয়ায় নতুন করে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। বিলুপ্ত ছিটমহলের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। তারা সবাই এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে। নীলফামারীর জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তিন ইউনিয়নে ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিযুক্ত করা হয়েছে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
c4979367-a39b-4af6-a80d-ae7f0436af7a
বান্দরবান-কেরানিরহাট সড়কের লালব্রিজ এলাকায় বাসের নিচে মোটরসাইকেল। গত রবিবারের এ ঘটনায় মৃত্যু হয় দুই শিক্ষার্থীর (বাঁয়ে); একই দিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে পড়ে নিহত হয় শিশু নাবিলা। এ ছবি এখন শুধুই স্মৃতি। ছবি : কালের কণ্ঠ গতকাল সোমবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা। সাময়ের পার্থক্য তিন ঘণ্টা। এর মধ্যে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তিনজন। প্রথম ঘটনায় মায়ের সামনে ছেলে ও দ্বিতীয় ঘটনায় ছেলের সামনে মা দুর্ঘটনার শিকার হন। গতকাল ছিল নিরাপদ সড়ক দিবস। এই দিবসে যেখানে গাড়ি সাবধানে চালানোর কথা, সেদিনই বেপরোয়া গাড়ি সারা দেশে কেড়ে নেয় আরো কিছু প্রাণ। এর মধ্যে চাঁদপুরে একই পরিবারের তিন সদস্য রয়েছেন। পুলিশ জানায়, গতকাল দুপুর ১টার দিকে যাত্রাবাড়ী মোড়ে মাকে নিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় দুই ভাই সেলিম মিয়া দুই বাসের চাপা খেয়ে গুরুতর আহত হন। উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথেই সেলিম মিয়ার মৃত্যু হয়। সেলিমের মা মনোয়ারা বেগম জানান, তিনি হার্টের সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসার জন্য ছেলে সেলিম মিয়া মাদারীপুরের শিবচরের আলেপুর গ্রাম থেকে তাঁকে ঢাকা নিয়ে আসেন। তাঁরা ঢাকা মেডিক্যালের দিকে যাচ্ছিলেন। যাত্রাবাড়ী মোড়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুই বাসের চাপার ওই ঘটনায় জুয়েল নামের একজন আহত হন। তাঁকে হাসপাতাল পর্যন্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। বিকেল ৫টার দিকে মারা যান। জুয়েল গাড়িচালক। বাড়ি বরিশালে। বাবা মতলব হাওলাদার। তিনি রাজধানীর দয়াগঞ্জ বটতলা মোড়ে দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন। অন্যদিকে গতকাল বিকেল ৪টার দিকে যাত্রাবাড়ীর সাদ্দাম মার্কেটের সামনে বাসের ধাক্কায় ছেলের সামনে মা মোর্শেদা বেগম (৫০) গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মোর্শেদার ছেলে গিয়াস উদ্দিন জানান, মাকে নিয়ে ১৫-১৬ দিন আগে তিনি গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সিদলাই গ্রাম থেকে বড় ভাই মহিউদ্দিনের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। গতকাল ভাবি ফাতেমা, দুই ভাতিজি তাসফিয়া (৮), মুসফিকা (৪) ও মাকে নিয়ে তিনি বাড়ি যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। সাদ্দাম মার্কেট মেইন রোড এলাকা দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি যাত্রাবাহী বাস ধাক্কা দেয়। এতে মোর্শেদা এবং তাসফিয়া আহত হয়। উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোর্শেদাকে বিকেল পোনে ৬টায় মৃত ঘোষণা করেন। তাসফিয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, একটি দুর্ঘটনায় ট্রান্স সিলভা পরিবহনের দুটি বাস জব্দ ও এক চালককে আটক করা হয়েছে। চালকের লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। চাঁদপুর ও হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল ভোরে উপজেলার বাকিলা বাজারে সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন এলেম হোসেন (৫৫), তাঁর ছেলে ইকরাম হোসেন (২৮) ও আবু সুফিয়ান (৩৫)। তাঁদের বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক এলাকায়। বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপ ভ্যানের চাপায় তাঁরা মারা যান। একই সড়কে বাসচাপায় ফাতেমা বেগম (৭০) নামের এক পথচারী বৃদ্ধা গতকাল প্রাণ হারান। তিনি এলাকার মৃত ওয়ালী উল্লাহর স্ত্রী। বান্দরবান থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, বান্দরবান-কেরানির হাট সড়কের লালব্রিজ এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন কলেজপড়ুয়া দুই যুবক। রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি উল্টে গেলে তাঁরা প্রাণ হারান। বান্দরবান সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, এর আগে মোটরসাইকেলটি সিগন্যাল অমান্য করে দ্রুতগতিতে রেইচা পুলিশ চেকপোস্ট অতিক্রম করে। এ সময় চালক বা সহযাত্রী কারো মাথায়ই হেলমেট ছিল না। নিহত সুমন তঞ্চঙ্গ্যা (২২) ও বনফুল তঞ্চঙ্গ্যা অভিজিৎ (২৪) বান্দরবান সরকারি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বলে জানা গেছে। এদিকে চাঁদপুরের আরেক শিশু এক বছরের নাবিলা গত রবিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার সামনে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির মায়ের নাম নাজমা বেগম। বাবা ইমরান হোসেন। গতকাল চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর গ্রামে নাবিলার লাশ দাফন করা হয়েছে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
c396cf08-ef85-4fc0-adb8-e298c270a1f3
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ব্যয় ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে একজন প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয় ২৫ লাখ টাকা বহাল রাখা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত অনুসারে সর্বোচ্চসংখ্যক ভোটার রয়েছে এমন আসনের প্রার্থীরা ভোটারপ্রতি ব্যয় করতে পারবেন মাত্র তিন টাকা ৩৪ পয়সা। ইসির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আরপিওর ৪৪বি(৩) অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ভোটারপ্রতি নির্বাচনী ব্যয় ১০ টাকা নির্ধারণ করা হলো। তবে শর্ত হলো যে ওই নির্বাচনী এলাকার ব্যয় সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার বেশি হবে না। এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারপ্রতি ব্যয় ধরা হয়েছিল আট টাকা। কমিশন সূত্র জানিয়েছে, দ্রব্যমূল্যসহ দেশের সার্বিক ব্যবস্থা বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ব্যয় নির্ধারণ করে থাকে। এদিকে গত ১ আগস্ট পর্যন্ত ইসির হালনাগাদ তথ্য অনুসারে দেশে মোট ভোটারসংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০। এর মধ্যে পুরুষ পাঁচ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ জন এবং নারী পাঁচ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন। সবচেয়ে বেশি পাঁচ লাখ থেকে সাত লাখের ওপরে ভোটার রয়েছে ১২টি আসনে। এর মধ্যে ঢাকা-১৯ (চারটি ইউনিয়ন বাদে সাভার উপজেলা) আসনে ভোটার সাত লাখ ৪৭ হাজার ৩০১ জন এবং গাজীপুর-২ আসনে সাত লাখ ৪৫ হাজার ৮৪১ জন। আর সর্বনিম্ন দুই লাখের নিচে ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা, এক লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৫ জন), লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ উপজেলা, এক লাখ ৯৬ হাজার ৪২৮ জন) এবং পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া উপজেলা, এক লাখ ৮৯ হাজার ৭৬৩ জন)। ঢাকা-১৯ আসনের ভোটারদের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হলে ভোটার প্রতি ব্যয় করা যাবে তিন টাকা ৩৪ পয়সা। আবার কম ভোটার থাকার পরও ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থী ১৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫০ টাকার বেশি ব্যয় করতে পারবেন না। রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ : এদিকে ইসির পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সারা দেশের ৬৪টি জেলার জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি এলাকার কিছু আসনে স্থানীয় বিভাগীয় কমিশনারকে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা জেলার ২০টি আসনের মধ্যে ৪ থেকে ১৮ নম্বর আসনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার। আর ১ থেকে ৩, ১৯ ও ২০ নম্বর আসনে এই দায়িত্ব পালন করবেন ঢাকার জেলা প্রশাসক। চট্টগ্রামে ৪, ৫, ৮, ৯, ১০ ও ১১ নম্বর আসনে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবং বাকি আসনগুলোতে জেলা প্রশাসক রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ৫৮০-র মতো। তাঁদের বেশির ভাগই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ ছাড়া কয়েকজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকেও এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসি সচিব জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা প্রচারে নামতে পারবেন। এর আগ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন না। এ বিষয়ে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে গতকাল চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
de3d5c20-1224-441f-848b-a0ed7d188c8f
সুলেমা খাতুন এখন সিদ্দিকুরকে পথ দেখান সন্ধ্যা নামতে বেশি দেরি নেই। প্রচণ্ড ব্যস্ত তেজগাঁও সাতরাস্তার মোড়। আশপাশে জেব্রা ক্রসিং কিংবা ফুট ওভারব্রিজও নেই। একটু ফাঁক পেলেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে মানুষজন। কিন্তু এক তরুণ আর এক বয়স্ক মহিলা রাস্তার কিনারে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে, দেখছি বেশ কিছুক্ষণ ধরে। তরুণের পরনে সাদা রঙের পায়জামা আর প্রিন্টের পাঞ্জাবি। চোখে কালো চশমা। মহিলার পরনে বোরকা, মাথা ওড়নায় প্যাঁচানো। একটু পরে ট্রাফিক পুলিশের বাঁশি। এদিক থেকে গাড়ি বন্ধ হলে রাস্তা পার হলেন তাঁরা। রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলেন— —সিদ্দিক মাস্টারের ঢাল যাইবেন? —যামু? —কত? —২০ টাকা। —চলেন। ওই মহিলা প্রথমে রিকশায় উঠলেন। তারপর তরুণের হাত ধরে বললেন, সিদ্দিক, আস্তে বাবা, আস্তে। সিদ্দিক উঠলেন। মা-ছেলেকে নিয়ে রিকশা চলতে শুরু করল। সিদ্দিক মাস্টারের ঢালে রিকশা থামল। সেখান থেকে পূর্বদিকে সরু একটা গলি চলে গেছে। সেই গলি ধরে কিছুদূর এগোলে হাতের ডানে পুরনো একটা বাড়ি। অনেকটা গুদামঘরের মতো, অন্ধকার। সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠলাম। সেখানে ছোট ছোট খুপরির মতো চারটি ঘর। ডানপাশের প্রথম ঘরটিতেই সিদ্দিক মাকে নিয়ে থাকেন। অন্য তিন ঘরে তিন পরিবার। গত বছরের অক্টোবরে এসেনশিয়াল ড্রাগস কম্পানিতে টেলিফোন অপারেটর পদে যোগ দেন সিদ্দিকুর। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস। সকাল সাড়ে ৭টায় সিদ্দিককে অফিসে দিয়ে এসেছিলেন মা সুলেমা খাতুন। এখন ফিরলেন। দরজা খুলে আমাকে বসতে বললেন। একটামাত্র খাট। সেখানে বসলাম। মা সিদ্দিকুরের হাতে টাওয়েল ধরিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকিয়ে দিলেন। ওয়াশরুমের বাতিটা জ্বালিয়ে দিলেন। যদিও এই বাতি এখন সিদ্দিকুরের জন্য নিষ্প্রয়োজন। আলো তো এখন শুধু মা। ওয়াশরুম থেকে বের হলে সিদ্দিকুরের হাতড়ানো হাতকে ধরে এনে খাটে বসালেন। লুঙ্গি দিলেন। পায়জামা পাল্টাতে বললেন। কিছুক্ষণ পর সিদ্দিকুরের ইচ্ছা হলো একটু পড়ার টেবিলে বসার। মা ধরে এনে বসিয়ে দিলেন। তেজগাঁওয়ের ছোট্ট কুঠুরিতে মা-ছেলের সংসার। ছোট্ট রান্নাঘরে অন্য তিন পরিবারের সঙ্গে রান্না করতে হয়। থাকার ঘরের এক পাশে খাবারের ব্যবস্থা, একপাশে একটি খাট, একটি টেবিল, একটি কাঠের আলমারি। এই হলো সিদ্দিকুরের সহায়-সম্পত্তি। প্রতিদিন ভোরে উঠেই নাশতা-পানির আয়োজন সেরে ছেলেকে নিয়ে ছুটতে হয় অফিস পানে। তারপর এসে বাজার, রান্না, দিনশেষে আবার সিদ্দিকুরকে নিয়ে আসা। ছেলেকে পরীক্ষার হলে নিয়ে যাওয়া, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া—কত কাজ সুলেমা খাতুনের। অচেনা শহরের অলিগলি সব পথে ছুটতে হয় তাঁকে। সুলেমা খাতুন এর আগে কখনো ঢাকায় আসেননি। যেদিন সিদ্দিকুরের অ্যাক্সিডেন্ট হয় তার পরদিন সন্ধ্যায় সুলেমা খাতুনকে খবর দেওয়া হয়। সেই তারাকান্দা থেকে ছুটে আসেন তিনি। ছেলের অবস্থা দেখে মূর্ছা গিয়েছিলেন। ‘জ্ঞান ফিরলে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। পরে তিনিই আবার সিদ্দিকুরকে সান্ত্বনা দেন। নীরবে কাঁদতেন কিন্তু ছেলেকে বুঝতে দিতেন না। ছেলেকে বোঝাতেন যে আমি মা হয়ে শক্ত আছি, তুমিও শক্ত হও বাবা। কিন্তু আমরা দেখতাম তিনি অনেক কেঁদেছেন। তাঁর বয়স এখন ষাটের ঘরে। এই বয়সে ছেলেকে নিয়ে ছুটতে হয় শহরের পথে-প্রান্তরে। যেখানে নিজে রাস্তা পার হতেই কষ্ট সেখানে একদিন বাস থেকে দেখলাম তিনি বহু কষ্টে ব্যস্ত সড়ক পার হচ্ছেন—বলছিলেন সিদ্দিকুরের বন্ধু ফরিদ। সুলেমা খাতুন কখনো স্কুলে পড়ার সুযোগ পাননি। ছেলের রেজাল্টে দারুণ খুশি তিনি। মাসখানেক হলো সিদ্দিকুরের তৃতীয় বর্ষের ফল বেরিয়েছে। বললেন, ‘আমার ছেলে ফার্স্ট কেলাস পাইছে (সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে ৩.০৬)।’ ‘আমার বয়স যখন তিন বছর তখন বাবা মারা যান। বড় বোনের তখন বিয়ে হয়ে গেছে, আর বড় ভাই ক্লাস সেভেনে পড়েন। বাবা তো কৃষিকাজ করতেন। পারিবারিক অবস্থা খুব বাজে ছিল। মা-ই সংসার পরিচালনা করতেন। স্বভাবতই তিনি একটু এলোমেলো অগোছালো থাকতেন। একটা ইচ্ছা ছিল মাকে একটু সুন্দর রাখি, পরিপাটি রাখি। এখন চেষ্টা করি কিন্তু মা কেমন থাকে তা তো আর দেখতে পারি না। সেই ছোটবেলার মতো মা আগলে রাখছেন। তখন বুঝতে পারতাম না, আর এখন দেখি না, এই তফাত।’ বলতে বলতে সিদ্দিকুরের দীর্ঘশ্বাস আরো বড় হয়। মাঝেমধ্যে হয়তো ময়মনসিংহ গিয়েছিলেন কিন্তু আগে কখনো যান্ত্রিক ঢাকায় আসা হয়নি সুলেমা খাতুনের। বললেন, ‘ময়মনসিংহ শহরে মইধ্যে-মইধ্যে আইছি, একলা চিনছি না। অহন একলা যাইতে পারি, যাইতে অয়। ছেলেরে লইয়া দ্যাশে গেছি। গেছি তিতুমীর কলেজে, ঢাকা ভার্সিটি গেছি। আদাবরে ছয় মাস কম্পিউটার শিখছে। গাড়ি দিয়ে নিয়ে গেছি। আল্লাই তো চিনায়। কেমনে চিনি আমি তো আর চিনি না। সিদ্দিকে বলে দেয় ইয়ানে যাইয়াম। আমি গাড়ি দেইক্কা উডি। গাড়িয়লায় নামায় দেয়। রিশকা দিয়া যাই এভাবে।’ স্বামীহারা সুলেমার যখন সুখের সময় দোরগোড়ায়, তখন শুরু হয় ঢাকায় টিকে থাকার নতুন যুদ্ধ। তাঁর শরীরেও রোগ দানা বাঁধছে। গলব্ল্যাডারে পাথরের অপারেশন করার কথা ছিল। করা হয়নি। এখন ওষুধ খেয়ে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। রোগ-শোক-দুঃখ সুলেমা খাতুনকে এই বৃদ্ধ বয়সে কাবু করার চেষ্টা করছে। আর তিনি আপ্রাণ চেষ্টায় আছেন সিদ্দিকুরকে আগলে রাখতে। এরই মধ্যে রাত হয়ে গেল। মা ছেলেকে রেখে গলিতে বের হতে না-হতেই বিদ্যুৎ চলে গেল। ঘুটঘুটে অন্ধকারে ভয় পেয়ে গেলাম। সিদ্দিকুরের কথা মনে হতে ভয় কেটে গেল। মা তো আছেন। সিদ্দিকুরের এখন আর আলোর অভাব নেই। ছবি : মোহাম্মদ আসাদ মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
ef410f0f-ede5-49ea-af5f-d5545beea737
ডলি বেগমের বাসায় লেখক কানাডার নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির ডলি বেগমের কথা অনেকেই মনে করতে পারবেন। অন্টারিওর তিনি এমপিপি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কেউ ডলির আগে এমন গৌরব অর্জন করেননি। কয়েক দিন আগে তাঁর সঙ্গে দেখা করে এসেছেন শামীম আল আমিন লিফটে ১২ তলায় উঠলাম। ডলিকে দেখি ফ্ল্যাটের দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। হাসিমুখে ভেতরে নিয়ে গেলেন। বসার জায়গা দেখিয়ে দিয়ে বললেন, ‘ব্যস্ত দিন গেল।’ ডলি বেগম এমপিপি (মেম্বার অব প্রভিনশিয়াল পার্লামেন্ট) ওই দিনই পার্লামেন্টে প্রথম বক্তৃতা দিয়েছেন। তাই দিনটি তাঁর জন্য বিশেষ ছিল। তবে আমি নিউ ইয়র্ক থেকে এসেছি শুনে অনেক রাত হয়ে গেলেও আর না করেননি। ছিমছাম ছোট্ট ফ্ল্যাট। এটি ডলির অফিসও। মাত্র ২৯ বছর বয়স। গেল দিনগুলোয় অনেকবার মিডিয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাই বসার ঘরে টিভি সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য আলাদা জায়গা রেখেছেন। আমরাও ক্যামেরায় তাঁকে ধরব জেনে চেয়ার-টেবিল গোছগাছ করতে লাগলেন। বাড়তি আলোর ব্যবস্থাও করা হলো। ছোটমোটো একটা স্টুডিও তৈরি হয়ে গেল। দিনে স্যুট পরেছিলেন। এক্ষণে বাঙালি ধরনের পোশাকে হাজির হলেন। তাঁকে স্নিগ্ধ ও আন্তরিক দেখাল। একজন ডলি বেগম সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনীতিবিদ। গেল জুনের নির্বাচনে টরন্টোর (অন্টারিওর রাজধানী) স্কারবরো সাউথওয়েস্ট আসনে প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টির গ্যারি এলিসকে হারিয়েছেন। গ্যারি অনেক দিনের এমপিপি। ডলি তাঁকে হারিয়েছেন বিপুল ভোটে। ডলি পেয়েছেন প্রায় ২০ হাজার ভোট, যা মোট ভোটের ৪৫ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশের মৌলভীবাজার থেকে ডলি মা-বাবার সঙ্গে কানাডা আসেন। বলছিলেন, ‘আমি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছি অনেক দিন ধরে। তবে বড় কোনো পদে যাব এমনটি ভাবিনি। শুধু ভেবেছি কাজ করে যেতে হবে।’ ডলির জন্ম ১৯৮৯ সালে। বাবার নাম রাজা মিয়া আর মা জবা বেগম। ভাইয়ের নাম মহসিন মিয়া। বলছিলেন, ‘১১ বছর বয়সে কানাডায় চলে আসি। ইংরেজি জানতাম না। প্রথম প্রথম অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছে। সেদিনগুলো মোটেও সহজ ছিল না।’ ডলি মৌলভীবাজারের মনুমুখ বাজরাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। পরে মনুমুখ পিটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়েছেন ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত। কানাডায় এসে ২০১২ সালে টরন্টো ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক হয়েছেন। পরে ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডন থেকে উন্নয়ন, প্রশাসন ও পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর হয়েছেন। পড়ালেখা শেষ করে সিটি অব টরন্টোতে প্রায় ১০ মাস কাজ করেন। রিচার্স অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন দ্য সোসাইটি অব এনার্জি প্রফেশনালসে। অন্টারিও প্রদেশের কিপ হাইড্রো পাবলিক ক্যাম্পেইনের প্রধান সমন্বয়কও ছিলেন। ছিলেন স্কারবরো হেলথ কোয়ালিশনের সহপ্রধান। জানতে চাইলাম এমপিপি হয়ে কেমন লাগছে? খুব ভালো লাগছে। বলে বোঝাতে পারব না। আমার নির্বাচনী প্রচারণায় অনেকে কাজ করেছেন। অনেকে দোয়া করেছেন। এসে বলেছেন, তোমার জন্য মসজিদে আজ দোয়া হয়েছে। কেউ গেছেন মন্দিরে, কেউ বা গির্জায়। তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। দেশে যাবেন কবে? খুব শিগগিরই যেতে চাই। দেশে গিয়ে আত্মীয়-স্বজনের দোয়া নিয়ে আসব, যেন আমাকে দেওয়া দায়িত্ব ভালোভাবে করতে পারি। আপনি তো সব মানুষেরই এমপিপি? হ্যাঁ, এটা ভুলে গেলে চলবে না—স্কারবরো সাউথওয়েস্টে অনেক মানুষের বাস। কে কোন দেশ থেকে এসেছে বা কার কী গায়ের রং—এসব বিবেচনায় আনা যাবে না। সবার জন্যই সমানভাবে কাজ করতে হবে। ডলি চান স্কারবরোর লোক সহজেই যেন তাঁর কাছে পৌঁছতে পারে, তাঁর ত্রুটি ধরিয়ে দিতে পারে, তাঁকে পথ দেখাতে পারে—এটাই ডলির চাওয়া। ডলির নির্বাচনী স্লোগান ছিল—‘আমাকে নির্বাচিত করুন। আমি আপনাদের আশাহত করব না।’ পরিবারের সমর্থন পেয়েছেন ডলি, বিশেষ করে ছোট ভাই মহসিনের। বলছিলেন, ‘মহসিন খুবই চমৎকার মানুষ। আমাকে সব সময়ই হেল্প করে।’ তবে এটাও সত্য এপ্রিলে ডলি মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশায় বুক বেঁধে ছিল। তাই তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর টরন্টোর রাস্তায় আনন্দ মিছিল হয়েছে, যেটা কানাডায় খুব কমই ঘটে। প্রবাসীরা মনে করেন, মৌলভীবাজার থেকে এসে ডলি যদি পারেন; তাহলে আরো অনেকে পারবেন। ডলি তরুণদের পথ দেখিয়েছেন। ডলি বললেন, ‘তরুণদের হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। লেগে থাকলে সফল হওয়া যায়।’ ডলি বেগম বিশ্বাস করেন, সোশ্যাল ডেমোক্রেসিতে। নারীর ক্ষমতায়নের ব্যাপারটিও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আরো জানতে চেয়েছিলাম ডলি আত্মবিশ্বাসী ও বিনয়ী। জানতে চেয়েছিলাম, কত দূর যেতে চান আপনি? আপাতত লক্ষ্য—দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা। মানুষ অভিযোগ করে, রাজনীতিবিদরা দেওয়া প্রতিশ্রুতি ক্ষমতায় গিয়ে ভুলে যান। কেন হয় এটা জানেন? কারণ তিনি তখন ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনতে থাকেন। আরো সফল হতে চান। উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাঁকে পেয়ে বসে। ফলে বর্তমানের কাজটা করতে পারেন না। আমি ওই পথে যেতে চাই না। আসলে কাজ করলে, কাজই মানুষ গন্তব্যে নিয়ে যায়। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
9422d6f8-0a30-493c-ac8b-8ccd856cab3d
সত্যজিৎ বিশ্বাস ও আরতীরানী বিশ্বাস বত্রিশ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন সত্যজিৎ বিশ্বাস। এর মধ্যে এক দিনও তাঁর স্কুলে পৌঁছতে দেরি হয়নি। বাবুল আকতার অবাক বনেছেন। জেনেছেন মানুষটিকে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কুচলিয়া গ্রাম। প্রয়াত মাধবচন্দ্র বিশ্বাস ও ত্রিবেণী বিশ্বাসের একমাত্র ছেলে সত্যজিৎ বিশ্বাস। অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তিনি। আরো সত্যজিৎ ১৯৬১ সালে সত্যজিতের জন্ম। ১৯৭৬ সালে দিগঙ্গা-কুচলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এইচএসসি দিয়েছেন ১৯৭৮ সালে মশিয়াহাটি কলেজ থেকে। তারপর বিএসসি পাস করেছেন যশোর সিটি কলেজ থেকে ১৯৮৬ সালে। ওই বছরই ধোপাদী স্কুলে যোগ দেন সহকারী শিক্ষক হিসেবে। তখনো লেট করেননি নিজে যখন স্কুলের ছাত্র ছিলেন, তখনো ক্লাসে নিয়মিত ছিলেন সত্যজিৎ। সব দিনই সবার আগে ক্লাসে হাজির হওয়াটা তাঁর অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। পরে যখন শিক্ষক হলেন, তখনো তিনি নিয়মিত। সময়ের আগেই পৌঁছে যান স্কুলে। এত বছরে ছুটিও নেননি কোনো দিন। ১৯৮৯ সালের জুলাই মাসের ২৬ তারিখ রাতে নড়াইলের আরতীরানী বিশ্বাসের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন সত্যজিৎ। পরের দিনই কিন্তু যথাসময়ে স্কুলে হাজির হয়েছিলেন। তাঁর বাবা মারা যাওয়ার পরদিনও যথারীতি স্কুলে গিয়েছিলেন। সাইকেলে চেপেই স্কুলে যাওয়া-আসা করেন সত্যজিৎ বিশ্বাস তাঁর একটি সাইকেল আছে বাড়ি থেকে তাঁর স্কুল সাত কিলোমিটার। হেঁটেও গেছেন অনেক দিন। তবে সাইকেলে চেপেই স্কুলে যান বেশি। ঝড়-বৃষ্টি তাঁর পথ রোধ করতে পারেনি। ১০টায় স্কুল শুরু হয়। তিনি সাড়ে ৯টায়ই পৌঁছে যান। বই পড়া, কবিতা লেখার নেশা আছে তাঁর। ফুলের গাছও লাগান। কমপক্ষে তিন হাজার ফুলের গাছ লাগিয়েছেন আজ পর্যন্ত। সত্যজিৎ বিশ্বাসের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে অভিজিৎ বিশ্বাস কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে পড়ছে। মেয়ে প্রিয়াংকা পড়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পশু পালন বিভাগে। তাঁকে নিয়ে ধোপাদী স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বললেন, ১৯৯০ সাল থেকে এই স্কুলে আছি। সত্যজিৎ স্যার এক দিনের জন্যও স্কুলে অনুপস্থিত থাকেননি। ছাত্ররা তাঁকে ভালোবাসে। স্কুলের প্রতি তাঁরও খুব দরদ। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি তপনকুমার বসু। বললেন, সত্যজিত্বাবু একজন আদর্শ শিক্ষক। প্রতিবেশী ডা. বাবলুকিশোর বিশ্বাস বললেন, সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষ তিনি। শুধু আদর্শ শিক্ষক নন, ভালো মানুষও বটে। স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলল, স্যার খুব ভালো। তিনি আমাদের গণিতের ক্লাস নেন। আমরা আনন্দের সঙ্গে তাঁর ক্লাস করি। মন থেকেই পেশাটিকে গ্রহণ করেছি সত্যজিৎ বিশ্বাস ছাত্রদের পড়াচ্ছেন স্কুলকে আপনি খুব ভালোবাসেন, তাই না? শিক্ষকতা এক মহান পেশা। আমি মন থেকেই পেশাটি গ্রহণ করেছি। আমার মেধা, মনন, সৃজনশীলতা—সবই স্কুল ঘিরে। আমি বিশ্বাস করি, পরিবার, সমাজ, দেশ গঠনের কারিগর হবে একজন শিক্ষক। তাই শিক্ষককে আদর্শবান হতে হবে। আমি নিজেকে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবেই গড়ে তুলছি। স্কুলই আমার সব। শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের মধ্যে থাকতে আমার ভালো লাগে। স্কুলের পরিবেশেই আমি বেশি সময় কাটাই। তাহলে বলতে পারি শিক্ষকতাই আপনার প্রেম? আমি জনতা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকে চাকরি করার সুযোগ পেয়েছিলাম; কিন্তু পেশা হিসেবে শিক্ষকতাই আমার পছন্দ। ছাত্রজীবন থেকেই আমি শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। চেয়েছি নিজেকে মানুষ গড়ার কারিগর বানাতে। তাই বলতেই পারেন, শিক্ষকতা আমার প্রেম। এমন কোনো দিনের কথা মনে পড়ে, যেদিন স্কুলে পৌঁছাতে খুব কষ্ট হয়েছিল। আমার বাড়িটি অপেক্ষাকৃত নিম্নাঞ্চলে। স্কুলে যাওয়ার পথে অনেক দিনই কষ্ট হয়। পাঁচ-ছয় বছর আগের কথা। বন্যা হয়েছিল। মণিরামপুর-নওয়াপাড়া সড়কের ধোপাদী বটতলা থেকে সোড়াডাঙ্গা পর্যন্ত পানিতে ডুবে গিয়েছিল। আমি জায়গাটা সাঁতরে পার হয়েছিলাম। সেদিন কষ্ট বেশিই হয়েছিল। তার পরও ঠিক সময় স্কুলে পৌঁছাতে পেরেছিলাম। আরেক দিন জ্বর নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম। সেদিন আমার সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা আমার যত্ন নিয়েছিল। ভালো লেগেছিল খুব। বাড়ির লোক আপনাকে কিছু বলে না? ঘণ্টা দেওয়ার আগে স্কুলে পৌঁছানোর মধ্যে আমি আনন্দ পাই। আগে আমার স্ত্রী বকাঝকা করেছে। একসময় বন্ধুরাও ব্যঙ্গ করত। এখন কিন্তু সবাই আমাকে সহযোগিতা করে আর সম্মানও করে। আপনি গণিতের শিক্ষক। অনেক ছাত্রই গণিত ভয় পায়। আপনার ছাত্ররা মনোযোগী থাকে? এটা ঠিক, গণিত অপেক্ষাকৃত কঠিন বিষয়। তাই গণিতকে আকর্ষণীয় করতে শিক্ষককে নিজস্ব পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়। আমি ছাত্রদের সঙ্গে মিশে যাই বন্ধুর মতো। তাদের চেনা বিষয়গুলোর উদাহরণ দিয়ে গণিত বোঝাই। তাই ছাত্ররা মনোযোগী থাকে। ছবি : লেখক মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
6a1cad08-2536-406c-81fc-a309f3f7fb3c
চেইন, চোকার ইত্যাদি আরো নাম আছে গলার হারের। এর ইতিহাসও সুদীর্ঘ। সময় সময় এর রূপ বদল হয়েছে। নারী ও পুরুষ উভয়ের কাছেই আদর পায়। আহনাফ সালেহীন খোঁজ নিয়েছেন গলার হার, সোজা কথায় গলার মালা। এটি মানুষের একেবারে গোড়ার দিকের অলংকার। এর শুধু প্রকারভেদ নয়, রকমভেদও আছে। বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য এক রকম, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য আরেক রকম। শোকসভায় পরে যাওয়ার জন্যও আছে আলাদা গলার হার। এতে লকেট, কবচ, ক্রুশ ঝোলানো হয়। হীরা, মুক্তা, চুনি, পান্না ইত্যাদি মূল্যবান রত্নও এর সঙ্গী। প্রাগৈতিহাসিক যুগে পাখির পালক, পশুর হাড়, ঝিনুক, গাছের পাতা ইত্যাদি দিয়ে গলার হার তৈরি করা হতো। হারে ধাতুর ব্যবহার শুরু হয় ব্রোঞ্জ যুগে। পাথরের ব্যবহার দেখা যায় ব্যাবিলনীয় সভ্যতায়। সুমেরীয়রা সোনা, রুপার ব্যবহারও করত। প্রাচীন মিসরে উচ্চবিত্তদের অনুষ্ঠানভেদে বিভিন্ন রকমের গলার হার ছিল। তারা পুঁতির মালাও পরত। প্রাচীন ক্রিটের সব শ্রেণির মানুষই গলার হার পরত। প্রাচীন গ্রিস সুন্দর সোনার হার তৈরিতে দক্ষতা অর্জন করেছিল। পাখি বা প্রাণীর আকারও দিতে পারত তারা গলার হারে। প্রাচীন রোমের বিত্তবানরা নীলকান্তমণি আর হীরার হার পরার প্রতিযোগিতা চালাত। রামায়ণে সোনার সরু হারের উল্লেখ আছে। বাইজান্টাইন যুগে ক্রিশ্চিয়ান জুয়েলারির প্রচলন হয়, যেগুলোতে ক্রুশ ঝোলানো হতো। এলিজাবেথের মুক্তা রানি প্রথম এলিজাবেথ রাজত্ব করেছেন ১৬ শতকে। মুক্তার মালা তাঁর খুব প্রিয় ছিল। তাঁর সময়ে পোর্ট্রেট পেইন্টিং উপহার দেওয়ার চল ছিল। এটি যেমন খুব বিখ্যাত। আর্মাডা পোর্ট্রেট নামের এই ছবিটিতে এলিজাবেথের গলায় অনেক মুক্তার মালা দেখা যায়। ১৫৮৮ সালে স্প্যানিশ নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের বিজয় ছবিটির উপলক্ষ। মুক্তা পছন্দ করতেন মোগল সম্রাটরাও। মুক্তার মালা গলায় সম্রাট আকবরের ছবি দেখতে পাওয়া যায়। সম্রাট আকবর সময়রেখা খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ থেকে ৪০০ খ্রিস্টাব্দ : ব্রোঞ্জের তৈরি গলার হারের প্রচলন ছিল। কেল্টিকরা সিলভার, সোনা আর কাচের হারও পরত। ৪০০ থেকে ১৩০০ খ্রিস্টাব্দ : জার্মান ট্রাইবরা সোনা আর সিলভারের হার পরত, তবে সেগুলোয় জটিল নকশা থাকত। পাথর আর রঙিন কাচের ব্যবহার ছিল সেগুলোয়। ১৪০০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ : রেনেসাঁ-ইউরোপে লকেটওয়ালা চিকন গলার হার পুরুষরা শখ করেই পরত। ১৫ শতকের বিত্তবান লোকেরা রত্নখচিত হার পরত। নারীরা বেশি পরত পুঁতি ও মুক্তার হার (ফিতার মতো লেসি পার্ল)। ওই শতকের শেষ দিকে, বিশেষ করে ইতালিতে মোটা গলার হারের চল হয়। ১৫০০ থেকে ১৬০০ খ্রিস্টাব্দ : প্রবালের মতো প্রাকৃতিক উপকরণের হার এ শতকের বিশেষত্ব। ১৬০০ থেকে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দ : হীরা কাটার নতুন কৌশল আবিষ্কৃত হয়। ১৭০০ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ : গলার হারসহ গয়নার ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছিল। কারণ নকল সোনার (ইমিটেশন গোল্ড) গয়না তৈরির কৌশল জানা হয়ে গিয়েছিল। নকল রত্নও ব্যবহৃত হচ্ছিল অনেক। এই শতকেই যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তাদানার (সিড পার্ল) ব্যবহার শুরু হয়। ১৮০০ থেকে ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দ : সম্রাট নেপোলিয়নের দরবারে প্রাচীন গ্রিক স্টাইল ফিরে এসেছিল। রানি ইউজিন এমন হার চালু করলেন, যেটি ছিল পিঠ, কাঁধ ও বক্ষের আবরণমতো। ১৮৭০ থেকে ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ : এডওয়ার্ডিয়ান এরায় (কিং এডওয়ার্ডের নাম থেকে। ১৮৯০ থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কাল পর্যন্ত ধরা হয়) মুক্তার ব্যবহার ফিরে আসে। ডগ কলার নেকলেস জনপ্রিয় হয়। আর্ট নভ্যু (প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহার ও বক্র গড়নের বিশেষত্ব) আন্দোলন প্রভাব ফেলে অলংকার শিল্পেও। হাতির দাঁত, শিঙের ব্যবহার যেমন দেখা গিয়েছিল। ১৯১০ থেকে ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ : কোকো শ্যানেল কস্টিউম জুয়েলারির (কানের, গলার, নাকের অলংকারের সঙ্গে পোশাকের মিল থাকে) প্রচলন ঘটান। জ্যামিতিক নকশার প্রকাশ দেখা যায় অলংকারে। লাভ বিডের গলার হার (হিপ্পি নারী ও পুরুষরা পুঁতির এ মালা হাতে বুনত) অনেক দেখা যায়। মুক্তার মালা স্পেশাল মার্কিন আর ব্রিটিশ নারীরা ১৬তম জন্মদিনে মুক্তার মালা উপহার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেন। কারণ মুক্তা সম্পর্ক গভীর করে, মনকে প্রফুল্ল করে। অনেক সমাজে মুক্তাকে চাঁদ বলে ভাবা হয়। প্রাচীন চীনের লোকেরা আবার ভাবত ড্রাগন আর আগুন থেকে রক্ষা করার ক্ষমতা আছে মুক্তার। ভিক্টোরীয় ইংল্যান্ডে মুক্তার দানাকে অশ্রুবিন্দু ভাবা হতো। তাই শোকের দিনে মুক্তার মালা পরত ইংল্যান্ডবাসী। উপহার হিসেবে কুবলাই খানের কাছে মুক্তা নিয়ে গিয়েছিলেন মার্কো পোলো। ১৬ শতকে লা পেরেগ্রিনা নামের বিখ্যাত মুক্তাটি উপহার পেয়েছিলেন মেরি। তিনি স্পেনের প্রিন্স দ্বিতীয় ফিলিপের স্ত্রী ছিলেন। এই মুক্তাটিই পরে রিচার্ড বার্টন উপহার দিয়েছিলেন তাঁর গয়নাপ্রিয় স্ত্রী এলিজাবেথ টেইলরকে। মেরিলিন মনরোও পছন্দ করতেন মুক্তা। জাপানে হানিমুনে গিয়ে জো ডিম্যাগিও তাঁকে (মনরোকে) ১৬ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি মুক্তার মালা দিয়েছিলেন। মুক্তা পছন্দ করতেন গ্রেস কেলিও। তাঁর স্বামী প্রিন্স রেইনিয়ার তাঁকে মুক্তা ও হীরার একটি দারুণ অলংকার দিয়েছিলেন, যেটি তিনি মাঝেমধ্যেই পরতেন। আমাদের গলার হার মাদুলি, সীতাহার, পুষ্প, সাতনরি, চিক ইত্যাদি অনেক নামের গলার হার আছে আমাদের এখানে। মুক্তার মালায় ছোট ছোট সোনার লকেট দিয়ে সাত ধাপে তৈরি হয় বলে নাম হয়েছে সাতনরি হার। আর সীতাহারের মাঝখানে থাকে লকেট। একসময় কড়ির মালাও অনেক দেখা যেত। ‘আমার গলার হার খুলে নে’ শিরোনামে বাংলায় বিখ্যাত একটি গান আছে। কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর প্রথম কাব্যগ্রন্থটির নাম ‘সাতনরী হার’ (১৯৫৫)। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
ebacf3fc-952e-4f11-ae93-7247ffc97ed9
প্রায় একই সময়ে ঢাকা ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই দল বিজ্ঞানী ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচনে সাফল্য দেখিয়েছেন। বাকৃবির দলটির নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দলটির নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হাসিনা খান। তিনি পাটের জীবনরহস্য উন্মোচকারী দলটিরও অন্যতম সদস্য ছিলেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলেন পিন্টু রঞ্জন অর্ক জিনোম সিকোয়েন্সিং বা জিন নকশা ব্যাপারটি কী? জিন তৈরি হয় ডিএনএ দিয়ে। ডিএনএর রাসায়নিক যৌগের (কেমিক্যাল কম্পাউন্ড) মধ্যে লুকিয়ে থাকে প্রাণীর জীবনরহস্য বা জিন নকশা। ডিএনএ আবার গঠিত হয় কোটি কোটি জেনেটিক লেটার বা নিউক্লিওটাইড দিয়ে। তবে সুবিধা হলো, মাত্র চারটি ইউনিটে এগুলোকে আলাদা করে ফেলা যায়— অ্যাডেনিন, থাইমিন, গুয়ানিন ও সাইটোসিন। সহজে বোঝার জন্য আমরা প্রথম অক্ষর ধরে A, T, C আর G নামে ডেকে থাকি। এগুলো কিভাবে সাজানো তার ওপর নির্ভর করে প্রাণের বৈশিষ্ট্য। যেমন ধরুন, স্টপ (STOP) একটি শব্দ। একে ঘুরিয়ে টপস (TOPS) বানাতে পারেন, আবার স্পট (SOPT) বানাতে পারেন অথবা পোস্ট (POST)। প্রতিটিরই কিন্তু আলাদা অর্থ। প্রথমটিরই আলাদা পরিচয় রয়েছে। প্রথমটি যেমন পোশাক, দ্বিতীয়টি স্থান নির্দেশ করে। তৃতীয়টি দিয়ে পদ বা কর্মস্থলও বোঝানো হয়। এই এ টি সি আর জি কিভাবে সাজানো আছে তা জানার জন্যই আমরা যে কাজ করি সেটাকেই বলে জিনোম সিকোয়েন্সিং। ইলিশের জীবনে কিন্তু নানা রহস্য আছে। সমুদ্র থেকে নদীতে আসে, নদী থেকে আবার সমুদ্রে যায়। অথচ সমুদ্রের মাছ মিঠা পানির নদীতে অথবা মিঠা পানির মাছ লবণাক্ত সমুদ্রে যেতে পারে না। কিভাবে এই আসা-যাওয়া ইলিশ নিয়ন্ত্রণ করে? তারপর আছে ইলিশের রোগ-বালাই, আছে ভিন্ন স্বাদ ইত্যাদি। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে এগুলোসহ আরো অনেক কিছুই জানা যাবে। কিভাবে কাজটা করা হয়? ডিএনএকে প্রথমে কোষ থেকে বের করে নিতে হয়। প্রাণীভেদে কোষ ভিন্ন ভিন্ন হয়। তবে মানুষ-মাছ যাই হোক, সবার নিউক্লিওটাইড ওই চারটি ইউনিটেই থাকে। প্রথমে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা ঠিক করি কোষটাকে কিভাবে ভাঙব। পুরো জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে ডিএনএ নিতে হয় নিউক্লিয়াস থেকে। তাই সাবধান থাকতে হয় যেন ডিএনএটা অক্ষত থাকে। ডিএনএ সংগ্রহ করার পর কয়েক রকম পদ্ধতিতে সিকোয়েন্সিং করা যায়। আমরা করেছি ইলুমিনা (Ilumina) আর প্যাকবায়ো (PacBio)—এই দুই পদ্ধতিতে। আমরা ৩১ হাজার ২৯৫টি জিন খুঁজে পেয়েছি, তা ইলিশের মোট জিনের ৯২ শতাংশ বলে নিশ্চিত হয়েছি। উল্লেখ্য, ইলিশের ডিএনএর ১০০ কোটি নিউক্লিওটাইডের (ডিএনএর জেনেটিক লেটার) বিন্যাস জানতে পেরেছি। এগুলোকে বিন্যাস করার পর বোঝা যায় ইউনিটগুলোর (A, T, C ও G ) প্যাটার্ন। আর সেটাই জিনোম সিকোয়েন্সিং। তবে কাজটি সময়সাপেক্ষ আর শক্তিশালী কম্পিউটারের সাহায্য নিতে হয়। পদ্মার ইলিশ আর মেঘনার ইলিশ কি আলাদা? দেখুন, ইলিশ সমুদ্রে বাস করে। সমুদ্র থেকে নদীতে আসে প্রজনন করতে। নদী থেকে মা ও শিশু ইলিশ (জাটকা) আবার ফিরছে সমুদ্রে। সব প্রাণীর ডিএনএ আমৃত্যু একই থাকে। ডিএনএর কোড পরিবর্তনের সুযোগ প্রকৃতি রাখেনি। তাহলে বোঝা যাচ্ছে ইলিশের জীবনরহস্য জটিল। আমাদেরও প্রশ্ন, প্রজনন করতে আসা কিছু ইলিশ কি পদ্মায় বা হাওরে থেকে যায়? সমুদ্র থেকে মেঘনার ইলিশ কি আবার মেঘনায় ফিরে যায় না? কিংবা পদ্মার ইলিশ পদ্মায়? না গেলে কেন যাচ্ছে না? যেগুলো যায় সেগুলো কেন যায়? জিন নকশা আমাদের এর উত্তর পাইয়ে দেবে। তবে এর উত্তর পেতে হলে আরো কিছুকাল অপেক্ষা করতে হবে। ইলিশ কি তবে সত্যি বদ্ধ জলাশয়ে চাষ করা যাবে? ইলিশ চাষ করতে কোন জায়গা (নদী না সমুদ্র) উপযুক্ত, আগে তা বের করতে হবে। সেই পরিবেশে কোন কোন বিষয় কার্যকর তা জানতে হবে। তবে এ প্রশ্নের উত্তর দিতে আরো সময় লাগবে। এমন কাজের জন্য আমাদের এখানে পর্যাপ্ত সুযোগ কি আছে? প্রথম ব্যাপার হলো, আমরা কোনো ফান্ড ছাড়াই কাজ করেছি। সবাই বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছে। আমাদের দেশে কোনো সুপার কম্পিউটারও নেই। বড় বড় জিনোমকে অ্যাসেম্বল করার সুযোগ দেশে নেই। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের কাজ করতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ড. মং সানু মারমা ও তাঁর বন্ধু পিটারের মাধ্যমে এবং জিনোম অ্যাসেম্বল করার কাজটি করতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় ড. বাতেনের মাধ্যমে। দেশে এমন অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে, যার জিনোম সিকোয়েন্স জানতে এবং কাজে লাগাতে দেশেই এই কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। দুই দল গবেষক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক সামছুল আলমের নেতৃত্বে এই দলে আরো ছিলেন পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বজলুর রহমান মোল্লা, বায়োটেকনোলজির অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম ও ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক গোলাম কাদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক হাসিনা খান। এই দলের দুজন প্রবাসে থাকেন। তাঁরা হলেন ড. মং সানু মারমা ও ড. এ কে এম আবদুল বাতেন। দেশে কাজ করেছেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ইলিশ-গবেষক অধ্যাপক এম নিয়ামুল নাসের এবং প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম, প্রভাষক ফারহানা তাসনিম চৌধুরী, গবেষক অভিজিৎ দাস, অলি আহমেদ, জুলিয়া নাসরিন, তাসনিম এহসান ও রিফাত নেহলিন। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
19e6ca36-1cf4-4e14-8f38-ae116044c985
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় ইউনিয়নভিত্তিক ‘গ্যাস কমিটি’ করে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে প্রায় ৬০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা। অনেক স্থানে আবার মাসিক হারে বিলও তোলা হচ্ছে। সরেজমিনে ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে উপজেলার সনমান্দী, শম্ভপুরা, নোয়াগাঁও ও বারদী ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, পাকা ও কাঁচা সড়ক কেটে গ্যাসের পাইপ বসানো হয়েছে। নিম্নমানের পাইপ দিয়ে ওই গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে কয়েক স্থানে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে এরই মধ্যে ২৭ জন আহত হয়েছে। কয়েকটি বাড়ি পুড়ে গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১২ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থক পরিচয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন নিজেকে তিতাস গ্যাসের ঠিকাদার দাবি করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। যদিও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীর আলম আওয়ামী লীগের কেউ নন। পরে শম্ভপুরা ইউনিয়নে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সোহাগ রনি, শম্ভপুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু সিদ্দিক মোল্লা, পিরোজপুর ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফ হোসেন ভবনাথপুর, রতনপুর ও ভাটিবন্দর গ্রামে এলজিইডির সড়ক কেটে সংযোগ দিয়েছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ওই রাস্তা কাটার পর তাঁর বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় ডায়েরি করা হয়। গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে আদায় করছেন তিনি। সনমান্দী ইউনিয়নের অবৈধ গ্যাস সংযোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম আমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাছিমা বেগমের স্বামী আবু বকর সিদ্দিক বাবুল, যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন, নুরু মিয়া ও আক্তার হোসেন, বৈদ্যের বাজার এলাকায় যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুবায়েত হোসেন শান্ত, বৈদ্যের বাজার ইউপি চেয়ারম্যান ডা. আবদুর রউফের ছেলে মোহাম্মদ উল্লাহ, স্থানীয় যুবলীগকর্মী ফারুক হোসেন, রবি উল্লাহ, সানোয়ার হোসেন, স্বাধীন মিয়া, সুকুমার, মাসুম মিয়া ও জাহাঙ্গীর হোসেন, বারদী এলাকায় যুবলীগকর্মী নাজমুল হোসেন, নাসির মিয়া, মোবারক হোসেন, জাতীয় পার্টির নেতা রফিক মেম্বার, রমজান আলী, অহিদ মিয়াসহ একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী গ্যাস সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারা সবাই ‘গ্যাস কমিটি’র সদস্য। সূত্র মতে, গ্যাস কমিটি নামের ওই সিন্ডিকেট ১০টি ইউনিয়ন ও সোনারগাঁ পৌরসভায় প্রায় ২৫ হাজার অবৈধ সংযোগ দিয়ে রাইজারপ্রতি ২৫ হাজার করে প্রায় ৬০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পুলিশ, প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ও তিতাস গ্যাসের কয়েকজন কর্মকর্তা এ টাকার ভাগ পেয়েছেন। সাধারণ মানুষ তাদের গৃহপালিত পশু বিক্রি করে, সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে, ধারকর্জ করে ওই টাকা দিয়েছে। তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা জানান, নিম্নমানের পাইপ দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়ায় এরই মধ্যে কয়েক স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তাতে বাড়িঘরও পুড়েছে। এসব পাইপলাইন বিস্ফোরণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। গত ১০ জুন সোনাখালী ও ১৬ জুন পানাম এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যেই আবার অবৈধ সংযোগ দেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এর আগে সোনাখালী এলাকার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে তিতাস গ্যাস কর্মকর্তা ও পুলিশ পালিয়ে আসে। এলাকাবাসী জানায়, তারা টাকা দিয়ে গ্যাসলাইন নিয়েছে। তাই ওই লাইন বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি মেনে নেবে না। নিম্নমানের পাইপ সরিয়ে গ্যাসের বৈধতা পেলে সাধারণ জনগণ উপকৃত হবে। তাতে সরকারও লাভবান হবে। সনমান্দী ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের গ্রাহক মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের গ্যাস সংযোগ বৈধ করার কথা বলে নেতারা অতিরিক্ত টাকা নিয়েছে। আমরা সাধারণ মানুষ অনেক কষ্টে তাদের টাকা পরিশোধ করেছি।’ এ ক্ষেত্রে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দ্রুত বৈধ করার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। আলমদী গ্রামের আবু তাহের জানান, কতিপয় নেতা সাধারণ জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী গ্যাস সংযোগ বৈধ করতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির কাছে দাবি জানান তিনি। অবৈধ গ্যাস সংযোগদানকারী আমিনুল ইসলাম আমান, সোহাগ, রনিসহ কয়েকজন দাবি করেন, জনগণের সুবিধার্থেই তাঁরা গ্যাস সংযোগ দিয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘দলের নাম ভাঙিয়ে যারা অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাদের এ অন্যায়কে আমরা সমর্থন করি না। দল তাদের দায়ভার নেবে না।’ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেড কাঁচপুর অঞ্চলের ব্যবস্থাপক আবদুল মোমেন তালুকদার দাবি করেন, ‘এর সাথে আমরা জড়িত নই। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। শিগগিরই আবারও অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।’ সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এরই মধ্যে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
3f6e913d-a1e5-4817-be24-4cc2d52fabb3
ঢাকার ইব্রাহীমপুর এলাকার দরিদ্র রিকশাচালক আবু জাফর আধা কেজি গরুর মাংস রান্না করে নিয়ে এসেছেন ছেলের জন্য। ছেলে বলেছে, মাংস দিয়ে পেটপুরে ভাত খাবে। টঙ্গীর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের গেটে এমন অনেকেই ছেলের জন্য রান্না করা খাবার নিয়ে অপেক্ষা করেন। কারণ পেটপুরে নাকি খেতে পায় না কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের অপরাধী কিশোররা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে জনপ্রতি এক বেলা খাবার বাবদ বরাদ্দ ১৬ টাকা ৬৬ পয়সা। যার মধ্যে জ্বালানি খরচও অন্তর্ভুক্ত। এ অবস্থায় চাহিদা অনুসারে পুষ্টিসম্পন্ন খাদ্য পাচ্ছে না তারা। বাড়ন্ত কিশোরদের সরবরাহ করা খাবারে দেহের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধিসাধন ব্যাহত হচ্ছে। নিবাসী কিশোররা খাবারে বিশেষ অতৃপ্তি নিয়েই সংশোধনী কার্যকাল কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মাসিক অভিভাবক দিবসে উন্নয়ন কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে কজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান বাজার দরে এ সামান্য ওই অর্থে কেনা খাবারে কিশোররা মোটেই তুষ্ট নয়। নিয়ম অনুসারে ভাত, মাছ, সবজি, মাংস ও ডাল প্রতিদিনের খাবার তালিকায় থাকলেও যা তাদের পাতে দেওয়া হয়, তা নিতান্তই সামান্য। এ অবস্থায় কিশোররা এখানে থাকার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। মা-বাবার কাছে আবদার করছে হয় খাবার বাড়ি থেকে এনে দিতে, নয়তো এখান থেকে মুক্তি দিতে। সপ্তাহে এক টুকরা মাংস তারা খেতে চায় না। অভিভাবক দিবসে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, অনেক অভিভাবক বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে এসেছেন। তাঁরা জানান, কেন্দ্রের খাবারে পেট ভরে না, মন ভরে না তাই সারা মাস ছেলেরা বাড়ির খাবারের জন্য অপেক্ষায় থাকে। দেশে ক্রমবর্ধমান শিশু-কিশোর অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে ‘শাস্তি নয়, সংশোধন’—এ স্লোগানকে সামনে রেখে ১৯৭৮ সালে টঙ্গীতে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় কিশোর অপরাধী সংশোধনী প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিনেও প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক সময়োপযোগী ও আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটি অপরাধপ্রবণ শিশু-কিশোরদের মান উন্নয়নে আশানুরূপ ভূমিকা রাখতে পারছে না। দেশে শিশু-কিশোর অপরাধীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও এ প্রতিষ্ঠানে অভিভাবকরা অপরাধী শিশু-কিশোরদের ভর্তির ক্ষেত্রে তেমন আগ্রহী নয়। নিবাসী কিশোর ফাহাদ হোসেনের বাবা সুলতান মাহমুদ বলেন, তাঁর ছেলে পুলিশ কেসে এই কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছে। এ বছর তাঁর জেএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও সে পরীক্ষা দিতে পারছে না। কারণ কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে লেখাপড়ার সুযোগ রয়েছে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। শিশু আইন অনুসারে অনূর্ধ্ব ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের এখানে থাকার কথা। কিন্তু এ বয়সী কিশোররা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করার কথা থাকলেও এ কেন্দ্রে সেই সুযোগ নেই। কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে নেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোনো পৃথক টিচারস স্টাফ। এখানকার সাধারণ কর্মচারীরাই লেখাপড়ার দায়িত্বে নিয়োজিত। কেন্দ্রে সংশোধনী কার্যক্রমের পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণের যে ব্যবস্থা রয়েছে, তাও মান্ধাতা আমলের। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো হচ্ছে কাঠমিস্ত্রির কাজ, দর্জি, বৈদ্যুতিক মিস্ত্রির কাজ ও অটোমোবাইল। অভিভাবকরা বলেন, প্রশিক্ষণের জন্য কম্পিউটারসহ আধুনিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। অভিভাবক হাবিবুর রহমান, ইশতিয়াক হোসেন, লতিফা পারভীন ও জান্নাতুন নেছা বলেন, তাঁদের সন্তানরা এখানে থাকতে চায় না। এখানে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বলতে কিছু নেই। বড় ছেলেরা ছোটদের প্রতি নির্দয় আচরণ করে। কোনো কোনো কর্মচারীর আচরণও ভালো নয়, তারা স্নেহের বদলে তিরস্কার করে। মৌসুমি ফল খেতে দেওয়া হয় না। প্রতি বৃহস্পতিবার ২০০ গ্রাম দুধ দেওয়া হয়, যা খাওয়ার উপযোগী নয়। তারা ঠিকমতো খাবারই যেখানে পায় না, সেখানে সংশোধন হবে কী করে? কেন্দ্রে ডাক্তার নেই, অসুস্থ হলে ভুগতে হয় দীর্ঘদিন। বর্তমান কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে ৪২৪ জন কিশোর অবস্থান করছে। এদের মধ্যে ১৮০ জন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে, অন্যরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বাইরে রয়েছে। বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছে ৮০ জন। বেশির ভাগ কিশোর মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থী। তারা বেশির ভাগ সময় অলস সময় কাটায়। অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানকার ৯৫ শতাংশ কিশোরই নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য। এখানকার শিক্ষা, খাদ্য, বিনোদন, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য বিষয় মানসম্পন্ন না হওয়ায় শিক্ষিত, বিত্তশালী ও আধুনিক চিন্তা-চেতনার অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের এখানে ভর্তি করতে আগ্রহী হন না। অভিভাবকরা জানান, পুলিশ কেসে আটক কিশোরদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ত্রুটির কারণে বিদ্রোহ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। পালিয়ে যাওয়া, সহপাঠী ও কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, আত্মহত্যার চেষ্টা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা কিশোরদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে, যা নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। কিশোরদের আকৃষ্ট করা ও অভিভাবকদের আগ্রহী করে তুলতে বাস্তব কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। পুলিশ কেসে আটকদের আদালতে আনা-নেওয়ার ব্যাপারে কোনো নিরাপত্তামূলকব্যবস্থা নেই। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব যানবাহন না থাকায় দড়ি দিয়ে বেঁধে অথবা হাতকড়া লাগিয়ে সাধারণ পাবলিক বাসে তাদের আদালতে আনা-নেওয়া হয়। তবে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী দাবি করেন, প্রচলিত নিয়ম অনুসারে এখানে সব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারপ্রদত্ত বাজেট অনুসারে খাবার ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়। সন্তানের প্রতি ভালোবাসার কারণে অভিভাবকরা তাঁদের জন্য খাবার নিয়ে আসতেই পারেন। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
15fef0ef-a4b8-478d-b620-13597f16ee8f
নতুন বছরের প্রথম দিনে নতুন বই। তাই তাদের বাঁধভাঙা উল্লাস। ছবিটি গতকাল রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কালাআমের ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সারা দেশে খুদে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হয়েছে। সোমবার বছরের প্রথম দিনে এসব সরকারি বই বিতরণ করা হয়। বিস্তারিত কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে : গোপালগঞ্জ : জেলা শহরের এস এম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মিত্র, স্কুল কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মিটু, প্রধান শিক্ষিকা সুরাইয়া পারভিন, শিক্ষক ইদ্রিস আলী কাজী প্রমুখ বক্তব্য দেন। পরে অতিথিরা শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন। ফরিদপুর : ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামসুল আলম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল চন্দ্র মণ্ডল, প্রধান শিক্ষক আজিজা খানম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার সব বিদ্যালয় ও মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের হাতে ৯২ লাখ নতুন বই তুলে দেওয়া হয়েছে। সকালে টাঙ্গাইল শহরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিনাত জাহান ও জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা কাজী গোলম আহাদ। পঞ্চগড় : পঞ্চগড়-২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পঞ্চগড় বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মণ্ডল। এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অতীন কুমার কুণ্ডু, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শঙ্কর কুমার ঘোষ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুনর রশিদ উপস্থিত ছিলেন। এবার জেলায় প্রাথমিক, এবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি ট্রেড পর্যায়ে প্রায় তিন লাখ শিক্ষার্থীর হাতে ২১ লাখ ৮০ হাজার ১১৫ পিস নতুন বই বিতরণ করা হয়। কেশবপুর (যশোর) : কেশবপুরে স্থানীয় পাবলিক ময়দানে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানূর রহমান, পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কবীর হোসেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আকবর হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ রানা, নাসিমা সাদেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। নাটোর : নাটোর শহরের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজ্জাকুল ইসলাম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম আমিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। জেলার ৯ লাখ ৫০ হাজার ১০০ সেট সরকারি ও এনজিও পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এবং মাধ্যমিক, এবতেদায়ি ও ভকেশনালের শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৯ লাখ ৩০ হাজার ৪৪১ সেট বই বিতরণ করা হবে। যশোর : সোহান নতুন বই পেয়ে তা বুকে জড়িয়ে ধরল। তার মুখের হাসি শেষ হয় না। একবার বইয়ের গন্ধও শুকে দেখল। যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র সোহানের বাবা রূপকুমার বর্মণ বিদেশে চাকরি করেন। গতকাল সোমবার নতুন বই হাতে পেয়ে স্কুল মাঠে দাঁড়িয়ে সোহান হাসতে হাসতে বলল, ‘বালিশের নিচে নতুন বই নিয়ে ঘুমাব। বাড়ি গিয়ে আগে বইয়ের মলাট দেব। নতুন বই পেয়ে আমি খুবই খুশি।’ যশোর শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে চাঁচড়া বর্মণ পাড়ার ওই স্কুলে গিয়ে দেখা যায় বই উৎসবে মাতোয়ারা শিক্ষার্থীরা। মাইকে নাম ডেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। ঝালকাঠি : ঝালকাঠি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে উৎসবের উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। ঝালকাঠি জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের দুই লাখ শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হকের সভাপতিত্বে উৎসবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার মো. শাহ আলম, পুলিশ সুপার মো. জোবায়েদুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান সাইফুল্লাহ পনির, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রাণ গোপাল দে, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছাইয়াদুজ্জামান ও সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম হারুন অর রশীদ। রাজবাড়ী : রাজবাড়ী সরকারি টাউন মক্তব প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পৃথকভাবে বই উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানগুলোতে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য কামরুন নাহার চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল জব্বার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) সাদেকুর রহমান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিতরণী উৎসবের উদ্বোধন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির। এ সময় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অনীল কৃষ্ণ মজুমদার, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুর ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি উপস্থিত ছিলেন। পিরোজপুর : স্বরূপকাঠিতে বছরের প্রথম দিনেই ল্যাপটপ ও নতুন বই হাতে পেল শিক্ষার্থীরা। সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলার ৭৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ ও বই বিতরণ করেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল। এ সময় ইউএনও আবু সাঈদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামান, পৌর মেয়র গোলাম কবির, ভাইস চেয়ারম্যান লাভলু আহম্মেদ, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলদার নাহার প্রমুখ। চাঁদপুর : শহরের হাসান আলী স্কুল মাঠে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মণ্ডল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইউনুস ফারুকী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম, ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন। এদিকে জেলার ফরিদগঞ্জে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া। এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাহেদ সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান ওহিদুর রহমান রানা, থানার ওসি মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন। চাঁদপুরে এবার প্রাথমিক, এবতেদায়ি, মাদরাসা এবং মাধ্যমিকে প্রায় ৬০ লাখ বই বিতরণ করা হয়। নীলফামারী : নীলফামারীতে উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম। সকাল ১০টায় নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় চত্ব্বরে, সকাল ১১টায় নীলফামারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং দুপুরে নীলফামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে বই বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তিনি। এসব অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুজার রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা সুলতানা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওসমান গণি, নীলফামারী ছমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মেজবাহুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জেলায় এবার বই বিতরণ করা হয়েছে আট লাখ ২৬ হাজার ৯০৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে। বাগেরহাট : বাগেরহাট শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন। জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস বাগেরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন। বাগেরহাটে এবার সরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক, দাখিল ও ভোকেশনালের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩২ লাখ বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বই বিতরণ উৎসবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি) মো. শাহীন হোসেন, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মো. মোজাফফ হোসেন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান প্রমুখ। কুড়িগ্রাম : জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান কিশলয় আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন। এ সময় জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার আলাউদ্দিন আল আজাদ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন আল পারভেজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
520d1ce8-3e9f-4276-9128-bb87fd63ae48
যশোরের মণিরামপুরের ঝাঁপা বাঁওড়ের ওপর যুবকদের উদ্যোগে তৈরি ভাসমান সেতু। ছবি : কালের কণ্ঠ যশোরের মণিরামপুরে দেশের অন্যতম বড় ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী ভাসমান সেতুর উদ্বোধন হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। প্রতি নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা ওয়াদা করলেও উপজেলার দ্বীপাঞ্চলখ্যাত ঝাঁপা গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের জন্য মেলেনি একটি সেতু। তাই কর্তৃপক্ষের দিকে আর চেয়ে না থেকে দুর্ভোগ অবসানে গ্রামবাসী নিজেরাই ঝাঁপা বাঁওড়ের (জলাশয়, জলমহল) ওপর সেতুটি নির্মাণ করেছে। গ্রামটির কয়েকজন যুবকের চিন্তার ফসল সেতুটি নির্মিত হয়েছে প্লাস্টিকের ড্রাম আর লোহা দিয়ে। এটি গ্রামবাসীর অর্থায়নে নির্মিত দেশের একমাত্র ভাসমান সেতু। ঝাঁপা গ্রাম উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মেহেদী হাসান টুটুল জানান, ঝাঁপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক মন্টুর সভাপতিত্বে সেতুটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আশরাফ উদ্দীন (প্রধান অতিথি), মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ ওবায়দুর রহমান, থানার ওসি মো. মোকাররম হোসেন প্রমুখ। জানা যায়, মণিরামপুর উপজেলার অন্যতম বৃহৎ ঝাঁপা গ্রামের একদিকে কপোতাক্ষ নদ, আর তিন দিকে বিস্তীর্ণ ঝাঁপা বাঁওড়। উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয় ঝাঁপার বাসিন্দাদের। বাঁওড় পারাপারের একমাত্র উপায় নৌকা। যুগ যুগ ধরে ঝাঁপার মানুষের জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটে দুর্ভোগে। এ থেকে মুক্তি পেতে বর্তমান প্রজন্ম ঝাঁপা বাঁওড়ের ওপর ভাসমান সেতু তৈরির জন্য ‘ঝাঁপা গ্রাম উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’ গঠন করে। পরিকল্পনামতো শুরু হয় কাজ। সংগঠনটির সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রম ও গ্রামবাসীর টাকা দিয়ে এক হাজার ৩০০ ফুট দীর্ঘ ও ৯ ফুট প্রশস্তের সেতুটি নির্মাণ করা হয় সাড়ে তিন মাসে। সেতুটি দিয়ে সহজে ভ্যানগাড়ি, মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারবে। রাজগঞ্জ বাজারের কাছে খেয়াঘাট থেকে সেতুটি নির্মিত হয়েছে। সেতুর নির্মাণকাজ পরিদর্শনে থাকা ঝাঁপা গ্রামের বয়োবৃদ্ধ শওকত আলী জানান, ঝাঁপা গ্রাম বিশাল বাঁওড়বেষ্টিত। কপোতাক্ষ নদ-তীরবর্তী মল্লিকপুর গ্রাম থেকে বাঁওড়টির উৎপত্তি। প্রায় ছয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাঁওড়টি প্রায় তিন বর্গকিলোমিটারের ঝাঁপা গ্রামকে বেষ্টিত করে ওই গ্রামেরই আরেক প্রান্ত কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী লক্ষ্মীকান্তপুর গ্রামে গিয়ে শেষ হয়েছে। গ্রামবাসী যুগ যুগ ধরে নৌকায় পারাপার হয়ে আসছে। মেহেদী হাসান টুটুল জানান, গত বছরের ১৯ জানুয়ারি ঝাঁপা গ্রাম উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সভা হয়। তাতে সাড়া মেলে আশাতীত। পরে সংগঠনের ৫৬ জন সদস্যের অর্থায়নে শুরু হয় সেতুর নির্মাণকাজ। সংগঠনের বাইরে অনেক কৃষক, শ্রমিক এতে যুক্ত হয়। আজিজ নামের এক ব্যক্তি জমি বন্ধক রেখে টাকা দিয়েছেন। সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে ৮৮৯টি বড় আকারের প্লাষ্টিকের ড্রাম। ড্রাম সংযুক্ত রাখতে লোহার অ্যাঙ্গেল ও শিট ব্যবহার করা হয়েছে। ডামের ওপর দেওয়া হয়েছে এক হাজার ৩০০ ফুট দের্ঘ্যের লোহার পাত। ভাসমান সেতু নির্মাণের ধারণা আসে ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ আরেক উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামানের মাথায়। তিনি বলেন, প্লাস্টিক ব্যারেলে নির্মিত ভেলার ওপর ভারী মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের দৃশ্য দেখে তিনি এ ধারণা পান। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানালে তিনি সম্মতি দেন। পরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অনুমতি নিয়েই সেতুর নির্মাণকাজে হাত দেওয়া হয়। উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান বলেন, তাঁর জানা মতে দেশে এ ধরনের ভাসমান সেতু আর নেই। এটি মানুষ চলাচলের জন্য ভালো। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
57aeb6a7-36d4-45b0-9e58-dc2cf90d1641
নিজের উদ্ভাবিত কাঠের মোটরসাইকেলে হুমায়ুন কবির। ছবি : কালের কণ্ঠ মাটির ঘরের দেয়ালের বিভিন্ন স্থান খসে পড়েছে। চালের জং ধরা টিনের এখানে-সেখানে ছিদ্র। বৃষ্টিতে জোড়াতালি দিয়ে পানি আটকানো হয়। ঘরে আসবাবপত্র নেই বললেই চলে। সেখানে একটি পড়ার টেবিল পাওয়া কল্পনাবিলাস। সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। এর মধ্যেই ব্যাটারিচালিত কাঠের মোটরসাইকেল উদ্ভাবন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তরুণ হুমায়ুন কবির। চারটি ব্যাটারি একবারের চার্জে মোটরসাইকেলটি ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ৩০ কিলোমিটার পথ চলতে পারে। কাঠ, লোহা আর প্লাই বোর্ড দিয়ে তৈরি এর অবকাঠামো আর-১ (আরওয়ান) বা অ্যাপাসি মোটরসাইকেলের মতো দেখতে। হুমায়ুন কবির হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম সাহেবনগরের দরিদ্র নাসির উদ্দিন ও আফিয়া খাতুনের একমাত্র ছেলে। হুমায়ুনের জন্মের তিন মাস পর তাঁর মা-বাবার বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। নাসির আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র সংসার পাতেন। আফিয়া আর বিয়ে না করে হুমায়ুনকে লালন-পালন ও পড়াশোনা করাতে থাকেন। তিনি চকোলেট ও শিশুদের খাবার নিয়ে একটি বিদ্যালয়ের সামনে দোকানদারি করেন। পাশাপাশি ঠেলাগাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়েই কোনোভাবে সংসার চালান। হুমায়ুন ২০১৭ সালে হবিগঞ্জ কবির কলেজিয়েট একাডেমি থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করেন। তিনি চৌমুহনী ইউনিয়নের ডা. জরিফ হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় তাঁর কারিগরি প্রতিভার দিকে দৃষ্টি পড়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন অরুণের। তাঁর উৎসাহ ও সহযোগিতায় হুমায়ুন ছোটখাটো যান্ত্রিক খেলনা তৈরিতে সক্ষম হন। হবিগঞ্জ কলেজিয়েট একাডেমিতে অধ্যয়নকালে ২০১৫ সালে হুমায়ুন কাঠ দিয়ে ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল তৈরির কাজ শুরু করেন। দুই বছরের সাধনায় অবশেষে তিনি মোটরসাইকেলটি তৈরিতে সক্ষম হন। দীর্ঘ গবেষণায় তাঁর প্রায় ৪২ হাজার টাকা ব্যয় হয়। মোটরসাইকেলটি তৈরিতে টাকার জোগান এবং অসুস্থ মাকে চিকিৎসা করাতে লোকজনের বাড়িতে দিনভিত্তিক কাঠমিস্ত্রি ও রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন হুমায়ুন। মায়ের চিকিৎসা আর সংসার চালিয়ে উদ্বৃত্ত টাকা দিয়ে হুমায়ুন মোটরসাইকেলটি তৈরি করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কলেজের অধ্যক্ষ, তাঁর মামা ও আত্মীয়স্বজনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তাঁর স্বপ্ন সফল হয়। ডা. জরিফ হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন অরুণ বলেন, ‘হুমায়ুন কাঠের মোটরসাইকেলটি আবিষ্কার করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। মোটরসাইকেলটির ডিজাইন হুমায়ুন নিজেই করেছেন।’ হবিগঞ্জ কবির কলেজিয়েট একাডেমির অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন শাওন বলেন, ‘প্রতিভা থাকলে কাউকে দরিদ্রতা দমিয়ে রাখতে পারে না। এর প্রমাণ হুমায়ুন। তার প্রতিভা কাজে লাগাতে প্রতিষ্ঠান থেকে সহযোগিতা এবং উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সে আরো দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারবে।’ তিনি জানান, হুমায়ুন দরিদ্র হওয়ায় তার লেখাপড়া ও খাওয়ার খরচের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেছেন। তার ভবিষ্যৎ লেখাপড়ার জন্য আরো সহযোগিতা দরকার। আফিয়া খাতুন বলেন, ‘অতিকষ্টে ছেলে হুমায়ুনকে লেখাপড়া করাচ্ছি। সে সব সময় টুকটাক এটা সেটা বানানোর জন্য কাজ করত। প্রথমে বুঝতে পারিনি কী কাজ সে করছে। এখন দেখি সে মোটরসাইকেল বানাইছে! প্রথমে বিশ্বাস হয়নি এটি চলবে। আমার হুমায়ুন যখন মোটরসাইকেলটি চালিয়ে দেখায় তখন অনেক আনন্দ হয়েছে।’ হুমায়ুন কবির সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বা দেশি ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর ব্যাটারিচালিত কাঠের মোটরসাইকেল উৎপাদন করে দেশের মানুষের কল্যাণে স্বল্পমূল্যে বাজারজাত করতে আগ্রহী। তিনি জানান, সহযোগিতা পেলে তিনি মোটরসাইকেলের নতুন নতুন ডিজাইন তৈরি করে চমক লাগাতে পারবেন। তাঁর এই কাজে সহযোগিতার জন্য শিক্ষক ও অন্যদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। হুমায়ুন জানান, আর্থিক সচ্ছলতা না থাকায় ইচ্ছা থাকলেও উচ্চশিক্ষার জন্য কোথাও ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেননি তিনি। এলাকার কলেজে ডিগ্রিতে ভর্তি হয়ে টুকটাক কাজ করে তিনি মাকে দেখাশোনা করবেন। হবিগঞ্জ শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকার মোটর যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া জানান, তাঁর কাছ থেকে হুমায়ুন বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কিনে নিয়েছেন। তবে কাঠ দিয়ে ও তেল ছাড়া মোটরসাইকেল কেউ তৈরি করতে পারবে তাঁর বিশ্বাস হয়নি। হুমায়ুন মোটরসাইকেল বানিয়ে প্রমাণ করেছেন, প্রচেষ্টা থাকলে অসম্ভব কিছু নেই। হবিগঞ্জ পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন জানান, প্রত্যন্ত এলাকায় থেকে এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না পড়েই একটি ছেলে এ ধরনের উদ্ভাবন করেছে জেনে তিনি আনন্দিত। তাঁর প্রতিষ্ঠানে হুমায়ুন এলে তিনি সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। মাধবপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোকলেছুর রহমান জানান, কেউ এ ধরনের উদ্ভাবনী কাজ করলে তাকে অবশ্যই সহযোগিতা করা হবে। সরকার এ ধরনের উদ্ভাবনকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
9b241a70-24d0-4b24-b5d4-ae96280bf376
নারায়ণগঞ্জে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা দায়েরকারী আলীরটেক ইউনিয়নের কুড়েরপাড় এলাকার সায়েম আহমেদকে এক যুগ আগেও লোকজন চিনত নুরু মিয়া নামে। বিদ্যালয়েও এই নাম ছিল তাঁর। তবে শহরের বাবুরাইল এলাকার প্রভাবশালী পরিবারে বিয়ের পর নাম পাল্টে বনে যান সায়েম আহমেদ। এরপর আলীরটেক, গোগনগর, কাশীপুর ইউনিয়নে জমির দালালি করে এক যুগে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। ভুয়া দলিল ওয়ারিশনামা বানিয়ে নিরীহ মানুষের জমি দখল করে চড়া দামে অন্যের কাছে বিক্রি করাই তাঁর প্রধান ব্যবসা। তাঁর লোকজনের হাতে জমি হারিয়েছেন কুড়েরপাড়েরই অন্তত ৫০ জন ব্যক্তি। ১১ বছর আগে সায়েমের লোকজনের হাতে গুম হন যুবক রুবেল। রুবেলদের বাড়িও জ্বালিয়ে দিয়েছিল তারা। কুড়েরপাড়ে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য। সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে কুড়েরপাড়ে ধলেশ্বরী নদীর তীরে ভুয়া দলিল ওয়ারিশনামা বানিয়ে নিরীহ অর্ধশত মানুষের কয়েক শ শতাংশ জমি দখলে নেন সায়েম। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টা, গুমসহ নানা অভিযোগে অনেক মামলা থাকলেও প্রভাবশালী ওই পরিবারের কারণে রক্ষা পেয়েছেন সায়েম। কুড়েরপাড়ের রাহিমা জানান, তাঁদের তিন একর (৩০০ শতাংশ) জমি দখলে নিয়েছেন সায়েম ও তাঁর লোকজন। ১১ বছর আগে তাঁদের জমি দখলে বাধা দেওয়ায় তাঁর ছেলে রুবেলকে গুম করে সায়েমের লোকজন। পাঁচ বছর আগে সায়েমরা রাহিমাদের জমিতে ড্রেজার লাগিয়ে বালু ভরাট শুরু করলে তাঁরা বাধা দেন। এর জেরে রাহিমাদের বসতবাড়ি জ্বালিয়ে দেয় সায়েমরা। রাহিমা ও তাঁর ছেলে হাবিবকে বেধড়ক পেটায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথেও হাবিবকে পেটানো হয়। পরে সায়েম জমিটি একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বেচেন। এ নিয়ে রাহিমারা একাধিক মামলা করেও বিচার পাননি। হাবিব জানান, তাঁর খালা তফুন্নেছাকে হত্যার চেষ্টা চালায় সায়েমের লোকজন। সায়েমরা কুড়েরপাড়ের প্রয়াত রফিজউদ্দিনের (৩০০ শতাংশ) এবং মোহাম্মদ আলী ও তাঁর ছেলে শহর আলীর জমিও দখলে নিয়েছে। কুড়েরপাড়ের আলী আকবর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করা সিনহা পিপলস এনার্জি লিমিটেড নামের বিদ্যুেকন্দ্রের পাশেই আমাদের পৈতৃক ১০-১২ পাখি (বিঘা) জমি আছে। কয়েক বছর আগে সায়েমরা জমিটি একটি ইটভাটার মালিকের কাছে বেচে দেয়। বাধা দিলে আমার ছোট ভাই আক্কাসকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তখন আমি তাবলিগ জামাতের চিল্লায় ছিলাম।’ নান্নু মিয়া জানান, তাঁর প্রয়াত নানার ৮৭ শতাংশ জায়গা অন্যত্র বিক্রি করে দেন সায়েম। এদিকে সায়েম ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত আলীরটেক ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়া, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ও সমাজসেবক পরিচয় দিয়ে পোস্টার সাঁটিয়েছিলেন। পরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। সায়েম নিজেকে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ ইয়ান মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (সুতা ব্যবসায়ীদের সংগঠন) ও বাংলাদেশ হোসিয়ারী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে দুই সাংবাদিকের নামে আদালতে মামলা করলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে ওই সব সংগঠনের সদস্য হন তিনি। পরে তাঁর সদস্য পদ বাতিল করা হয়েছে। একটি থান কাপড়ের দোকান ভাড়া নিয়ে নিটিং কারখানার মালিক পরিচয় দিয়ে তিনি সংগঠনগুলোর সদস্য পদ নিয়েছিলেন। নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল বলেন, ‘চেম্বারের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর সদস্য নবায়ন করতে হয়। সায়েমের নবায়ন সনদ নেই।’ সায়েমের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় চাঁদাবাজি, মারামারি, হত্যাচেষ্টা, হত্যার উদ্দেশ্যে গুম ইত্যাদি অভিযোগে বেশি কিছু মামলা আছে এবং একটি মামলায় তিনি জেলও খেটেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ৩ মে গণভবন থেকে উদ্বোধন করেন কুড়েরপাড়ে ৫২ দশমিক ৫ মেগাওয়াটের সিনহা পিপলস এনার্জি লিমিটেডের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের। ১০ মে সিনহা পিপলস এনার্জির সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) শাহাবুদ্দিন আহমেদ নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় জিডিতে বলেন, বিদ্যুেকন্দ্রের নিজস্ব জেটির সামনে সায়েম, কাশেম, শাহ আলম, মো. আলী ৭ মে খালি বার্জ ও লাইটারেজ জাহাজ নোঙর করে রাখেন যাতে বিদ্যুেকন্দ্রের জাহাজ জেটিতে ভিড়তে না পারে। সন্ত্রাসীরা বিদ্যুেকন্দ্রে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও কেন্দ্রে কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সিনহা পিপলস এনার্জির নির্বাহী পরিচালক মামুন হায়দার তখন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সায়েম প্রথমে নিজের জমি দাবি করে সেসব কম্পানির কাছে বেচতে চান। পরে কম্পানি খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের জমি কম দামে বায়না করে কয়েকগুণ টাকা নিয়ে কম্পানির নামে রেজিস্ট্রি করছেন। এরপর মানুষজন সরাসরি কম্পানির কাছে জমি বিক্রি করে। অভিযুক্ত সায়েম আহমেদ বলেন, ‘আমি ওই এলাকায় থাকি না এবং কোনো ধরনের জমি দখলে লিপ্ত নই। অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।’ সায়েমকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে গত ৩১ ডিসেম্বর নারায়ণঞ্জের ‘নিউজ নারায়ণগঞ্জ২৪ ডটনেট’-এর স্বত্বাধিকারী ও এডিটর ইন চিফ শাহজাহান শামীম এবং নির্বাহী সম্পাদক তানভীর হোসেনের বিরুদ্ধে তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে মামলা করেন সায়েম। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
e584880a-d5f2-4c7b-80ea-130a40728d9c
গাজীপুরে ট্রেন ও কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা-রাজশাহী রুটের গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) সালনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি সরিয়ে নিলে প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় রেলওয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁর নাম মো. সেলিম উদ্দিন (২৭)। বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার সনচর গ্রামে। তিনি সালনার টিএম ফ্যাশন কারখানায় লোডার পদে চাকরি করতেন। নিহত অন্যজনের বয়স ৩০ বছরের মতো। আহতরা হলেন সালনার মো. ফারুকের ছেলে আরমান (২৫) ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৭)। অন্য আহতের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। গাসিকের স্থানীয় কাউন্সিলর তানভীর আহমেদ ও স্থানীয়রা জানায়, টিএম ফ্যাশন কারখানার ঢাকাগামী একটি মালবাহী কাভার্ড ভ্যান জোলারপাড়-সালনা সড়ক দিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দিকে যাচ্ছিল। ভ্যানটি রাত সাড়ে ৯টার দিকে সালনা মোল্লাপাড়া এলাকায় একটি অরক্ষিত লেভেলক্রসিং পার হওয়ার সময় খুলনাগামী চিত্রা ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে রেললাইনের পাশে পড়ে এবং ট্রেনটি প্রায় আধাকিলোমিটার দূরে টেকিবাড়ি এলাকায় গিয়ে থেমে যায়। জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (এসআই) এস এম রকিবুল হক জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী ট্রেনের সঙ্গে কভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে এক যুবক (৩০) নিহত এবং চারজন আহত হন। স্থানীয়রা সেলিম উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, আরমানসহ চারজনকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে দুজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনাস্থলে মারা যাওয়া যুবক ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে বসে যাচ্ছিলেন বলে রকিবুলের ধারণা। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় ট্রেনটির ইঞ্জিন বিকল ও কাভার্ড ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ওই পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের স্টেশনগুলোতে কয়েকটি ট্রেন যাত্রাবিরতি করে। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মো. নাসিব ইরশাদুল্লাহ জানান, ওই ঘটনায় রাতে চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে একজন ছিলেন মৃত। গুরুতর আহত দুজনকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যজনকে এ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. শাহজাহান মিয়া সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার পর ওই পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অন্য একটি ইঞ্জিন দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি জয়দেবপুর জংশনে সরিয়ে নেওয়া হলে রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ে জয়দেবপুর কার্যালয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশিদ জানান, ঘটনা তদন্তে পাকশীর এটিও মো. নাসির উদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
d9a9f180-54e0-454a-a8be-2a8fe85665b4
আশুলিয়ায় প্রায় দুই হাজার পরিবারের বাসা-বাড়িতে অবৈধভাবে নেওয়া গ্যাস সংযোগ বিছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এ সময় অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়ার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১১ জন বাড়িওয়ালাকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। গতকাল বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নরসিংহপুর এলাকায় সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ রাসেল হাসান। সাভার তিতাস গ্যাস অফিসের প্রায় ৫০ সদস্যের একটি দল অংশ নেয় অভিযানে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। এলাকাবাসী জানায়, কয়েক মাস আগে নরসিংহপুর ও এর আশপাশের এলাকার কোনো কোনো বাসা-বাড়ির মালিকরা স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রকে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে অবৈধভাবে বাড়িতে গ্যাস সংযোগ নেন। এ কারণে বৈধ সংযোগ নেওয়া গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় চাপের (প্রেসারের) গ্যাস পাচ্ছেন না। খবর পেয়ে গতকাল গ্যাস কর্তৃপক্ষ ওই এলাকার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। তারা ওই এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে তিনটি মূল পয়েন্টে মাটির নিচে থাকা গ্যাসের পাইপ তুলে নিয়ে সিলগালা করে দেয়। এ সময় কয়েক শ নিম্নমানের পাইপ উদ্ধার করা হয়। মূল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ব্যবহার করা রাইজারগুলোও খুলে নেওয়া হয়। এ সময় অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীরা নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল। গ্যাস পাইপগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় যেকোনো সময় পাইপ ফেটে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল বলে জানায় তিতাস কর্তৃপক্ষ। সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান জানান, সাভার-আশুলিয়ার সব অবৈধ গ্যাস সংযোগ পর্যায়ক্রমে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। এ অভিযান নিয়মিত চলবে। এ ছাড়া রাতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে চুলা ব্যবহারকারী বাড়ির মালিকদের আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে। অভিযানে সাভার তিতাস গ্যাস অফিসের ডেপুটি ম্যানেজার প্রকৌশলী হাদি আব্দুর রহিম, মাহমুদ হাসান, ব্যবস্থাপক আনিসুজ্জামান, ঠিকাদার মনির হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
7e4e5c5b-c4c0-420d-92f3-2d6ab0d6cfc7
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ৫-৬ নম্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে খাজনা নিতে ঘুষ চাওয়ায় ওই অফিসের এমএলএসএস আক্তার মিয়াকে মারধর করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইফতিয়ার আহমেদ রাজীব। এমন অভিযোগে করা মামলায় রাজীব ও উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এতে বিক্ষুব্ধ যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। পরে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রাত ৯টার মধ্যে ঘটে এসব ঘটনা। স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজীব যুবলীগ নেতা বাবুল মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় ৫-৬ নম্বর ভূমি অফিসে খাজনা পরিশোধ করতে যান। তখন ওই অফিসের এমএলএসএস আলী আখতার তাঁদের কাছে ঘুষ চান। এ নিয়ে বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে আলীকে শার্টের কলার ধরে কিল-ঘুষি মারেন রাজীব। বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার সিংহের সুপারিশসহ বাবুল ও রাজীবকে আসামি করে একটি এজাহার বানিয়াচং থানায় জমা দেন আলী। খবর পেয়ে বাবুল ও রাজীব সন্ধ্যারাতে থানায় গেলে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। ঘটনা জানাজানি হলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী থানা ঘেরাও করে ইটপাটকেল ছোড়ে এবং থানার প্রধান ফটকে ধাক্কাধাক্কি করে। অবস্থা বেগতিক দেখে থানায় পাগলা ঘণ্টা বেজে উঠলে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে ঘেরাওকারীরা চলে যায়। রাত ৮টায় স্থানীয় বড়বাজারে গ্রেপ্তার নেতাদের মুক্তির দাবিতে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। মিছিল শেষে বড়বাজার পঞ্চরাস্তার মোড়ে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রেখাছ মিয়ার সভাপতিত্বে ও উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল হালিম সোহেলের সঞ্চালনায় পথসভা হয়। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজাহান মিয়া, যুবলীগ নেতা মনিরুল ইসলাম ও উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক এমদাদুল হক শাহীন। বক্তারা অবিলম্বে গ্রেপ্তার নেতাদের মুক্তি দাবি করেন। তাঁরা বলেন, ৫-৬ নম্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহশিলদার ও কর্মচারীরা অফিসটিকে ঘুষের আখড়ায় পরিণত করেছেন। এর প্রতিবাদ করায় তাঁদের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। বানিয়াচং থানার ওসি মোজাম্মেল হক দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। হামলাকারীরা থানার লাইট পোস্টসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করতে হয়েছে। যুবলীগ নেতা বাবুল মিয়ার দাবি, জমির খাজনা দিতে গেলে অফিস সহায়ক আলী আখতার ঘুষ দাবি করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রাজীবের শার্টের কলার ধরেন আলী। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সাদ আহমেদের দাবি, খাজনা দেওয়ার সময় আলী আখতার রাজীবের কাছে টাকা চাইলে আলীকে বেধড়ক মারধর করেন রাজীব। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
b17511bc-dbcc-479a-96af-b83fd377af42
চলনবিলে বর্ষাকালে পানি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গত বর্ষায় চলনবিলে অস্বাভাবিক বন্যা দেখা দেয়। আর এই পানি নেমেছে অন্য বছরের চেয়ে দেরিতে। এর মাসুল গুনতে হচ্ছে এ অঞ্চলের গম চাষিদের। কারণ অসময়ে পানি নামায় এবার গমের চাষ হয়েছে কম। গত নভেম্বর মাস থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত গম চাষের ভরা মৌসুম ছিল। মৌসুম শেষ হয়ে গেলেও এখনো কিছু চাষি গমের চাষ করছে। অনেক চাষি পানি থাকায় জমি তৈরি করতে পারেনি। দু-একজন কাদাপানির মধ্যে জমিতে গম বীজ বুনলেও তা তেমন কাজে আসেনি। অন্য চাষিরা জমি শুকানোর আশায় ছিল। তবে সেই আশায় অনেকটা পানি ঢেলে দিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত। চলনবিল এলাকার কৃষি অফিসগুলোর তথ্য মতে, এ বছর চলনবিল এলাকায় গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৯১৫ হেক্টর। এ পর্যন্ত চাষ হয়েছে ছয় হাজার ৮৬০ হেক্টর। এর মধ্যে সিংড়া উপজেলায় ৬০০ হেক্টর, তাড়াশে ২২০ হেক্টর, উল্লাপাড়ায় ২৫০ হেক্টর, আত্রাইয়ে ৩১০ হেক্টর, গুরুদাসপুরে ১৮০ হেক্টর, নলডাঙ্গায় এক হাজার ১৫০ হেক্টর, ফরিদপুর উপজেলায় এক হাজার ৩৫০ হেক্টর, ভাঙ্গুড়ায় ৪৮০ হেক্টর ও শাহজাদপুরে ৯৫০ হেক্টর জমিতে গমের চাষ হয়েছে। সরেজমিন ঘুরে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সিংড়ার হিয়ালাচর, তাড়াশের মাদিয়াবিনদ সকুনা, আত্রাই মহাদীঘি, সাহেবগঞ্জ, গুরুদাসপুরের খুবজিপুর ও শ্রীপুর, পাবনার ফরিদপুরের চিঠুলিয়া, পারভাঙ্গুড়া মণ্ডতোষসহ চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় গমের চাষ হয়েছে। এদিকে গম চাষের মৌসুম শেষ হওয়ায় চলনবিলে বিকল্প চাষাবাদ নিয়ে ভাবছে কৃষকরা। তবে এ নিয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিকল্প হিসেবে ধান, ভুট্টা, বাদাম, মিষ্টি আলু, মসুর, কালাইসহ বিভিন্ন শাক-সবজি চাষাবাদের কথা ভাবছে অনেক কৃষক। সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, চলনবিল মূলত নিচু অঞ্চল। বর্ষার পানি নামতে সময় লাগায় এ বছর গমের চাষ কিছুটা কম হয়েছে। তাড়াশ কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, যেহেতু গমের মৌসুম আর নেই, তাই বিকল্প চাষাবাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
abdb72db-a226-41ed-9b45-7219e69a340e
চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে গত এক দশকে কেটে উজাড় করা হয়েছে শত শত তালগাছ। বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা হ্রাসে সরকার সম্প্রতি দেশজুড়ে ১০ লাখ তালগাছ রোপণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঠিক এ সময় বরেন্দ্র অঞ্চলের বেশির ভাগ তালগাছ কেটে করা হচ্ছে আম বাগান, পেয়ারা বাগানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ। এর ফলে বরেন্দ্র অঞ্চলে বাড়ছে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঝুঁকি। চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ এর পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার ২৫টি উপজেলা নিয়ে গঠিত বিশাল বরেন্দ্র অঞ্চল। এক সময় এ অঞ্চলে আবাদি জমির মধ্যে ‘এক পায়ে’ দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি তালগাছ আর ধু-ধু মাঠ ছিল। প্রায় মরু এলাকা হিসেবে পরিচিত বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রতীক এই তালগাছ এখন আর তেমনটা চোখে পড়ে না। গত এক দশকে এগুলো কেটে প্রায় উজাড় করা হয়েছে। বরেন্দ্র এলাকার অধিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় মাটির ঘরবাড়ি তৈরির কাজে তালগাছের কাঠ ব্যাপক হারে ব্যবহার করা হতো। তখন অধিক লাভজনক হওয়ায় তালগাছ কেটে ফেলেন জমির মালিকরা। এভাবেই বরেন্দ্র অঞ্চলে দিন দিন কমেছে তালগাছের সংখ্যা। অথচ এই তালগাছ ব্যবহার করেই বজ্রপাতের মতো দুর্যোগ থেকে প্রাণহানি কমাতে পেরেছে থাইল্যান্ড। যা অনুসরণ করে বাংলাদেশে ১০ লাখ তালগাছ রোপণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলাম তসি জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলে একসময় মাটির বাড়ি তৈরির জন্য তালগাছের কাঠ ব্যবহার করা হতো। এ জন্য প্রচুর গাছ কাটা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি জমিতে লাগানো এসব গাছ বিভিন্ন সময়ে কেটে নিয়েছে প্রভাবশালীরা। ফলে মাত্র ১৫-২০ বছরেই বরেন্দ্র অঞ্চল প্রায় তালগাছশূন্য হয়ে পড়েছে। নাচোল পরিবেশ রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি সাংবাদিক আব্দুস সাত্তার জানান, ১০-১৫ বছর আগেও বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন সড়ক, সরকারি খাসজমি ও পুকুরের পাশে ভরপুর তালগাছ ছিল। কিন্তু সড়কগুলো সংস্কারের সময় এসব গাছ কেটে ফেলা হয়। অনেক সড়কে তালগাছ কেটে রোপণ করা হয়েছে অন্য প্রজাতির গাছ। এ ছাড়া সরকারি খাসজমি ও পুকুরের ধারে লাগানো শত শত তালগাছ সময়ের ব্যবধানে কেটে উজাড় করে দিয়েছে ভূমিদস্যুরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ‘সেভ দ্য ন্যাচার’-এর সমন্বয়ক রবিউল হাসান ডলার জানান, এক সময় বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে তালগাছ বেড়ে উঠত। তালগাছের কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা অনেক কম হতো। কিন্তু বিভিন্ন সময় প্রচুর গাছ কেটে ফেলায় পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়েছে। তাই এসব এলাকায় বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিএমডিএ-এর নাচোল জোনের সহকারী প্রকৌশলী শাহ মো. মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, গত কয়েক বছরে শুধু নাচোল উপজেলাতেই প্রায় ১০ হাজার তালগাছ রোপণ করা হয়েছে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
c2c20bb1-5142-4109-a10d-e75c84d10a49
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে উপজেলার সরারচর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি অপহরণ করে ধর্ষণের পর হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় যুবলীগ নেতা মো. মঞ্জু মিয়াকে একমাত্র আসামি করে গত বুধবার করা ওই মামলায় উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকেয়া বেগম উল্লেখ করেন, গত ৩০ ডিসেম্বর একটি প্রগ্রামে যাওয়ার পথে যুবলীগ নেতা মঞ্জু পূর্বশত্রুতার জের ধরে তাঁকে গালাগাল করেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে বাজারের লোকজনের সামনেই মঞ্জু অশ্লীল ভঙ্গি করে তাঁকে অপহরণের পর ধর্ষণের হুমকি দেন। একই সঙ্গে হত্যার পর লাশ গুম করারও হুমকি দেন তিনি। এদিকে আদালত সূত্র জানায়, অভিযোগ আমলে নিয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুন নূর ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকেয়া বেগম জানান, একজন নারী জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁকে এভাবে হুমকি দিয়ে যুবলীগ নেতা নারীসমাজের প্রতি চরম অবমাননা ও অবজ্ঞা প্রকাশ করেছেন। তাতে সামাজিকভাবে তিনি হেয়প্রতিপন্ন হয়েছেন। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল তাঁর বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগায় তিনি বেশ আতঙ্কে আছেন। চিহ্নিত মহলটি মামলার তদন্তে বাধা সৃষ্টির পাশাপাশি সত্য আড়াল করার চক্রান্ত করতে পারে বলেও ভাইস চেয়ারম্যান শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি উপযুক্ত বিচার দাবি করেন। তবে যুবলীগ নেতা মো. মঞ্জু মিয়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে অপহরণ করে ধর্ষণের পর হত্যা ও লাশ গুমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর তাঁর বাড়িতে স্থানীয় এমপি দাওয়াত খান। এ নিয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কটূক্তি করলে তিনি তাঁকে এ বিষয়ে কেবল জিজ্ঞাসা করেছেন। বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহানা নাসরিন জানান, ঘটনাটি তিনি জেনেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি আদালতের নির্দেশনার কাগজ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
7da185d3-60da-419c-aa62-b62d01ef457d
বগুড়ার প্রথম বাইপাস মেরামতে গত বছর খরচ হয়েছে ৩৪ কোটি টাকা। অথচ সেই সড়কে কোথাও কোথাও গর্ত হয়েছে। চলছে আরো মেরামত। (ডানে) দ্বিতীয় বাইপাস মহাসড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই মহাসড়কে গর্ত গুনে শেষ করা যায়নি। সম্প্রতি এটি সংস্কারে ২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে, তবে দুর্নীতির কারণে কাজের মান নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (এসই, বগুড়া সার্কেল) সাদেকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, উন্নয়ন ও মেরামতকাজ দিয়ে অর্ধেক টাকা নেন। এ নিয়ে সম্প্রতি একটি অভিযোগ গেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে। দুদকে জমা পড়া অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান চালায় কালের কণ্ঠ। গত এক মাসের সরেজমিন অনুসন্ধানে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে। বগুড়া প্রথম বাইপাস মহাসড়কে ওভারলে (৫০ মিলিমিটার প্রলেপ) করা হয় সাত কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার ৮৫৬ টাকায়। কাজ দেওয়া হয় রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স প্যারাডাইস ট্রেডার্সকে। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক হারুন এসইর বন্ধু। ২০১৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম বাইপাস মহাসড়কে ডিবিএস (ড্রেন্স বিটুমিনাস কার্পেটিং) ওয়েরিং কোর্স (পিরিওডিক মেইনটেন্যান্স প্রগ্রাম রোড) কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেয় সাত ঠিকাদার। ১০ শতাংশ কমে এই কাজে অন্য সবাই একই দর দিলেও তিনি তাঁর পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেন। এ প্রক্রিয়ায় বগুড়া সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত গাইবান্ধা-রংপুর-দিনাজপুর সড়কে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মেরামতকাজ দেওয়া হয় প্যারাডাইস ট্রেডার্সকে। এই কাজ চলছে। সরেজমিনে মেরামতকাজের কোনো নমুনা দেখা যায়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প সহায়তাকারী আতোয়ার বলেন, ‘কাজ করা হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে সেগুলো উঠে গেছে।’ সাড়ে সাত কোটি টাকার কাজে বগুড়া প্রথম বাইপাস মহাসড়কে ওভারলে করার কথা থাকলেও ডিবিএস ওয়েরিং কোর্স ৪০-৪২ মিলিমিটার করা হয়েছে। নিম্নমানের কাজ ছয় মাস না যেতে শতকরা ৪০ ভাগ নষ্ট হয়ে গেছে। সরেজমিন দেখা গেছে, অনেক স্থানে রাস্তা দেবে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অন্য পাশ উঁচু হয়ে গেছে। কার্পেটিং উঠে সড়কের নিচের অংশ বের হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এর মধ্যে নিম্নমানের কাজের উল্লেখযোগ্য অংশ হলো বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজের সামনে, জাহাঙ্গিরাবাদ ক্যান্টনমেন্টের সামনে, চারমাথা, তিনমাথা ও মাটিডালি মোড়। নিয়ম অনুসারে কাজ না করা, রাতে কার্পেটিং, বৃষ্টির মধ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় প্রতিবাদ করেন বগুড়ার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) নজরুল ইসলাম। এ কারণে তাঁকে বগুড়া থেকে নাটোরে বদলি করেন এসই। অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় সেকশন কর্মকর্তা (এসও) এনামুল হককে ঠাকুরগাঁওয়ে বদলি করা হয়। এনামুল বলেন, ‘দুর্নীতিপরায়ণ এসই থাকলে এখানে অর্থ খরচ হবে ঠিকই, তা যাবে তাদের পেটে।’ অভিযোগে জানা গেছে, সাড়ে সাত কোটি টাকার বগুড়া প্রথম বাইপাস মহাসড়ক সংস্কারে যে কাজগুলো ধরা ছিল, তা সম্পূর্ণ না করে টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়া হয়। অ্যাগ্রিগেট বেস টাইপ ১ (আশি ভাগ পাথর, বিশ ভাগ বালু), রিপেয়ার পোর্ট হোলস (গর্ত মেরামত করে প্রলেপ), এক্সিজটিং পেভমেন্ট সোল্ডার্স (ফুটপাত পাকাকরণ), কনস্ট্রাকশন অব সয়েল আরদেন সোল্ডার (বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন নিয়মিতকরণ), ব্রিক অন এজিং (পাড় ইট দিয়ে খাড়াকরণ), প্রাইমার সিল (ফাটল দূরকরণ), সিল্ক পোস্ট, ট্রাফিক সাইনসহ ১৪ ধরনের কাজ ছিল। অন্যদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বগুড়া, জয়পুরহাট ও গাইবান্ধার পিরিওডিক মেইনটেন্যান্সের কাজগুলো ১৫ লাখ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত এসও এবং এসডিই পাসের জন্য পাঠান এসইর কাছে। এসই এর মধ্যে সসার ড্রেন (চিকন ড্রেন) এবং অতিরিক্ত টেস্ট ঢুকিয়ে দিয়ে কাজের হিসাব গোপন রাখেন। নিয়ম অনুসারে যে ঠিকাদার ১০ শতাংশ মিলিয়ে দরপত্র জমা দেবে কাজ তাকে দেওয়া হবে। এই সুযোগে এসই তাঁর পছন্দের লোককে গোপন হিসাবটি ছোট্ট স্লিপে লিখে দেন। যার কারণে ওই ঠিকাদার ১০ শতাংশ মিলিয়ে দরপত্র জমা দেন। ৫০ শতাংশ ঘুষের শর্তে কাজ দেওয়া হয়। বগুড়ার ধুনটের নাংলু, বালিয়াদীঘি, পাঁচমাইল ও গাবতলী চৌকিরঘাট সড়ক যথাক্রমে ১৩ কিলোমিটার, ১৪ কিলোমিটার, ১৫ কিলোমিটার ও ১৬ কিলোমিটার কার্পেটিং করা হয়েছে। এর বিল উত্তোলন করেছে মেসার্স এমদাদুল হক। এই প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ করেন ঠিকাদারের ভাতিজা রানা। কাজ ছিল ১৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকার। সওজের এই ঠিকাদার বগুড়া জেলা জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। কাজটি করা হয় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে। গত জুনে চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়। ধুনটের নাংলুর বাসিন্দা আবুল কাশেম ফকির জানান, বিগত দুই বছরে এই সড়কে কোনো মেরামত বা নতুন কাজ হয়নি। সড়কের ভাঙা অবস্থাও এই কথা প্রমাণ করে। গাবতলীর চৌকিরঘাটের গৃহবধূ মর্জিনা বেগম ও বেসরকারি সংস্থার কর্মী সাদেক আলী বলেন, ‘সড়কে কোনো কাজ দেখিনি।’ এখানে কোনো কাজের বরাদ্দ হয়েছে, সেই তথ্যও তাঁদের জানা নেই। শিবগঞ্জের রহবলে ভাঙা রাস্তা মেরামত করার জন্য ২৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কাজ শেষ পর্যায়ে। কিন্তু রাস্তা টিকছে না। সওজ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, গত বছরের জুনে বিল দেওয়া কাজের মধ্যে ছিল সড়কগুলোতে ১২ মিলিমিটার কার্পেটিং সিলকোট ও ভাঙা অংশ মেরামত। শুধু কাগজে-কলমে প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। বাস্তবে কোনো কাজ না করে ঠিকাদার এবং এসই মিলে পুরো টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। জানতে চাইলে ঠিকাদার এমদাদুল হক জানান, তিনি এই কাজ করেননি। তাঁর প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক অথবা অন্য কেউ কাজটি করে থাকতে পারে। এসব ছোটখাটো কাজ তিনি করেন না। অনুসন্ধানের তথ্য অনুসারে, এসইর অধীনে বগুড়া সড়ক বিভাগ, গাইবান্ধা ও জয়পুরহাটে কমপক্ষে আরো ১০টি কাজ রয়েছে, টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। বগুড়া দ্বিতীয় বাইপাসে ১১ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ৪৬৭ টাকার কাজ। ডিবিএস ওয়েরিং কোর্স এবং ডিবিএসটি। ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কাজ দেওয়া হয় মেসার্স প্যারাডাইস ট্রেডার্সকে। এই কাজে বগুড়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাসুমা বেগম ৫১ লাখ টাকা কমে দরপত্র জমা দেওয়ার পরও তাঁকে কাজ দেওয়া হয়নি। বগুড়া মাটিডালি বনানী রাস্তা ডিবিএস ওয়েরিং কোর্স, বগুড়া-নওগাঁ-মহাদেবপুর-পত্নীতলা-ধামুরহাট-জয়পুর এবং বগুড়া-সারিয়াকান্দি সড়ক মিলে একটি প্যাকেজ করে গত ৬ নভেম্বর একটি দরপত্র ডাকা হয়। ১৮ কোটি ৯২ লাখ ৯৬ হাজার ১৩৬ টাকার এই কাজ দেওয়া হয়েছে খুলনার মোজাহার এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেডকে। এই কাজে বগুড়া অংশে ১৪ কোটি টাকার কাজ হলেও বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলীকে পিএম (প্রকল্প ব্যবস্থাপক) না করে জয়পুরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলীকে পিএম করা হয়। সড়ক বিভাগে প্রচলিত, জয়পুরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী এসইর কাছের মানুষ। দুদকের কাছে করা অভিযোগে বগুড়া শহরের কানুছগাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ সজিব জানান, গত জুনে এসইর বন্ধু বগুড়ার তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্তমানে দিনাজপুরের এসই) আব্দুল হালিম যোগসাজশ করে সয়েল টেস্ট, সাইন সিগন্যাল, স্টেশনারি মালামাল কেনার নামে সরকারি টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন। মহাস্থান সেতুর দরপত্রে ২.২৫ কোটি টাকার কাজ, সেখানে ৯ কোটি টাকা টার্নওভার চেয়ে দরপত্র করা হয়েছে। গত অর্থবছরে এসইর নির্দেশে বগুড়া মহাসড়কে সাত কোটি টাকার মেইনটেন্যান্স কাজ করা হয়েছে। যার কোনো চিহ্ন এখন নেই। নাজুক সড়ক বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়ার জেলা প্রশাসক নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। এতে করে মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি দুর্ঘটনা বাড়ছে। সড়ক বিভাগের দ্রত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ অভিযুক্ত এসই সাদেকুল ইসলাম জানান, তিনি কোনো ভাগ-বাটোয়ারার সঙ্গে জড়িত নন। নিয়ম অনুসারে প্রতিটি কাজ দেওয়া হয়েছে। আর রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু কাজ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম ইচ্ছে না থাকলেও করতে হয়। সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ স্বীকার করে বলেন, ‘আমি শুনেছি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। কারা করেছে, কে করেছে, তা জানি না। তবে কাজ করে যাচ্ছি। ঠিকাদাররা যোগ্যতা বিবেচনায় কাজ পেয়েছে। মহাসড়কে গাড়ির চাপ অনেক বেশি। এ কারণে সঠিকভাবে কাজ করা যায় না।’ দুদক বগুড়ার উপপরিচালক আনোয়ারুল হক অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
5bbe0285-0a35-4b51-aa0b-1dba7d6f93ef
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপি-যুবদল এবং জামায়াতের চার নেতাকর্মীসহ ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে : চাঁদপুর : ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি বিএনপি-যুবদলের তিন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন সেলিম হোসেন রাঢ়ী, ওলি আহমেদ ও কামরুল হাসান পরান। গাইবান্ধা : সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সক্রিয় কর্মী আবুল কালাম আজাদকে গত শনিবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে নাশকতার একাধিক মামলা আছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। চুয়াডাঙ্গা : দামুড়হুদা উপজেলায় শিশু ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ইসরাফিল আলমকে গত শনিবার রাতে মেহেরপুরের গাংনী থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরদিন রবিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে চুয়াডাঙ্গা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হবিগঞ্জ : জেলার বিভিন্ন স্থানে গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল রবিবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। তাদের মধ্যে ছয়জন পরোয়ানাভুক্ত ও তিনজন নিয়মিত মামলার আসামি এবং একজন মাদক কারবারি। কেশবপুর (যশোর) : কেশবপুর উপজেলার বুড়িহাটি বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় করা মামলায় দপ্তরি-কাম-নৈশপ্রহরী মকছেদ আলীকে গতকাল গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঝালকাঠি : পৌরসভার ইছানীল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে গতকাল ২৪৫ পিস ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে দুই যুবক। তারা হলো মো. ওবায়দুল হক ও ইকবাল গাজী। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। রাজবাড়ী : সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গত শনিবার রাতে পলাতক আসামি এবং মাদক কারবারিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে গতকাল সকালে থানায় মামলা হয়েছে। গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : ২০৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি ও একাধিক মামলার আসামি শাহিন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে গোয়ালন্দ উপজেলা শহরের তোড়াইমোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
c328f5e0-aa10-45ca-8853-ce338309f938
চার জেলায় গত রবিবার রাতে ও গতকাল বুধবার সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীসহ পাঁচজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে। মাগুরা : মাগুরা-মহম্মদপুর সড়কের অমেদপুর এলাকায় রবিবার সন্ধ্যায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত তিন চাকার ট্রলির ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষার্থী উলফাত হোসেন (১৬) নিহত হয়। সে মহম্মদপুর উপজেলার মৌসা গ্রামের হারুনর রশিদের ছেলে ও একই উপজেলার কানুটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। মাগুরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গফফার হোসেন জানান, মাগুরা শহর থেকে প্রাইভেট পড়ে উলফাত বাইসাইকেলযোগে নিজ গ্রামে ফিরছিল। পথে অমেদপুরে একটি ট্রলি তাকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। এলাকাবাসী তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে কিছুক্ষণের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। মেহেরপুর : মুজিবনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে গতকাল সকালে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত পাওয়ার ট্রিলারের ধাক্কায় স্কুলছাত্রী স্নিগ্ধা খাতুনের (১২) মৃত্যু হয়। সে ওই গ্রামের আসলাম আলীর মেয়ে ও স্থানীয় কেদারগঞ্জ জিনিয়াস প্রি ক্যাডেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। স্থানীয়রা জানায়, স্নিগ্ধা গ্রামের রাস্তার পাশে খেলা করছিল। তখন একটি পাওয়ার ট্রিলারের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গিয়ে স্নিগ্ধাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে মেহেরপুর জেনালের হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মুজিবনগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। গোপালগঞ্জ : রবিবার রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার ঘোনাপাড়ায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত ও ১০ যাত্রী আহত হয়েছে। নিহত বাসচালক শেখ শাহিন ও যাত্রী মালা বেগমের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাগেরহাটের রায়েন্দাগামী বনফুল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঘটনাস্থলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকে (আইল্যান্ড) উঠে যায়। তখন বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি উল্টে সড়কের পাশে খাদে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। পুলিশ ও স্থানীয়রা হতাহতদের গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়। হবিগঞ্জ : রবিবার রাতে নবীগঞ্জের আউশকান্দির কিবরিয়া চত্বরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ইমা (গাড়ি) ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী জাকারিয়া চৌধুরীর (২৪) মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের মৃত খিজিরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাকারিয়া নবীগঞ্জ শহর থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে কিবরিয়া চত্বরে দুর্ঘটনায় পড়ে গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। মন্তব্য আলোচিত সংবাদ ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয় আমাদের জাহিদ গুগলের ম্যানেজার সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা! সারাদিন বিছানায় শুয়ে অন্যের রক্ত যোগাড় করেই দিন কাটে মিমের পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রী-কন্যার মারধরের শিকার চিত্রনায়িকা রাকা বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না...
ee612168-46af-44ae-a2c8-dc5304c01e14
বলিউডে তনুশ্রী দত্ত থেকে শুরু, এরপর অনেক খ্যাতনামা অভিনেত্রী, গায়িকা ও মডেল যৌন হেনস্থা নিয়ে মুখ খুলেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে রাজি নন ‘দাঙ্গাল’খ্যাত অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখ। ‘দাঙ্গাল’ এর পর আলোচিত ‘থাগস অব হিন্দুস্থান’ ছবিতেও অভিনয় করেছেন ফাতিমা। তিনি বলেন, জীবনের এই দিকটা আমি প্রকাশ করতে চাই না…. আমার এ অভিজ্ঞতা হয়েছে এবং আমার কাছের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। যারা নিজেদের এই ভয়ানক গল্পগুলো জানাতে চান আমি তাদের বিচার করতে চাই না। আর নিজের অভিজ্ঞতা না বলার জন্য আমিও চাই না আমাকে নিয়ে কথা উঠুক। ফাতিমা আরও বলেন, এখন হেনস্থাকারীরা লোকলজ্জার ভয়ের মধ্যে আছে এবং বলিউড তাদের পরিত্যাগ করেছে। বহু বছর আমরা এটাকে খুব হালকাভাবে নিয়েছিলাম। আর এ কারণে নারীরাও এটাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিল।
4e21bb3a-c495-406a-a2d7-eac99f5641c4
উল্লিখিত কোরআন মাজীদের সে সমস্ত পরিষ্কার ও বিশদ নির্দেশ ছাড়াও মাপজোখে অবিশ্বস্তকারীদের কেয়ামতের কঠিন আজাব সম্পর্কে এমনভাবে ভীতি প্রদর্শন করেছে, যার অন্তরে আল্লাহর ভয়ের সামান্যতমও স্থান রয়েছে সে অবশ্যই কেঁপে উঠবে। ভুলক্রমেও তার দ্বারা কখনো এ ধরনের খেয়ানত বা অবিশ্বস্ততা সংঘটিত হবে না। ইরশাদ হয়েছে, ‘বিরাট অকল্যাণ ও মন্দ পরিণতি রয়েছে মাপজোখে ভ্রষ্টাচারদের জন্য। (যাদের আচরণ হলো এই যে, যখন মানুষের কাছ থেকে তারা নিজের জন্য মেপে নেয়, তখন ভরপুর নেয়। পক্ষান্তরে অন্যদেরকে যখন তারা কোনো বস্তু-সামগ্রী মেপে দেয়, তখন কম করে দেয়। এরা কি এ বিষয়টি লক্ষ্য করে না যে, (মৃত্যুর পর হিসাব ও প্রতিদানের) মহাদিবসের জন্য তাদেরকে পুনজ্জীবিত করে তোলা হবে, যেদিন সমস্ত মানুষ মহা পরাক্রমশালী রাব্বুল আলামীনের দরবারে দন্ডায়মান হবে?’ (সূরা তাতফীফ : আয়াত ১-৬)। যে লোক সত্যিকার মনে কোরআন মাজীদকে আল্লাহর কিতাব হিসাবে মান্য করবে, সে লোক এ আয়াতগুলো শোনার পর মাপজোখে অবিশ্বস্ততা কেমন করে করতে পারে? যারা নিজেদের ঈমানদার বলে দাবি করে তাদের মধ্যেও যদি কোথাও এ ধরনের লোক দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে, তাদের অন্তর প্রকৃত ঈমান থেকে বঞ্চিত। হারামখোরীর একটি অতি অভিশপ্ত রূপ হলো, কারও ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পুরুষের পোশাক পরে অর্থাৎ, দীনি আলেম-ওলামা কিংবা ওলী-দরবেশের ভোল বা ছদ্মবেশ ধরে নানা রকম ধোঁকা-প্রতারণার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সরল প্রাণ বান্দাদের কাছ থেকে ভেট-নজরানা আদায় করা। এ ধরনের লোকদের সাধারণ পন্থা হলো- আদায় ওয়াসিলের এর ধারাকে চিরকাল অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে এবং ভবিষ্যত বংশধরদের জন্য সংরক্ষণ করার উদ্দেশে তারা পুরোপুরি চেষ্টা করে, যাতে তাদের এ ফাঁদে পড়ে সাধারণ মানবকুল সঠিক ধর্মীয় শিক্ষা থেকে অজ্ঞ থাকে এবং আল্লাহ তায়ালার নিষ্ঠাবান বান্দা এবং সত্য দ্বীনের সত্যিকার খাদেম ও দাওয়াতকর্মীদের কাছ থেকে দূরে সরে থাকে। মহানবী (সা:)-এর আমলে এ ধরনের অধিকাংশ লোক ছিল ইহুদি। কিন্তু আমাদের এ যুগে দুর্ভাগ্যক্রমে স্বয়ং মুসলমানদের মধ্যে এ ধরনের পেশাধারী একটা দুর্বৃত্ত শ্রেণী বিদ্যমান রয়েছে। তাদের কাজকর্ম ও ব্যবসা এটাই। যাহোক, এ ধরনের লোক ইহুদি হোক বা খ্রিস্টানই হোক কি মুসলমান। কোরআন মাজীদে তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, অনেক পাদ্রী ও যাজক আল্লাহর বান্দাদের সম্পদ অবৈদ পন্থায় ভোগ করে এবং (সেসব লোকের কোনো রকম ধর্মীয় ফায়দা পৌঁছানো কিংবা আল্লাহর পথ প্রদর্শনের পরিবর্তে উল্টা তাদেরকে) আল্লাহর পথ থেকে বিরত রাখে। (সূরা তাওবাহ : আয়াত ৩৪)।
c04abd77-a86d-444f-9e5a-36b41a05a665
জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের নাম কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব চীন আটকে দেয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে উপহার করলেন দেশটির বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী।-খবর এএফপির চীনের প্রেসিডেন্ট শিং জিনপিংয়ের কথা উল্লেখ করে এক টুইটার পোস্টে তিনি বলেন, শিকে ভয় পেয়েছেন অক্ষম মোদি। ভারতের বিরুদ্ধে যখন চীন ভূমিকা রেখেছে, তখন তার মুখ থেকে একটি কথাও বের হয়নি। আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীন-ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভূখণ্ডগত কোন্দল চলছে। তবে মোদি ও শি তা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করেছেন। এদিকে জইশ নেতার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় চীন ভেটো দেয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছে প্রতিবেশী ভারত। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়্ন্ত্রীত কাশ্মীরে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় একটি আধাসামরিক বাহিনীর ৪৪ জওয়ান নিহত হওযার দায় স্বীকার করেছে জইশ। এর পর থেকে পরমাণুশক্তিধর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। এক বিবৃতিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীনা ভেটোতে তারা হতাশ। ভারত জানায়, আমাদের নাগরিকদের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য হামলায় জড়িত সন্ত্রাসী নেতাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে সব উপায়ে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে। মাসুদ আজহারের ওপর অস্ত্র, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং তার সম্পদ জব্দ করতে নিরাপত্তা পরিষদের ইসলামিক স্টেট ও আল কায়েদা নিষেধাজ্ঞা কমিটিকে অনুরোধ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স। ঐকমত্যের ভিত্তিতে ১৫ সদস্যের ওই কমিটি পরিচালিত হয়। কিন্তু তিন পরাশক্তির প্রস্তাবে বাধা দিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনীতির দেশ চীন। মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবে সমর্থনে দেশটি কোনো কারণ খুঁজে পায়নি বলে জানিয়েছে। ২০১৬ ও ২০১৭ সালেও এই জইশ নেতার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চাইলে তাতে বাধা দিয়েছিল চীন। বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু ক্যাং বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং সহায়তা সংস্থাগুলোর নীতি ও প্রক্রিয়া অনুসারে আলোচনা চালাতে হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক কর্মকর্তা বলেন, আজহারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় চীন যদি অব্যাহতভাবে ভেটো দিয়ে যায়, তবে নিরাপত্তা পরিষদের অন্য সদস্যরা ভিন্ন পদক্ষেপের দিকে এগোবে। ওই কূটনীতিক বলেন, জইশকে আল কায়েদাসংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ। কাজেই মাসুদ আজহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া অপরিহার্য। জইশ-ই-মোহাম্মদ প্রথমে ভারতবিরোধী গোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হলেও পরে আল কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ২০০১ সালে এ বিদ্রোহী গোষ্ঠীটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে জাতিসংঘ।
93151c59-4cd2-46c6-bd3b-05dd87a930d8
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া ১০ বছরের সাজার বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আপিলে সাজার রায় স্থগিত ও খালেদা জিয়ার জামিন প্রার্থনা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদার আইনজীবীরা এ আপিল দায়ের করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এনটিভি অনলাইনকে বলেন, হাইকোর্টে দুদকের আবেদন এক তরফাভাবে শুনানি করে রায় দেওয়া হয়েছে। ওই রায়ে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার বঞ্চিত হয়েছেন। ন্যায়বিচার হলে তিনি এ মামলা থেকে খালাস পেতেন। এজন্য তিনি আপিল দায়ের করেছেন। আশা করছি, আপিল বিভাগে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।’ গত বছরের ৩০ অক্টোবর এই মামলায় খালেদার সাজা বৃদ্ধিতে দুদকের আবেদন গ্রহণ করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে পাঁচ বছরের দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আপিল খারিজ করে দেন আদালত। এ ছাড়া ১০ বছরের দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে কাজী কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের আপিল খারিজ করেন আদালত। তবে রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়ার কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারত মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মামলার অন্য পাঁচ আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁদের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানা করা হয়। রায়ের পর ওই দিনই খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়াসহ তিনজন কারাবন্দি। বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি দুজন হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। পলাতক তিনজন হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। রায় ঘোষণার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রায়ের সার্টিফায়েড কপি বা অনুলিপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁরা এ আবেদন করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ এবং অর্থদণ্ড স্থগিত করে নথি তলব করেন। এরপর ৭ মার্চ অপর আসামি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামালের আপিলও শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। পরে ২৮ মার্চ খালেদার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে দুদকের করা আবেদনে রুল দেন হাইকোর্ট। ১০ মে আরেক আসামি শরফুদ্দিনের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন আদালত। পরে তিন আসামির আপিল ও দুদকের আবেদনের ওপর রায় ঘোষণা হয়। মামলার অভিযোগে যা বলা হয়েছে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। মামলার এজাহারে জানা যায়, ১৯৯১-৯৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন রমনা শাখার সোনালী ব্যাংকে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল নামে একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন, যার নম্বর ৫৪১৬। ওই হিসাবে ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ডি ডি নম্বর ১৫৩৩৬৭৯৭০-তে ১৯৯১ সালের ৯ জুন ১২ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার, যা তৎকালীন বাংলাদেশি মুদ্রায় চার কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা জমা হয়। পরে খালেদা জিয়া বিভিন্ন সময়ে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন আসামির নামে ‘এফডিআর’ করে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে উত্তোলন করেন, যা দণ্ডবিধির ৪০৯ এবং ১০৯ ধারা ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ ২ নম্বর আইনের ৫(২) ধারায় অপরাধ করেছেন। এজাহারে ঘটনার সময়কাল হিসেবে ১৩ নভেম্বর ১৯৯৩ থেকে ২৮ মার্চ ২০০৭ সালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
b8353f98-8b8b-424a-8723-6e23a1cad5f8
দেশে দুই কোটি নারী, পুরুষ ও শিশু বিভিন্ন ধরনের কিডনি রোগে আক্রান্ত। আক্রান্তদের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে ৩৫-৪০ হাজার রোগী কিডনি বিকল হয়ে মারা যান। কিডনি বিকল রোগীদের নিয়মিত ডায়ালাইসিস কিংবা কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বেঁচে থাকতে হয়। ডায়ালাইসিস ব্যয়বহুল ও কিডনি প্রতিস্থাপনে আইনি জটিলতায় ডোনারপ্রাপ্তি সংকটে শতকরা ৮০ ভাগ কিডনি বিকল রোগীকে সুচিকিৎসার অভাবে মরতে হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিশেষায়িত কিডনি হাসপাতাল, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স ও সহযোগী কর্মচারী এবং অত্যাধুনিক ডায়ালাইসিস ইউনিটের অভাবে বহু কিডনি রোগী প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাড়ি জমাচ্ছেন। তবে আশার খবর হলো, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের প্রতিটি জেলায় অর্থাৎ ৬৪ জেলায় ১০ শয্যা করে একটি বিশেষায়িত কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট খোলার চেষ্টা চলছে। এছাড়া কিডনি রোগ আগাম প্রতিরোধে দেশের ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিককে কাজে লাগিয়ে রোগীদের রক্তসহ একাধিক পরীক্ষা বিনামূল্যে করে কিডনি ঝুঁকি শনাক্তের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। বৃহস্পতিবার বিশ্ব কিডনি দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ কিডনি সবার জন্য সর্বত্র’। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, বিনামূল্যে কিডনি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল্টন হলে বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন, কিডনি ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ ও কিডনি অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড মনিটরিং সোসাইটির (ক্যাম্পাস) উদ্যোগে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও খ্যাতনামা কিডনি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থাকবেন। বেসরকারি ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে বুধবার থেকে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাত্র এক হাজার টাকায় হেলথ চেকআপের (স্বাস্থ্য পরীক্ষা) সুযোগ দিচ্ছে। হেলথ চেকআপের আওতায় আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, সিবিসি, আরবিএস ও ইউএনআরই পরীক্ষার সুযোগ থাকবে। এছাড়া প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ দেয়া হবে। ১২ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্যাম্পে রেজিস্ট্রেশনভুক্ত রোগীদের কিডনি সম্পর্কিত সিরাম ক্রিয়েটিনিন, ইউএনআরই পরীক্ষা ও ডেন্টাল চেকআপ বিনামূল্যে করা হবে। বিভিন্ন অপারেশনের শতকরা ২৫ ভাগ, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ৫০ ভাগ ছাড় দেয়া হবে এবং ৩০ হাজার টাকা প্যাকেজে কিডনির পাথর অপারেশন এবং ২২ হাজার টাকায় প্রোস্টেট অপারেশন করা হবে।
ba171201-bba1-4f40-92db-2bbce5458dd5
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের দ্বিতীয় দিনের ভোটগ্রহণ চলছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। এর আগে গতকাল বুধবার প্রথমদিন সাত হাজার ৮২৫ জন ভোটারের মধ্যে দুই হাজার ৯৭০ জন আইনজীবী প্রথম দিনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ওইদিন সকালে উৎসবমুখর পরিবেশে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রথম দিনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। মাঝখানে বিরতি দিয়ে ভোটগ্রহণ চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণের জন্য ৪৪টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আট হাজার ৮৮ জন সদস্য তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করবেন। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান। সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি নির্বাচন সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার এ ওয়াই মশিউজ্জামান বলেন, নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ভারোভাবে চলছে। আশা করছি, দুদিনের এ নির্বাচন ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারব। কার্যনির্বাহী কমিটির মোট ১৪টি পদের নির্বাচনে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে সরকার সমর্থকদের সাদা প্যানেল ও বিএনপি সমর্থকদের নীল প্যানেল। বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরকার সমর্থকদের নীল প্যানেল এবং বিএনপি সমর্থকদের সাদা প্যানেল হলেও সুপ্রিম কোর্টে তার বিপরীত হয়ে আসছে। এখানে সরকার সমর্থকদের সাদা প্যানেল ও বিএনপি সমর্থকদের নীল প্যানেল। নির্বাচনে প্রার্থীরা হলেন- নীল প্যানেল বিএনপি সমর্থক জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের (নীল প্যানেল) সভাপতি পদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল জামিল (এ জে) মোহাম্মদ আলী এবং সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহাবুব উদ্দিন খোকন, সহসভাপতি পদে মো. আব্দুল জব্বার ভুঁইয়া এবং আব্দুল বাতেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কোষাধ্যক্ষ পদে মো. ইমাম হোসেন, সহ-সম্পাদক পদে মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান ও শরীফ ইউ আহম্মেদ, কার্যনির্বাহী সদস্য পদে রাশিদা আলিম ঐশী, মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী, কাজী আখতার হোসেন, মো. শাফিউর রহমান, মো. শরীফ উদ্দিন রতন, মো. মোহাদ্দেস উল ইসলাম ও সৈয়দা শাহীন আরা লাইলি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাদা প্যানেল সাদা প্যানেলের সভাপতি পদে সমিতির সাবেক সম্পাদক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন (এ এম আমিন উদ্দিন) ও সাধারণ সম্পাদক পদে বাংলাদেশ আইন সমিতির সাবেক সম্পাদক আইনজীবী আবদুন নুর দুলাল প্রার্থী হয়েছেন। সহসভাপতি (দুটি) পদে বিভাষ চন্দ্র বিশ্বাস ও জসিম উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ পদে সৈয়দ আলম টিপু, সহসম্পাদক (দুটি) পদে কাজী শামসুল হাসান শুভ ও মোহাম্মদ বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য পদে আফিয়া আফরোজ, চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, হুমায়ূন কবির, শামীম সরদার, মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন, মোহাম্মদ মশিউর রহমান ও মোহাম্মদ জগলুল কবির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এদিকে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী দুটি প্যানেলের প্রার্থীরাই।
fd287321-6d81-4509-b79d-6593f43bd7d6
সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে মেবাখ ব্রান্ডের একটি গাড়ি উপহার দিয়েছেন স্বামী নিক জোনাস। উপহার পেয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত হলিউড-বলিউড দাপিয়ে বেড়ানো অভিনেত্রী। গাড়ির নাম দিয়েছেন ‘এক্সট্রা চোপড়া জোনাস’। এই মুহূর্তে জোনাস ব্রাদার্সের নতুন গান ‘সাকার’ ইউএস বিলবোর্ডের এক নম্বরে জায়গা পেয়েছে। গানটিকে জোনাস ব্রাদার্সের ফিরে আসার গানও হিসেবেও আখ্যা দেয়া হচ্ছে। সেই খুশিতেই এ গাড়ি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গাড়ির নিজের নিজেদের তোলা ছবিও ফেসবুকে দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। সঙ্গে লিখেছেন, যখন স্বামীই সবার সেরা হয়… তখন স্ত্রী পায় একটি মেবাখ! তোমাকে ভালোবাসি। নিক জোনাস তুমি সব স্বামীর মধ্যে সেরা।
db346548-9edb-43ce-bcb3-b22a4c9ba8e7
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মোস্তফা তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে অপর স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ব্যবসায়ী ফিরোজ হায়দার খানকে সমর্থন দিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় মির্জাপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজ হায়দার খানকে সমর্থন দিয়ে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মো. মোস্তফা। এসময় চেয়ারম্যান প্রার্থী টাঙ্গাইল জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান ও মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করা প্রার্থী মো. মোস্তফা সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন। সেখানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার পারভেজ শাহ আলম, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি কুব্বত আলী মৃধা, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী খালেদা সিদ্দিকী স্বপ্না, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ফরিদ মিয়া, পৌর বিএনপির সহসভাপতি খন্দকার মোবারক হোসেন, বিএনপি নেতা শফি মিয়া, শহর আলী সহঅর্ধশত নেতাকর্মী । ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপে মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
fadf6bbd-6431-46a1-b8be-575b16b88ca8
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমস্যা পার করছে ফেসবুক। বুধবার সারা বিশ্বব্যাপীই প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখিন হয় পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ এই সামাজিক যোগাযোগের সাইটটি। বিবিসির খবরে বলা হয়, সর্বশেষ ২০০৮ সালে ফেসবুক এমন সমস্যায় পড়েছিল। তবে সে সময় ফেসবুকের মাসিক ব্যবহারকারী ছিল ১৫ কোটি আর ২০১৯ সালে সেই সংখ্যা ২৩০ কোটি। ফেসবুকের পাশাপাশি ইন্সটাগ্রামও একই ধরনের সমস্যায় পড়ে। তবে সমস্যার কারণ সম্পর্কে ফেসবুক তেমন কিছুই জানায়নি। এক বিবৃতিতে ফেসবুক জানিয়েছে, ‘ কিছু ব্যবহারকারী ফেসবুকের অ্যাপ ব্যবহার নিয়ে সমস্যায় রয়েছে সেটি সম্পর্কে আমরা অবগত রয়েছি। আমরা দ্রুতই সেটি সমাধানেরও চেষ্টা করছি।’ তারা বলছে, ফেসবুকে কোনো ডিডস আক্রমণের ঘটনা ঘটেনি। ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়েল অব সার্ভিস বা ডিডস হচ্ছে ক্ষতিকর ট্রোজান–আক্রান্ত একাধিক কম্পিউটার সিস্টেম ব্যবহার করে বড় ধরনের সাইবার আক্রমণ। এছাড়া ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতেও সমস্যা হচ্ছে। কিছু সেবা স্বাভাবিক থাকার কারণে আপাতত এ দুটি প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে পারছেন ব্যবহারকারীরা। তবে কিছু সেবা এখনো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অনেকেই মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠাতে পারছেন না। কেউ ফেসবুক ফিডে পোস্ট দিতে পারছেন না। এদিকে ফেসবুকের এমন দুর্দিনে টুইটারে মশকরা শুরু করে দিয়েছেন অনেকেই। হ্যাশট্যাগে ফেসবুক ডাউন এবং ইন্সটাগ্রাম ডাউন এখন পর্যন্ত দেড় লক্ষ ছাড়িয়েছে।
f486d460-7e7e-42ef-a6f5-3b992c12c8ce
কাবা শরিফ ও প্রিয় নবির রওজা জেয়ারতের উদ্দেশ্যে সারাবিশ্ব থেকে মুসলিম উম্মাহ পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় একত্রিত হয়। ওমরা ও হজ ছাড়া দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে সৌদি আরব হজ ও ওমরা কর্তৃপক্ষ মক্কা-মদিনায় ‘স্মার্ট সিটি’ তৈরির পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। খবর আল-আরাবিয়া। হজের সময় মক্কা-মদিনায় আল্লাহর মেহমনদের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে স্মার্ট ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়েছে। হারামাইন শরিফাইন ইনিস্টিটিউটের খাদেম এবং হজ-ওমরাহ গবেষণা কেন্দ্রের সচিব ড. মাযিন শমরানি বলেন, হাজিদের জন্য মক্কা ও মদিনার স্থানগুলোকে ‘স্মার্ট সিটি’র অন্তর্ভুক্ত করার জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। হাজি ও ওমরা পালনকারীদের চলাচল ও শীতল পরিবেশের সুবিধার্থে মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারায় বেশি বেশি ছায়াদার গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সে সঙ্গে থাকবে পানির ঝরণা ও পরিবেশ শীতলকারী সরঞ্জাম। হজ ও ওমরা পালনকারীর জন্য যে কোনো প্রয়োজনে তাৎক্ষনিক সমাধানের বিষয়টিও রয়েছে ‘স্মার্ট সিটি’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্য তালিকায় । এছাড়াও ‘মিকাত’-এর স্থানকে আরো সুন্দর, উন্নত ও সুপরিসর করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। অসুস্থ, অক্ষমদের জন্য আলাদা করে পর্যাপ্ত টয়লেটসহ অন্যান্য সেবা প্রদানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সৌদি আরব হজ কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগ হজ-ওমরা পালনকারী ও দর্শণার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
2e32e718-4e5f-479c-bfbb-eb2115c5814f
বলিউডি সিনেমার পরিচালক রোহিত শেঠিকে বলা হয় ‘বক্স অফিস কিং’। তাঁর নির্মিত সর্বশেষ ছবি ‘সিম্বা’ বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার হয়েছে। ‘পদ্মাবত’ তারকা রণবীর সিং ও হালের সেনসেশন সারা আলি খান অভিনীত এ ছবি শুধু ভারতের বক্স অফিসে সংগ্রহ করেছে ২৪০ কোটি রুপি। আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্যবসাসফল। তবে আয় নিয়ে এখনো অসন্তুষ্ট রোহিত। চলতি বছরের অন্যতম ব্যবসাসফল সিনেমা ‘সিম্বা’। এ ছবি শুধু দর্শককে বিনোদন দেয়নি, চিত্রসমালোচকদেরও প্রশংসা পেয়েছে। বক্স অফিসে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছে। তবে এতকিছুর পরেও মন ভেজেনি রোহিত শেঠির। অবশ্য তার কারণও রয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এফআইসিসিআই-২০১৯ কনফারেন্সে ভারতে সিনেমা হল বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন রোহিত শেঠি। বলেন, প্রেক্ষাগৃহ সংখ্যা বাড়ানো দরকার, যাতে অধিক সংখ্যক মানুষ সিনেমা দেখতে পারে। আর এতে আরো আয় বাড়বে। রোহিত বলেন, তাঁর দেশের জনসংখ্যা ১৩৫ কোটি, কিন্তু ‘সিম্বা’ দেখেছেন মাত্র দুই কোটি মানুষ। আরেক হিট সিনেমা ‘দঙ্গল’-এর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, এ ছবিটি দেখেছেন চার কোটি মানুষ। ছোট শহরগুলোতে আরো প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণের তাগিদ দিয়ে এ ব্যাপারে সরকারের সহায়তা কামনা করেন রোহিত। “আমাদের আরো থিয়েটার ও সরকারের সাহায্য দরকার। ছোট শহরগুলোতেও প্রেক্ষাগৃহ থাকা উচিত। ‘সিম্বা’ এত হিট হওয়া সত্ত্বেও মাত্র দুই কোটি মানুষ এটি দেখেছে। ‘দঙ্গল’ দেখেছে চার কোটি মানুষ। কিন্তু দেশের জনসংখ্যা ১৩৫ কোটি, সে তুলনায় এ সংখ্যা কিছুই নয়। চার কোটি মানুষ সিনেমা দেখলেও তা মোট জনসংখ্যার দশ শতাংশ হয় না”, ওই অনুষ্ঠানে বলেন রোহিত শেঠি। রোহিত বলেন, তাঁর দেশে দশ হাজার প্রেক্ষাগৃহ রয়েছে। সেগুলোতে রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতাও। হল মালিককে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ‘রক্ষণাবেক্ষণ, বিল, জমি, বিভিন্ন ব্যয়সহ নানা ইস্যু মেইনটেইন করতে হয় থিয়েটার মালিকদের। আমার মনে হয়, সরকারের সঙ্গে বসে কিছু করা দরকার। কীভাবে থিয়েটার মালিকদের সহায়তা করা যায়, সে ব্যাপারে ভাবতে হবে। কীভাবে আরো প্রদর্শন বাড়ানো যায়, সে পথও বের করতে হবে’, বলেন রোহিত। ‘সিম্বা’র সাফল্যের পর ‘সূর্যবংশী’ ছবির কাজ করছেন নির্মাতা রোহিত শেঠি। এতে প্রধান চরিত্রে রয়েছেন অক্ষয় কুমার। সূত্র : ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস
d2303b55-5db8-43ea-bd92-1b1791c07f62
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশনরত অন্তঃসত্ত্ব প্রেমিকা রুনা আক্তার (১৯) দাবী মেনে নিয়ে বিয়ের আবদ্ধ হয় সজিব ও তার পরিবার। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে (১৪ মার্চ) উপজেলা চরজাঙ্গালিয়াা গ্রামের মিয়াপাড়া এলাকায় প্রবাসী আবদুস সহিদের বড়িতে রুনা আক্তার বিয়ের দাবীতে আনশন করেন। এ অনশনে স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে অনশনরত রুনা আক্তার জানান, সজিব তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে তিনি অসম্মতি প্রকাশ করেন। কিছু দিন পর তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলে এতে রুনা রাজি হয়। একপর্যায়ে গোপনে দুজনে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। কমলনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, রুনাকে সজিবের পরিবার মেনে নিয়েছে।
d7e3e650-29f5-4141-b073-898cf0ee6f20
প্রভোস্টের পদত্যাগসহ ৪ দফা দাবিতে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে রোকেয়া হলের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনশন স্থগিত। বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) রাতে তারা এ ঘোষণা দেন। এর আগে ভোট কারচুপির অভিযোগ থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল সংসদ নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন, হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে আমরণ অনশনে বসে হলের পাঁচ শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে চারজন বিভিন্ন প্যানেল থেকে হল সংসদে প্রার্থী ছিলেন। বুধবার রাত নয়টা থেকে তাঁরা রোকেয়া হলের ফটকে অনশন শুরু করেন। অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা হলেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রাফিয়া সুলতানা, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সায়েদা আফরিন, একই বিভাগের জয়ন্তী রেজা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শ্রবণা শফিক দীপ্তি ও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রমি খিশা। বৃহস্পতিবার দুপুরে অনশনস্থলে এসে নুরুল হক নুর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবির সাথে একমত পোষণ করেন। এসময় নুরুল হক নুর সাংবাদিকদের বলেন, আমি মনে করি তাদের দাবি যুক্তিসঙ্গত। রোকেয়া হলের প্রভোস্টের এই পদে বহাল থাকার কোন নৈতিক অধিকার নেই। শিক্ষার্থীরা সারারাত হলের বাইরে থাকা স্বত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন নুর। প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে পুনঃতফসিলের দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি সব প্যানেল। একে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ভোট বর্জন করা প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। উপাচার্যের কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা আগামী কালের (মঙ্গলবার) ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।
fc13607d-e0c4-445e-a39b-e67189d235a0
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন কর্ম তালিকায় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শনিবার (১৬ মার্চ) বিকেল ৪টায় গণভবনে নির্বাচিত ছাত্রনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে খবরটি জানা গেছে। সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে দেখা করতে যাবেন ২৮ বছর পর ডাকসুর ভিপি পদে নির্বাচিত নুরুল হক নুরসহ নির্বাচিত সকল ছাত্রনেতা। ২৮ বছর পর হওয়া এই নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) ও সম্পাদকীয় একটি পদ ছাড়া ডাকসুর ২৫ টি পদের মধ্যে ২৩ টিতেই জয়লাভ করেছে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে সংগঠনটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে পরাজিত করে ভিপি পদে নির্বাচিত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নুরুল হক নুর। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার বিষয়টি জানতে চাইলে নুর বলেন, ‘শনিবার গণভবনে দেখা করতে যাওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এখনও অফিশিয়ালি কোনো কিছু শুনিনি। আমন্ত্রণ পেলে অবশ্যই যাবো। কারণ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সবার প্রধানমন্ত্রী। তিনি ডাকলে আমি অবশ্যই উনার সঙ্গে দেখা করতে যাবো।’ প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত ১১ মার্চ ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ডাকসুতে ২৫টি পদের মধ্যে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে জিএস ও এজিএসসহ ২৩টিতেই জয়ী হন। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্যানেল থেকে ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্যানেল থেকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর ভিপি এবং ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী জিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন এজিএস নির্বাচিত হন। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের মধ্যে ছাত্রলীগ ১২টিতে ভিপি ও ১৪টিতে জিএসসহ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বাকি ৬টি হলে ভিপি পদে এবং ৪টিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্যানেল জিতেছে।
0f74d787-2cec-45a8-ac58-9dacae41fc05
সামনেই আইপিএল, এরপর বিশ্বকাপ। টানা ক্রিকেটসূচি। এর মধ্যেই আবারও বেকায়দায় ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামি। ভারতীয় গতি তারকার বিরুদ্ধে আলিপুর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে কলকাতা পুলিশ। স্ত্রী হাসিন জাহানের আনা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যেই তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারার মামলা চলছে। বৃহস্পিতবার সেই মামলারই চার্জশিট পেস করেছে পুলিশ। ভারতীয় পেসারের বিরুদ্ধে আইপিসি ৪৯৮ এ (যৌতুক নেওয়া) ও ৩৫৪ এ (স্ত্রী নির্যাতন) ধারায় মামলা চলছে। গত বছরের মার্চে হাসিন কলকাতা পুলিশের কাছে করা এক অভিযোগে জানিয়েছিলেন, শামির প্ররোচণায় তার দাদা হাসিব তাকে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ভাবে হেনস্তা করেন। জানিয়েছিলেন পাকিস্তানি এক তরুণীর সঙ্গে শামির অবৈধ মেলামেশার কথাও। তবে শামি এক পাকিস্তানি জুয়াড়ির কাছ থেকে ম্যাচ গড়াপেটার জন্য টাকা নিয়েছিলেন বলে যে অভিযোগ হাসিন করেছিলেন সেটা চার্জশিটে উল্লেখ করেনি পুলিশ। সর্বমোট ২৮ জনের সাক্ষ্য নিয়ে তবেই দায়ের করা হয়েছে এ মামলা। এদিকে সদ্য অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ খেলেছেন শামি। চারটি ওয়ানডে ম্যাচে তিনি পাঁচ উইকেট নেন। বিশ্বকাপের স্কোয়াডে তার থাকা নিশ্চিত। সম্প্রতি জাতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি প্রশংসা করেছিলেন তার বোলিংয়ের।
d80ca690-e1a0-4b1c-a7ed-d9bf4b5678a5
বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন কিশোর বয়সে এসে বাঙালি ছেলে মেয়ে চুপি চুপি কবিতা বা গল্প লিখতে চেষ্টা করেনি এমন ঘর কী বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া যাবে? আমাদের চারপাশের অবারিত সবুজ মাঠ, মাথার ওপর হেমন্তের ঝকঝকে চাঁদ, কুয়াশা মাখা ঘাসে আসা একুশে ফেব্রুয়ারি, মুক্তির আন্দোলনে একাত্তরে অকাতরে বিলিয়ে দেয়া লাখো শহীদের প্রাণ, প্রাণ প্রিয় স্বাধীনতা এবং উড়ু উড়ু পাখির মতো চঞ্চল কিশোর প্রাণে ভোরের মিষ্টতায় আসা প্রথম প্রেমের ছোঁয়া সবই এদেশের মানুষের কবিতার উপকরণ। কবিতা মানুষ কেন লেখে? এর সঠিক উত্তর কী আসলে কখনো পাওয়া যাবে? উত্তর পাওয়া যাক না যাক উত্তর খোঁজা থেমে থাকেনি। এই ব্যাপারে বলতে গেলে আমাদের উপমহাদেশে প্রথমে যার উদ্ধৃতি আসে তিনি হলেন ছন্দের জাদুকর পণ্ডিত নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তিনি বলেন ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা, বিতর্ক-টিতর্ক, ওসব কাজের কথা নয়। একজন চাষি যখন লাঙল কাঁধে মাঠে চাষ করতে যায় বা একজন শ্রমিক যখন তার হাতিয়ার নিয়ে কারখানায় কাজ করে, তখন কি তারা সমাজের উপকার করছে বলে সেগুলো করে? তা তো নয়, তারা ওই কাজ করে তাদের জীবন ধারণের জন্য, খাওয়া-পরার জন্য। কিন্তু কাজগুলো এমনই যে তাতে সমাজের উপকার হয়। যে ভালো লোক, সে কারোর উপকার করতে না পারুক, অপকার তো করে না। কীটসের কথা ধরো, তিনি কখনো সোশ্যাল কমিটমেন্টের কথা বলেননি, কিন্তু তার কবিতা কি সমাজের কোনো অপকার করেছে? একজন কবি তার নিজের মুক্তির কথা লিখছেন, তা পড়ে অন্যেরাও মুক্তি অনুভব করছে। কবি তো আর দেবী স্বরসতীর সঙ্গে দায়বদ্ধতার চুক্তি করে লিখতে বসছেন না। তবে কবির দায়বদ্ধতা থাকে কবিতার প্রতি, নিজের প্রতি। সাহিত্যের শর্ত তাকে মানতে হয়। যারা সাহিত্যের শর্ত লঙ্ঘন করে, তারা সাহিত্যের ক্ষতি করে।’ ওদিকে রবীন্দ্র-পরবর্তীকালে বাংলা ভাষার প্রধান কবি হিসেবে কবি জীবনান্দ দাশকে বাংলাভাষার শুদ্ধতম কবি অভিধায় আখ্যায়িত করা হয়েছে। আধুনিক এই কবির মতে ‘সবাই কবি নয়। কেউ কেউ কবি; কবি-কেননা তাদের হৃদয়ে কল্পনার এবং কল্পনার ভেতরে চিন্তা ও অভিজ্ঞতার সারবত্তা রয়েছে, এবং তাদের পশ্চাতে অনেক বিগত শতাব্দী ধরে এবং তাদের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক জগতের নব নব কাব্যবিকীরণ তাদের সাহায্য করেছে। কিন্তু সবাইকে সাহায্য করতে পারে না; যাদের হৃদয়ে কল্পনা ও কল্পনার ভেতরে অভিজ্ঞতা ও চিন্তার সারবত্তা রয়েছে তারাই সাহায্যপ্রাপ্ত হয়; নানারকম চরাচরের সম্পর্কে এসে তারা কবিতা সৃষ্টি করবার অবসর পায়।’ কবিতা কি? এই প্রশ্নের উত্তর মানুষ যেভাবে খুঁজে ফিরেছে এবং যুগে যুগে কালেকালে যতশত কবি দার্শনিকগণ কবিতাকে নানা সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করতে চেষ্টা করেছেন, যত তর্ক বিতর্ক হয়েছে কবিতা নিয়ে সেই অনুপাতে গল্প কি? নাটক বা উপন্যাস কি? এই রকম প্রশ্ন সাধারণভাবে কারো মনে দানাবাঁধে না। বরং এরকম প্রশ্ন কেউ করলে সেটা হাস্যকর ব্যাপারেই পরিণত হবে। এর কারণটাও সহজ। গল্প উপন্যাস বা নাটক রচিত হয় একটা কাহিনী বা বিয়ষবস্তুকে কেন্দ্র করে। যা স্পষ্ট। যার শুরু এবং শেষটা বেশ গুছানো। কিন্তু কবিতা হয় একজন কবির চিন্তা চেতনার ফসল। যার কিছুটা সহজ বোধ্য আবার কিছুটা দুর্বোধ্য। কবির হৃদয়ের রক্তক্ষরণের কিছু ধরা যায় কিছুটা আবার ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। তবে কবিতা কখনো কখনো কাহিনী নির্ভর সহজবোধ্যও হয়। কবিতা কখনো কখনো মানুষের জীবনে আশ্রিত পিতার মতো। কবিতা কখনো কখনো নিজের মতো বেঁচে থাকার উপকরণ। সাধনায় প্রাপ্য সিদ্ধিলাভের মতো। আমি কে? আমার ভেতরে কে? এই প্রশ্ন চিরন্তন মানুষ মাত্রই অহরহ ঘুরপাক খাচ্ছে মনে মনে। বিশেষ করে কবি লেখকরা ধ্যানের গভীরে ডুবে নিজেকেই খোঁজার এবং বোঝার চেষ্টায় নিমগ্ন থাকেন বলেই আমরা জানি। মানুষ প্রথমে নিজেকে ভালোবাসতে শিখেছে। বেঁচে থাকার লড়াই করতে শিখেছে। মনের খোরাক খুঁজতে খুঁজতে প্রকৃতিকে ভালোবাসাতে শিখেছে। মানুষকে ভালোবাসতে শিখেছে। ঈশ্বর এবং কবিতাকে ভালোবাসতে শিখেছে। মানুষ প্রথমে নিজের গোপন ভালোলাগা মন্দলাগা কষ্ট প্রাপ্তি অপ্রাপ্তিগুলো একান্ত নিজের করে কবিতাক্ষরে লিখতে থাকে। এই লিখতে লিখতেই এক সময় নিজেকে প্রকাশের আকাক্সক্ষা প্রকাশ্যে আসে। পৃথিবীতে মানুষ হয়ে আসার স্বাক্ষর রেখে যাওয়ার আকাক্সক্ষা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই আকাক্সক্ষার বসবর্তী হয়ে রাজা বাদশাহরাও বিভিন্ন মসজিদ মন্দির নির্মাণ করে গেছেন। যা কালের সাক্ষী হয়ে শত শত বছর সেই সব শিল্পের নিদর্শন আজও টিকে আছে। তেমনি কবিতা কিংবা যে কোনো সাহিত্যও টিকে থাকে শত সহস্র শতাব্দিব্যাপী। এই পৃথিবী আমার। মা মাটি দেশ আমার। আকাশ প্রকৃতি প্রেমিক সন্তান আমার। আমি আমার। সুতরাং এই আমি আমার প্রেম (ঈশ্বর বা তুমি) আমরাই তো কবিতা। অর্থাৎ একজন কবি নিজের বা পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে জীবনবোধকে তুলে নিয়ে কবিতাক্ষরে যা আঁকেন সেই চিত্রটাকে সামগ্রিক আকারে রূপদান করতে পারাই কবিতা। শুধু ছন্দ মাত্রার ব্যাকরণের ছকে লেখা সারিবদ্ধ পঙ্ক্তিমালাকেই কবিতা বলে না। তবে ছন্দ মাত্রাকে অবশ্যই উপেক্ষা করা চলা যাবে না এইটিও সত্য। মনীষীরা বলেন, আইন জেনে তার পর আইন ভাঙো। অর্থাৎ ছন্দ মাত্রাকে রপ্ত করার পরেই তা ভাঙতে মন চায়লে ভাঙতে পারো। নতুন নতুন সৃষ্টির নামই কবিতা। কবিতা হলো শিল্প। দেশ কাল ছাড়িয়ে যা দার্শনিকতার মর্যাদায় অভিষ্ঠিত। কবিতা চিত্রশিল্পীর মতো মনের গভীরে আঁকা নানা স্বপ্ন কল্পনা, পাওয়া না পাওয়ার পরিমার্জিত ছবি। কবিতা নিজ নিজ জীবনদর্শণ। সাহিত্য কেন চর্চা করি বলতে গেলে আগে বলতে হয় সাহিত্য আসলে কি? আর এই প্রশ্নের আভিধানিক অর্থ করলে দাঁড়ায়, মনের সঙ্গে অর্থাৎ ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে জাগতিক বা মহাজাগতিক চিন্তা চেতনা, সৌন্দর্য স্বপ্ন কল্পনায় বোনা সুপাঠ্য এবং জনকল্যাণে হিতকর লিখনের বাস্তব রূপ সাহিত্য। যা মানুষ কিছুটা নিজের সুখ দুঃখ থেকে রচনা করে। কিছুটা প্রকৃতির বিমুগ্ধতা থেকে পায় এবং কিছুটা আত্মিক ধ্যানধারণা জ্ঞান থেকে অর্জন করে পাঠককে সুখ দুঃখ, আনন্দ বেদনায় ভাসিয়ে নিতে সক্ষম হয়। উইকিপিডিয়া সূত্র মতে, বাংলা ভাষায় সাহিত্য রচনার সূত্রপাত ঘটে অনুমানিক খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দির দিকে। তবে এই শুরুটার নিদৃষ্ট করে দিনক্ষণ তারিখ সেইভাবে উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি। অনুমান করা হয় খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত হয় বৌদ্ধ দোহা সংকলন চর্যাপদ। যা বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে আমরা পেয়েছি। গিতীকাব্যের মাধ্যমে প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্য তখন হিন্দু মুসলিম বিভিন্ন লৌকিক ধর্মবিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই মুলত গড়ে উঠেছিল। বৈষ্ণব পদাবলি, বৈষ্ণব সন্তজীবনী, মঙ্গলকাব্য, রামায়ণ, মহাভারতের বাংলা অনুবাদ, নাথসাহিত্য, পীরসাহিত্য, বাউল পদাবলি এবং ইসলাম ধর্মসাহিত্য ছিল এ সব সাহিত্যের মূল বিষয়বস্তু। খ্রিস্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীতে বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার প্রভাব পড়তে শুরু করে। এবং কলকাতা শহরকে কেন্দ্র করে উনবিংশ শতাব্দীতে এই সাহিত্য এক নবজাগরণ সৃষ্টি করে। আধুনিক সাহিত্যের সূত্রপাত হিসেবে তাই উনবিংশ শতাব্দীকে সাহিত্যের নতুন যুগ হিসেবে বিবেচিত করা হয়। এই সময় থেকে মানুষ ধর্মীয় বিষয়বস্তুর বৃত্ত থেকে বের হয়ে এসে মানবতাবাদ ও মানব মনস্তত্ত্বের বিষয়গুলোতে মনযোগী হয় এবং বাংলা সাহিত্যে সামাজিক সমস্যা, ব্যক্তির সুখ দুঃখ, প্রকৃতি প্রেম ইত্যাদি প্রধান লেখ্য ও আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে। পরবর্তীকালে অর্থাৎ ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর বাংলা সাহিত্য চর্চা দুটি ধারায় বিভক্ত হলেও বাংলা সাহিত্য বর্তমান বিশ্বে একটি অন্যতম সমৃদ্ধ সাহিত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। সাহিত্য চর্চাকে সাল তারিখ কিংবা দশকের গণ্ডিতে বাঁধতে কেউ কেউ পছন্দ না করলেও সাহিত্যকর্মের বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র্য বিবেচনা করে পণ্ডিতগণ বাংলা সাহিত্যের হাজার বছরের ইতিহাসকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন। যেমন (১) আদিযুগ বা প্রাচীন যুগ আনুমানিক ৬৫০ খ্রি. মতান্তরে ৯৫০ খ্রি. থেকে ১২০০ খ্রি.। (২) মধ্যযুগ ১২০১ খ্রি.-১৮০০। (৩) আধুনিক যুগ ১৮০১ খ্রি. থেকে বর্তমান কাল। আবার এই আধুনিক কালকেও আবার বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হযেছে। যেমন প্রাক রবীন্দ্র যুগ। রবীন্দ্র যুগ। রবীন্দ্রোত্তর যুগ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমসাময়িক বাংলা সাহিত্য। পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য। এবং পূর্বপাকিস্তান-বাংলাদেশের সাহিত্য। আমি এত সুবিস্তৃত আলোচনায় না গিয়ে শিরনামের সূত্র ধরে বলি। হাজার বছর আগের ইতিহাস থেকে বোঝা যায় মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশের চেষ্টায় ছিল বলেই ভাষার আশ্রয় নিয়েছে। এবং এই ভাষাকে সংরক্ষণ করার লক্ষ্যেই মানুষ কখনো পাহাড়ের গায়ে, গুহায়, গাছের ছাল বাকলে মনের ভাবগুলোকে আঁকিবুকির মাধ্যমে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করেছে। শুরুর দিকে সাহিত্যের মধ্যে এতো ভাগও দেখা যায়নি। যুগের সঙ্গে সঙ্গে ভাষার যেমন রূপ রস বদলেছে তেমনি ভাষাও বিভক্ত হযেছে দেশ কাল ব্যাপ্তিতে। এখন আমরা সাহিত্যকে দেখি বিভিন্ন ভাগে থরে থরে সাজানো। লেখ্য সম্পদকে গদ্য, প্রবন্ধ, ছোট গল্প, বড়গল্প, উপন্যাস, এবং কবিতাকে আধুনিক গদ্যকবিতা, কিশোরকবিতা, ছড়া ইত্যাকারে পাই। সাহিত্যের ইতিহাস পাঠ করে অনুমেয় হয় যে, বাংলা ভাষায় রচিত চর্যা পদাবলি ছিল সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের সাধনসংগীত। সুর করে পুঁথিপাঠ এবং গীতিকবিতা বাংলা সাহিত্যের আদিতম নিদর্শন। যদিও জয়দেবের গীতগোবিন্দম কবীন্দ্রবচন সমুচ্চয় এবং সদুক্তিকর্ণা মৃত সামক দুটি সংস্কৃত শ্লোকসংগ্রহ এবং ‘প্রাকৃত পৈঙ্গল’ কবিতা সংকলন বাঙালির সাহিত্য রচনার আদি নিদর্শন। এ সব গ্রন্থ বাংলা বৈষ্ণব সাহিত্যে গীতিগোবিন্দম কব্যের প্রভাব অনস্বীকার্য। জানা যায় শুরুদিকে রবীন্দ্রনাথের রচিত কাব্যেও জয়দেবের প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীরভাবে। সে যায় হোক। একজনের চিন্তা চেতনের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মঙ্গলময় কিছু ঘটলে সেটাকে বাঁকা দৃষ্টিতে দেখার কিছু নেই। কারণ সাহিত্য সংস্কৃতি হলো সম্পূর্ণ জীবন জুড়ে থাকা সুবিস্তৃত উপাদান। এটা একটা দেশের ভাষা সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে এবং একেকটা জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। এর চর্চা মানুষকে অনেক উচ্চাসনে অবস্থানের আসন তৈরি করে দেয়। সুতরাং সাহিত্য চর্চা অবধারিত আশীর্বাদ রূপে যে কোনো সমাজেই সে নিজের একটা জায়গা করেই নেয়। অন্ধকার থেকে আলোর পথে আসতে, শৃঙ্খলাবন্ধতা থেকে মুক্তির পথে আসতে সাহিত্য চর্চার অবদান অনস্বীকার্য। যুগে যুগে মানুষের জানার ইচ্ছা আগ্রহ ছিল আদম্য। একটা সময় তারকা গগনার মাধ্যমে মানুষ ভূত-ভবিষ্যৎ রচনা করেছেন। এই করতে গিয়ে কতশত মনিষী বিজ্ঞানী জীবন পর্যন্ত দিয়েছেন। তাদের আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছে। কিন্তু মানুষকে কোনো শাসনই দমাতে পারেনি। জ্ঞান বিজ্ঞান দর্শন ধর্ম কল্প সাহিত্য চলেছে তার আপন গতিতে। এই জানার আগ্রহ স্পৃহা এখনো চলমান। মানুষ নিজের একাকিত্বের দুঃখ ব্যথা। সুখ আনন্দ স্বপ্নকে নিজের মনের মাধুরী দিয়ে গল্প গদ্য কবিতায় রূপদান করে এবং এতে করে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি লাভ করে। কখনো কখনো কল্পনায় সাজানো গল্প কারো কারো সঙ্গে কোথাও না কোথাও মিলে গেলে বা গভীরভাবে ছুঁয়ে গেলে সেই গল্প বা কবিতা অমরত্ব লাভ করে। কালজয়ী হয়ে ওঠে। একজন লেখকের সাহিত্য সাধনার সার্থকতাও এইখানে। নিজের স্বপ্নকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারা। তাই সমাজ পরিবর্তনের প্রশ্নে সাহিত্য চর্চা চলবে পৃথিবী ধ্বংসের পূর্ব পর্যন্ত। একটি দেশের মুক্তি কিংবা উন্নয়নেও সাহিত্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। সুতরাং সাহিত্য ছাড়া জীবন অসম্ভব। প্রতিনিয়ত পুরাতনকে পেছনে ফেলে নতুন নতুন সৃষ্টিকে সঙ্গে নিয়ে পৃথিবীর গতি যেমন চলমান, সাহিত্যও ঠিক তাই। আর এই চলমানতাকে রোধ করার চেষ্টা করা মানেই একটি দেশকে ধ্বংস করে দেয়া। একটি জাতিকে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়া। কিংবা বলা যায় একটি সভ্যতাকে হত্যা করার সামিল। কেননা আমরা জানি যে, শিল্প সাহিত্য শুধু বিনোদনই নয়। শিল্প সাহিত্য চেতনা, বিজ্ঞান, দর্শন। লিউওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির কল্পনায় আঁকা একটি ছবি পরবর্তীকালে উড়োজাহাজ তৈরিতে যেমন বিজ্ঞানীদের সাহায্য করেছে। তেমনি এই একইভাবে নানা সময়ে পৃথিবীর নানা দেশের কবির কবিতায় ফুটে ওঠা কল্পচিত্র ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানের সহায়ক হয়েছে। অর্থাৎ সভ্যতাকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। সমাজ জীবনে এমনকি দৈনন্দিন জীবনে সাহিত্য বলি আর কবিতা বলি এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রতিটি মুহূর্ত্বে আমাদের প্রেরণায়, আমাদের জ্ঞানে বিজ্ঞানে জীবনকে গতিময় করতে সাহিত্যচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Leave a Reply
88acf17a-8677-4fe1-a3a5-33c6cc398bdd
পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় দ্বিগুণের বেশি বাড়ছে। সেতু নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং ডুবোচরগুলো জেগে উঠায় ব্যক্তি মালিকানার জমিতে ড্রেজিং এর মাটি ফেলা যাচ্ছে না। এজন্য পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ (২য় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় অতিরিক্ত ১৪শ কোটি টাকা ব্যয়ে ১হাজার ১৬২ দশমকি ৬৭ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে সেতু বিভাগ। প্রকল্পটি আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে (একনেক) অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ১৪শ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও সবমিলিয়ে প্রকল্প ব্যয় বাড়বে ৪ দশমিক ৮৬ ভাগ। মূল প্রকল্পের ৫ ভাগের কম ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো প্রকল্পটি সংশোধনের প্রয়োজন হবে না। তাছাড়া মূল ডিপিপি সংশোধন হলে আরো বিলম্ব হবে। এজন্য ভূমি অধিগ্রহণের এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সেতু বিভাগের আওতায় পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পটির ২য় সংশোধনী ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি একনেক সভায় অনুমোদন হয়। প্রকল্পটি বর্তমানে ৫টি ভাগে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে জাজিরা সংযোগ সড়ক, মাওয়া সংযোগ সড়ক এবং সার্ভিস এরিয়া-২ এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মূল সেতু নির্মাণ এবং নদী শাসন কাজ চলমান রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মূল সেতুর ১ম স্প্যান স্থাপন করা হয়। বর্তমানে আরো দুটি স্প্যান বসানো হয়েছে। পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ (২য় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পে ১৫৩০ দশমিক ৫৪ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ১ হাজার ২৯৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা সংস্থান রয়েছে। বর্তমানে সেতু বিভাগ ১৪শ কোটি টাকা ব্যয়ে আরো ১১৬৬ দশমিক ৬৭ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করেছে। সর্বশেষ অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী ১৫৩০ দশমিক ৫৪ হেক্টর জমির মধ্যে এ পর্যন্ত ১৪৭২ দশমিক ৬০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ বাবদ ১ হাজার ২৯৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং ৪০ দশমিক ৮১ হেক্টর জমি হুকুম দখল বাবদ ৮৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে সেতু বিভাগ জানিয়েছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বিস্তারিত নকশা অনুযায়ী ২০০৯ থেকে ২০১৩ সময়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজের বিস্তারিত নকশা তৈরি হয়। এক্ষেত্রে নদী শাসন কাজের চুক্তিতে ড্রেজিং করে ৬ কোটি ঘনমিটার বা ২১২ কোটি ঘনফুট মাটি নির্ধারিত স্থানে ফেলার লক্ষ্য ছিলো। এজন্য জাজিরা প্রান্তে মূল সেতুর উজান ও ভাটির ডুবোচর এলাকায় কিছু স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিলো। সর্বশেষ ২য় সংশোধিত ডিপিপি ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে অনুমোদনকালে চিহ্নিত স্থানের জমিগুলো ডুবোচর ছিলো এবং সেখানে কোন চাষাবাদ বা জনবসতি ছিলো না। যে কারণে সেসময় আলাদা করে জমি অধিগ্রহণ করার প্রয়োজন হয় নি। পরবর্তীতে পদ্মা সেতু প্রকল্পটি বিলম্বে শুরু হওয়ায় নদীর গতি-প্রকৃতিও পরিবর্তন হয়। ফলে মূল ডিজাইনে চিহ্নিত স্থানগুলো পলি জমে ভরাট হয়ে যায় এর ফলে জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। জমির মালিকরা ভরাট জমিতে বসতি স্থাপন এবং চাষাবাদ শুরু করে। এজন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ড্রেজিং করে মাটি ফেলতে পারেনি। অন্যদিকে জাজিরা প্রান্তে মূল নদীশাসন কাজের সীমানার কিছু অংশ পানির নিচে অবস্থিত হওয়ায় ইতোপূর্বে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। ফলে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে চাইছে সেতু বিভাগ। Leave a Reply
9be328c9-b2c4-4b20-b8d1-29bf0fe24d60
বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ০৪:০৯ অপরাহ্ন ফ্রান্সের সঙ্গে আর্জেন্টিনার সব ধরনের সম্পর্ক ভালো। একে অপরের সঙ্গে সব সময় সহযোগিতার হাত ধরে চলছে দুই দেশ। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবলে আজ এমন এক পরিস্থিতি এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে আর্জেন্টিনা-ফ্রান্সের দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় বন্ধুত্বের কোনো মূল্য থাকবে না! রাশিয়ার কাজান স্টেডিয়ামের দুই গোলপোষ্টের মাঝে ১২০ গজে আর্জেন্টিনা-ফ্রান্সের ফুটবল লড়াই দুই দেশের শত বছরের পুরোন সম্পর্ক ভুলিয়ে রাখবে ৯০ থেকে ১২০ মিনিট পর্যন্ত। উভয় দল জানিয়ে দিয়েছে তারা ১২০ মিনিট পর্যন্ত খেলাটাকে নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ কেউ কাউকে দেবে না। ৯০ নিমিটের আগেই নিশ্চিত করতে চায় কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার টিকিট। নকআউট পর্বের এই ম্যাচ উভয় দলের জন্যই হবে অগ্নি পরীক্ষা। মেসি যাদু না ফরাসি চমকে মুগ্ধ হবে সারাবিশ্ব-সেটাই এখন দেখার বিষয়। দুই দলের ফুটবল লড়াই উপভোগ করার জন্য বাংলাদেশের কোটি দর্শকও মুখিয়ে আছে। সমর্থকদের প্রত্যাশা-সি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স আজ ফরাসি ফুটবলের মোহনীয় সৌন্দর্য মেলে ধরবে। মেসি, মাচেরানো, ডি মারিয়াদের ঘায়েল করতে চমক দেখাবে মিশেল প্লাতিনি, জিনেদিন জিদানের উত্তরসূরী সেমুয়েল, পগবা, গ্রীজম্যান, অলিভার, রাফায়েলরা। ফ্রান্সের আছে তারুণ্যের শক্তি, আছে স্পিড। গ্রুপে দুর্দান্ত লড়াই করে ফ্রান্স খুব ভালো মুডে আছে। কোনো খেলায় হারেনি। অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটা মাত্র গোল হজম করলেও সেটি পেনাল্টি থেকে এসেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার অভ্যন্তরে যতই কোন্দল থাকুক তারা যে কোন সময় জ্বলে উঠতে পারে, চোখ রাঙ্গানি দিতে পারে! ফ্রান্স সেই ছবিটা দেখেছে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে। কিভাবে ছোঁ মেরে খেলাটা নিয়ে গেল মেসিরা। ইউরোপীয়ান আর লাতিন আমেরিকার ফুটবলে পার্থক্য থাকলেও মেসিদের দলে যারা খেলেন তাদের সবাই প্রায় বছরজুড়ে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে খেলেন। তাই ইউরোপের পাওয়ার ফুটবলকে ঘায়েল করার মন্ত্রটা তাদের জানা থাকারই কথা। মেসি তো দুই দিন আগেই জানিয়েছেন ফ্রান্সের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ‘ফাইনাল ম্যাচ’ খেলবে। এ-ও বলেছেন দুই দলের ফিফটি ফিফটি চান্স থাকবে। মেসি যাই বলুক চাপে থাকবে তার দল। রাশিয়ায় ভলগা ও কাজানাক নদীর তীর ঘেষে কাজান শহর। সবুজ নির্সগ ঘেরা এর স্টেডিয়াম। মস্কো কিংবা সেন্ট পিটারসবার্গে যেমন ঠান্ডা ছিল কাজানে ঠিক তার উল্টো, খুবই গরম। কাজান শহরে সাড়ে তিন লাখ মুসলিম বসবাস করেন। আধুনিক এই শহরে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফুটবল লড়াই দেখার জন্য দর্শকের ভিড় বাড়ছে। কাজান জয় করতে ফ্রান্সের বিপক্ষে মেসিরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে গতকাল দুপুরেই পৌঁছেছে। দেশকে কিছু দিতে হবে। ট্রফি ছাড়া অন্য কিছু ভাবছে না তারা। ৭৮ ও ৮৬ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ৯৮ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ১৯৩০ ও ১৯৭৮ সালে দুই বার বিশ্বকাপ ফুটবলে মুখোমুখি হয়েছিল। দুইবারই আর্জেন্টিনার জয় হয়েছে। আর্জেন্টিনার কোচ সাম্পাওলি নাইজেরিয়ার বিপক্ষে পাওয়া জয়ের পর সেই পুরোন একাদশটাই ধরে রাখতে চান। তার হিসাবে কোচের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ১৪টি ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা। একাদশটাকে সেভাবেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলানো হয়েছে। ২৩ ফুটবলারের মধ্যে ১৯ জনকে খেলানো হয়ে গেছে। আর্জেন্টিনার সবেচেয়ে বড় দুর্ভাবনা হচ্ছে তাদের দলে হলুদ কার্ডের সংখ্যাটা। মেসি-মাচেরানোসহ ৬ জন হলুদ কার্ড দেখেছেন। আজকে ফ্রান্সের বিপক্ষে কেউ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেলেই পরের খেলায় (পর্তুগাল অথবা উরুগুয়ের সঙ্গে) সে আর নামতে পারবে না। Leave a Reply
070921d5-d7d3-45ac-b7fb-a839d8d2a269
জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে ঢালাওভাবে শিল্পাঞ্চল স্থাপন না করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পাশাপাশি নতুন করে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের আর্থিক সামর্থ্য, ব্যাংক ঋণ, ব্যবসার সুনাম যাচাই করার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের ৬ষ্ঠ সভায় এমন নির্দেশনা এসেছে। গত ২৭ মে অনুষ্ঠিত ওই সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সভায় মোট ২৮টি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলেও ৪টি সরকারি এবং ৬টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, সভায় প্রধানমন্ত্রী সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠাকালে ব্যক্তিমালিকানাধীন একাধিক ফসলি জমি এবং বসতবাড়ি আছে, এমন জমি যথাসম্ভব পরিহার করে খাস জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে প্রদানকৃত লাইসেন্সভুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপন ও অপারেশন নিশ্চিত করার পর পুনরায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের আবেদন বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন। এছাড়া বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এখন থেকে সাধারণত একশ একর জমি রয়েছে এমন প্রস্তাব বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য প্রস্তাব পাঠানোর আগে আবেদনকারীর জমির পরিমাণ, আর্থিক সামর্থ্য, ব্যাংক ঋণ ব্যবসার সুনাম যাচাই করা হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) পবন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদনের ক্ষেত্রে আমরা অনেক যাচাই-বাছাই করছি। এর সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনুমোদন পাওয়া ৬টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে দুইশ কোটি ডলারের বিনিয়োগ এসেছে এবং ১৩ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো সফল ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন করে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদনে তাই আরো সতর্ক হতে প্রধানমন্ত্রী এমন নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খাস বা পতিত জমি ব্যবহার করা হচ্ছে। এরপরেও এসব খাস জমিতে যে কয়টি পরিবার পাওয়া যাচ্ছে তাদেরকেও পুনর্বাসনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। সারাদেশের জন্য জোন প্লানিং অতিদ্রুত সম্পন্ন করা হবে। পরিকল্পিত অঞ্চলেই অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হবে। সকলকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বেজা সূত্রে জানা যায়, বেজা গভর্নিং বোর্ড দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এযাবত্ ৭৯টি স্থানে মোট ৭৯ হাজার ২০৮ একর জমির উপর অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। সরকারি ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব ভিত্তিক (পিপিপি) অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহের বেশির ভাগ খাস জমি বন্দোবস্ত গ্রহণের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বেজা স্বল্প মেয়াদে ১৮টি প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এজন্য পাঁচ বছর মেয়াদে একটি ‘বেজা অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল’ গঠনের বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়। গভর্নিং বোর্ডের সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে এ ধরনের তহবিল গঠনের সুযোগ নেই। এজন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান করা যেতে পারে। সূত্র জানায়, প্রতিটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে হ্রদ বা জলাধার নির্মাণ নিশ্চিত করার উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থনৈতিক অঞ্চলে নির্মিতব্য প্রত্যেক ভবনের বৃষ্টির পানি জলাধারে সংরক্ষণ করে অগ্নি নির্বাপণ কাজসহ এই পানির বহুমুখী ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মিরসরাই-কক্সবাজার নির্মিতব্য মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে খাস জমি চিহ্নিত করে তাতে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প স্থাপনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সভায় উল্লেখ করেছেন, অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীগণ পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দ নিয়ে শুধু রিফাইনারি স্থাপন করেন। তিনি পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প স্থাপনের নামে যাতে শুধু রিফাইনারি স্থাপন করা না হয় সেটি নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা দেন। সভায় আগারগাঁয়ে নিজস্ব জমিতে বেজার বহুতল বিশিষ্ট প্রধান কার্যালয় নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী এই মুহূর্তে বেজার নিজস্ব ভবন তৈরি না করে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। Leave a Reply
12969e88-3353-4207-ab09-b818b0c6023b
বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ০২:৩৬ অপরাহ্ন ভূয়া সাংবাদিকদের সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে খোদ পুলিশেরও অনেকটা ভুমিকা রয়েছে। কারণ, পুলিশের সঙ্গেই ওইসব ভূয়া ও নামধারী সাংবাদিকদের বেশি সখ্যতা। এরা প্রায়ই থানার ভিতরে দারোগাদের সাথে গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডাবাজিতে মত্ত থাকে। ‘দালাল’ হিসেবে ঘুষ বাণিজ্যে সরাসরি সহায়তা করে, পুলিশের ‘সোর্স’ হিসেবেও তারা বিশ্বস্থ! সারা দেশে ‘ভুয়া মানবাধিকার কর্মি আর ভূয়া সাংবাদিক’দের দৌরাত্ম্য অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে চরমে পৌঁছেছে। ভুয়া সাংবাদিকেরা বিভিন্ন প্রতারণার ফাঁদ পেতে এবং তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠনের সদস্য-সমর্থকরা নিজেদেরকে ‘মানবাধিকার সাংবাদিক’ পরিচয় দিয়ে নিরীহ লোকজনকে নানাভাবে হয়রানি করছে বলেও এন্তার অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিক পরিচয়ে এরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জমি দখল, দোকানপাট দখল, ধর্ষণ, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত হয়ে পড়ছে। এই চক্রে বিতর্কিত নারী সদস্যও থাকেন। এরা মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ‘প্রেস’ কিংবা ‘সংবাদপত্র’ লিখে পুলিশের সামনে দিয়েই নির্বিঘ্নে দাবড়ে বেড়ায়। এদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনও থাকে চোরাই এবং সম্পূর্ণ কাগজপত্রবিহীন। ভূয়া সাংবাদিক আর কথিত মানবাধিকার কর্মিদের নানা অপকর্মের কারণে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি এখন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আর বর্তমানে এফবি খোললেত কোন কথাই নেই সাংবাদিক আর মানবাধিকার নেতার অভাব নেই। এতে করে পেশাদার সাংবাদিকরা আজ নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করেন। অলিতে গলিতে গজিয়ে উঠেছে নাম সর্বস্ব ভূয়া মানবাধিকার সংগঠন। যার মাধ্যমে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এই ভূয়া মানবাধিকার সংগঠনের কারনে মানবাধিকার শব্দটি আজ আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কারনে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষ মানবাধিকার এর উপর থেকে তাদের আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে। মানবাধিকারের একটি চক্র জেল থেকে আসামী ছাড়ানো এবং নির্যাতিত মানুষকে আইনী সহায়তা প্রদানের নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে। পাশাপাশি সারা দেশ ব্যাপী চলছে তাদের কার্ড বাণিজ্য। যাদের মানবাধিকার সম্বন্ধে নূন্যতম জ্ঞানও নেই তাদের হাতে মাত্র এক হাজার টাকার বিনিময়ে তুলে দেওয়া হচ্ছে মানবাধিকার কর্মীর আইডি কার্ড। তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে থানা কমিটি এবং ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে জেলা কমিটি গঠনের অনুমোদনও দেয়া হচ্ছে। ব্যাঙ্গের ছাতার মতো সারা দেশে খুলে বসেছে শাখা প্রশাখা, এমনও অনেক সংগঠন আছে যারা সরকারের কোন সংস্থারই অনুমোদন না নিয়ে দীর্ঘ দিন থেকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু মাত্র প্রেস লেখা আইডি কার্ড কেনাবেচাই যাদের মূল পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার নামক সংস্থায় কাজ করে মুরগী আর পান ব্যবসায়ী, পেশাদার ছিনতাইকারীরা নামের আগে পিছে বসাচ্ছে সাংবাদিক। নিজের নাম লিখতে কলম ভাঙ্গে, সাংবাদিক বলতে গেলে উচ্চারণ করে বসে সামবাদিক, নিজের সংগঠনটির নাম পর্যন্ত বলতে পারে না-তারাই রাতারাতি মানবাধিকার-সাংবাদিক সংগঠনের নেতা বনে গেছেন। ভূয়া সাংবাদিকদের প্রতারণার জাল কোনো এক ছড়াকার টিটকারির সুরেই ছন্দ মিলিয়ে লিখেছেন- ‘হঠাৎ করে এই শহরে এলো যে এক সাংবাদিক, কথায় কথায় তোলে ছবি ভাবখানা তার সাংঘাতিক। তিলকে সে বানায় তাল-তালকে আবার তিল, চড়ুইকে সে পেঁচা বানায় কাককে বানায় চিল। পুলিশ দেখে মুখ লুকিয়ে পালায় দিগ্বিদিক, সবাই বলে লোকটা নাকি ভূয়া সাংবাদিক।’ পেশাদার সম্মানিত সাংবাদিকদের জন্য বিষয়টি লজ্জাকর হলেও ছড়া ছন্দের মতই ভূয়া সাংবাদিকরা দেশ জুড়ে বেহাল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে ফেলেছে। সাংবাদিকদের মতো বেশভূষায় সেজেগুজে একশ্রেণীর প্রতারক অলিগলি, হাট-বাজার চষে বেড়াচ্ছেন। পান থেকে চুন খসলেই রীতিমত বাহিনী নিয়ে হামলে পড়ছেন সেখানে। প্রকৃত ঘটনা কি-সে ঘটনার আদৌ কোনো নিউজ ভ্যাল্যু আছে কি না, সেসব ভেবে দেখার ফুসরৎ তাদের নেই। তাদের দরকার নিজেদের প্রতাপ দেখিয়ে, আতংক ছড়িয়ে টুপাইস কামিয়ে নেয়া। টাকা পকেটে না আসা পর্যন্ত চিল্লাপাল্লা, হুমকি, ভীতি প্রদর্শনের সব কান্ডই ঘটিয়ে থাকেন তারা। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত পল্লীর সাধারণ বাসিন্দারা পর্যন্ত কথিত সাংবাদিক কার্ডধারী ভূয়াদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন, তটস্থ থাকছেন। পেটে বোমা ফাটালেও দু’ লাইন লেখার যোগ্যতাহীন টাউট বাটপারের দল চাঁদাবাজিতে সিদ্ধান্ত। ভূয়া সাংবাদিকের দৌরাত্ম্য নতুন নয়, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তা বেড়ে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজধানীর মালিবাগে ফরিদপুরর রিমন মাহমুদ ওরফে রুদ্র রিপন, ওরফে রুদ্র মাহমুদ একক সময় একেক নাম ব্যবহারকারী দিগন্ত সংবাদ নামক একটি অনলাইন খোলে তাদিয়েই সে নাকি বড় সাংবাদিক দেশের যত জোয়ার আখড়া ও হুন্ডি ব্যবসায়ি রয়েছে তার কাছে সবাই ধরা আর তারাই নাকি তাকে প্রতি মাসে হাজারহাজার টাকা দিতে হয়। ব্যাক্তিগত জীবনে বিবাহিত তার স্ত্রী গ্রামীন ফোন কোম্পানীর কর্মচারী আর মা ফরিদপুরে ইউনিয়ন পরিষদে মহিলা সদ্য হিসেবে নির্বচন করে এ নির্বাচনে হেরে যায়, আয়ের কোন বৈধ্য উৎহ না থাকলে চলে চলে রাজার হালে আর এই সবের পিছনে রয়েছে গ্রামের মহজ সরল মেয়েদেওে ঢাকাতে এনে দেহব্যবসায় লাগানো আর এখানের আয় দিয়েই তার রাজকীয় চলা ফেরা কিন্তু বিধিবাম এই ব্যবসায় বেশীদুর আগাতে পারেনী গেন্ডারিয়া থানা পুলিশের হাতে কয়েকজন পতিতাসহ গ্রেফতার হয়ে জেল খাটেন অনেকদিন বর্তমানে এলাকাছাড়া। সাংবাদিকতার যে মহান পেশা সকল শ্রেণী-পর্যায়ের ঘুষ-দুর্নীতি, অনিয়ম, বিভ্রান্তি, অসঙ্গতির বিস্তারিত তুলে ধরে, এখন সে পেশার নাম ভাঙ্গিয়েই চলছে ভয়ংকর ফাঁকিবাজী, চাঁদাবাজি, জোর-জুলুমের হাজারো কারবার। কারা অপকর্মটি করছেন? অনেকেরই তা জানা আছে। সাংবাদিক না হয়েও সাংবাদিকতার বেশভূষা তাদের মূল পুঁজি। খ্যাত-অখ্যাত একাধিক গণমাধ্যমের ৪/৫টি আইডি কার্ড বুকে পিঠে ঝুলিয়ে দাপিয়ে বেড়ায় সর্বত্র। যারা পেশাদার সাংবাদিক তাদের কারো না কারো সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে সাইনবোর্ড হিসেবেও ব্যবহার করেন তারা। সম্ভব হলে সাংবাদিকদের কোনো সংগঠনে নিজের নামটা লিখিয়ে নেয়, তা না হলে নিজেরাই ‘সাংবাদিক’ ‘রিপোর্টার’ ‘প্রেসক্লাব’ শব্দ যোগ করে ভূইফোঁড় কোনো সংগঠন খুলে বসে। প্রয়োজনে টাকা-পয়সা খরচ করে রেজিস্ট্রেশনও করিয়ে নেয়। পেশাজীবী সংগঠন গড়তে, বৈধতা পেতে যেহেতু আলাদা কোনো নিয়ম কানুনের দরকার পড়ে না; সেই সুযোগে কাওরানবাজারের আলু পটলের ব্যবসায়ি, মুগদা-মান্ডার বংশানুক্রমের জেলেও এক মুহূর্তেই সাংবাদিক ফাউন্ডেশন নামক সংগঠনের রেজিষ্ট্রেশন পেয়ে যাচ্ছেন। তখন তাদের বুলি থাকে অন্যরকম-“আমি সাংবাদিক কি না সেটা আপনার জানার দরকার নাই, আমি সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্ট। আমি সাংবাদিক বানাই, আমার স্বাক্ষরে আইডি কার্ড দেই- আমার পরিচয় আলাদাভাবে দেয়ার কি আছে? ভূয়াদের এতোসব সাংগঠনিক প্রক্রিয়া ও কথিত ক্লাব-ইউনিটির দাপ্তরিক প্রতারণার ধকলে নানাভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মানুষজন। প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে মহান সাংবাদিকতার পবিত্র পেশাটিও। টাকায় কেনা পদ-পদবি॥ আইন সহায়তা প্রদানের নামে গড়ে তোলা কথিত এক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এক হাজার টাকায় তাদের সদস্যপদ বিক্রি করছে। কোন থানা কমিটি করতে আগ্রহীদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং জেলা কমিটির জন্য ১০ হাজার টাকা ফি আদায় করে নেয়। শর্ত দেওয়া হয়, সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে কোন টাকা আয় হলে তা আলোচনার মাধ্যমে ভাগাভাগি করে নিতে হবে। আজীবন সদস্য হতে হলে দিতে হবে অন্তত ১০ হাজার টাকা। সংগঠনের কোন সদস্য সাংবাদিক হতে চাইলে ‘সাংবাদিক কার্ড’ বাবদ দিতে হবে আলাদা টাকা। শুধু এই ফাউন্ডেশনই নয়, এভাবে সাধারন মানুষের সঙ্গে মানবাধিকারের নামে প্রতারনা করছে দেড় শতাধিক তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠন। জয়েন্ট স্টক কোম্পানী ও ফার্মস এর দপ্তর থেকে সোসাইটি এ্যাক্টের অধিনে নিবন্ধন নিয়ে মানবাধিকারের নামে প্রতারনা করছে বিভিন্ন চক্র। এই প্রতারক চক্রের একটি বড় অংশ বিভিন্ন অখ্যাত আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার কার্ডধারী সাংবাদিক। কনজুমার রাইটস সোসাইটি নামে একটি সংগঠনের প্রাদুর্ভাব রয়েছে দেশজুড়ে। সোসাইটি এ্যাক্টের অধিনে নিবন্ধন নেওয়া এই সংগঠনের আইডি কার্ডের উপরে বড় করে লেখা রয়েছে “গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা”। গভ: রেজি: এস-৭০০৬ (১৯৪)/০৭, অফিস- ১২০/এ মতিঝিল সি/এ (চতুর্থ তলা) ঢাকা। একই ভাবে মানবাধিকার ও পরিবেশ সাংবাদিক সোসাইটি নামেও আরেকটি সংগঠন সদস্যদের ‘মানবাধিকার সাংবাদিক’ হিসেবে পরিচয়পত্র দেওয়ার নাম করে এক হাজার টাকা এবং বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কমিটি গঠন করে আঞ্চলিক পরিচালক, সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদের জন্য ৩ হাজার টাকা করে আদায় করছে। মানবাধিকার সংগঠনের নামে প্রতারনার অভিযোগে ইতিপূর্বে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) থেকে ভুয়া সাংবাদিক ও তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ক্রাইম রিপোর্টার্স ফাউন্ডেশন’ এর চেয়ারম্যান এসএম হুমায়ুন কবীরসহ তিনজনকে আটক করেছিল পুলিশ। এই সংগঠনটিও ঢাকাসহ সারাদেশে টাকার বিনিময়ে প্রায় ১৫ হাজার ব্যক্তিকে ‘প্রেস’ লেখা আইডি কার্ড বিতরণ করেছে। একইভাবে ফেয়ার ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস সোসাইটি, সামাজিক পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, আর্ন্তজাকিত সাংবাদিক মানবাধিকার সোসাইটি, জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটি, বাংলাদেশ পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি, হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি, কনজুমার এন্ড প্যাসেঞ্জার রাইটস প্রোটেক্ট সোসাইটি, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস জার্নালিস্ট এন্ড কালচারাল সোসাইটি নামের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নানারকম দৌরাত্ম্য লক্ষ্য করা যায়। কিম্ভূতকিমাকার নামধামের এসব মানবাধিকার সংগঠনের কর্মকান্ড মনিটরিং না করায় বাধাহীনভাবে তাদের অপকর্ম বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে রাজথানীর কদমতলী এলাকায় মিরাজনগর মিজানের বাড়ীর ২য় তলায় গজিয়ে উঠেছে আরেক ভূয়া সংগঠন আর্ন্তজাতিক এই সংগঠনটির সরকারী কোন অনুমোদন না থাকলেও লেথা রয়েছে আর্ন্তজাতিক সনদপ্রাপ্ত, এই সংগঠনের মালিক এলাকার সাধারন মানুষকে সদস্য করা তাদের পাশে দাড়ানো এবং উপকার নাম করে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা, অভিযোগ রয়েছে এই সংগঠনের মালিক বেশীদিন এক স্থানে অফিস নিয়ে থাকতে পারেনা তার কারন কিছুদিনের মধ্যেই তার আসল রুপ জানতে পাওে আর সে জন্য সে রাতের আধারে পালিয়ে গিয়ে অন্যস্থানে ভিন্ননামে সংগঠন খোলে প্রতারনা কওে আসছে প্রতিনিয়ত। সরেজমিন ঘৃণাচিত্র ॥ একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রস্তুতের নিমিত্তে গত কয়েকদিন রাজধানীর থানা প্রাঙ্গনগুলোতে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সরেজমিনকালে এক হতাশাব্যঞ্জক চিত্রই বেরিয়ে আসে। বিভিন্ন নামের হরেক আকৃতির পত্রিকা আর মানবাধিকার সংগঠনের ‘সাংবাদিক কার্ডধারীরা’ থানা-পুলিশের দালালি ও তদবির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। অনেকে আইডি কার্ড ঝুলিয়ে প্রকাশ্যেই পুলিশ, র্যাব, ডিবি’র সোর্সের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত। সংগঠনগুলো থেকে দেয়া আইডি কার্ডসমূহে ‘মানবাধিকার লংঘন সংক্রান্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা’ ফিল্ড অফিসার, জোনাল অফিসার (ইনভেস্টিগেশন), থানা কমিটির সেক্রেটারী, মহানগর কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, কো-অর্ডিনেটর (তদন্ত সেল), পরিচালক (তদন্ত) ইত্যাদি পদবী লেখা থাকে। সন্ধ্যার পর একেকটি থানা চত্বরে, আশপাশের চা দোকানে, দারোগাদের টেবিলে টেবিলে ১৫/২০ জন কথিত সাংবাদিক ও তথাকথিত মানবাধিকার কর্মির জটলা থাকে। থানা, ফাঁড়ি, পুলিশ ষ্টেশন কেন্দ্রিক তথাকথিত সাংবাদিক আর মানবাধিকার তদন্ত কর্মকর্তার সংখ্যা কত-তা হিসেব কষে বলা মুশকিলই বটে। থানায় থানায় গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ কেন্দ্রিক কি কাজ তাদের ? সরেজমিন অনুসন্ধানকালে যে দৃশ্যপট দেখা গেছে তা সবিস্তারে উল্লেখ করে ঘৃণার বিস্তার ঘটানো অবান্তর। শুধু এটুকু উল্লেখ করা জরুরি যে, এদেশে কামাল লোহানী, আকরাম হোসেন খাঁন, রেহমান সোবহান এর মতো ব্যক্তিত্বও মানবাধিকার কর্মি- অন্যদিকে যাত্রাবাড়ীর হেরোইনসেবী, পেশাদার গ্রিলকাটা চোর হিসেবে খ্যাত মনোয়ার হোসেন মানু মিঞাও হয়েছেন মানবাধিকার রক্ষা পরিষদের তদন্ত সেলের কো-অর্ডিনেটর। একইভাবে খুশী কবির, এলিনা খান’রা যখন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন- তখন এর বিপরীতে মিরপুর থানার তালিকাভুক্ত দেহ ব্যবসায়ি, পর তিন বার গ্রেফতার হয়ে জেল খাটা আসামি আইরিনও শক্ত অবস্থান নিয়ে মানবাধিকারের আইডি কার্ড ব্যবহার করছেন। আইরিনের চাররঙা ভিজিটিং কার্ডে লাল হরফে লেখা আছে ‘মাদক রোধ ও মানবাধিকার সংঘ’, রেজিঃ নং-। নিচে মোটা অক্ষরে আইরিন সুলতানা’র পদবীর ঘরে লেখা রয়েছে যুগ্ম সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি, সদস্য সচিব-ঢাকা মহানগর কমিটি এবং ভাইস চেয়ারম্যান-মিরপুর থানা কমিটি। আইরিনের বাসা থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন জন দেহজীবি ও চার জন খদ্দেরকে অসামাজিক কার্যকলাপরত অবস্থায় গ্রেফতার করে। তাদেরকে ছাড়ানোর জন্য আইরিন থানার ভিতরে ঢুকে তদবির ছোটাছুটিতে ব্যস্ত ছিলেন। তদবিরকালে থানা পুলিশের কোনো কোনো কর্মকর্তাকে তিনি টাকা দিয়ে ম্যানেজ করছিলেন, আবার কোনো কোনো কর্মকর্তার হাতে নিজের ভিজিটিং কার্ড ধরিয়ে দিয়ে হুমকি ধমকিও দিচ্ছিলেন। কী সেলুকাস !! কত বৈচিত্য আর বিচ্যুতিতে ভরা প্রিয় বাংলাদেশ । Leave a Reply
32ab004c-b5ed-4866-a505-114a25aba4f8
বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ১২:২৮ অপরাহ্ন শংসার ফুলের সৌরভে তাঁর মুখরিত হওয়ার সম্ভাবনা এখন যতখানি, এর চেয়ে বেশি নিন্দার কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত হওয়ার চোখরাঙানি। সময় এমনই এক সন্ধিক্ষণে এনে দাঁড় করিয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। যেখানে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক এখন আর কিছুতেই ‘সবার’ নন। কারণ খেলা ছাড়ার আগেই রাজনীতির দুর্বোধ্য জগতে পা রেখে ফেলেছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে ভোটযুদ্ধে নামছেন বলে বোধগম্য কারণেই অনেকের হৃদয়াসন থেকেও ছিটকে পড়েছেন। এই মাশরাফি তাই সর্বজনের নন। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ছাতার নিচে যাওয়া ‘বিভাজিত’ মাশরাফি। বিভাজনে দ্বিখণ্ডিত মাশরাফি খেলোয়াড়ি জীবনে চড়াই-উতরাই কম পেরোননি। হোঁচট খেয়েছেন কিন্তু ঠিক উঠে দাঁড়িয়েছেন। ব্যর্থ হয়েছেন তবু সাফল্যের খোঁজে অক্লান্তে ছুটে চলা থামাননি। এটিও অস্বীকার করার উপায় নেই যে ভক্তদের সমর্থনও অনেক সময় ব্যর্থতার চাতাল ভেঙে বের করে এনেছে তাঁকে। কিন্তু সংসদ সদস্য পদপ্রার্থিতাই ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ আর তাঁর প্রতি নিরঙ্কুশ সমর্থনের মাঝে দেয়াল তুলে দাঁড়িয়ে গেছে। যে দেয়ালে এমনিতেই ক্রমাগত সমালোচনার থাবা এসে আছড়ে পড়ছে। সে থাবা আপাতত এড়িয়ে চলার উপায় নেই। তবে উপায় আছে সে থাবাকে আরো বেগবান হতে না দেওয়ার। সে জন্য চাই পারফরম্যান্স। পারফরম্যান্স একটু এদিক-সেদিক হলেই যেখানে নির্বাচনী হাওয়ায় মনঃসংযোগ হারানোর মতো তিক্ত উপসংহারে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা জনগণের একাংশের, তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজও মাশরাফিকে কঠিন আরেকটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে চোখ রাঙিয়ে ছিল। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নেও তাই তাঁর সামনে নতুন আরেকটি শুরুর ক্ষণ এসে উপস্থিত হয়েছিল। যে শুরু রাজনীতিক মাশরাফির খেলোয়াড় হিসেবে শুরুর। তাও আবার সেটি ২০০তম ওয়ানডে খেলার মাইলফলক ছোঁয়ার ম্যাচে। যখন রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে খেলোয়াড়ি কীর্তির অনেকখানি ঢেকে দেওয়ার জনমতও তৈরি হয়ে ছিল। সে জন্যই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ওয়ানডে সিরিজে ২৮ ওভার বোলিং করে ১৬০ রান খরচায় মাত্র ১ উইকেট পাওয়ার পরিসংখ্যানও সম্ভাব্য সমালোচনার উপাদান হতে প্রস্তুত ছিল। যদিও সেই পারফরম্যান্সে এশিয়া কাপ থেকে বয়ে আনা কুঁচকির চোটের প্রভাব ছিল। এর আগে এশিয়া কাপেও দুবাই এবং আবুধাবির প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নিজেকে নিংড়ে দেওয়ার একাধিক উদাহরণও যেন তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়াল নিয়ে ফেলেছিল। যেখানে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে পায়ের চোটে হুট করেই বোলিং থেকে নিষ্কৃতি চেয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। নিজ দলের সেরা বোলারকে বিশ্রাম দিয়ে ডেথ ওভারে বোলিংয়ের ঝুঁকি যখন নিয়েছেন অধিনায়ক, ততক্ষণে জয়ের পথ খোলা হয়ে গিয়েছিল আফগানদের। এর আগে কিছুটা ম্লান অধিনায়ক ওই সময়ে করা ৩ ওভারেই জ্বলে ওঠেন। ৭৮ রানের তৃতীয় উইকেট পার্টনারশিপ যেমন ভাঙেন, তেমনি ফেরান উইকেটে থিতু হওয়া দুই ব্যাটসম্যান হাশমতউল্লাহ শহীদি ও আসগর আফগানকে। তখন প্রশংসিত মাশরাফির বর্তমান অনেক কিছুই কেড়ে নিতে মুখিয়ে ছিল। সেই সময়েই নতুন শুরু তাঁর এবং তাতেও ঝলমলে ‘বিভাজিত’ মাশরাফি আপাতত পারফরম্যান্স দিয়েই এড়ালেন নিন্দার কাঁটা। প্রথম বলে বাউন্ডারি ও শেষ বলে ছক্কা হজম করে নিজের ১০ ওভার শেষ করার তথ্য ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের মাশরাফিকে বোঝাতে পারছে না একটুও। বাউন্ডারির মারে শুরুর পরও তাঁর প্রথম স্পেলই সেটি বোঝাতে যথেষ্ট : ৭-০-১৪-২। দ্বিতীয় স্পেলের প্রথম বলে ক্যারিবীয় অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েলকেও তুলে নেওয়া মাশরাফি ৩০ রান খরচায় ৩ উইকেট নেওয়ার পথে ডট বলও করেছেন ৪১টি। ক্যারিবীয়দের দুই শর কমে আটকে ফেলা বোলিংয়ের পর তাই বাংলাদেশ অধিনায়কের ম্যাচসেরা হওয়া নিয়েও ছিল না সামান্যতম সংশয়। রাজনৈতিক পরিচয়ই শুধু তাঁকে নিয়ে সংশয়ের যত বাতাবরণ তৈরি করেছিল সাধারণ্যে। করেছিল বলেই নিকট অতীতের সাফল্য নয়, জিম্বাবুয়ে সিরিজের ব্যর্থতায় আলো ফেলার লোকেরও অভাব ছিল না। অথচ ২০১৪ সালে অধিনায়কত্ব ফিরে পাওয়ার পর থেকে বল হাতে তাঁর চেয়ে অনুকরণীয়ও আর কেউ নন। এই সময়ের মধ্যে ৬১ ম্যাচে ৮১ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি মাশরাফিই। এ ক্ষেত্রে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাকিব আল হাসান (৫৭ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৭৪ উইকেট) ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের পরও অধিনায়কের পেছনেই। অধিনায়ক সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন গত জুলাইয়ের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও। টেস্ট সিরিজে বিধ্বস্ত দল প্রথম ওয়ানডেতেই পেয়েছিল জয়ের দেখা। আর ৪৮ রানের সেই জয়ে দলের সেরা বোলার ছিলেন ৩৭ রানে ৪ উইকেট নেওয়া মাশরাফিই। তা নিয়ে বিপুল চর্চা হয়তো এই সিরিজের আগেও চলত কিন্তু চলেনি। Leave a Reply
5d24c1bd-a06b-4430-9a2a-2794c35ba569
বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ০৪:০২ অপরাহ্ন সেবার আবহাওয়ায় শীতের আমেজ। আবহে বাংলাদেশ ক্রিকেটের শীতনিদ্রা না ভাঙার হাপিত্যেশ। এবারও শীতের আমেজ রয়েছে ঠিক। তবে আবহে হাপিত্যেশের জায়গা নিয়েছে আশার গান। যে গানের সুরে সুরে অত্যাশ্চর্য অর্জনের স্বপ্নে বিভোর ১৬ কোটি ক্রিকেটপ্রাণ। বাংলাদেশ ক্রিকেটে চার বছর আগ-পরের চিত্রে কী আশ্চর্য বৈপরীত্য! ২০১৪ সালে এমন শীত শীত সময়ে কী ভীষণ হন্যে হয়েই না একটি জয় খুঁজছিল বাংলাদেশ! ২০১৮ সালে সে জয় আর সোনার হরিণ না, যেন পোষা হরিণ। এখন বাংলাদেশ অধিনায়ককে তাই দ্বিপক্ষীয় সিরিজ শুরুর আগে ‘বাংলাওয়াশ’-এর সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে হয়। তিন ম্যাচের টক্করে দ্বিতীয় ম্যাচেই সিরিজ জয়ের আলোচনায় অংশ নিতে হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলতি দ্বৈরথও ব্যতিক্রম না। পরশু প্রথম ওয়ানডে জেতার পর আজ দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিজ জয়ের নিশ্চয়তা চায় স্বাগতিকরা। বিশ্বকাপের স্বপ্নঘুড়িটি যে তাহলে আরেকটু ওপরে উড়িয়ে দেওয়া যাবে! চার বছর আগেও এ সময়টা আবর্তিত হচ্ছিল বিশ্বকাপ ঘিরে। তবে স্বপ্ন না, আতঙ্ক নিয়ে। বছরজুড়ে ভীষণ বিবর্ণ পারফরম্যান্সের কারণে। এবার সেই পারফরম্যান্সই বদলে দেয় সব সমীকরণ। চার বছর আগের তুলনায় এখন যে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে, সে ঘোষণায় দ্বিধাহীন মাশরাফি বিন মর্তুজা। কারণ হিসেবে ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতাকেই বড় করে দেখেন অধিনায়ক, ‘অবশ্যই এবার আমরা ভালো অবস্থানে। কারণ যাদের তরুণ খেলোয়াড় বলছি, ওরাও তো দুই-তিন-চার বছর খেলে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সৌম্যর প্রায় চার বছর হতে চলল। ইমরুল খেলছে লম্বা সময় ধরে। লিটনেরও তিন বছর হয়ে গেছে। পেস বোলারদের মধ্যে শুধু সাইফ উদ্দিন ছাড়া সবাই বেশ অভিজ্ঞ। তুলনায় ২০১৫ বিশ্বকাপের আগের সময়টায় অনেকেই ছিল নতুন।’ ২০১৯ বিশ্বকাপে তাই সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্নও অলীক মনে হয় না। মাশরাফি অবশ্য তেমন আগাম প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন না, ‘আগের বিশ্বকাপের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছি অর্থ এই না যে, বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে খেলে ফেলব। তবে অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকার কারণে অবশ্যই এবার আমাদের অবস্থান ভালো।’ বিশ্বকাপের আগের সময়টার বর্ণনা মাশরাফির চেয়ে ভালোভাবে আর কে দিতে পারেন! বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওই বাঁকবদলের মহানায়ক তো তিনিই। ২০১৪ সালটি ছিল ভয়াল গ্রহণকালের। অন্ধকারের থাবায় পথ হারানোর দশা বাংলাদেশ ক্রিকেটের। কোথাও আলোর রেখা নেই; কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয়ের খোঁজ নেই। বছরের প্রথম ১৩টি ওয়ানডে ম্যাচের মধ্যে একটিতেও জেতে না দল। হারে শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এমনকি সে সময়ের ‘পুঁচকে’ আফগানিস্তানের কাছেও। এর খেসারতে মুশফিকুর রহিমকে সরিয়ে দেওয়া হয় ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে। নেতৃত্বে প্রত্যাবর্তন মাশরাফির। চকমকি পাথরের ঘষায় দলের ভেতরের আগুন যেন জ্বেলে দেন তিনি। নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে আবার জয়ের সঙ্গে মিতালি তাই বাংলাদেশের। ধারাবাহিকতায় ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তরণের তুমুল সাফল্য। পাকিস্তান-ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার মতো তিন প্রবল পরাশক্তির সঙ্গে সিরিজ জয়। চার বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই ওয়ানডে সিরিজটি নভেম্বরে শুরু হয়নি। বর্ষশেষ সিরিজের আগের অবস্থায়ও কী পার্থক্য! এ বছর খেলা ১৮ ওয়ানডেতে ১২ জয় বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কা-জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল খেলেছে; উঠেছে এশিয়া কাপের ফাইনালেও। এই দুই টুর্নামেন্টের আগে-পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলতি সিরিজ জয়ও তো এখন সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছে। ২০১৪ সালে ১৮ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয় ছিল ৫ ম্যাচে। সবগুলোই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ সিরিজে। তাতে বছরের জয়ের হার ২৭.৭৭% হলেও ওই সিরিজের আগ পর্যন্ত হিসাবের এ ঘর ছিল ০%। এ বছর এখন পর্যন্ত ১৮ ম্যাচে ১২ জয়ে সে হার ৬৬.৬৬%। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ দুটি ওয়ানডে জিতলে জয়ের শতকরা হার বেড়ে হবে ৭০%। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সফলতম বছরের তালিকায় শীর্ষ তিনে তখন ঠাঁই করে নেবে ২০১৮। সবার ওপরে ২০০৯ সাল। ১৯ ম্যাচের ১৪ জয়ে সেবার জয়ের হার ৭৩.৬৮%। ২০১৫ সালে ১৮ ম্যাচে ১৩ জয়ে তা ৭২.২২%। বছরে ৬০ শতাংশের বেশি বাংলাদেশের জয় রয়েছে আরেক বছরেই—২০০৬ সালে। ২৮ ম্যাচে ১৮ জয়ে সেবারের হার ৬৪.২৮%। আর সংখ্যা বিবেচনায় সর্বোচ্চ ওয়ানডে জয়ে ২০০৬ সালের ১৮ জয় সবচেয়ে ওপরে। হোক না এর বেশির ভাগই জিম্বাবুয়ে, কেনিয়ার মতো দলের বিপক্ষে। তবে সে সময়ের বিবেচনায় এটি দুর্দান্ত সফল বছর। বাংলাদেশের ২০০৭ বিশ্বকাপ সাফল্যের ভিতও গড়ে দেয় তা। সেবার ছাড়া বছরে দশের বেশি ওয়ানডে ম্যাচ জয়ের উদাহরণ লাল-সবুজের রয়েছে আরো তিনবার। ২০০৯ সালে ১৪, ২০১৫ সালে ১৩ এবং চলতি বছর ১২টি। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে শেষ দুই ওয়ানডে জিতলে ২০১৮ সাল ক্রমে এগিয়ে যাবে আরেক ধাপ। টেস্ট যুগের প্রথম চার বছরে কোনো ওয়ানডে জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ২০০০ সালে চার, ২০০১ সালে ছয়, ২০০২ সালে ১৪ এবং ২০০৩ সালে ২১ ওয়ানডে খেলেও জয়শূন্য। সে ভয়ংকর দুঃস্বপ্নের প্রত্যাবর্তন হওয়ার দশা ২০১৪ সালে। বছরের শেষভাগে মাশরাফির নেতৃত্বে দল ঘুরে দাঁড়ায় বলে রক্ষা! দুঃস্বপ্নের পাগলাঘোড়াকে বশ মানিয়ে সাফল্যের টাট্টুঘোড়া ছোটান তিনি এরপর। চার বছর পর এবার সেই টাট্টুঘোড়া আরো গতিশীল। আরো বেগবান। ২০১৯ বিশ্বকাপ ঘিরে তাই বড় স্বপ্ন দেখবে না কেন মাশরাফির বাংলাদেশ! Leave a Reply
87e823b3-7a46-4752-9f06-52c134e132f8
শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯, ০৯:৩২ অপরাহ্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র বাকি ৫দিন। এরমধ্যে প্রার্থীদের শেষ করতে হবে প্রচারণা। তাই নির্বাচনের প্রচারণায় জোরেসোরে নেমেছে প্রার্থীরা। তবে সেদিক দিয়ে পিছিয়ে নেই আশরাফুল ইসলাম আলম (হিরো আলম)। বগুড়া-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তিনি। তার নির্বাচনী প্রচারণায় নায়িকাদের নামতে দিচ্ছেন না। তার মতে, তার সঙ্গে অভিনয় করা নায়িকারা মাঠে নামলে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে পড়বে। হিরো আলমের সঙ্গে যেসব অভিনেত্রী অভিনয় করেছেন তাদের মাঠে নামালে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে যেতে পারে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই হাজার হাজার মানুষ জড়ো হচ্ছে। আমি বের হলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আর যদি আমার হিরোইনদের (নায়িকা) মাঠে নামাই, তাহলে পরিস্থিতি আরো বেসামাল হয়ে পড়বে। তখন আর কিছুই নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। এ কারণেই তাদের মাঠে নামতে দিচ্ছি না। তবে নায়িকারা মাঠে নামতে চাইছে। আমি প্রায় ৫০০ ভিডিও করেছি। তাহলে আমার নায়িকারাও ৫০০’র মতোই হবে। প্রচারণায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিয়ে খুশি হিরো আলম বলেন, আমি শান্তিপূর্ণভাবে মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে পারছি। এখনও কোনো বাধার মুখে পড়িনি। বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যেও এখন পর্যন্ত সংঘাত হয়নি এখানে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। মানুষ ঠিকঠাক ভোট দিতে পারলে আমি অবশ্যই জয়ী হব। আরো পড়ুন: নাটোরের চারটি আসনেই অপ্রতিরোধ্য আ.লীগ প্রার্থীরা নাটোরের চারটি সংসদীয় আসনেই নৌকা প্রতীকে অপ্রতিরোধ্য চার প্রার্থী। চারটি আসনে নৌকা প্রতীকের এই চার জনসহ মোট ২০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। চারটি আসনেই আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক প্রার্থীদের দখলে রয়েছে মাঠ। বিএনপিসহ অন্যান্য দলের আরো ১৬ প্রার্থীর দেখা নেই তেমন। তবে বিএনপি প্রার্থীদের অভিযোগ তাদের কর্মী-সমর্থকদের নির্যাতন করা সহ পোষ্টার লিফলেট ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। আইন শৃংখলা বাহিনীর নাম করে নেতা কর্মীদের উঠিয়ে নিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে ধানের শীষের প্রচারনা থেকে সরে আসার জন্য বলা হচ্ছে। না বলা হচ্ছে জীবনে শেষ করার। এমন কি প্রার্থীকেও লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে গায়েবী মামলা করা হচ্ছে। এছাড়া মামলা ছাড়াই পুলিশ অনেককে গ্রেপ্তার করছে। বিএনপি সহ বিরোধী প্রার্থীদের এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। জেলা রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা যায়, নাটোরের চারটি আসনের মধ্যে নির্বাচনী এলাকা ৫৮, লালপুর-বাগাতিপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত নাটোর-১ আসনে সর্বাধিক ৬ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামীলীগের হয়ে লড়ছেন শহিদুল ইসলাম বকুল, বিএনপির অধ্যক্ষ কামরুন নাহার শিরীন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মুনজুরুল ইসলাম বিমল, জাতীয়পার্টির আবু তালহা, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওর্য়াকার্স পার্টির আনছার আলী দুলাল, ইসলামী আন্দোলনের খালেকুজ্জামান এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাকসুদুর রহমান। নির্বাচনী এলাকা ৫৯, সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত নাটোর-২ আসনে চার প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বর্তমান সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল, বিএনপির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, জাতীয় পার্টির মজিবুর রহমান সেন্টু ও ইসলামী আন্দোলনের আজিজার রহমান খান চৌধুরী আমেল। নির্বাচনী এলাকা ৬০, সিংড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত নাটোর-৩ আসনে ৫ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের হয়ে লড়ছেন বর্তমান সাংসদ ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বিএনপির দাউদার মাহমুদ,জাতীয় পার্টির আনিসুর রহমান, বিকল্প ধারার মনজুরুল আলম হাসু ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শাহ মোস্তাফা ওয়ালীউল্লাহ। এছাড়া নির্বাচনী এলাকা ৬১, গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত নাটোর-৪ আসনে ৫ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামীলীগের হয়ে লড়ছেন বর্তমান সাংসদ এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, বিএনপির আব্দুল আজিজ, জার্তীয় পার্টির আলাউদ্দিন মৃধা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বদুল আমিন এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) হারুন-অর-রশিদ। প্রতীক বরাদ্দের পর পরই আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের প্রচনার গতি বৃদ্ধি পেলেও অন্য দলের প্রার্থীদের প্রচারনায় গতি স্লথ। এর মধ্যে নাটোর-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বার বার প্রার্থী পরিবর্তনে বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সহ হতাশা দেখা দেয়। প্রথমে বিএনপির প্রয়াত নেতা সাবেক মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের সহধর্মীনি অধ্যক্ষ কামরুন নাহার শিরীনকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রদান করা হয়। কিন্তু প্রার্থীতা প্রত্যাহারের দিন হঠাৎ করেই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মুনজুরুল ইসলাম বিমলকে ধানের শীষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। অধ্যক্ষ কামরুন নাহার শিরীন এনিয়ে আদালতের সরনাপন্ন হন এবং আদালতের নির্দেশে পুনরায় ধানের শীষ ফিরে পান। কিন্তু প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে এই টানাপোড়েনের কারনে দলের কর্মী সমর্থক এবং সাধারন ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় অনেকেই নৌকা প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেন। স্থানীয়দের অনেকেই রসালো সুরে বলছেন, ধানের আঁটি কমছে, হাওয়ার গতি বেড়েছে নৌকার পালে। অপরদিকে, নাটোর সদর আসনে বিএনপির রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর প্রার্থীতা বাতিল হলে তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ বরাদ্দ পান। কিন্তু স্বামীর প্রার্থীতার জন্য আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষার কারণে প্রচারে নামতে দেরী হয়। একারণে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়া দলের অনেক নেতা কর্মী ইতিমধ্যে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়ে নৌকার পাল ভাড়ি করছেন। ফলে এই আসনেও নৌকা এখন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। তবে বিএনপির প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি অভিযোগ করেছেন,তার নেতা কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। কুপিয়ে জখম করা হচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতাসহ কর্মী সমর্থকদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এছাড়ার তার ওপরও হামলা চালানো হচ্ছে। প্রচারে নানাভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। পোষ্টার ছিড়ে ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনী ক্যাম্প করার আগেই নেতা কর্মী ও সমর্থকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গিয়ে তারা হামলার শিকার হচ্ছে। তবে আওয়ামীলীগ প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শিমুল এই অভিযোগকে অসত্য দাবী করে বলেছেন,শহরে প্রচারনার সময় তিনি নিজে তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এসময় তিনি তাকে নির্বিঘ্নে প্রচারনা চালানোর জন্য বলেছেন। সে জন্য তাকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু উল্টো মিথ্যার করে সাধারণ ভোটারদের কাছে টানার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন,তার স্বামী বাংলাভাইয়ের গড ফাদার দুলুর অপকর্মের জবাব দিতে না পেরে এসব মিথ্যার আ¤্রয় নিচ্ছেন। এই আসনে অপর দুই প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মুজিবুর রহমান সেন্টুর প্রচরনা কিছুটা হলেও চোখে পড়ছে। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আজিজার রহমান চৌধুরী আমেলের প্রচারনায় তীব্রতা নেই। নাটোর-৩ সিংড়া আসনেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী জুনাইদ আহমেদ পলকের নৌকা অপ্রতিরোধ্য। শনিবার তার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে বিকল্পধারা প্রার্থী মনজুরুল আলম হাসু নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষনা দিলে এই আসনে নৌকা আরো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। বিএনপির প্রার্থী দাউদার মাহমুদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী অভিযোগ থাকায় দলের নেতা কর্মীরাই দুরে সরে রয়েছেন। অনেকেই ক্ষোভের কারণে আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন। একারনে জুনাইদ আহমেদ পলক আবারও নির্বাচিত হবেন বলেই ধরে নিচ্ছেন স্থানীয় ভোটাররা। দাউদার মাহমুদও একই অভিযোগ করে বলেছেন, তার প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। নাটোর-৪ আসনের মাঠ দখলে রয়েছে নৌকা। দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে সাধারণ ভোটাররাও নৌকা মার্কা প্রতীকের পক্ষে প্রচার করছেন। প্রতিদিন কাক ডাকা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে নৌকা প্রতীকের প্রচরনা। এই আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীসহ ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বি করলেও প্রচারণা চলছে শুধু নৌকা প্রতীকের। নাটোরের চারটি অসনেই একই অবস্থা। বিজিবি ও সেনা বাহিনী নামার পরও বিরোধী প্রার্থীদের তেমন প্রচারণা নেই। তাই নৌকা প্রতীক অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। সাধারণ ভোটারদের অনেকেই মনে করছেন এভাবে এক দলের প্রচরণায় নির্বাচনী আমেজ নেই। হলে নির্বাচন হবে একতরফা। তবে নির্বাচন বিশ্লেষক ও সচেতন ভোটাররা বলছেন, আগামী সংসদ নির্বাচন শেষ পর্যন্ত কতটা নিরপেক্ষ হবে? বিরোধী জোট কতটা ভোটের মাঠে টিকতে পারবে? মোটামুটি সুষ্ঠু ভোট হলে নাটোরের চারটি আসনেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে। নাটোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক অভিযোগ করে বলেছেন, এমপি শিমুল তার হেলমেট বাহিনী দিয়ে প্রতিদিন বিএনপি কর্মীদের কাজে বাধা দিচ্ছে। মারপিট করে মোটর সাইকেল মোবাইল টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিচ্ছে। কাজ করতে দিচ্ছে না। প্রচার মাইক ভেঙ্গে দিচ্ছে। পোষ্টার লাগাতে দিচ্ছে না। প্রার্থীর উপরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সব বিষয়ে রিটানিং অফিসারকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। জেলার বিএনপির ৩ শীর্ষ নেতা এবং ধানের শীষের প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়কারীসহ অর্ধশত নেতাকর্মীকে আটক করে এখানে ধানের শীষের প্রার্থীকে কোনঠাসা করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। দলের নেতা কর্মীরা বিএনপি ছেড়ে দলে দলে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার কারন হিসেবে তিনি বলেন, নিরপত্তার জন্য হয়ত তারা ওই দলে যোগ দিচ্ছেন। পরিবেশ স্বাভাবিক হলে তারা আবার ঘরে ফিরে আসবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিবেশ সুষ্ঠ হলে আওয়ামী লীগ পালে হাওয়া পাবেনা। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোর্ত্তুজা আলী বাবলু এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বিএনপি নেতা বাংলাভাইয়ের গড ফাদার রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর অপকর্মের কথা মানুষ দীর্ঘদিনেও ভুলতে পারেনি। ভোলেনি রামসার কাজীপুর গ্রামের ৪৭ বাড়িতে হামলা করে বাড়ি ঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়ে লুটপাট করা, মা বোনদের ইজ্জত হনন করা, মানুষ হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা, বড়াইগ্রামের ডাঃ আয়নাল হক হত্যা সহ বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের কথা। মানুষ এখনও তার নাম শুনলে আতংকে শিউরে ওঠে। বিএনপি মিথ্যাচার করে মানুষের মন গলাতে চাচ্ছে। তাই মানুষ বিএনপি-জামায়াত জোটকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায়না। এখন সকলেই নৌকা প্রতীকের বিজয়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এবারও নাটোরের চারটি আসনে নৌকা বিজয়ী হবে। Leave a Reply
06d1fea6-138e-46c5-bc22-a760a0efdea9
রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯, ১০:০৩ অপরাহ্ন সাফল্যের বছর আবার একই সঙ্গে পূর্ণতার শেষ ধাপে গিয়ে হোঁচট খাওয়ার অপূর্ণতারও। কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে থাকা বছরে মহাকালের জন্য রেখে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেটের ছাপটা এ রকমই মিশ্র। আবার এমনও নয় যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের দিক থেকে বাংলাদেশ সাফল্যের সোনারোদে ঝকমকই করেছে শুধু। কখনো কখনো ব্যর্থতার কাঁটায় হতে হয়েছে ক্ষতবিক্ষতও। সেই হিসাবে শেষ হতে চলা ২০১৮ অম্লমধুরও। সব মিলিয়েই তৈরি হওয়া প্রাপ্তির ব্যালান্স শিট জানাচ্ছে, সাফল্যের পাল্লাই ভারী। যে পাল্লায় থাকতে পারত আরো অনেক অর্জনের আনন্দও। বিশেষ করে ত্রিদেশীয় কিংবা বহুজাতিক আসরের শিরোপা ছোঁয়ার অধরা স্বপ্নের নাগাল পেতে পেতেও না পাওয়ার বঞ্চনায় পুড়তে না হলে বছরটি হতো আরো সাফল্যরাঙা। এই বছরেই যে তিন-তিনটি ফাইনালে হারের বেদনায় নীল হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। বছরের শুরুতেই নিজেদের মাটিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে টুর্নামেন্টে। এরপর মার্চে শ্রীলঙ্কায় স্বাগতিকদের দর্শক বানিয়ে নিদাহাস টি-টোয়েন্টি ট্রফির ফাইনালেও একই পরিণতি। সবশেষ গত সেপ্টেম্বরে দুবাইতে ওয়ানডে ফরম্যাটে হওয়া এশিয়া কাপের ফাইনালেও শেষ বলে হার। একবার ভেবে দেখুন তো, তিনটি আসরেই বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলে কেমন হতো? ১৯৮৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পর থেকে এটিই হতো বাংলাদেশের সেরা বছর। চূড়ান্ত সাফল্যের নিরিখে উপসংহারটা এমন হতোই হতো। এমনকি একটি কিংবা দুটি শিরোপায়ও তা বলার সুযোগ উন্মুক্ত থাকত। আর যা-ই হোক, দুইয়ের অধিক দলকে নিয়ে আয়োজিত কোনো আন্তর্জাতিক আসরের ট্রফি তো এর আগে কখনোই তুলে ধরা হয়নি বাংলাদেশের কোনো অধিনায়কের। জানুয়ারিতে তা তুলে ধরতে পারতেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। সেপ্টেম্বরেও আরেকবার সে সুযোগ এসেছিল তাঁর সামনে। মাঝখানে মার্চে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও তুঙ্গস্পর্শী সে আনন্দে অবগাহন করতে পারেননি অল্পের জন্য। চূড়ান্ত সাফল্যের তীর থেকে এতবার ফিরে আসার পরও দেখা যাচ্ছে ২০১৮ সালকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা বছর বলার সুযোগ আছে। সে জন্য খুব গভীরেও যেতে হবে না, সাদামাটা তথ্য-পরিসংখ্যানই জোরেশোরে সে ঘোষণা দিয়ে চলেছে। এই বছরেই যে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। এই বছর অবশ্য নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচও খেলেছে তারা। টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ৪৪টি ম্যাচ খেলেছে এই বছর। এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে এই প্রথম ৪০-র বেশি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জিতেছে ২১ ম্যাচে। এর মধ্যে সাফল্যের হার স্বাভাবিকভাবেই ওয়ানডেতে বেশি। ২০ ওয়ানডের মধ্যে জয় ধরা দিয়েছে ১৩টিতেই। ৮টি টেস্ট খেলা বাংলাদেশ ২০১৮ সালে জিতেছে ৩টিতে। তুলনায় টি-টোয়েন্টি পরিসংখ্যানই যা একটু রুগ্ণ দেখাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ গত জুনে ভারতের দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ। যেটিতে হোয়াইটওয়াশ হওয়া বাংলাদেশ এই ফরম্যাটেও কিন্তু আলো ছড়িয়েছে। তবু ওই একটি সিরিজের ব্যর্থতাই টি-টোয়েন্টির পরিসংখ্যান আরো উজ্জ্বল হতে দেয়নি। তাদের খেলা ১৬টি টি-টোয়েন্টির মধ্যে জয় তাই মাত্র ৫টিতে। ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার মাটিতে নিজেদের শততম টেস্ট জেতা বাংলাদেশ নিজেদের আঙিনায় অস্ট্রেলিয়াকেও হারায়। সে বছর ইংল্যান্ডে খেলে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালও। এরই ধারাবাহিকতা প্রত্যাশিত ছিল ২০১৮-তেও। বছরটি শুরুও হয়েছিল প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়েই। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচেই অনায়াস জয়ে ফাইনালে উঠে যাওয়া বাংলাদেশ ধাক্কাটা খায় এরপরই। ফাইনালের ড্রেস রিহার্সেলে শ্রীলঙ্কার কাছে ১০ উইকেটের হার। এরপর ফাইনালেও ৭৯ রানের হারে আরেকটি স্বপ্নভঙ্গের বেদনা। যার প্রভাব পড়ে টেস্ট সিরিজেও। চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টেস্ট ড্র করলেও ঢাকায় লঙ্কানদের কাছে ২১৫ রানের হার। একই দলের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয় দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও। তাই মার্চে কলম্বোয় নিদাহাস টি-টোয়েন্টি ট্রফি খেলতে যাওয়ার সময় খুব বড় কিছুর প্রত্যাশাও ছিল তা ক্রিকেটারদের কাছে। কিন্তু লঙ্কানদের ‘নিজভূমে পরবাসী’ বানিয়ে ফাইনাল খেলা বাংলাদেশ ফাইনালে ভারতের কাছে হারে শেষ বলে। সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপের ফাইনালেও তাই। এর মাঝখানে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফর একই সঙ্গে দুঃস্বপ্নের এবং আনন্দের। অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানে অল আউট হওয়ার লজ্জায় ডোবা দলটি চার ইনিংসের একটিতেও পারেনি দুই শ পেরোতে। দুই টেস্টেই হার, প্রথমটিতে ইনিংস ও ২১৯ রানে। পরেরটিতে হার ১৬৬ রানের। এমন দুঃসহ হারের দগদগে ক্ষত বয়ে বেড়ানো দলটিই কিনা প্রবলভাবে ঘুরে দাঁড়ায় রঙিন পোশাক আর সাদা বলের ক্রিকেটে। ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজ, দুটোই জিতেছে ২-১ ব্যবধানে। বছরের শেষে ফিরতি সফরে আসা ক্যারবীয়দের বিপক্ষে বদলাও নিয়েছে টেস্ট সিরিজে তাদের হোয়াইটওয়াশ করে। এরপর ২-১ এ ওয়ানডে সিরিজও জেতায় প্রথমবারের মতো সুযোগ এসেছিল কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজে প্রতিপক্ষকে তিন ফরম্যাটেই হারিয়ে ‘ত্রিমুকুট’ জেতারও। ত্রিদেশীয় কিংবা বহুজাতিক আসরে শিরোপা না ছুঁতে পারার মতো এটিও শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে যায়। তা থেকে গেলেও ২০১৮-কে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাফল্যের বছর বলাতে বাধা নেই কোনো। নভেম্বরে সিলেটে জিম্বাবুয়ের কাছে টেস্ট হারায় যেমন বাধা নেই বছরটিকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অম্লমধুর বলাতেও। সাফল্যের মধ্যেও ব্যর্থতার এ রকম কাঁটাও বিঁধেছে জাতীয় দলের গায়ে। তবে শেষ বিচারে গিয়ে যখন টানতে হয় উপসংহার, তখন এটি সাফল্যের বছরই। যে বছরটি পূর্ণতার শেষ ধাপে গিয়ে হোঁচট খাওয়ার অপূর্ণতারও। Leave a Reply
f8bf77bf-e469-4d85-a3dd-dcbe19cba520
বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরই সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এর পরই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। গত রবিবার এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিশাল জয় পাওয়ায় তারাই সরকার গঠন করবে। তবে মহাজোটের শরিক হলেও জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হিসেবে থাকছে। সংসদ সচিবালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় একজন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্ধারণ করবেন, সেভাবে অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন। আর যে সংসদ সদস্য, সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতীয়মান হবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন—এটা নিশ্চিত। কারণ নির্বাচনের ফল অনুযায়ী বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে আওয়ামী লীগ। সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৮টির ফল বেসরকারিভাবে ঘোষণা করেছে ইসি। ঘোষিত ফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮টি আসনে (আওয়ামী লীগ ২৫৯, জাতীয় পার্টি ২০, ওয়ার্কার্স পার্টি তিন, জাসদ দুই, বিকল্পধারা দুই, তরীকত ফেডারেশন এক ও জেপি এক) জয়ী হয়েছে। বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে মাত্র সাতটি (বিএনপি পাঁচ, গণফোরাম এক ও ঐক্যপ্রক্রিয়া এক) আসন। তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। আর স্থগিত একটি আসনে বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে আছেন। এ ছাড়া প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে নির্বাচন আগেই স্থগিত করা হয়। মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (বিধি ও সেবা) শফিউল আজিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী এমপিদের গেজেট হওয়ার পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে মন্ত্রিসভা গঠনের অনুমতি চাইবেন। রাষ্ট্রপতি অনুমতি দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য সদস্য নির্বাচিত করবেন।’ তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর শপথ পড়াবেন। এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন। শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাবেন সেটা একান্তই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি যাঁদের চাইবেন তাঁদেরই জায়গা হবে নতুন মন্ত্রিসভায়। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার জন্য শপথ নিতে আমন্ত্রণ জানাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একই সঙ্গে নতুন সদস্যদের জন্য গাড়িও প্রস্তুত রাখবে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর (পরিবহন পুল)। নতুন করে শপথ নেওয়ার কারণে আগের মন্ত্রিসভা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপির বর্জনের মধ্যেই দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন হয়েছিল। ১২ জানুয়ারি গঠিত হয়েছিল নতুন মন্ত্রিসভা। তখন শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে ৪৮ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছিল। পরে কয়েক দফা মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা হলেও শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়ায় ৫২ সদস্যে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, ইসি গেজেট প্রকাশ করার পর নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়াবেন স্পিকার। এরপর সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হবে। ওই অধিবেশনেই সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত করা হবে। অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টি (জাপা) বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। অবশ্য বর্তমান সংসদে বিরোধী দলের পাশাপাশি মন্ত্রিসভায়ও আছেন জাপার তিনজন সদস্য। দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ আছেন মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে। বিএনপি-জামায়াতের বর্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত আগের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৩৪টি আসনে জয়ী হলেও এবার পেয়েছে ২২টি। বর্তমানে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। এদিকে বিএনপিসহ দলটির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সাতজন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ওই নির্বাচনের পুরো ফলই প্রত্যাখ্যান করেছি। ফলে শপথের প্রশ্নই আসে না।’ রাঙ্গা বললেন, বিরোধী দলে যাব কি না, সিদ্ধান্ত মহাজোটে : একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় পার্টির অবস্থান কী হবে সে বিষয়ে মহাজোটে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। গতকাল সোমবার ঢাকার বনানীতে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘আমরা মহাজোটের সঙ্গে আছি, মহাজোটের সঙ্গে থাকব। আমরা প্রধান বিরোধী দলে যাব কি না, এ বিষয়ে দু-এক দিন পরে সিদ্ধান্ত হবে। এর আগে আমরা মহাজোটের সঙ্গে আলোচনা করব।’ এরশাদের শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে রাঙ্গা বলেন, এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। জানুয়ারিতে এরশাদ আবার সিঙ্গাপুরে যেতে পারেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো টেনটেটিভ ডেট দেব না। উনি অসুস্থতা অনুভব করলে যেতে পারেন। আর না করলে যাবেন না।’ নির্বাচন প্রসঙ্গে এরশাদের মূল্যায়ন জানতে চাইলে জাপার মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচনে যেটা হয়ে গেছে, সেটা হয়েই গেছে। না মেনে নিয়ে বিদ্রোহ করার মতো জিনিস তো নয়। তিনি (এরশাদ) নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছেন। Leave a Reply
4d2b6727-c28c-4bc7-b0bc-e773c4e7b3cb
রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯, ০৫:২৯ অপরাহ্ন ক্যাচটি ফসকে গেল সোহাগ গাজীর হাত থেকে! অল্প পুঁজি নিয়েও চিটাগং ভাইকিংসকে ভালোই চেপে ধরেছিল রংপুর রাইডার্স। ম্যাচের ভাগ্য যখন দুলছে, তখনই ভাইকিংসকে জয়ের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া রবি ফ্রাইলিঙ্ক (ছবিতে নেই) ফিরতি ক্যাচ দিয়েছিলেন, যা রাখতে পারেননি রংপুরের অফস্পিনার। ম্যাচ আর রংও বদলায়নি ক্রীড়া প্রতিবেদক : ৬৯ বলে ১৪৬ রান। এক ইনিংসেই ১৮ ছক্কা। গতবারের বিপিএলে ফাইনালে এমন খুনে ব্যাটিংয়েই তো রংপুর রাইডার্সকে শিরোপা জেতান ক্রিস গেইল। একক দক্ষতায়। বিস্ফোরক ক্যারিশমায়। বিপিএলের দামামা বেজে ওঠার দিনে কাল সকালে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন সেই ক্যারিবিয়ান দানব। কিন্তু দীর্ঘ ভ্রমণক্লান্তিতে মাঠে নামার অবস্থায় ছিলেন না। তাতে কী? ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সের তো তবু চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে জয় ছিল প্রত্যাশিত। সে প্রত্যাশায় কুঠারাঘাত ব্যাটিং ব্যর্থতায়। তবু যদি সোহাগ গাজী রবি ফ্রাইলিঙ্কের তুলে দেওয়া ক্যাচটি হাতে জমাতে পারতেন! পারলে অনেক কিছুই হতে পারত। মাত্র ৯৮ রানে অল আউট হয়েও ম্যাচটি জিতে যেতে পারত রংপুর রাইডার্স। শেষ ২ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ১৩ বলে ১০ রানের প্রয়োজনীয়তার সামনে দাঁড়াত যে চিটাগং ভাইকিংস! লো স্কোরিং রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের পরিণতি হতো আরো রোমাঞ্চকর। কিন্তু রিটার্ন ক্যাচ মুঠোবন্দি করতে পারেন না সোহাগ। শিরোপা ধরে রাখার অভিযান জয়ে শুরু করতে পারে না মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। তাদের ৩ উইকেটে হারিয়ে চিটাগং ভাইকিংস বরং জন্ম দেয় অঘটন। অঘটন নয়তো কী? একে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স। টি-টোয়েন্টির বিনোদনের ফেরিওয়ালা গেইলকে ধরে রাখার পাশাপাশি এবি ডি ভিলিয়ার্স ও অ্যালেক্স হেলসের মতো বিস্ফোরক দুজনকে যোগ করেছে এবার। কাল প্রথম ম্যাচে অবশ্য ত্রয়ীর মধ্যে শুধু ইংলিশ ব্যাটসম্যানকেই মাঠে নামাতে পারে রংপুর। গেইলের কথা আগেই বলা আর প্রোটিয়া তারকা এখনো এসে পৌঁছাননি। তবু কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে মাত্র ৯৮ রানে অল আউট হয়ে যাবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা! এই রান নিয়েও জয়ের অমন মরিয়া চেষ্টার জন্য রংপুর রাইডার্সের বোলার-ফিল্ডাররা বরং কৃতিত্বের দাবিদার। জাতীয় নির্বাচনের কারণে বিপিএলের এবারের আসর মাঠে গড়াচ্ছে দেরি করে। তড়িঘড়ি আয়োজনে প্রচারণার অভাব স্পষ্ট। সেখানে প্রথম ম্যাচে মহাতারকাদের নিয়ে গড়া দল রংপুর রাইডার্সের এমন পরিণতি! ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে রঙিন আসরের শুরুটা হলো তাই রং হারিয়ে। রংপুর রাইডার্সের সর্বনাশের করব খোঁড়া হয় ব্যাটিংয়েই। টি-টোয়েন্টিতে ৯৮ রান গোনার মধ্যে ধরে কে? তবু সেটিকে অনেক মনে হবে যখন জানবেন মাত্র ৩৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়েছিল শিরোপাধারীরা। টস জিতে মুশফিকুর রহিম যখন ব্যাটিংয়ে পাঠায় মাশরাফির দলকে, তখন এতটা নিশ্চয়ই চিটাগং ভাইকিংসের অধিনায়কও আশা করেননি। হেলসের গোল্ডেন ডাকে রংপুরের নড়বড়ে শুরু। দ্রুতই তাঁকে অনুসরণ করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন মোহাম্মদ মিঠুন (০), রাইলি রুশো (৭) ও মেহেদী মারুফ (১)। ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম চার ব্যাটসম্যানের কেউ দুই অঙ্কে যেতে পারেন না। এর তিন উইকেট আবার চৌত্রিশ বছর পেরোনো ফ্রাইলিঙ্কের শিকার। বেনি হাওয়েল, ফরহাদ রেজা এবং মাশরাফিও আউট হলে পঞ্চাশের নিচে গুটিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ছিল রংপুর রাইডার্স। ভাগ্যিস, স্রোতের বিপরীতে রবি বোপারা দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। অষ্টম উইকেটে সোহাগকে নিয়ে প্রতিরোধের বাঁধ দেন ওই ইংরেজ। গড়ে তোলেন ৪৯ রানের জুটি। সোহাগকে (২১) আউট করে জুটি ভাঙার পাশাপাশি নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন ফ্রাইলিঙ্ক। বোপারার ৪৭ বলে ৪৪ রানের ইনিংসও পারে না রংপুরের ইনিংস তিন অঙ্কে নিয়ে যেতে। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার সময় স্কোরবোর্ডে তাদের মোটে ৯৮ রানের পুঁজি। এই পুঁজি নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে জয়ের আশা করা যায় না। কিন্তু কী প্রবল বিক্রমেই না লড়াই করল রংপুর রাইডার্স। চিটাগং ভাইকিংসকে রীতিমতো কাঁপিয়ে দেয় তারা। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম মাঠে নামা মাশরাফির প্রথম ব্রেক থ্রুর পর এবারের বিপিএলে দেখা যায় আরেক ‘প্রথম’। এই টুর্নামেন্টে ম্যাচ পাতানোর দায়ে নিষিদ্ধ হওয়া মোহাম্মদ আশরাফুল বিপিএলে পাঁচ বছর বাদে মাঠে নামেন আবার। কিন্তু পাঁচ বলে তিন রান করেই আউট; ফ্লিক করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে উঠে যাওয়া বলে থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়ে। মোহাম্মদ শেহজাদ ও অধিনায়ক মুশফিক দলের স্কোর ৫০ পেরিয়ে নিয়ে গেলে একতরফা ম্যাচ হচ্ছে বলেই ধরে নেয় সবাই। কিন্তু একের পর এক উইকেট তুলে অসম্ভব এক স্বপ্নের পেছনে ছুটছিল রংপুর। ১৭তম ওভারে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিককে (২৫) আউট করার পর স্বপ্নপূরণ আর খুব অসম্ভব মনে হচ্ছিল না। শুধু যদি এরপর সোহাগ গাজী ওই রিটার্ন ক্যাচটি ধরতে পারতেন! পারেননি। পারেননি বলে রংপুর রাইডার্সও গতবারের মতো জয়ে বিপিএল শুরু করতে পারেনি। না-ই বা হলো তা! শুরুটা গতবারের না হলেও শেষটা গতবারের মতো রাঙিয়ে দেওয়ার ঢের সময় তো রয়েছে এখনো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের। Leave a Reply
4c88dd00-2111-48af-a46c-9af136ca46cd
বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ০৪:০৯ অপরাহ্ন বিয়ের দিন আমি খুব অসুস্থ ছিলাম। বিয়ের যাবতীয় ধর্মীয় আচার, অতিথি অভ্যর্থনা করতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। গায়ে ধুম জ্বর নিয়েই সব করে যাচ্ছিলাম দম দেওয়া পুতুলের মতো। রাতে যখন ঘরে ঢুকলাম, তখন আমি ক্লান্ত, অসুস্থ, পরিশ্রান্ত। জ্বরটা বেড়েছে। আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম, বিয়ের রাতের সেই চরম মুহূর্তটা আমি আমার ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে দারুণ উপভোগ করব। কিন্তু সেদিন আমার সেই সামর্থ্য ছিল না। কিন্তু সেই একটা রাতেই যেন সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল। অসুস্থ শরীরটাকেই ছিঁড়ে খেল তথাকথিত স্বামী। ওপরের কাহিনীটি দিল্লির বৃন্দা নামে মহিলার। বিবাহিত জীবনেও প্রতি মুহূর্তে কী ভাবে ধর্ষিত হন মহিলারা, তারই নৃশংস নজির বৃন্দা। ইন্টারনেট দুনিয়ায় বৃন্দার খোলা চিঠি ফেলে দিয়েছে আলোড়ন। কী ভাবে বিয়ের প্রথম রাত থেকেই স্বামীর নির্মম লালসার শিকার হয়েছেন তিনি. খোলা চিঠিতে লিখেছেন সবই। উদ্দেশ্য, সমাজের ভয়ে মুখ খুলতে না-পারা সেই সব অত্যাচারিত মহিলাদের সজাগ করা। পাঠকদের জন্য রইল বৃন্দার সেই খোলা চিঠি। বৃন্দা লিখছেন, আমি সব সময়ই ভেবেছিলাম, স্বামীকে খুব ভালোবাসব। দেহ, মন- সব কিছুই তাঁকে দেব। কিন্তু বিয়ের প্রথম রাতেই আমি হয়ে গেলাম স্রেফ একটা রক্ত মাংসের দেহ। যা নিয়ে যেমন ইচ্ছে খেলা করবে আমার স্বামী। বিয়ের দিন রাতে ঘরে ঢুকতেই আমাকে পিছন থেকে জাপটে ধরল স্বামী। আমার তখন মাথা ঘুরছে। গায়ে তীব্র জ্বর। বললাম, কাল সকালে এসব করলে হয় না। শরীরটা খুব খারাপ। হিংস্র প্রাণীর মতো কোনো কথাই সে শুনল না। আমার শরীর থেকে পোশাকগুলো কার্যত ছিঁড়ে ফেলল সে। আমি কাঁদতে শুরু করলাম। বললাম, দোহাই তোমার, আমার ভয় করছে। বলল, প্রথম দিন সবার ভয় করে। আমি নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু ও পাশবিক শক্তি দিয়ে আমাকে শুইয়ে দিল। বলল, আমি তোমার স্বামী, কিচ্ছু হবে না। আমি বললাম, আমাকে অন্তত আজকের রাতটা সময় দাও। সে বলল, অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছি, আর পারছি না। তারপর আমাকে নিয়ে মেতে গেল। ওদিকে আমার হৃদয়টাও ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। আমি শুধু ভাবছিলাম, কিছুক্ষণ আগেও তো আমি পবিত্র ছিলাম। এক মুহূর্তে সব শেষ। আমি শুধু বললাম, তুমি এটা ঠিক করলে না। স্বামী বলল, আমি এই মুহূর্তটার জন্য অনেক দিন ধরেই অপেক্ষা করছিলাম। তারপর আমাকে জাপটে ধরল। যেন মোটা দড়ি দিয়ে আমায় বাঁধল। এবং অসম্ভব রেগে গেল। বলল, তোমাকে এই মুহূর্তটা উপভোগ করতেই হবে। তুমি এখন আমার স্ত্রী। অতএব, আমি যখন ইচ্ছে তোমার সঙ্গে সেক্স করব। যা করছি, করতে দাও। আমি ভয়ে, ঘৃণায় কুঁকড়ে গেলাম। তারপর থেকে যতবার ও আমার দেহটাকে উপভোগ করত, ততবার আমাকে অপমান করত। সব সময় শুধুই সেক্সের কথা বলত। কোনো গল্প করত না। প্রত্যেকটা দিন আমি ধর্ষিত হতাম। আমার শরীরটা থাকত বিছানায়। মনটা পড়ে থাকত অন্যদিকে। আমি মাটির পুতুলের মতো শুধু যা বলত শুনে যেতাম। ও আমায় রোজ বলত, আমি ওর যোগ্য নই। আমার যৌন চাহিদাই নেই। আচ্ছা, বিয়ে মানেই কি শুধু যৌনতা? আমাদের সন্তানও হলো। তারপরও প্রতিরাতেই চলত ধর্ষণ। কেন জানি না, ও যখনই আমার ওপর শুতো, তখনই আমি চলে যেতাম অনেক অনেক দূরে। এই ভাবেই একদিন বুঝতে পারলাম, ও পরকীয়া করছে। অন্য নারীতে মজেছে। একদিন ওকে বোঝালাম, শুধু শরীরটাই সব। আমরা একে অপরের মনটাকে বুঝব না? একে অপরকে সম্মান করব না? না, ওর কাছে স্ত্রী মানে শুধুই যৌনসুখ। কেন বোঝাতে পারলাম না, একেই ধর্ষণ বলে। হ্যাঁ, বিয়ের পর থেকে প্রতিরাতেই আমি ধর্ষিত হই। Leave a Reply
6db73a78-de44-46ba-be17-ed7f6389ae50
প্রযুক্তি ডেস্ক, সময়ের কণ্ঠস্বর – কানের কাছে মশার গুনগুন শব্দে আরামের ঘুম হারাম হয়ে যায় এক মিনিটেই। ডেঙ্গু, ইয়োলো ফিভার, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতেও মশার একটি কামড়ই যথেষ্ট। আমাদের দেশে প্রতি বছর অনেক মানুষ মারা যায় মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ।বেঁচে থাকলেও ভোগান্তির অন্ত থাকে না। তাই আগে থেকেই থাকা চায় সচেতন। আজ থাকছে মশা দূর করার ঘরোয়া এবং প্রযুক্তিগত চমৎকার কিছু কৌশল। মশা তাড়ানোর জন্য আমাদের কতো কিছুই না করতে হয়। কয়েল দিতে হয় কিংবা স্প্রে করতে হয়। আবার বেশি মশা হলে তাতেও কাজ হয় না। তখন মশারি দেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। তবে আধুনিক এই প্রযুক্তির যুগে মশা তাড়াবার জন্য এবার এসেছে স্মার্টফোন। মশা তাড়াবে এই স্মার্টফোন! প্রযুক্তির যুগে মশা মারতে আপনাকে আর কামান দাগাতে হবে না। বা মশা তাড়াবার জন্য আপনাকে কয়েল কিংবা স্প্রেও করা লাগবে না। এখন থেকে মশা তাড়াবে আপনার স্মার্টফোন! কোরিয়ার প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলজি এমন একটি স্মার্টফোন এনেছে যেটি মশা তাড়িয়ে আপনাকে স্বস্তি দেবে। ‘কে৭আই’ নামের এই নতুন স্মার্টফোনটিতে ‘মশকিটো এওয়ে’ টেকনোলজি ব্যবহৃত হয়েছে। এই ফিচারটির কারণেই মশা থাকবে অনেক দূরে। এমনই দাবি করেছে এলজি। নতুন এই স্মার্টফোনটির দাম রাখা হয়েছে মাত্র ৭,৯৯০ টাকা। এই নতুন প্রযুক্তির স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ৫ ইঞ্চি এইচডি ডিসপ্লে ও ২ জিবি র্যাম আর ১৬ জিবি স্টোরেজ, ৮ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা ও ৫ এমপি ফ্রন্ট ক্যামেরাও। এলজি কে৭আই স্মার্টফোনে এটি ইনবিল্ট অ্যাপ হলেও, যে কোনো অ্যানড্রয়েড এবং আইওএস ফোনেই ইনস্টল করা যাবে মশা তাড়ানোর এই নতুন অ্যাপটি। তাই আপনার চিন্তা কিসের? এখন থেকে আর মশা মারতেও হবে না। শুধু হাতের মুঠোয় থাকবে মোবাইল ফোন, ব্যাস হয়ে গেলো মশারা কুপোকাত! এনরোয়েড এপসস্টোরে এই লিংকে ক্লিক করেও পেতে পারেন এমন অনেক ফ্রি এপস। এই এপগুলোর মধ্যে ভালো রেটিংসের একটি এপস ডাউনলোড করে নিতে পারেন । কিভাবে কাজ করে এই এপস ? এমন প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ কথায় বলি, এই এপস থেকে একধরনের সুক্ষ সাউন্ড ছড়ানো হয়। এই সাউন্ডের ডেসিবল এতই সুক্ষ যে সেটা মানুষের কানে পর্যন্ত পৌছায়না । তবে মজার ব্যাপার হলো এই সুক্ষ শব্দ তরঙ্গ মশা বেচারির কান ফাটিয়ে দিতে দারুনভাবে কার্যকর । শীত কাল মানেই মশার উপদ্রব। রাতে ঘুমনোর সময় টের পাচ্ছেন বেশ। মশার তাড়ানোর স্প্রে, কয়েল থেকে শ্বাস কষ্টের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। তাই জেনে নিন মশা দূর করার ঘরোয়া উপায়। ঘরোয়া পদ্ধতি মশার কামড় থেকে মুক্তি পেতে চান? তাহলে জেনে নিন মশা তাড়ানোর ঘরোয়া সমাধান ১। কর্পূর- ঘরে কর্পূর জ্বালিয় রাখলে ১৫ মিনিটের মধ্যে মশা চলে যায়। ২। রসুন- রসুন জলের ঝাঁঝালো গন্ধে মশা চলে যায়। কয়েক কোয়া রসুন থেঁতো করে জলে ফুটিয়ে নিন। এই জল সারা ঘরে ছড়িয়ে দিন। ৩। মিন্ট অয়েল- জোরালে গন্ধেই মশা পালায়। ক্ষতিকারক মশার ওষুধের থেকে ঘরে মিন্ট অয়েল স্প্রে করলে ৪। নিম তেল- নারকেল তেল ও নিম তেল ১:১ অনুপাতে মিশিয়ে সারা শরীরে লাগান। এই গন্ধে মশা আপনার ধারে কাছে ঘেঁষবে না। এ দিকে আপনার ত্বকও থাকবে ভাল। অ্যালার্জিও কমে যাবে। ৫। অইক্যালিপটাস ও লেমন অয়েল- এই দুই তেলের গন্ধে মশা যেমন পালাবে তেমনই এর অ্যান্টিসেপটিক গুণ মশার কামড় সারাতেও উপযোগী। ইউক্যালিপটাস ও লেমন অয়েল সম পরিমাণে মিশিয়ে গায়ে লাগান। তবে দেখে নিন ইউক্যালিপটাস অয়েলের গন্ধ সহ্য করতে পারছেন কিনা। অ্যালার্জি থাকলে অবশ্য নয়। ৬। তুলসি- মশার লার্ভা মারতে তুলসি খুবই উপকারী। জানলার পাশে তুলসি গাছ থাকলেই বাড়িতে মশার উপদ্রব কমবে। বাড়িতে তুলসি মঞ্চ করার রেওয়াজের অন্যতম কারণও এটা। ৭। টি ট্রি অয়েল- এই তেল মশা তাড়াতে যেমন উপযোগী, তেমনই ত্বক ও চুল ভাল রাখতেও উপকারী টি ট্রি অয়েল। তাই গায়ে মেখে নিতে পারেন টি ট্রি অয়েল বা চাইলে ঘরে স্প্রে করেও নিতে পারেন। ৮। ল্যাভেন্ডার- রুম ফ্রেশনার হিসেবে ল্যাভেন্ডার অয়েল খুব ভাল। অনেকেই ঘরে সুগন্ধ ধরে রাখতে ল্যাভেন্ডার অয়েল স্প্রে করেন। মশা তাড়াতেও উপকারী ল্যাভেন্ডার অয়েল। ৯। সিটরোনিলা- এক বিশেষ ধরণের ঘাষের এক্সট্রাক্ট মশা তাড়াতে খুব উপযোগী। বাজার চলতি অনেক মসকিউটো স্প্রে-তে এই তেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সরাসরি ঘরে স্প্রে করতে পারেন সিটরোনিলা অয়েল। ১০। বাগান- যদি ভেবে থাকেন বাড়িতে বাগান করলে মশার আখড়া হবে তাহলে ভুল ভাবছেন। সব গাছে মশা হয় না। অনেক গাছ মশা তাড়াতে উপকারী। বাড়ির আশে পাশে এমন গাছেন বাগান করলে ঘরে মশার উপদ্রব থেকে রেহাই পাবেন। More Articles জানেন কী ? মশা আপনাকেই বেশি কামড় দেবার নেপথ্যে যে কারনগুলো দায়ী !
622a2d5a-3ae3-4937-9e99-c66be776662e
হামিদুর রহমান,মাধবপুর(হবিগঞ্জ) থেকে: টমেটোর দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার বাম্পার ফলনের আনন্দ বেদনায় রুপ নিয়েছে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুরের টমেটো চাষীদের। বর্তমানে চাষিরা প্রতি কেজি টমেটো পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন ১ টাকায়।মাধবপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,চলতি বছর জেলার মাধবপুর উপজেলায় ২৫০ হেক্টও জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২২০ হেক্টর নিধারর্ণ করলেও ফলন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০ হেক্টর বেশি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ,বোরো মৌসুম শুরু হওয়ায় কিছু কিছু মাঠে এখন ধানের চারা লাগানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ভাবে টমেটো সংরক্ষণাগার(হিমাগার) না থাকায় ক্ষেত থেকেই চাষিরা টমেটো কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে বাম্পার ফলন হলেও কম পাচ্ছেন চাষিরা। ফলে টমেটো চাষ করে লসে পড়তে হচ্ছে চাষিদের। টমেটো চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,প্রায় ১মাস ধরে জমি থেকে টমেটোর তোলা শুরু হয়েছে। প্রথম ২ সপ্তাহ দাম প্রতি কেজি ১৫ থেকে ২০ টাকা করে পাওয়ায় খুশি ছিল চাষিরা। কিন্তুু পরের সপ্তাহে ১০ টাকা,এরপর ৭ টাকা নেমে আসে । বর্তমানে টমেটোর দাম প্রতি কেজি ১টাকা ও উন্নতমানের টমেটো সর্ব্বোচ ২ টাকায় নেমে গেছে। চাষিরা নাম মাত্র মূল্যে টমেটো বিক্রি করছেন। এতে টমেটো বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের। মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের কৃষক আবুল খায়ের বলেন,গতকাল রবিবার ক্ষেত থেকে ২ টাকা করে টমেটো বেচতাছি।ধান লাগাইতে টাকা লাগবো,তাই কম দামে বেচন ছাড়া উপায় নাই। একই ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের কৃষক ফরিদ মিয়া জানান,টমেটো চাষ করে ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তুু ভালো দাম পাচ্ছি না। কিস্তিতে টাকা তুলে অন্যের দেড় বিঘা ধার নিয়ে টমেটো চাষ করেছি। টমেটো ভালো হয়েছিল। কিন্তুু টমেটোর দাম খুবই কম। মনে হচ্ছে টমেটো বিক্রি করে কিস্তির টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। বড়ই চিন্তায় আছি। মাধবপুর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অর্ধেন্দু দেব অসিত বলেন,চলতি বছর পর্যাপ্ত সার অনুকুল পরিবেশ পাওয়ায় গত বছরের চেয়ে এ বছর টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তুু কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছে না। আমাদের পরামর্শ হল,যদি স্থানীয় ভাবে টমেটো সংরক্ষণাগার করা যায়,অথবা চাষিদের সংরক্ষণ প্রযুক্তিটা বুঝাতে পারা যায় বা সংরক্ষণ করে কিছু দিন পরে বিক্রি করতে পারলে চাষিদের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। দ্বিতীয়ত কোনো আগ্রহী ব্যক্তি টমেটো প্রসেসিং করার জন্য যদি বিভিন্ন খাবার তৈরি করার জন্য এগিয়ে আসেন,তবে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। মাধবপুর উপজেলার ৭০ ভাগ মানুষ সরাসরি কৃষির সঙ্গে জড়িত । এখানে সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সবজির চাষ করা হয় হিমাগারের সংরক্ষনের ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদন হওয়া এই সবজি কম দামে বিক্রি করে দিতে হয়। মৌসুমে শুধু সংরক্ষণের অভাবে প্রায় বিরাট একটি অংশ সবজি পচে নষ্ট হচ্ছে।মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন,একটি হিমাগার স্থাপন করা হলে এই উপজেলার কৃষকরা উপকৃত হবেন। বর্তমান সরকার কৃষকদের স্বার্থে কাজ করছে। গতকাল বুধবার বলেন, বর্তমান সরকার কৃষকদের স্বার্থে কাজ করছে। আশা করি দ্রুতই একটি হিমাগার নিমার্ণ করে সরকার এই উপজেলা বাসীর দীর্ঘ দিনের দাবির বাস্তবায়ন ঘটাবেন। মাধবপুরে ২ ডাকাত গ্রেফতার হবিগঞ্জের মাধবপুরে মওলানা নুরুজ্জামান হুজুরের বাড়িতে ও পানিহাতা রাস্তায় ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে ২ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে। মাধবপুর থানার এসআই মমিনুল ইসলাম গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার ভোর রাতে গাঙ্গাইল গ্রাম থেকে জারু মিয়া (৪০) কে গ্রেফতার করে। জারু মিয়া গত ১৮ই আগষ্ট একদল ডাকাত নিয়ে মনতলা নুরুজ্জামান হুজুরের বাড়িতে হানা দিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার সহ সাড়ে ৯ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয়। এছাড়া থানার এসআই আক্তারুজ্জামান জানান, মনতলা পানিহাতা গ্রামে ব্যবসায়ী আশুতোষ দেবনাথের মোটর সাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া ও ডাকাতির ঘটনায় পার্শ্ববর্তী বিজয়নগর উপজেলার এক্তিয়ারপুর গ্রামের আশিকুর মিয়া (১৮)কে গ্রেফতার করে। রোববার সন্ধ্যায় আশিকুরকে তেলিয়াপাড়া চা বাগান থেকে গ্রেফতার করা হয়। ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন ট্রেক করে এর আগে এক্তিয়ারপুর গ্রামের ডাকাত ইয়াছিনকে গ্রেফতার করা হয়। মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, গ্রেফতার ২ ডাকাতকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারকের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
63e85bab-efd9-4070-8557-ae5bd8c2f1ab
নোয়াখালী প্রতিনিধি- পুলিশ পরিচয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে কিশোরীকে (১৬) গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে যুবলীগের এক স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে। নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকাজুড়েই। অভিযোগ ওঠা যুবলীগ নেতার নাম মজিবুর রহমান ওরফে শরীফ। তিনি উপজেলার নোয়াখোলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। এদিকে ধর্ষণের ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। কিশোরীর স্বজনদের অভিযোগ এ ঘটনায় ওই যুবলীগনেতাসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ মামলার এজাহার থেকে বাদ দিয়েছেন যুবলীগ নেতার নাম। মামলাসুত্র ও স্থানীয় সূত্রমতে, ঘটনার শিকার ওই কিশোরী তার পরিবারের সঙ্গে নোয়াখোলা ইউনিয়নের এয়াছিন বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন । গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে আকস্মিক পুলিশ পরিচয়ে পাঁচ-ছয়জন যুবক ওই বাড়িতে ঢোকেন। তাঁরা ওই ঘর থেকে ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে যান। পরে ওই কিশোরীকে পাশের বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে বাড়ির সামনে ফেলে যান। মামলার এজাহার সুত্রে প্রকাশ, ঘটনার দিন রাত দেড়টার দিকে আসামিরা মামার বাড়িতে গিয়ে পুলিশ পরিচয়ে দরজা ধাক্কাতে থাকে। এ সময় দরজা খুলে দিলে আসামিরা ঘরে ঢুকে প্রথমেই ওই কিশোরীর নাম ঠিকানা জিজ্ঞেস করে। ভোটার আইডি কার্ড ও জন্মসনদ দেখতে চায়। পরে মোটরসাইকেলে জোর করে উঠিয়ে দূরের একটি বাগানে নিয়ে তিনজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে চোখ বেঁধে বাড়ির কাছে রেখে যায়। মুখ খুললে মা-বাবা, ভাই-বোনসহ সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ঘটনার পরদিন গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে নোয়াখোলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান ওরফে শরীফসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন কিশোরীর মা। কিন্তু তিন দিন পর শরীফের নাম বাদ দিয়ে দুজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে মামলাটি রেকর্ড করে পুলিশ। এরপর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। এ অবস্থায় শরীফ ও আসামিরা তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। কিশোরীর পরিবার জানিয়েছে, সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতেও তাঁদের বাড়ির সামনে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ ঘটনায় মেয়ে ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে দিয়ে দিন পার করছেন উল্লেখ করে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান,’শরীফ ক্ষমতাসীন দলের হওয়ায় এলাকায় কেউ তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না।’ কিশোরীর পরিবার থেকে এমন অভিযোগ থাকলেও ধর্ষণের অভিযোগ উড়িয়ে দেন যুবলীগ নেতা মজিবুর রহমান শরীফ। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, তিনি ধর্ষণ বা হুমকি দেওয়া কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। স্থানীয়ভাবে যুবলীগের দুটি পক্ষ রয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় তাঁকে জড়ানোর পেছনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাত থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন। এদিকে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় উপজেলা যুবলীগের একাংশের আহ্বায়ক ও চাটখিল পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ উল্যাহ পাটোয়ারী বলেন, তদন্তে শরীফ যদি অপরাধী প্রমাণ হন, তাঁর বিচার হবে। তিনিও আশংকা প্রকাশ করে বলেন, একটি মহল এই মামলায় শরীফকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতালেরর আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আনোয়ারুল আজিম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আনোয়ার বলেন, ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ নিয়ে কিশোরী ও তার মা ৮ ফেব্রুয়ারি নয়, ১০ ফেব্রুয়ারি থানায় আসেন। ওই দিনই তাঁদের দেওয়া অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগে যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে। পরের দিন ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে, তবে এখনও প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ওসি আরও বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে শরীফের নাম এলে তাঁকেও আসামি করা হবে বলে জানান ওসি। সম্পর্কিত সংবাদ
11d117e7-9e45-4ee2-98a2-40e419b57b30
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বর- আদালতের নির্দেশে কারাগারের অভ্যন্তরেই এক প্রেমিক জুটির ব্যতিক্রমি বিয়ের গল্প এখন সাড়া ফেলেছে পুরো এলাকায়। গল্পের নায়ক কারাবন্দী রাসেল (২৩) আর কনে তানিয়া (২০)। কোন জমকালো কমিউনিটি সেন্টার নয়, নয় কোন বিশাল প্রাসাদ, বিয়ে হলো কারাগারে! এমনই এক ব্যতিক্রমি ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম কারাগারে। এ ঘটনার মধ্যদিয়ে যেন, সত্যিকারের ভালোবাসা খুঁজে পেল নীড়। রাসেল আর তানিয়া যেন কারাগারের নোনা দেয়ালেই তুলতে সক্ষম হলেন প্রেমের সুদৃঢ় স্তম্ভ। এক অনাড়ম্বর আয়োজনে কারাগারের অভ্যন্তরেই এই বিয়ে ভালোবাসা দিবসের আগের দিন সম্পন্ন হলেও আইনি বাধ্যবাধকতা ও বিধিনিষেধের কারনে তা প্রকাশ পায় একটু দেরিতেই। দু’পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে অনাড়ম্বর পরিবেশে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। ব্যতিক্রমি এই বিয়ে উপলক্ষে কারাবন্দীদের জন্য মিষ্টির ব্যবস্থাও করেন কারা কতৃপক্ষ। অনবদ্য এই প্রেমের গল্পের শুরু আজ থেকে প্রায় তিনবছর আগে। এরপর নানা চড়াই উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে তানিয়ার পরিবার রাসেলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ এনে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন আজ থেকে প্রায় দুবছর আগে । ওই মামলায় সে সময় রাসেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারপর থেকেই জেলহাজতে অভিযোগের ঘানি টানছেন রাসেল। রাসেল-তানিয়ার পারিবারিক সুত্রমতে, রাসেল-তানিয়ার প্রেম শুরু প্রায় তিন বছর আগে। চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানার মাস্টারপোল এলাকার ইকবাল কলোনিতে এই জুটির বসবাস। রাসেলের বয়স ছিল তখন ২১, আর তানিয়ার বয়স ১৮। চিরায়ত নিয়মে রাসেল ও তানিয়ার সম্পর্কের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় দু’জনের পরিবার। এ নিয়ে দু’পরিবারের বিরোধ চরমে পৌঁছে। একপর্যায়ে রাসেলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করে তানিয়ার বাবা। অভিযোগের দায়ে জেলে যেতে হয় রাসেলকে। সেই থেকে প্রায় দু’বছর এক মাস ধরে জেলের ঘানি টানছেন রাসেল। এতকিছুর পরেও হেরে যায়নি রাসেল-তানিয়ার সত্যিকারের ভালোবাসা। জেলের উচু পাচিল, পারিবারিক বাধা সব ডিঙিয়ে রাসেল জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছে তানিয়াকে। আদালতের নির্দেশে গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বিয়ে হয়ে গেলো রাসেল-তানিয়া জুটির। রাসেলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইসহাক জানালেন, সম্প্রতি দু’পরিবারের সম্মতিতে মামলা তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু চট্টগ্রামের প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এ আবেদন নামঞ্জুর করলে হাইকোর্টে রিভিশন করেন তারা। পরে হাইকোর্ট জামিনের শর্ত হিসেবে রাসেল ও তানিয়ার বিয়ের আদেশ দেন। আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল কবির চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে ও বেসরকারি কারাপরিদর্শক আবদুল মান্নানের উপস্থিতেতে রাসেল ও তানিয়ার বিয়ে সম্পন্ন হয়। এখন বিয়ের সার্টিফাইট কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাইকোর্টে পৌঁছালে রাসেলের জামিন হবে বলে আশা করছেন তিনি। ঘটনার বিবরনে রাসেলের বন্ধু সুমন জানালেন, রাসেলের জন্ম, ছোট থেকে বেড়ে উঠা সবই এই ইকবাল কলোনিতে। রাসেল -তানিয়া সবাই এক সঙ্গে এখানে বড় হয়েছে। বছর তিনেক আগে তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রথম প্রথম আমরা কয়েকজন জানলেও পরিবারের কেউ জানতো না বিষয়টি। কয়েকমাস পর বিষয়টি জানাজানি হলে দু’পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। তানিয়ার পরিবার তাকে বিয়ে দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগে। কিন্তু তিনি রাসেলকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিলোনা। ২০১৬ সালের ৩০ রমজানে তানিয়া রাসেল ভাইয়ার সঙ্গে একবার দেখা করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তার মা-বাবার ভয়ে পারছিলনা। শেষমেশ রাত আড়াইটার দিকে পাড়ার গলিতে রাসেলের সঙ্গে দেখা করতে যান। কিন্তু বিধিবাম, তারা ধরা পড়ে যান তানিয়ার বাবার হাতে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তানিয়ার বাবা আবদুল শুক্কুর বাকলিয়া থানায় রাসেলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা করেন। এরপর রাসেল গ্রেপ্তার হয়। মামলা যায় চট্টগ্রামের প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে। রাসেলের পরিবার বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও তার জামিন করাতে পারেনি। এদিকে, তানিয়ার পরিবার বাকলিয়া ছেড়ে চলে যায় জামালখানে। তানিয়াকে গ্রামের বাড়ি নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার অমতে তা কোনোভাবেই হচ্ছিল না। শেষমেশ কয়েকমাস আগে সমস্ত বিরোধে জল ঢেলে নিজের ভালোবাসা জয় করে নিতে সক্ষম হয় তানিয়া। তানিয়ার অনুরোধ আর ভালোবাসার প্রবলতার কাছে হার মেনে তার পরিবার মামলা তুলে নিতে সম্মত হয়। রাসেলের আইনজীবী জানালেন, আইনি বাধ্যবাধকতা আর জটিলতার কারনে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। পরে তারা হাইকোর্টে রিভিশন করেন। এ সময় হাইকোর্ট জামিনের শর্ত হিসেবে রাসেল ও তানিয়ার বিয়ের আদেশ দেন। পরে দু’পরিবারের সম্মতিতে কারাগারে রাসেল ও তানিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় এক সপ্তাহ পর প্রেমিক জুটির প্রেমের অনাড়ম্বর বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক (জেল সুপার) ইকবাল কবির চৌধুরী সাংবাদিকদের কাছে বিয়ের সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ বিষয়ে কথা বলতে আদালতের নির্দেশ লাগবে।
9ad50d42-c182-45ab-8302-d9976c0e275d
রাশিফলের পুর্বাভাস গননায়- সিদ্ধার্থ আচার্য, সময়ের কণ্ঠস্বর- ভাগ্যগননা বা রাশিফল কোন সঠিক সিদ্ধান্ত বা দাবী নয়। ঠিক ঠিক এমন কিছুই ঘটবে অথবা ফলপ্রসু হবে তেমন গ্যারান্টিও দেয়না রাশিফলের পুর্বাভাস। মনে রাখবেন, সাফল্য লাভের জন্য শুধু কর্মই যথেষ্ট নয়। দরকার সঠিক কর্মকৌশল, সহনশীলতা ও কিছু বিষয়ে সচেতনতা। আর তাতেই আপনি আপনার জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তর করতে পারেন। আজ আপনার জন্ম হলে পাশ্চাত্য মতে আপনি মীন রাশির জাতক জাতিকা। আপনার ওপর প্রভাবকারী গ্রহ চন্দ্র নেপচুন। ১১ তারিখে জন্ম হবার কারনে আপনার উপর চন্দ্রর প্রভাব প্রবল। আপনার শুভ সংখ্যা: ২,১১,২০। শুভ বর্ণ: সাদা ও বেগুণী। শুভ বার ও গ্রহ: সোম। শুভ রত্ন: মুক্তা ও একুয়ামেরীন। মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০এপ্রিল): আপনার সৃজনশিলতাই আপনার শত্রু হয়ে দাড়াবে। নিজের দায়িত্বে কোনো কাজ করতে গিয়ে অন্যের রোষানলে পড়তে পারেন। ইংরেজী মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা ভালো ফল আশা করতে পারেন। শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে বিদেশ যাত্রার যোগ রয়েছে। শিল্পীদের অনুষ্ঠানের জন্য দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার যোগ প্রবল। প্রেমিক প্রেমিকাদের মধ্যে কোনো কারনে তর্ক বিতর্ক হতে পারে। বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২০মে): গৃহস্থালী কাজে কোনো প্রকার জটিলতা দেখা দিতে পারে। যানবাহনে যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মূখীন হবেন। প্রত্যাশা পূরনে বাধা বিপত্তি দেখা দেবে। মায়ের শরীর স্বাস্থ্য ভালো যাবে না। মায়ের বাতের ব্যাথা বৃদ্ধি পাবে। পারিবারিক পরিবেশ কোন আত্মীয়র কারনে কিছুটা অস্থির হয়ে উঠবে। জমি ভূমি ও আবাসন সংক্রান্ত আলোচনা ফলপ্রসু হবে না। মিথুন রাশি (২১ মে-২০ জুন): ছোট বোনের বিদেশ যাত্রার যোগ বলবান। দূর থেকে কোনো আশানুরুপ সংবাদ পেতে পারেন। সাংবাদিক ও প্রকাশকদের সময় অনুকুল থাকবে। ঝুঁকি নিয়ে কোনো কাজে অংশ নিতে পারেন। গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও পোশাক শ্রমিকদের দিনটি ঝামেলা পূর্ণ। কোনো বায়ারের পরিদর্শন প্রতিবেদন অনুকূলে আসবে না। ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। কর্কট রাশি (২১ জুন-২০ জুলাই): আজ বৈদেশিক বাণিজ্যে কিছু আয় হতে পারে। আর্থিক অনিশ্চয়তায় থাকবেন। কাঙ্খীত অর্থ হাতে না আসার জন্য কিছুটা উদ্বিগ্ন থাকবেন। খাদ্য ও বেকারী বাণিজ্যে কিছু অসুবিধা দেখা দেবে। আজ কারো সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের যোগ প্রবল। কথাবর্তায় সংযমি না হলে আজ বিপদে পরতে পারেন। সিংহ রাশি (২১জুলাই-২১ আগষ্ট): দিনটি কিছুটা ঝামেলাপূর্ণ। মানসিক অস্থিরতায় ভুগবেন। পারিবারিক কোনো বিষয় নিয়ে খুবই উত্তেজিত হতে পারেন। জীবন সাথীর সাথে কোনো কারনে তর্ক হতে পারে। আর্থিক অবস্থা ভালো যাবে না। চাকরীজীবীরা কোনো প্রকার ঝামেলায় জড়িয়ে যেতে পারেন। ব্যবসায়ীক ক্ষেত্রে কোনো লোকসান বা অর্থহানি হতে পারে। কন্যা রাশি (২২ আগষ্ট-২২ সেপ্টেম্বর): আজ বৈদেশীক বাণিজ্যে কিছু ব্যস্ততা বৃদ্ধি পাবে। সি এন্ড এফ এজেন্টদের কাজে ব্যস্ততা বৃদ্ধি পাবে। বকেয়া টাকা আদায়ের চেষ্টায় সফলতা নেই বল্লেই চলে। ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরদের ব্যবসায় খড়া দেখা দেবে। আজ ভ্রমনে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে কোথাও ভ্রমনে যেতে পারেন। তুলা রাশি (২৩ সেপ্টেম্বর-২১অক্টোবর): আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো যাবে না। ঠিকাদারী কাজে কোনো ঝামেলার শিকার হতে পারেন। কোনো বন্ধুর সাথে বিবাদে জড়িয়ে পরতে চলেছেন। বাড়ীতে সম্পত্তি অথবা পিতামাতার দায় দায়িত্ব নিয়ে বড় ভাইদের সাথে কোনো প্রকার মনোমালিন্য হতে চলেছে। বিদেশ থেকে কিছু রেমিটেন্স আশা করা যায়। বৈদেশিক প্রতিষ্ঠানের কোনো কাজে সাফল্য পাবেন। বৃশ্চিক রাশি (২২ অক্টোবর-২০ নভেম্বর): আজ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। কোনো প্রভাবশালী নেতার দ্বারা প্রতারিত হতে পারেন। নতুন কোনো কমিটিতে আপনাকে পদ বঞ্চিত করা হতে পারে। পিতার শরীর স্বাস্থ্য ভালো যাবে না। প্রবাসী পিতার দেশে আগমনের যোগ প্রবল। বেসরকারী কোনো চাকরীতে ইন্টারভিউ দিলে ভালো করতে পারবেন। ধনু রাশি (২১ নভেম্বর-২০ ডিসেম্বর): আজ আপনার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মীক কাজে কোনো ঝামেলা দেখা দিতে পারে। ভাগ্য বিড়ম্বনার শিকার হবেন। প্রত্যাশানুসারে উচ্চ শিক্ষায় সাফল্য আসবে না। বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য দেওয়া কোনো পরীক্ষায় ভালো করতে পারবেন। প্রবাসে কোনো প্রকার আইনগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিদেশ যাত্রায় বাধা বিপত্তি। মকর রাশি (২১ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি): আজ পাওনাদারের তাগাদায় অস্থির থাকবেন। বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য খুবই সমস্যার মধ্যে পরতে হবে। পুলিশ প্রশাসনের কারো সাহায্য লাগতে পারে। আজ চিকিৎসকদের দিনটি ভালো যাবে না। কোনো প্রকার দূর্ঘটনার সম্মূখীন হতে পারেন। অবৈধ ঔষধ বিক্রেতাদের আজ জেল জরিমানার সম্মূখীন হবার আশঙ্কা দেখা যায়। কুম্ভ রাশি (২১ জানুয়ারী -১৮ ফেব্রুয়ারি): আপনার আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে না। ব্যক্তিজীবনে বার বার ভুলবুঝাবুঝির শিকার হতে পারেন। জীবন সাথীর উদ্যত্ব আচরনে কিছুটা হতাশ হতে পারেন। যৌথ বা অংশিদারী ব্যবসায় কোনো ঝামেলা দেখা দেবে। নব দম্পতিদের দিনটি ভালো যাবে না। কোনো আত্মীয়র বাড়ী বেড়াতে গিয়ে কোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সম্মূখীন হতে পারেন। মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ): আজ আপনাকে গোপন শত্রুদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে হবে। কর্মস্থলে কোনো প্রকার ঝামেলার শিকার হতে পারেন। আপনার কোনো সহকর্মী আপনার ইমেজ খারাপ করার জন্য আপনার সাথে তর্কে জড়িয়ে যেতে পারে। পায়ে বা কোমড়ে কোথাও আঘাত পেতে চলেছেন। কাজের লোক বা অধিনস্ত কর্মচারীদের গতিবিধি ভালো হবে না।
7bf027bc-19b9-4597-846f-7a849240c9cb
রাজিব আহম্মেদ, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রামকান্তপুর মৌজার গোহালা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গণ রোধে ক্ষতিগ্রস্তরা সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। রোববার শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেহেলী লায়লা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিব সরকারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, গো-খামারি ও মৎস্যজীবিরা জানান, গত ১০/১২ বছর ধরে চরাচিথুলিয়া গ্রামের কতিপয় অসাধু বালু ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উৎকোচের বিনিময়ে ম্যানেজ করে নামকায়াস্তে ইজারা নিয়ে সরকারি নিয়ম সম্পূর্ণ অমান্য করে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ ভাবে অতিমাত্রায় বালু উত্তোলনের ফলে গোহালা নদীতে ব্যাপক ভাঙ্গণ শুরু হয়েছে। এ ভাঙ্গণের তান্ডবে ইতিমধ্যেই এ এলাকার শত শত বিঘা ফসলি জমি ও গো-চারণ ভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের নির্ধারিত স্থান ও ২৫টি গরুর বাথান হুমকির মুখে পড়েছে । নদীরপাড় ভেঙ্গে যাওয়ায় বাথান এলাকার শত শত গরু নদীতে নেমে পানি খেতে পারছেনা। পানি খেতে গিয়ে অনেক গরুর পা ও কোমর ভেঙ্গে যাচ্ছে। অনেক গরু পানিতে পড়ে মারাও যাচ্ছে। ভাঙ্গণের তান্ডবে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শতাধিক মৎস্যজীবি এ নদী থেকে মাছ ধরতে না পারায় তারা পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ফলে এ সব ক্ষতিগ্রস্তরা গোহালা নদী থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধের জন্য আগমী ১৪ মার্চের বালু মহল ইজারার টেন্ডর স্থগিতের আবেদন জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করেছে। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও গো-বাথান মালিক আলহাজ্ব আব্দুস সালাম ব্যাপারী, আলহাজ্ব কালাম চৌধুরী, নূরুল ইসলাম, শামছুল ইসলাম, হাজী আজাদ, নওশাদ আলী, উজ্জল প্রাং, জমারত আলী ও মাহমুদ আলী জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১০ ফুটের অধিক গভীর করে, নদীর পাড় ও ফসলী জমি কিংবা বাড়িঘর বা কোন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন ভাবে বালু উত্তোলন করা যাবে না। অথচ ওই প্রভাবশালী ইজারাদারগণ সরকারের এ নিয়ম অমান্য করে কমপক্ষে ১২০ ফুট গভির করে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। ফলে ওই নদীর দু‘পাড়ে ভয়াবহ ভাঙ্গণের তান্ডব শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই তাদের ফসলী জমি,গো-চারণ ভূমি,বাথানও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তারা আরো জানান, রামকান্তপুর এলাকা দেশের সর্ববৃহৎ গো-চারণ ভূমি। এখানকার উৎপাদিত গরুর দুধ মিল্কভিটা সহ প্রায় ২০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাজারজাতের মাধ্যমে দেশের ৭০ ভাগ শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে। অথচ একটি স্বার্থান্বেষী প্রভাবশালী মহল দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ বাথান এলাকা ধ্বংসের হীন চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে গোহালা নদী থেকে অতিমাত্রায় বালু উত্তোলনের ফলে এই ভাঙ্গণ তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে এখানকার গোহালা নদীর পাড় ২৫/৩০ ফুট খাড়া হয়ে ভেঙ্গে গেছে। এতে বাথানের গরু পানি খেতে গিয়ে নিচে পড়ে মারা যায় অথবা পা-কোমর ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপর দিকে আবাদী জমি এ ভাঙ্গণের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ভাঙ্গণ দ্রুত রোধ করা না গেলে শত শত বিঘা ফসলী জমি,রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের নির্ধারিত স্থান ও ২৫টি বাথান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এই ক্ষতির হাত থেকে কৃষকদের রক্ষার জন্যই তারা বালুমহলের ইজারা বন্ধের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। অপর দিকে রাউতারা বড়পাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিম শেখ ও সাবেক সভাপতি আমীর আলী শেখ জানান,নিয়ম অমান্য করে ১০ ফুটের স্থলে ১২০ ফুট গভীর করে গোহালা নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় তাদের সমিতি ভুক্ত শতাধিক মৎস্যজীবি মাছ আহরণ করতে না পাড়ায় অর্ধাহারে অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তারা আরো জানান,তাদের মাছ ধরার জালের ব্যাস সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৭/৮ ফুটের বেশি নয়। মাত্রাতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে এ নদীর গভীরতা ১০/১২ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা এ নদী থেকে মাছ আহরণ করতে না পারায় তাদের এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন অথচ তারা তাদের সমিতির নামে বৈধ উপায়ে সারা বছর মৎস্য আহরণের জন্য ইজারা নিয়েছেন। তার পরেও ওই একই যায়গায় বালু উত্তোলনের জন্য অপর পক্ষকে ইজারা দেয়া হয়েছে। তারা দাবী করেন, একই স্থানের দুইবার ইজারা দেয়ার কোন নিয়ম না থাকলেও সিরাগগঞ্জের ডিসি অফিসের অসাধু কর্মকর্তারা উৎকোচের বিনিময়ে ম্যানেজ হয়ে এ নদীর একই জায়গার দু‘টি ইজারা প্রদান করায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তারা আরো বলেন, এ বছর শত নিষেধ করা শত্বেও ওই অসাধু কর্মকর্তারা নতুন করে বালুমহলের টেন্ডার আহব্বান করেছে। এ বছর এই ইজারা প্রদান করা হলে এখানে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে। এ পরিস্থিতির জন্য তারাই দায়ী থাকবে। তাই এ ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে এলাকাবাসির যান-মাল রক্ষার্থে জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেহলী লায়লা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিব সরকার বলেন,তাদের এ আবেদনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দ্রুত সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করা হবে। সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি
bcb4fc90-4577-4420-b235-1642e3ed6d17
স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- নিদাহাস ট্রফির গ্রুপ পর্বের বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার শেষ ম্যাচের পর মাঠের বাইরেও খেলার রেশ গড়ায়। এ নিয়ে কম নাটক হয়নি। প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দুই দলের বাদানুবাদ। ডাগ আউটে থাকা টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের আচরণ। বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমের ভাংচুর। ভারত ও শ্রীলঙ্কার গণমাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে কটূক্তি। এসব কিছু ছাপিয়ে আলোচনার তুঙ্গে ছিল সুনীল গাভাস্কারের সমালোচনা। সাকিবদের কঠোর শাস্তির দেবার পক্ষে তিনি কথা বলেছিলেন। গেলো শুক্রবারের ওই ম্যাচে নো বল ইস্যুতে বিশ্বসেরা অধিনায়ক আম্পায়ারের দেয়া সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দলকে মাঠ থেকে বের হয়ে আসতে বলেছিলেন। ডাগ আউটে সেসময় অধিনায়কের পাশেই ছিলেন দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন। তার হস্তক্ষেপে ফের ম্যাচ শুরু হয়। এতে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অদম্য ব্যাটিংয়ে জয় পায় দল। ভারতীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেশটির কিংবদন্তি দাবি করেন, সাকিবের শাস্তি হওয়া উচিত আর ম্যাচ শেষে নাগিন নাচ নাচায় টাইগার ক্রিকেটারদের সমালোচনা করেন তিনি। যদিও ১৯৮১ সালে সুনিল গাভাস্কার নিজেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে গিয়ে ম্যাচ বয়কট করেছিলেন। আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ওই ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টা পার না হতেই নিজের পেশাদারিত্ব নিয়ে নিজেই ক্রিকেট বিশ্বের কাছে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন সুনীল গাভাস্কর। বাংলাদেশিদের জয় উদযাপনের প্রতীক সেই নাগিন ড্যান্স দিলেন কমেন্ট্রি বক্সে বসেই। কিন্তু সেটা এমন এক জায়গা দিয়েছেন, যা নিয়ে তার পেশাদারিত্বের প্রশ্ন তোলা শুরু করেছে ক্রিকেট বিশ্ব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইংরেজিতে ধারাভাষ্যকারদের নিরপেক্ষ থাকতে হয়। শুধু কমেন্ট্রি নয়, তাদের আচরণও হতে হয় নিরপেক্ষ। গাভাস্কারের মত লিজেন্ড এই আইন জানবেন না সেটা হতেই পারে না। তিনি কী তবে জেনে শুনেই আইন ভাঙলেন? নাকি নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি? তবে তিনি যে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি সেটা অনুমান করাই যায়। কারণ, রোহিত শর্মার ব্যাটে তখন সহজ জয়ের পথে ছিল ভারত। এ সময় গ্যালারিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কার সমর্থকেরা নাগিন নেচে বাংলাদেশকে বিদ্রূপ করছিলেন। ওই সময়ে ধারাভাষ্য কক্ষে ছিলেন গাভাস্কার। হঠাৎ করেই উঠে দাঁড়ালেন এবং কোমর দুলিয়ে দু-তিনবার নাগিন নেচেও দেখালেন সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক’ যা দেখে পাশে থাকা ব্রেট লি ও আমির সোহেলও অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন। একটি পক্ষ মনে করছেন, টাইগারদের ব্যঙ্গ করেই ড্যান্সটা দিয়েছেন গাভাস্কর। কারণ হিসেবে তাদের দাবি, বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে উত্তেজনার মুহূর্তে টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের প্রতিবাদী রূপের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে ক্রিকেটপ্রেমীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সুনীল গাভাস্কার। সে কারণে ওই সময় ভারতের অবস্থা সুবিধাজনক দেখে তিনি আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ব্যঙ্গ করেই নাগিন ড্যান্সে মেতে উঠেন। কিন্তু তিনি যে উদ্দেশ্যেই দিক, তার জায়গা থেকে সেটা করা কি আদৌ উচিত ছিল? যে গাভাস্কর ৪৮ ঘণ্টা আগে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার জন্য টাইগারদের সমালোচনা করলেন, তিনি কীভাবে একটা দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে এমন কাণ্ডজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিলেন, এই প্রশ্ন এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের মুখে মুখে। সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি
568b5440-40b8-4f30-b4df-bdf0636af44c
সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাগেরহাট-৩ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় তালুকদার আবদুল খালেক। আজ মঙ্গলবার তিনি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুীর কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেন। এর ফলে তার আসন শূন্য ঘোষণা করেছেন স্পিকার। জাতীয় সংসদ চলাকালীন সময় তিনি ওই আসন শূন্য সংক্রান্ত ঘোষণা পাঠ করেন। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মনোনীত হওয়ায় এমপি পদ ছাড়তে হয়েছে তালুকদার আবদুল খালেককে। এর আগে সোমবার সংসদের সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছেন তিনি। এসময় তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। তালুকদার খালেক বলেন, আমি এই সংসদে ১৯৯১, ৯৬ এবং ২০০১ নির্বাচনে জয়ী হই। এরপর ২০১৪ সালে বাগেরহাট-৩ থেকে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছি। আমি ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে খুলনা সিটি করপোরেশনে মেয়র হিসেবে জয় লাভ করি। তবে ২০১৩ সালে জয় লাভ করতে পারিনি। পরবর্তিতে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই’। গত রোববার প্রকাশিত সংবাদ খুলনা আওয়ামী লীগে প্রকাশ্যে কোন্দল নেই। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি ও বিভক্তি আছে। চলছে নানা গুঞ্জনও।খুলনা আওয়ামী লীগে প্রকাশ্যে কোনো কোন্দল না থাকলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে ‘ছোট ছোট’ দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন নেতা-কর্মীরা। দলীয় মেয়র প্রার্থী এখনো ঠিক না হওয়ায় এ নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। বিশেষ করে সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক আর প্রার্থী হবেন না বলে ঘোষণা দেওয়ার পর। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপিকে মোকাবেলায় তালুকদার আবদুল খালেককে রাজি করাতে চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠেয় খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেককে ‘উইনিং’ প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ এগিয়ে রাখলেও স্থানীয় কোন্দলপূর্ণ রাজনীতি তাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে নিরুৎসাহিত করছে। খুলনার রাজনীতি কোন্দলে জর্জরিত। উপরন্তু মোংলা-রামপাল আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে হবে। এসব বিবেচনায় সিটি মেয়র হিসেবে নির্বাচন করতে নারাজ তালুকদার খালেক। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনা সিটিতে তাকে নির্বাচন করার নির্দেশ দিলে প্রার্থী হতে আপত্তি নেই তার। খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক শনিবার (৭ এপ্রিল) এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি। খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, মোংলা-রামপাল আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হতে হবে। পরে সিটি নির্বাচনেও যদি হারতে হয়! জেতার নিশ্চয়তা কে দেবে? এমন নানা আশঙ্কা থেকে তালুকদার খালেক মেয়র প্রার্থী হতে নারাজ। খুলনা সিটি নির্বাচন, প্রার্থী হওয়া না হওয়া এসব বিষয় নিয়ে কথা হয় তালুকদার আব্দুল খালেকের সঙ্গেও। শনিবার দুপুরে তার মোবাইল ফোনে। খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ আমার নেই। তবে দলীয় সভাপতি ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা যদি আমাকে নির্দেশ দেন আমি প্রার্থী হবো।’ তিনি বলেন, ‘আমি একটি সংসদীয় আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। সংসদ নেতার হুকুম ছাড়া দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা নিয়মবহির্ভূত বিদায় আমি ফরম সংগ্রহ করিনি। আমাকে মনোনয়ন ফরম কিনতে হলে সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সংসদ নেতার নির্দেশ প্রয়োজন হয়। সেই নির্দেশ আমি পাইনি বলেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করনি।’ ২০১৩ সালের খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমাকে স্থানীয়ভাবে সহযোগিতা করা হয়নি কেন? তাহলে তো আমাকে সংসদ নির্বাচন করতে হতো না।’ তিনি বলেন, ‘আবার দাঁড়ালে সিটি নির্বাচনে জিতবো, এই গ্যাটান্টি কে দেবে? তিনি বলেন, আমি কারো ‘চালের গুটি’ হতে চাই না ‘ও খেলার ফুটবল হতে পারি না। তাছাড়া, আমার মোংলা-রামপাল সংসদীয় আসনের কী হবে?’ আপনি ছাড়া যোগ্য প্রার্থী কে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তারা সবাই যোগ্য। দল ক্ষমতায় আছে, বিভেদ ভুলে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে দল যার হাতে নৌকা তুলে দেবেন, সেই প্রার্থী অবশ্যই বিজয়ী হবে।’ গত নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক অর্ধ লক্ষাধিক ভোটে বর্তমান মেয়র বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের কাছে হেরে যান। জেলা ও নগরের অন্তত ৭০ জন নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খালেকের পরাজয়ের কারণ ছিল কোন্দল। নগর ও জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতার সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ছিল। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘আমরা নাম সুপারিশ করেছি, এখন দল যাকে মনোনয়ন দিবে তাকে বিজয়ী করতে আমরা কাজ করব।’ অবশ্য আওয়ামী লীগ যে ১০টি নাম পাঠিয়েছে, এদের মধ্য থেকেই যে প্রার্থী বাছাই করা হবে এমনটি নয়। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নের জন্য যাদের নাম সুপারিশ করা হয় তাদের মধ্যে সেলিনা হায়াৎ আইভীর নাম ছিল না। কিন্তু পরে তাকেই মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ।
419b1d0c-e0f7-403e-bb19-99e45731c96d
লাইফস্টাইল ডেস্ক- কেউ ইচ্ছা করেই দেরিতে ঘুমাতে যান। আবার কারও কারও ঘুমই আসতে চায় না। যে কারণেই হোক না কেন অনেকেই রাতে ভালো ঘুমাতে পারেন না। অথচ নিজে একটু সচেতন হলেই কিন্তু রাতে ভালো ঘুমানো সম্ভব। জেনে নিন রাতে ভালো ঘুমানোর ১০ উপায়: রুটিন করুনঃ প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমুতে যান এবং ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রতিদিনকার রুটিন এমনভাবে তৈরি করুন যাতে কাজ একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ হয়। এর পরই ঘুমুতে যান। ঘুম না আসতে চাইলে হালকা মিউজিক শুনুন অথবা একটি বই পড়ুন। ঘুম চলে আসবেই। দিনের ঘুম বাদ দিনঃ বেশিরভাগ মানুষই বিকালের দিকে একটু ঘুমিয়ে থাকে। এটা ঠিক নয়। রাতে ভালো ঘুমাতে চাইলে দিনের বেলা না ঘুমানোই ভালো। মদ পরিত্যাগ করুনঃ অনেকেই মনে করেন, মদ খেলে ভালো ঘুম হয়। কিন্তু এটা সত্যি নয়। কারণ প্রথম দিকে ভালো ঘুম হলেও পরে একটা তন্দ্রা ভাব চলে আসে। ফলে ঘুমটা কখনই গভীর হয় না। তাই ভালো ঘুমাতে চাইলে বিছানায় যাওয়ার কমপক্ষে ৪-৬ ঘণ্টা আগে থেকেই মদ পরিত্যাগ করুন। কফি এড়িয়ে চলুনঃ বিছানায় যাওয়ার ৪-৬ ঘণ্টা আগে থেকেই কফি এড়িয়ে চলুন। ভালো ঘুমাতে চাইলে চা এবং সোডা ও চকলেটজাতীয় যে কোনো পাণীয় থেকেও নিজেকে বিরত রাখুন। নিয়মিত ব্যায়াম করুনঃ প্রতিদিন বিকেলের দিকে ব্যায়াম করুন। এতে রাতে ভালো ঘুম হবে। তবে বিছানার যাওয়ার আগ মুহূর্তে কখনই ব্যায়াম করা উচিত নয়। এতে ঘুম ভালো তো হবেই না; বরং ঘুমে সমস্যা হবে। এমনকি বিছানায় যাওয়ার ২ ঘণ্টা আগেও ব্যায়াম করা ঠিক নয়। আরামদায়ক বিছানা ব্যবহার করুনঃ শোয়ার বিছানা নরম ও আরামদায়ক না হলে সহজে ঘুম আসে না। তাই রাতে আরামদায়ক বিছানা ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। বিছানা হোক শুধু ঘুমেরঃ বিছানা শুধু ঘুমের জন্যই নির্দিষ্ট করে রাখুন। বিছানায় বসে টিভি দেখা, আড্ডা দেওয়া, খাবার খাওয়া, বুকে ভর দিয়ে ল্যাপটপ ব্যবহার বন্ধ করুন। তাহলে বিছানায় শোয়ার সাথে সাথেই ঘুম এসে যাবে। এক গ্লাস দুধ পান করুনঃ শোয়ার আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধ খেতে পারেন। কারণ দুধের ট্রিপটোফ্যান উপাদানটি ভালো ঘুমাতে সাহায্য করে। এছাড়া কলা খেলেও রাতে ভালো ঘুম হয়। ক্লান্তি ঝেড়ে ঘুমাতে যানঃ রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গোসল করে নিতে পারেন। যদি সম্ভব না হয় তবে ঘাড়, মুখ, হাত-পা পানি নিয়ে মুছে নিতে পারেন। এতে শুধু ক্লান্তিই দূর হবে না, ভালো ঘুমও হবে। টিভি বন্ধ করুনঃ বিছানার শুতে যাওয়ার পর টেলিভিশন দেখার অভ্যাস ভালো নয়। এটিই মানুষকে অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকতে সাহায্য করে। কাজেই ভালো ঘুমাতে চাইলে শুয়ে শুয়ে টিভি না দেখাই ভালো। তথ্যসূত্র: ডেইলিও ডট ইন
7f351fb2-9dfa-4468-bac9-c68f8231fb2a
মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি- জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেছেন আওয়ামী লীগকে আর ভোট দিবেন না। আওয়ামী লীগের ছেলেরা মেয়েদের ধর্ষণ করে, আর ছবি তোলে। মানুষ কথা বলতে পারে না, খুন হয়, গুম হয় অথচ পুলিশ মামলা নেয় না। সোমবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার কুমড়িরহাট এস সি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠের জনসভায় এরশাদ আরও বলেন মফিজ হয়ে আর থাকতে চাই না মফিজের কথা কেউ শুনতে চায় না। আবারও জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসবে। তার শাসনামলে জনগণ শান্তিতে ছিল। বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যানদের কোন ক্ষমতা নেই, ইউএনওরা চালাচ্ছেন। এ উপজেলা পরিষদ চাই না, আগের উপজেলা দেখতে চাই। রংপুরে বিশাল ভোটের ব্যবধানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়লাভ করেছে। এখান থেকে জাতীয় পার্টি আবারও নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে। এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি এখন জেগে উঠেছে। জাতীয় পার্টির প্রতি দেশবাসীর ভালবাসা প্রমান করে আগামী দিনে জাতীয় পার্টি সরকার গঠন করবে। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। এ জন্য লালমনিরহাটের ৩টি আসনে যথাক্রমে মেজর খালেদ আক্তার, রোকন উদ্দিন বাবুল ও জিএম কাদেরকে জাপার প্রার্থী ঘোষনা করে আগামী নির্বাচনে লাঙ্গলে ভোট চান এরশাদ। তিনি গ্রাম গঞ্জের জনসভায় বিশাল লোকসংখ্যা দেখে আওয়ামী লীগকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, এত বড় জনসভা কেউ করতে পারলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার ঘোষনা দেন। এসময় তিনি তার কান কেটে ফেলারও ঘোষনা দেন। আদিতমারী উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদের। আদিতমারী উপজেলা জাতীয় পার্টি আয়োজিত এ জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী প্রেসিডিয়াম সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অবঃ) খালেদ আক্তার, চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, লালমনিরহাট-২ আসনের সম্ভব্য প্রার্থী জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক রোকন উদ্দিন বাবুল, আদিতমারী উপজেলা জাপার সাধারন সম্পাদক আব্দুল্লাহ আলম মামুন প্রমুখ। এর আগে এরশাদ নীলফামারীর জলঢাকা হয়ে তিস্তা ব্যারাজ অবসর রেষ্ট হাউজে দুপুরের খাবার শেষে সড়ক পথে জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হন। জনসভা শেষে রংপুরের উদ্দেশ্যে রহনা দেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেন মোহাম্মদ এরশাদ। সময়ের কণ্ঠস্বর/মহিআ
c7db252b-16f2-4443-a91c-055e0ae65b60
রাজু আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার- ‘আসন্ন রোজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়বে কিনা’ এ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবারের রমজানে প্রধান বেশ কয়েকটি ভোগ্য পণ্যের দাম বাড়বেনা বলে সরকারের বানিজ্য মন্ত্রনালয়কে আশ্বাস দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রোজার প্রধান পণ্যগুলোর যথেষ্ট মজুদ আছে বলেও জানিয়েছেন তারা। রোজার নিত্য প্রয়োজনীয় প্রধান বেশ কয়েকটি উপকরণের মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে বলে দাবি খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের। চাহিদা অনুযায়ী বাজারে প্রচুর সরবরাহও রয়েছে। দু’মাসের ব্যবধানে ছোলাসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম কমেছে বলে বিক্রেতাদের ভাষ্য। কয়েকমাস আগে যেখানে ৮৫ টাকা কেজিতে ছোলা বিক্রি হলেও এখন তা মিলছে ৭০ টাকায়। উৎপাদন ভালো হওয়ায় বাজারে এখন পেঁয়াজের দামও কম। দেশি পেঁয়াজের দাম এখন কেজিপ্রতি ৩২ থেকে ৩৩ টাকা। ৯৭ থেকে ১০৩ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল। প্রকারভেদে মসুর ডালের দাম ৫০ থেকে ১৫০ টাকা। তবে ১০০ টাকা কেজিতেও ভালো মানের মসুর ডাল মিলছে। আর বেগুনের দাম এখন কেজিতে ৪০ টাকা। রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, রায়েরবাজার, কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে যাদের ঘর সামলাতে হয়, কিংবা খোঁজ নিতে হয় রান্নাঘরের-তারাও সকাল সকাল ছুটে গিয়েছিলেন বাজারে। কেনাকাটা করেছেন রোজার নিত্য প্রয়োজনীয় উপকরণ। কেউ কেউ এখন থেকেই কিনে রাখছেন পেঁয়াজ। শবে বরাতের জন্যও কেনাকাটা করছেন অনেকে। কারওয়ান বাজারের পাইকারি মার্কেটে কথা বলে জানা গেছে, দেশে এবার পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হয়েছে। ভারত থেকেও পেঁয়াজ আসছে। ফলে বাজারে এখন পেয়াজের দাম কম। ৩২ থেকে ৩৩ টাকায় দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ২৩ থেকে ২৪ টাকা। পাইকারি বাজারের বড় বিক্রেতা খলিলুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘রোজায় এবার পেঁয়াজের দাম বাড়বে না। পর্যাপ্ত মজুদ আছে। ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা পাল্লায় (৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছে।’ কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা ফারিহা বেগম নামে একজন ক্রেতা জানান, ‘কম মনে হলেও পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে। গত কয়েকদিন ১৩০ টাকা পাল্লায় পেঁয়াজ কিনতে পারলেও আজ কিনতে হয়েছে ১৫০ টাকায়।’ জানালেন, রোজার চাহিদা অনুযায়ী তিনি পেঁয়াজ কিনে রাখলেন। ৭০ টাকা কেজিতে এখন ভালো মানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে। ডাবলি মটর ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আর ভালো মানের মশুরের ডাল গড়ে ১০০ টাকা কেজি।’ আল্লাহর দান স্টোরের এক কর্মচারী জানান, মাস দুয়েক আগে ছোলা ৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে যা ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তার মতে, ছোলার দাম আর বাড়বে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই বাজারের সয়াবিন তেলের এক বড় কারবারী বলেন, ‘৯৭ থেকে ১০৩ টাকা কেজিতে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। শবে বরাতে হয়তো ১ থেকে ২ টাকা দাম বাড়তে পারে। রোজা আসলে পরে ওই দাম কমিয়েই বলা হবে দাম কমানো হয়েছে। বিগত এক মাসেও তেলের বাজারে কোন পরিবর্তন হয়নি। কোন কিছুর দামই কিন্তু বাড়েনি। সরকার ও বড় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- সব কিছুরই পর্যাপ্ত মজুদ আছে। তাই বাজারও স্থিতিশীল।’ এছাড়া, চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মিনিকেট ৫২ থেকে ৬১ টাকা, নাজির ৬৪ থেকে ৭২ টাকা ও কাটারিভোগ ৭২ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে কমেছে সবজির দাম। সিম ৩০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, শশা ৪০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০ টাকা, কাকরুল ১২০ টাকা ও কাঁচা আম ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দাম কমেছে অন্যান্য সবজিরও। তবে একদিনের ব্যবধানেই বাজারে রসুনের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা। মিরপুর কাঁচা বাজারের পিঁয়াজ-রসুনের পাইকারি বিক্রেতা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘গতকাল ৭৪ টাকা কেজিতে চায়না রসুন বিক্রি করলেও আজ তা ৮০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। দুদিনের ব্যবধানেই ৬ টাকা দাম বেড়েছে। তবে দেশি রসুনের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। চায়না রসুন শুক্রবার ৭৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করলেও শনিবারে তা ৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হবে। তবে দেশি রসুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১১ লাখ ৬৯ হাজার টন ভোজ্য তেল, ১৩ লাখ ৭ হাজার টন চিনি, ১ লাখ ৩০ হাজার টন মসুর ডাল, ৪ লাখ ২৭ হাজার টন পেঁয়াজ ও ২ লাখ ৪৭ হাজার টন ছোলা আমদানি হয়েছে। এ অবস্থায় রমজানে বাজারের উপর যাতে বাড়তি চাপ না পড়ে সেজন্য একসাথে সারা মাসের বাজার না করে ভাগে ভাগে কেনার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের। সময়ের কণ্ঠস্বর/আরআই
cb3a88ac-0ab7-4432-b7d7-77833278b7bc
লাইফস্টাইল ডেস্কঃ তীব্র গরমে বাইরে থেকে ফিরেই অনেককে ফ্রিজ খুলে ঠাণ্ডা পানি পান করতে দেখা যায়। ফলে তেষ্টা তো মেটেই না বরং শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। যতই গরম পড়ুক না কেন আয়ুর্বেদে ঠাণ্ডা পানি পানের ব্যাপারে কড়া নিষেধ রয়েছে। এর ফলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কী কী ক্ষতি হতে পারে- হজমে বাধা বরফ ঠাণ্ডা পানি বা ঠাণ্ডা পানীয় রক্তনালিকে সঙ্কুচিত করে। হজমে বাধা দেয় ও হজমের সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ শোষণেও বাধা দেয়। সেই সঙ্গেই পানির তাপমাত্রার সঙ্গে সাম্য বজায় রাখতে গিয়ে ডিহাইড্রেশন হয়ে যেতে পারে। গলা ব্যথা গরমকালে বরফ ঠাণ্ডা পানি পান করলে ঠাণ্ডা লেগে গলা ব্যথা, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ঠাণ্ডা পানি শ্বাসনালিতে মিউকাস জমতে সাহায্য করে। ফলে শ্বাসনালিতে প্রদাহ হয়। ফ্যাটের পরিপাকে বাধা দেয় খাওয়ার ঠিক পরই ঠাণ্ডা পানি পান করলে তা খাবারে থাকে ফ্যাট জমিয়ে দিতে পারে। ফলে ফ্যাট হজম হতে বাধা পায় ও শরীরে মেদ হিসেবে জমা হয়। তবে শুধু ঠাণ্ডা পানি নয়, খাওয়ার ঠিক পরই পানি পান করাও উচিত নয়। অন্তত ৩০ মিনিট পর পানি পান করুন। হার্ট রেট কিছু গবেষকরা জানিয়েছেন, ঠাণ্ডা পানি হার্ট রেট কমিয়ে দিতে পারে। বরফ ঠাণ্ডা পানি দশম কার্নিয়াল নার্ভকে উত্তেজিত করে। এই নার্ভ হার্ট রেট কমিয়ে দেয়। শক ফ্যাক্টর ওয়ার্কআউটের পর ঠাণ্ডা পানি পান করা উচিত নয়। জিম এক্সপার্টরা ওয়ার্কআউটের পর গরম পানি পান করতে পারেন। কারণ এক্সারসাইজের পর শরীর গরম হয়ে যায়। এই সময় বরফ ঠাণ্ডা পানি পান করলে শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে তারতম্যের জন্য পৌষ্টিকনালিতে প্রভাব ফেলে। উপরন্তু শরীর কিন্তু ঠাণ্ডা পানি শোষণ করতে পারে না। পেটে কষ্টদায়ক যন্ত্রণাও হতে পারে।
22d95fa0-a3bb-4105-8700-c37be5d23580
মো:ইমাম উদ্দীন সুমন,স্টাফ রিপোর্টার: আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সুবর্ণচর উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার ১০ ইউনিয়নের চাষিরা বোরো ধান ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। চলছে ধান মাড়াইয়ের কাজ। এবার উপজেলায় বোরো ধানের ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে বলে মনে করছেন কৃৃষি কর্মকর্তারা। উপজেলার নানা এলাকার চাষিরা বলেন, আবহাওয়া ভালো ছিলো এবং হালকা বৃষ্টিতে এবার ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি। পাশাপাশি খেতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও কম ছিল। এ ছাড়া এবার ফসলের খেতে সময়মতো পানি ও সার দিতে পেরেছেন তাঁরা। মূলত এসব কারণে বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। উপজেলা কৃৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার উপজেলায় ৫ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে চাষ হয়েছে এর চেয়ে বেশি জমিতে। উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ৬ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে চর জব্বার ইউনিয়নে ৬১৬ হেক্টর, চরজুবিলীতে ৫২৮ হেক্টর, চর ওয়াপদা ৫২ হেক্টর, চর মহিউদ্দিনে ৬৭১ হেক্টর, পূর্ব চরবাটায় ৬০৪ হেক্টর, চর আমান উল্যায় ৭৯২ হেক্টর, ও ক্লার্ক ইউনিয়নে ৪২০ হেক্টর, চরবাটা ৭৩৫ হেক্টর, মোহাম্মদপুর ৪৯৮ হেক্টর, ও জাহাজমারাতে ৪১১ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ৩৬৪ মেট্রিক টন চাল। তবে উৎপাদন ২৫ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। জানতে চাইলে সুবর্ণচর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা উপজেলার চর আমান উল্যা, চর জুবিলীও চর ওয়াপদায় ধান মাড়াই করে ফলনের নমুনা (ক্রপ কাটিং) সংগ্রহ করেছি। সংগৃহীত নমুনা থেকে দেখা গেছে, হেক্টরপ্রতি ধানের উৎপাদন ৫ দশমিক ৩ মেট্রিক টন, যা বাম্পার ফলনেরই লক্ষণ।’ শনিবার দুপুরে উপজেলার চর জব্বার ইউনিয়নের চর জব্বার,চর জুবিলী ইউনিয়নের পশ্চিম চর জুবিলী, চর আমান উল্যাহ ও বিকেলে শাহবাজপুর মার্কের্টে গিয়ে দেখা গেছে, চাষিরা ধান মাড়াই ও ঝাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোনো কোনো জমিতে তিনজন আবার কোনো জমিতে চারজন করে শ্রমিককে ধান মাড়াই করতে দেখা গেছে। উপজেলার চর জুবিলী পশ্চিম জুবিলী গ্রামের চাষি মো. আলম (৩৮) বলেন, ‘আমি ১২০ শতক জমিতে বোরো চাষ করেছি। গত মাসে টানা বৃষ্টি সত্তে¡ও ফলন ভালো হয়েছে। এখন ধান মাড়াই চলছে।’ চর জব্বার গ্রামের চাষি মোহাম্মদ ইউনুছ (৩০) বলেন, ‘আমি ৪০ শতক জমিতে ব্রি ধান-২৮ লাগিয়েছি। চাষ করতে সাত হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছি ১০ হাজার টাকার লাভ পাব।’ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘বোরোর ফলন বাড়ানোর জন্য আমাদের সার্বিক সহযোগিতা ছিল। আমরা মাঠে-ময়দানে থেকে তাঁদের নিয়মিত পরামর্শ ও কৃষি সহায়তা দিয়েছি বলেই ফলন ভালো হয়েছে।’ জেলা কৃষি কর্মকর্তা ড.আবুল হোসেন বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকার পাশাপাশি চাষিরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হওয়ায় বাম্পার ফলন হয়েছে। আমরা সময়মতো বিভিন্ন পরামর্শ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ করায় চাষিরা লাভবান হয়েছেন।’ এদিকে সুবর্ণচর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে বোরো চাষে বাম্পার ফলন (তিনগুন) ফলানোর জন্য ৮জন সফল শ্রেষ্ঠ কৃষককে সংবর্ধনা ও তাদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকাল ৩টয় উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত উপজেলা মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন থেকে এ কৃষকদের বাছাই করা হয়। ইউনিয়নে কর্মকর্তা বন্টক সুপারভাইজার পদের কৃষি কর্মকর্তারা এ ৮জন কৃষকের বোরো ধানের বাম্পার (তিনগুন) ফলনের সফলতাকে চিহ্নিত করে এদের নামের তালিকা চুড়ান্ত করেন। সংবর্ধিত কৃষকরা হলো, চরজব্বর ইউনিয়নের চরজব্বর গ্রামের কৃষক মো: মফিজ, চরবাটা ইউনিয়নের মধ্যচরবাটা গ্রামের মো: নুর মাওলা, চরক্লার্ক ইউনিয়নের কেরামত পুর গ্রামের মো: ই¯্রাফিল, চর ওয়াপদা ইউনিয়নের চরআমিনুল হক গ্রামের আলা উদ্দিন, চরজুবিলী ইউনিয়নের চরমহিউদ্দিন গ্রামের মো: নুর হোসেন, চর আমান উল্যাহ ইউনিয়নের মো: এনায়েত উল্যাহ, পূর্বচরবাটা ইউনিয়নের মো: মমিনুল হক, মোহম্মদপুর ইউনিয়নের চর তোরাবআলী গ্রামের মো: নুর উল্যাহ ।
b2d96e13-b621-4ee9-955e-9685fed8187f
বিনোদন ডেস্ক- ভক্তকূলের বহুদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২৩ এপ্রিল ২০১৮-তে লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্ব প্রিমিয়ার এবং ২৭ এপ্রিল ২০১৮-তে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পায় অ্যাভেঞ্জার্স ইনফিনিটি ওয়ার সিনেমাটি। এটি একটি মার্কিন সুপারহিরো চলচ্চিত্র যা মার্ভেল কমিকস সুপারহিরোর দল অ্যাভেঞ্জার্সের উপর ভিত্তি করে তৈরি, মার্ভেল স্টুডিও দ্বারা প্রযোজিত এবং ওয়ার্ল্ড ডিজনি স্টুডিও মোশন পিকচার্স দ্বারা পরিবেশিত। ১০ বছর সময় নিয়ে তৈরি হওয়া অ্যাভেঞ্জার্স সিরিজের এই ছবিটিকে ঘিরে উন্মাদনা ছিল অশেষ। এই ছবির শ্রেষ্ঠাংশে রয়েছেনঃ টনি স্টার্ক / আয়রন ম্যান হিসেবে রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, থর হিসেবে ক্রিস হেমসওর্থ, ব্রুস ব্যানার / হাল্ক হিসেবে মার্ক রুফালো, ব্ল্যাক উইডো / নাতাশা রোমানোফ হিসেবে স্কার্লেট জোহ্যানসন, স্টিপেন স্ট্রেঞ্জ হিসেবে বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ, পিটার পার্কার / স্পাইডার-ম্যান হিসেবে টম হল্যান্ড, টি’চাল্লা / ব্ল্যাক প্যান্থার হিসেবে চ্যাডউইক বোসমান, লোকি হিসেবে টম হিডেলস্টোন,গামোড়া হিসেবে জোয়ে সালডান, গ্রুট হিসেবে ভিন ডাইসেল, রকেট হিসেবে ব্র্যাডলি কুপার এবং থানোস হিসেবে জোশ ব্রোলিন সহ আরও অনেকে। ছবির পরিচালক যথাক্রমে এন্থনি রুসো এবং জো রুসো। রুসো পরিচালকদ্বয়ের মাধ্যমে সুপার হিরোদের এই প্রদর্শনী মার্ভেল কমিসকসের চরিত্রদের বেশ অন্য পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে। অনেকেই সমালোচনার সুরে বলেছিলেন এখানে সুপারহিরোদের পিকনিক হবে, কিন্তু সিনেমার গল্পে প্রত্যেকজন সুপারহিরো নিজের চরিত্রের গণ্ডিতেই ছিলেন। এতজন সুপার হিরোকে নিয়ে একটি হাইপ্রোফাইল ছবি তৈরি করা নিঃসন্দেহে কঠিন। তবে তা করে দেখিয়েছেন জো ও অ্যান্থনি। মুক্তির পর থেকে এটি বিশ্বব্যাপি $১.৬ বিলিয়ন আয় করে, যা এটিকে সর্ব সময়ের সর্বোচ্চ-আয়কারী চলচ্চিত্রের মধ্যে পঞ্চম চলচ্চিত্র বানায়, পাশাপাশি ২০১৮-তে সর্বোচ্চ-আয়কারী চলচ্চিত্র, সর্বোচ্চ-আয়কারী সুপারহিরো চলচ্চিত্র এবং যুক্তরাজ্যে সর্ব সময়ের অষ্টম সর্বোচ্চ-আয়কারী চলচ্চিত্র। এটির সপ্তাহান্তিক উদ্বোধন দিনে এটি $৬৪১ মিলিয়ন বিশ্বব্যাপি এবং যুক্তরাজ্য এবং কানাডায় $২৫৮ মিলিয়ন আয় করে, উভয়ের জন্য সর্বোচ্চ-আয়কারী উদ্ভোদনের জন্য রেকর্ড স্থির করে। বিশ্বব্যাপী এর আয় এখনো অব্যাহত রয়েছে তাই ধারনা করা হচ্ছে এটি সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা হতে পারে। এর শিরোনামহীন সিক্যুয়েলটি মে ৩, ২০১৯-এ মুক্তির জন্য আলিকাভুক্ত করা হয়েছে।
a8795bd7-a95f-4cc9-ac20-255ed8ddeec8
মো: নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি :: ঝালকাঠিতে বর্ষা মৌসুম আসার আগেই তীব্র হয়েছে নদী ভাঙ্গন। সুগন্ধা, বিষখালী এবং গাবখান নদীর ভাঙ্গনে ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে অসংখ্য বাড়ী-ঘর ও ফসলী জমি। ভাঙ্গনের মুখ রয়েছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। জেলার বিভিন্ন স্থানে বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করে মরিচ, মুগ, ছোলা বুটসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গন রোধে মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়ে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে। ভাঙ্গন এলাকার জন প্রতিনিধিসহ কয়েকজন বলেন, ঝালকাঠিতে বর্ষা আসার আগেই সুগন্ধা, বিষখালী সহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। সেই সাথে নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সুগন্ধা ও বিষখালীসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর ৮টি পয়েন্টে মোট ১০ কিলোমিটার বেড়িবাধ ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি, বসতবাড়ি সহ বিভিন্ন স্থাপনা। মাত্র তিন বছর আগে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দেউরি সাইক্লোন সেলটার কাম প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি এখন বিষখালীর ভাঙ্গনের মুখে। যে কোন সময়ে এটি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। অপরদিকে নলছিটি শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। এড়াও ওই উপজেলার ভবানীপুর লঞ্চ ঘাট, স্কুল, বাজার, মসজিদ, বাদুরতলা বাজার, হদুয়া দরবার শরীফ, বৈশাখিয়া স্কুল এবং মাদ্রাসা, চাঁদপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অসংখ্য বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে। অন্যদিকে রাজাপুর উপজেলায় বিষখালী নদীতে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙ্গন বৃদ্ধি পাওয়ার কথা স্বীকার করে ঝালকাঠি পানি উনয়ন্ন বোর্ড কতৃপক্ষ জানান, তারা ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছে। বরাদ্দ পেলেই ভাঙ্গন রোধের পদক্ষেপ নেয়া হবে।
5fbbd416-771c-4f39-b2e3-9d92086672b1
রবিউল ইসলাম (রবি), সময়ের কণ্ঠস্বর- কক্সবাজার-৪ (টেকনাফ-উখিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে অভিযোগ, তিনি ও তার পরিবার মাদক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন। এমনকি ২০১৫ সালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা টেকনাফের শীর্ষ ৭৯ মানব পাচারকারীর তালিকায়ও তার নাম ছিল এক নম্বরে। মঙ্গলবার (২২ মে) রাতে বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তর টিভিতে ‘একাত্তর জার্নাল’ নামে একটি টক শোতে টেলিফোনে যুক্ত হয়েছিলেন বহুল আলোচিত-সমালোচিত সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এমপি বদি। সেখানে তিনি ও তার পরিবারের কোন সদস্য মাদকের সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করে মিডিয়া ও প্রশাসনকে দোষারোপ করেছেন বদি। তিনি বলেন, আমি কিছুদিন আগেই রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর একটি বক্তব্য দিয়েছি, বাংলাদেশের কোন মিডিয়া, কোন সাংবাদিক এবং প্রশাসনের কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে কিঞ্চিৎ পরিমাণ মাদকের সাথে সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারে সংসদ থেকে পদত্যাগ করব। এমপি বদি বলেন, মাদকের কোন অতিথিয়তা, মাদকের কিছু কর্মকর্তা, মাদকের সাথে যারা সম্পৃক্ত হয়েছে আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারনেই বিভিন্ন সংস্থা ২০১৫ সালের মাদক ব্যবসায়ীর ওই তালিকায় আমার নাম দিয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তথ্য-প্রমাণ নাই। এমন প্রশ্নে বদি বলেন, আমি সংসদে যেটা চ্যালেঞ্জ করেছি সেখানে বলেছি, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় যদি কেউ বলতে পারে বদি মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষে কথা বলেছেন, কারো কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন এবং কারো সাথে সম্পৃক্ত আছে কোন সংস্থা সেটি বলতে পারলে আমি শাস্তি মাথা পেতে নেব, সংসদ থেকে পদত্যাগ করবো। দেশে যে কোন সময় মাদক কিংবা ইয়াবা প্রসঙ্গ উঠলে আপনার নাম উচ্চারিত হয় কেন? এর উত্তরে তিনি বলেন, আমি উখিয়া ও টেকনাফের জনপ্রতিনিধি। আমার এলাকার মানুষ জানে আমি জীবনে কোনদিন একটা সিগারেট খাইনি, গাঁজা খাইনি, মদ খাইনি, পান খাইনি আমার চরিত্র সম্পর্কে তারাই ভালো জানে। এই সাংসদ আরও বলেন, কিছু মিডিয়াও ইয়াবা ব্যবসা করছে। সাংবাদিকরাও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমি তাদের এবং প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি বিধায় বিএনপি-জামায়াত এটা ষড়যন্ত্র করছে। টেকনাফ-উখিয়া দিয়েই ইয়াবার বড় চালান আসে। এটিই আপনার নির্বাচনী এলাকা? এর জবাবে বদি বলেন, শুধু আমার এলাকা নয়, ধুমধুম থেকে শুরু হয়ে সব এলাকা অরক্ষিত আছে, সেটা নবম সংসদে আমি বক্তব্য দিয়েছি এসব এলাকাতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সংরক্ষিত করার জন্য, এখন সেটি পাশ হয়েছে। এতটুকুই আমি জানি। আপনার এলাকায় মাদক বিষয়ে রিপোর্ট করতে গিয়ে সাংবাদিকরা মারধরের শিকার হন, আপনি কি জানেন কারা এসব হামলা করে? এ প্রসঙ্গে বদি বলেন, আমি এগুলো সম্পর্কে অবগত, যারা এগুলো করেছে তাদেরকে এলাকা ছাড়া করেছি, খবর নেন। যে সমস্ত লোকগুলো এসব করেছে তাদের ঘরবাড়ি ছাড়া করেছি, তাদেরকে বাবা-মাকেও এলাকায় থাকতে দেইনি। সরকারের মাদকবিরোধী চলমান অভিযানকে কীভাবে দেখছেন? আরেক গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অভিযান ভালো। যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যুব সমাজকে বাঁচানোর জন্য এই ধরনের অভিযান আরও আগে করা উচিত ছিল।’
0cfc81d6-e82d-4c9d-bac3-9eacaec18fa6
বিনোদন ডেস্ক :: দেশের চলচ্চিত্রের একসময়ের দাপুটে অভিনেত্রী পূর্ণিমা কয়েক বছর ধরে নতুন ছবির সংবাদে নেই। পূর্ণিমা সর্বশেষ শুটিং করেন ‘ছায়া-ছবি’ চলচ্চিত্রে। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত এই ছবিতে পূর্ণিমা নায়িকা হন আরিফিন শুভর বিপরীতে। আর মুক্তির দিক দিয়ে তাঁর অভিনীত সর্বশেষ ছবি ইফতেখার ফাহমীর ‘টু বি কন্টিনিউড’। তবে এবার ভক্তদের সামনে আবার হাজির হচ্ছেন নতুন রুপে। জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত ‘দহন’ ছবির মাধ্যমে আবার ফিরছেন পূর্ণিমা। আবার সিনেমায় ফেরা নিয়ে পূর্ণিমা জানান, প্রাথমিকভাবে ছবিটিতে কাজের ব্যাপারে কথা হয়েছে। এখনও চুক্তিবদ্ধ হইনি। ‘দহন’-এ প্রথমে আমারই কাজের কথা ছিল। আমি এর গল্প আগে থেকেই জানি। গল্পটা রাফি (পরিচালক রায়হান রাফি) আমাকে অনেক আগেই শুনিয়েছিল। প্রথমে এই কাজটির প্রস্তাব আমি পেয়েছিলাম, আমি না করার পরেই বাঁধনকে নেওয়া হয়। কোনো কারণে এখন বাঁধন কাজটি আর করছে না। ঘুরেফিরে আবারও আমার কাছেই এসেছে। জানা যায়, ‘দহন’ ছবিতে সাংবাদিক চরিত্রে অভিনয় করবেন পূর্ণিমা। এর আগে এই চরিত্রের জন্য বেশ জমকালো আয়োজনে নায়িকা হিসেবে বাঁধনের নাম ঘোষণা দেয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি। এক মাস না পেরোতেই পাল্টা ঘোষণায় জাজ থেকে জানানো হয়, ‘দহন’ ছবির নায়িকা হিসেবে থাকছেন না বাঁধন। ছবিটিতে পূর্ণিমার নায়ক হিসেবে থাকছেন সিয়াম। আরও অভিনয় করবেন পূজা চেরিসহ অনেকে।
dd39609d-49be-486f-8cb9-d5fa90736659
জাহিদ রিপন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, পটুয়াখালী :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কোন কিছুতেই থামছেনা খাল দখল তান্ডব। উপজেলা প্রশাসন খাল দখল করে দেয়া বাঁধ অপসারনে মাইকিংসহ ইউনিয়নে মতবিনিময় সভা করেছে। তারপরও দখলদারিত্ব চলছে। ফলে কৃষিকাজের ভবিষ্যত প্রতিকূল পরিবেশ ঠেকাতে ভূমিসহ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ চরমভাবে ব্যাহতের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবজির চাষের সুখ্যাতি রয়েছে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের। যেখানকার কৃষকের উৎপাদিত সবজি কলাপাড়ার গোটা উপজেলার চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি যোগান আসে ওই ইউনিয়ন থেকে। যেখানে রয়েছে পেশাদার ধানসহ সবজির আবাদ করা অন্তত ১২ শ’ চাষী। এরা ১২ মাস কোন না কোন ফসল উৎপাদন করে আসছেন। অথচ ওই ইউনিয়নের কাছারি খাল, সুলতানগঞ্জ খাল, কামিনদ্দিনের খাল, পাখিমারা খাল, টুঙ্গিবাড়িয়া খাল, বাহের খাল, পকিয়ার খাল, তাহেরপুর খাল, বেভাজিয়া খাল, সাপুরিয়া খালসহ ১৮টি খালে অবৈধভাবে বাঁধ ও বন্দোবস্ত নিয়ে মাছ চাষ, পুকুর, বসতঘর নির্মাণ করে যে যার মতো করে দখল করে আছে। সরকারি খাল উদ্ধার করতে এবং কৃষিকাজের স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টির জন্য ১৯ মে কৃষক, দখলদার, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সমন্বয়ে ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তানভীর রহমান জানান, স্বেচ্ছায় সরকারি খালের বাঁধ কেটে দেয়া না হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওই সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মো. সুলতান মাহমুদ, সাধারান সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা এসএম রাকিবুল আহসান, কলাপাড়া থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমূখ। খাল উদ্ধারে ইতোমধ্যে উপজেলা ভূমি প্রশাসন প্রত্যেক তহশিলের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তাদের খালের দখলদারদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মহিপুর তহশিলসুত্রে জানা গেছে তাঁদের আওতাধীন খাল দখলদারের অন্তত দেড় শ’ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। কলাপাড়া উপজেলা ভূমি প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, চারটি তহশিলে খাল দখলদারদের ৯০ ভাগ তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। বাদুরতলী এলাকার স্লুইসখালের ২২টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। কলাপাড়া পৌরশহরের মধ্যদিয়ে বহমান খালের দুইদিকের দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে সার্ভেয়ার আনছার উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু দখলদাররা যেন কোন কিছুতেই দমছেনা। তারাও পুরোদমে খালে বাঁধ দিয়ে যে যার মতো ভরাট করে জমি কিংবা বাড়িঘর থেকে শুরু করে মাছের ঘের তৈরি করছে। মিঠাগঞ্জের তেগাছিয়া, গোলবুনিয়া, ইসলামপুর, চরপাড়া, মধুখালী, আজিমদ্দিন, ময়ুরের খাল, আবগঞ্জের খালসহ অন্তত ১৫টি খালে দখলদারদের দখল তান্ডবে এখন কৃষিকাজে চরম প্রতিবন্ধকতার হচ্ছে। নীলগঞ্জের প্রশিক্ষিত চাষী সরোয়ার হোসেন জানান, সাপুড়িয়ার খালটি তাদের কৃষিকাজের জন্য মিঠাপানির আধার। কিন্তু ওই খালটিতে ৭/৮টি বাঁধ দিয়ে পানির প্রবাহ আটকে দেয়ায় এবছর বোরোর আবাদে চরম বিপদ নেমে এসেছে। সেচ সঙ্কটে ব্যাপক ক্ষতি হয় বোরোর আবাদে। ধুলাসার ইউনিয়নের কাছারি খালে শুকনো মৌসুমে পানি থাকে। অথচ এ খালে বহু আগে চাষযোগ্য কৃষিজমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত দেয়ায় এখন চলছে দখল তান্ডব। শহরের চিঙ্গরিয়ায় হয়েছে দিনে-দুপুরে ডাকাতির মতো অবস্থা। এখনও ওই খালে তিন/চার ফুট পানি। আশির দশকে নৌকা চলাচল করত। অথচ ওই খালকে চাষযোগ্য কৃষি জমি দেখিয়ে দেয়া হয়েছে বন্দোবস্ত। বন্দোবস্ত গ্রহীতা আবার এখন বাঁধ দিয়ে খালটিকে পকেট সাইজ করে বিক্রি করে কোটি টাকার বাণিজ্যে নেমেছে। এ বন্দোবস্ত কেসটি অনেক আগেই উপজেলা বন্দোবস্ত কমিটি বাতিল করে দেয়। জরুরি প্রয়োজনের এ খালটি উদ্ধারে ভূমি প্রশাসন আন্তরিক নয় বলে পৌরবাসীর এন্তার অভিযোগ। তারা এখালটি উদ্ধারে অতি সম্প্রতি মানববন্ধন করেছেন। এভাবে খাল দখল দৌরাত্মের কারনে এখন কলাপাড়া-কুয়াকাটা পৌরশহরের বসবাস উপযোগিতা হারাচ্ছে মানুষ। কারণ বর্ষায় প্রচন্ড জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এক নম্বর ওয়ার্ডের মদিনাবাগ এলাকার নাচনাপাড়া চৌরাস্তা সংলগ্ন অন্তত ৫০ বাসিন্দা দুই চারদিন আগের বৃষ্টির পানিতে ডুবে আছে। শুধুমাত্র পানি চলাচলের খাল বন্ধ করে স্থাপনা তোলায় এ অবস্থার শিকার তারা। একই দশা চিঙ্গরিয়ার মানুষের। খাল দখলের এখন তান্ডবে কলাপাড়ার অধিকাংশ মানুষ বসবাসের পরিবেশ পর্যন্ত হারিয়ে ফেলছেন জলাবদ্ধতার কারণে। সরকারি খাল যে কোন মূল্যে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দৃঢ় মনোভাব পোষন করে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তানভীর রহমান জানান, উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের দখলদারিত্ব ঠেকাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
dba577a7-b4f8-4051-94fa-120ac16bd529
সময়ের কণ্ঠস্বর :: অবশেষে ভারতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শান্তি নিকেতনে স্থায়ী স্থান পাচ্ছে বাংলাদেশের নাম। সেখানে নির্মিত ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে শুক্রবার। বিশ্বভারতী প্রাঙ্গনে বাংলাদেশের অর্থায়নে নির্মিত বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলাদেশ ভবনে থাকতে পারবেন বিশ্বভারতীতে পড়তে আসা বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীরা। থাকবে বাংলা ভাষা ও বাংলা চর্চা কেন্দ্রও। এই ভবনে আরো রয়েছে একটি মিউজিয়াম, একটি লাইব্রেরি, একটি অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম, একটি সেমিনার হল, ফ্যাকাল্টি কক্ষ, স্টাডি রুম ও একটি ক্যাফেটেরিয়া। জানা গেছে,বাংলাদেশ ভবন উদ্ধোধন শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী বিশ্বভারতীর সমাবর্তনেও অংশ নেবেন। বিশ্বভারতীর সমাবর্তনে মোদী আচার্যের ভাষণ দেবেন। হাসিনাও বক্তব্য রাখবেন। এর আগে হাসিনা বিশ্বভারতীতে গিয়েছিলেন দেশিকোত্তম উপাধি নিতে। তবে দুই প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক ব্যস্ততার ফাঁকে দুপুরে এক ঘন্টার জন্য অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করবেন বলে নানা সূত্রে জানা গিয়েছে। এই বৈঠকে দুই প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো মন্ত্রী বা আমলা উপস্থিত থাকবেন না। বাংলাদেশ ও ভারতে আগামী এক বছরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই অবস্থায় উভয়ে সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। রোহিঙ্গা সমস্যার পাশাপাশি আঞ্চলিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে। তবে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে তিস্তা প্রসঙ্গ আলোচনায় উঠলে মমতার উপস্থিতি জরুরি হয়ে উঠবে বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা। তবে মমতা তিস্তার পানি নিয়ে তার অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠক শেষে শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে কলকাতায় যাবেন। সেখানে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে কিংবা নেতাজি ভবনে বিশ্রাম শেষে সন্ধায় তাজ বেঙ্গল হোটেলে ভারত সরকার আয়োজিত ইফতারে অংশ নেবেন। এরপর সেখানে পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। পরদিন ২৬শে মে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্মানিক ডিলিট গ্রহণ করবেন শেখ হাসিনা। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা যাবেন না বলে ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন। সেই রাতেই তিনি ফিরে আসবেন ঢাকায়।
7d056876-bf3a-43ba-8e11-e0eaa4be3b19
সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা :: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সরকারের পতন হবে আমাদের আগামী আন্দোলনের প্রধান ইস্যু। আদালত দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। মুক্তি হবে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে। সময়ই বলে দেবে কি ধরনের আন্দোলন হবে। সারাদেশে এখন একটি মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষও জানে মাদকের মূল হোতা কারা? আন্তর্জাতিকভাবে কারা মাদক ব্যবসা করে। কোনো এমপি কোনো মন্ত্রী এই ব্যবসা করে এরা সব তারা জানে। প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় সরকার দলীয় এমপি ও নেতাকর্মীর ছত্রছায়া ছাড়া কোনো মানুষ মাদক ব্যবসা করতে পারে না। একই সঙ্গে প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া কেউ মাদক ব্যবসা করতে পারে না। অথচ তাদেরকে গ্রেপ্তার করছে না। সাধারণ মাদক বহন করার লোকটিকে ধরে ধরে হত্যা করছে। তাদের জিজ্ঞাসা করলে নেতাদের নাম বলবে বলে হত্যা করা হচ্ছো। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ জিয়ার ৩৭ তম শাহাদত বার্ষিকী ও খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। সমাবেশের আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব। খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে এই সরকারের নীল নকশা খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে আপনারা দেখেছেন। খুলনায় দলীয় ও প্রশাসনের মাধ্যমে ভোট ডাকাতি করেছে। এখন গাজীপুরেও একই নীল নকশা তারা করছে। তবে খুলনায় যা হয়েছে গাজীপুরে তা করতে পারবে না। কারণ গাজীপুর আর খুলনার মানুষ এক নয়। খুলনার অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে সরকারের কুটকৌশল প্রতিহত করার জন্য আমরা আমাদের আমাদের কৌশল পরিবর্তন করে মাঠে থাকব। এমপি-মন্ত্রীদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ গ্রহণ করার সুযোগ দিয়ে আমাদের গাজীপুর নির্বাচন থেকে সরে আসার চক্রান্ত করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের সরানো যাবে না। শেষ সময় পর্যন্ত মাঠে থাকব। তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতে গেছেন। বার বার যান। কয়েকবার ভিজিট করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মরা বাচার সমস্যা তিস্তার পানি আনতে পারেন না। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক, বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন ড্যাব সভাপতি আজিজুল ইসলাম।
db7cbfe8-74d1-4d23-aa57-5f912907199b
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: প্রেম ছিল দীর্ঘদিনের। কিন্তু কোনওভাবেই পরিণতি পাচ্ছিল না সেই সম্পর্ক। পথের কাঁটা হচ্ছিলেন প্রেমিকার স্বামী। তাই বিষ খায় এক প্রেমিক। আর সেই খবর শুনে প্রেমিককে দেখতে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে ছোটেন সাবেক প্রেমিকা। এখানেই শেষ নয়, হাসপাতালে প্রেমিকের বেডের সামনে দাঁড়িয়েই হাতের শাঁখা খুলে স্বামীর হাতে ধরিয়ে দেন ওই মহিলা। ভারতের তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে ঘটে এ ঘটনা। জানা গেল, হুগলির ধনেখালির দেধারা গ্রামের পূজা দাসের সঙ্গে মান্তু দাসের দীর্ঘ দিনের প্রেম ছিল। গত শনিবার পুড়শুড়ার কেলেপাড়ার বাসিন্দা হেমন্ত ভৌমিকের সঙ্গে বিয়ে হয় পূজার। চাষবাস করেই দিন যেতো হেমন্তের। কিন্তু পূজার বিয়ে মন থেকে মেনে নিতে পারেননি মান্তু, মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। বৃহস্পতিবার নিজের বাড়িতেই বিষ খান তিনি। তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মান্তুকে। খবর পেয়ে স্বামীকে নিয়েই তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে ছুটে যান পূজা। মান্তুর বেডের সামনে দাঁড়িয়েই কান্নায় ভেঙে পড়েন পূজা। চিকিৎসক নার্স সকলের সামনেই নিজের মনের কথা স্বামীকে খুলে বলেন পূজা। সঙ্গে খুলে দেয় নিজের হাতের শাঁখাও। এরই মধ্যে মান্তুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তাঁকে কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ভালোবাসাকে বাঁচাতে এখন তার সঙ্গেই কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন পূজা।
f0a01b7c-a12d-400d-8a22-89e281bc80bc
জাতিসংঘের বিবেচনায় বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে অন্তর্ভুক্তির প্রথম ধাপ সন্তোষজনকভাবে শেষ করেছে। ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী পর্যালোচনায় বাংলাদেশ যদি তার অবস্থান ঠিক রাখতে পারে তাহলে ২০২৪ সালে আমরা চূড়ান্তভাবে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উত্তীর্ণ হতে পারব। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এটাই সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। বাংলাদেশ অচিরেই স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হতে যাচ্ছে, এটি অবশ্যই একটি আনন্দের ব্যাপার বটে। আমরা এ অর্জনের জন্য অনেকদিন ধরেই অপেক্ষা করছিলাম। আমাদের সেই অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। আমরা আগামীতে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছি, এটি যেমন আনন্দের সংবাদ তেমনি এ অর্জন ধরে রাখার ব্যাপারে বেশকিছু কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জগুলো সঠিকভাবে মোকাবেলা করার ওপরই নির্ভর করবে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে টিকে থাকব নাকি আবারও স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে চলে আসবে। স্বল্পোন্নত দেশের ধারণাটি প্রথম চালু হয় ১৯৬০ সালে। তবে জাতিসংঘের উদ্যোগে স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসির পৃথক তালিকা প্রণীত হয় ১৯৭০ সালে। মাথাপিছু জাতীয় আয় কম, অনুন্নত মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে এমন দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। বর্তমানে বিশ্বে ৪৭টি দেশ রয়েছে যারা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে। এ তালিকা প্রণীত হয় ১৯৭৬ সালে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা প্রণীত হওয়ার পর থেকে এ দীর্ঘ পথপরিক্রমায় মাত্র ৫টি দেশ এ তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটাতে সমর্থ হয়েছে। এগুলো হচ্ছে মালদ্বীপ, বাতসোয়ানা, কেপ ভারদে, সামোয়া এবং ইকুয়েটরিয়াল গিনি। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসক) উন্নয়ন নীতিমালাবিষয়ক কমিটি সিডিপি তিনটি বিশেষ সূচকের ওপর ভিত্তি করে প্রতি তিন বছর অন্তর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করে। এ সূচকগুলো হচ্ছে, (ক) বিশ্বব্যাংকের এটলাস পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক প্রণীত মাথাপিছু গড় জাতীয় আয়, (খ) পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিশুমৃত্যু হার, স্কুলে ভর্তি ও শিক্ষার হার বিবেচনায় নিয়ে প্রণীত মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং (গ) অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক, যার মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবেলার সক্ষমতা, কৃষি খাতের অবদান এবং উপকূলীয় অঞ্চলের দুর্দশাগ্রস্ত জনসংখ্যার হার ইত্যাদি। এ তিনটি সূচক বা শর্তের যে কোনো দুটি পূরণ করতে পারলেই একটি দেশকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য সুপারিশ করা হয়। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই তিনটি শর্তই পূরণ করেছে। এ বছর উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য মাথাপিছু গড় জাতীয় আয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার। বিশ্বব্যাংকের এটলাস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু গড় জাতীয় আয় বর্তমানে এর চেয়ে অনেক বেশি। মানবসম্পদ উন্নয়নে একটি দেশের স্কোর থাকতে হবে ৬৬ বা তারও বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশের স্কোর এ ক্ষেত্রে ৭২ দশমিক ৯। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে স্কোর থাকতে হবে ৩২ বা তারও কম। বাংলাদেশের স্কোর হচ্ছে এ ক্ষেত্রে ২৪ দশমিক ৮। ২০২১ সালে মধ্যবর্তী পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বাংলাদেশ যদি তার অবস্থান ধরে রাখতে পারে তাহলে ২০২৪ সালে বাংলাদেশকে চূড়ান্তভাবে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের মর্যাদা এবং অবস্থান আগের তুলনায় বৃদ্ধি এবং সুসংহত হবে। একটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিটি মানুষেরই আরাধ্য বিষয়। উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ নিয়ে অবহেলামূলক কিছু বলতে পারবে না। তবে এ অর্জন রক্ষা করার জন্য আমাদের ভবিষ্যতে বেশকিছু কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাা করতে হবে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এ চ্যালেঞ্জগুলো খুবই কঠিন হতে পারে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কোনো দেশ যখন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এ ধরনের সাফল্য অর্জন করে তখন স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেয়া হয়, সেই দেশটি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। তার সামর্থ্য বেড়েছে। তার প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হয়েছে। তার গ্রহণ ক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বেড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্য যেসব উন্নয়নশীল দেশ রয়েছে তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশটির মর্যাদা আগের তুলনায় অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। মনে করা হবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশটি যে কিছু বাড়তি সুবিধা পেত তা আর দরকার হবে না। এ হচ্ছে সাধারণভাবে একটি উন্নয়নশীল দেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা। এ ধরনের ধারণার যথেষ্ট যুক্তিও আছে। বাংলাদেশ জিডিপি বৃদ্ধি এবং মাথাপিছু গড় জাতীয় আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি এর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য শর্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিসের মাধ্যমে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেল তা স্পষ্ট নয়। এটি কী উৎপাদনশীল খাতের মাধ্যমে বৃদ্ধি পেয়েছে নাকি অনুৎপাদনশীল খাতের মাধ্যমে এ প্রবৃদ্ধিটা সংঘটিত হয়েছে সেটা পরিষ্কার হওয়া দরকার। জিডিপি প্রবৃদ্ধি কি দেশে বিত্তহীন এবং বিত্তবানের মাঝে বিদ্যমান অর্থনৈতিক আয়-বৈষম্য হ্রাস করতে পেরেছে? অর্জিত প্রবৃদ্ধি কি বিদ্যমান প্রকট বেকার সমস্যা হ্রাসে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পেরেছে? এগুলো বিবেচ্য বিষয় বটে। শুধু প্রবৃদ্ধি বাড়লেই হবে না, সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষ ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভোগ করতে পারছে কিনা সেটিও বিবেচ্য বটে। একইসঙ্গে যে পদ্ধতিতে জিডিপি ক্যালকুলেট করা হচ্ছে তা সঠিক কিনা, এতে জিডিপির গুণগতমান রক্ষিত হয়েছে কিনা সেটাও ভেবে দেখতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিকাশ জিডিপি বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিতভাবে অগ্রসর হয়নি। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই সঠিকভাবে কাজ করছে না। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের প্রাথমিক শর্ত পূরণ করেছে এটি অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। কিন্তু এ অর্জনের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যে কিছু বিশেষ সুবিধা পেত তা হারাবে। যেমন- বাংলাদেশ স্বল্প সুদে আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশ থেকে ঋণ পেত। নির্দিষ্ট সময় পর সেই সুবিধা আর বহাল থাকবে না। বাংলাদেশ ইতিপূর্বে আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে যে ঋণ পেয়েছে তা কতটা কাজে লেগেছে সেটা অবশ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আগে বাংলাদেশ যে ঋণ পেত আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে আগামীতে সেই ঋণ নিতে হলেই বাংলাদেশকে বেশি সুদ প্রদান করতে হবে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বিভিন্ন সুবিধাপ্রাপ্তির ফলে বাংলাদেশের অনেক পণ্যের ‘কস্ট অব প্রোডাকশন’ ছিল তুলনামূলকভাবে কম। এখন সেটি বেড়ে যাবে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সেই পণ্যের প্রতিযোগিতার ক্ষমতা কমে যাবে। প্রতিযোগিতার ক্ষমতা কমে গেলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তা পুষিয়ে নেয়া যায়। কিন্তু আমাদের তো উৎপাদনশীলতা বাড়ছে না। কাজেই এ ক্ষেত্রে আমাদের সমস্যায় পড়তে হবে। কাজেই এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে বিভিন্ন দেশের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার নিয়ে। বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত জিএসপি সুবিধা পেয়ে থাকে। আরও কিছু দেশ থেকে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত পণ্য রফতানি সুবিধা পেয়ে থাকে। ইন্টেলেকচ্যুয়াল প্রপার্টি রাইটের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছু ছাড় পেত। এগুলো আগামীতে নির্দিষ্ট সময় পর আর বহাল থাকবে না। একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাদের গবেষণায় দেখিয়েছে, উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার ফলে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা হারালে রফতানি বাণিজ্যে সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত বাণিজ্য সুবিধা প্রত্যাহত হওয়ার ফলে বাংলাদেশকে রফতানিকালে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অতিরিক্ত ৬ দশমিক ৭ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। আঙ্কটাড বলেছে, এর ফলে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যেতে পারে। বিদেশে শিক্ষা বৃত্তি কমে যেতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আইনে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এতদিন যেসব সুবিধা পেয়ে আসছিল তা-ও আর থাকবে না। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আগে অর্থনৈতিক ক্ষেত্র, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে টিকে থাকার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা দরকার ছিল তা করা হয়নি। কাজেই এ অর্জন আমাদের কঠিন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশ সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে যতটা সরব তার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে যে প্রস্তুতি গ্রহণ আবশ্যক ছিল তা তেমন হয়নি। এ ভারসাম্য হীনতা তার ধাক্কা সামলানো কঠিন হবে বলে অনেকেই মনে করছেন। যদিও বাণিজ্যমন্ত্রী প্রসঙ্গক্রমে বলেছেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে যেসব চ্যালেঞ্জ আসবে তা মোকাবেলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি আরও বলেছেন, জিএসপি সুবিধা বাতিল হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামীতে জিএসপি+ নামে একটি নতুন বাণিজ্য সুবিধা প্রদান করবে। কিন্তু জিএসপি+ সুবিধা পেতে হলে আমাদের কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে এবং সেগুলো পূরণে আমরা কতটা প্রস্তুত সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। বাংলাদেশ ২০২৪ সালের মধ্যে চূড়ান্তভাবে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেও বর্তমানে যেসব বাণিজ্য সুবিধা পাচ্ছে তা ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এ সময়ের মধ্যে আমাদের নিজেদের উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, যে কোনো নতুন কিছু পেতে গেলে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতেই হয়। আমাদের এখনই ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিতে হবে। এমএ খালেক : অর্থনীতিবিষয়ক কলাম লেখক সূত্র: যুগান্তর
9a312342-cd95-4706-a5ca-21bc4f3da696
সংবাদ ডেস্ক : ময়মনসিংহকে দেশের ১২তম সিটি করপোরেশন হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার)। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত বৈঠকে ময়মনসিংহকে সিটি করপোরেশন করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এনএম জিয়াউল আলম সাংবাদিকদের এ কথা জানান। প্রসঙ্গত, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়নের সম্পূর্ণ এবং ছয়টি ইউনিয়নের আংশিক এবং পৌরসভার পুরো এলাকাকে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। নবগঠিত সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত এলাকা ৯১ দশমিক ৩১৫ বর্গকিলোমিটার।
7a2bd789-9038-4340-a935-941bd207d23a
অনলাইন ডেস্ক : কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধ করতে সমঅধিকার-ভিত্তিক সংগঠন, দ্যা ইকুয়্যালিটি এন্ড হিউম্যান রাইটস কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করছে। কর্মক্ষেত্রে নারীরা যে ধরনের যৌন নিপীড়নের শিকার হন সেসব অভিজ্ঞতা তারা শুনেছেন। বিবিসির ইমা রাসেল এমন ছয়জন কর্মজীবী নারীর তিক্ত অভিজ্ঞতাকে ব্যাখ্যা করেছেন। একজন এমন কাণ্ড করেছিল যা আমার জীবনে সবচেয়ে বাজে অভিজ্ঞতা – মানসিকভাবে খুবই আঘাত পেয়েছিলাম। এরপর থেকে পোষাক-পরিচ্ছদ, স্কার্ট পরা এবং জামার গলাসহ নানা ব্যাপারে সচেতন থাকি ১৭ বছর বয়সে গীর্জায় গিয়ে আমি টয়লেটে লুকিয়ে ছিলাম। কারণ কে আমার সতীত্ব কেড়ে নিতে পারে এ নিয়ে কয়েকজন বৃদ্ধ লোক জোক করতে ছিল। এতে আমি খুবই ভয় পেয়েছিলাম। বারে কাজ করার সময় একজন কাস্টমার আমাকে দেওয়ালের সাথে ঠেকিয়ে আন্ডারওয়ারে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছিল – একদম জনসম্মুখে, সবার সামনে! সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর পুরো সপ্তাহ আমার আতঙ্কে কেটেছে। কাদঁতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছি, যেকোন ছোটখাটো জিনিস এখনও আমার কাছে উদ্বেগের বিষয়, খাওয়া-দাওয়াও একদম কমে গেছে। যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে বসের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু ম্যানেজমেন্টের সবাই পুরুষ ছিল। এক বছরে একজন ব্যাক্তির দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়ে পাঁচজন নারী চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল।